বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | ০১:২০
১৫ আশ্বিন, ১৪২৭ | ১১ সফর, ১৪৪২
স্বাস্থ্য

২৪ নিউজভিশন.কম> রান্নায় কিংবা কাঁচা -সবভাবেই কাঁচা মরিচ খাওয়া যায়। এটা শুধু খাদ্যের স্বাদই বাড়ায় না, এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিনও রয়েছে। এটা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী।
কাঁচা মরিচে শূণ্য পরিমাণে ক্যালরি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম করে প্রতিদিন ১ অথবা ২ টি করে কাঁচা মরিচ খেলে শরীর অনেক সুস্থ থাকে।
কাঁচা মরিচ ভিটামিন কে এর ভাল উৎস। যা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমায়। ফলে হৃৎপিন্ড ভাল থাকে।
কাঁচা মরিচ বিপাকের হার বাড়িয়ে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। তা ছাড়া,এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন আছে যা হৃৎপিন্ডের কার্যকারিতা ঠিক রাখে।
এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
কাঁচা মরিচে ভিটামিন এ থাকায় হাড়,দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভাল রাখে। ভিটামিন সি থাকায় মাড়ি ও চুলে পুষ্টি যোগায়।
স্নায়ুর জন্যও উপকারী কাঁচা মরিচ। এটি ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়তে দেয় না। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
কাঁচা মরিচ খেতে যদিও ঝাল, কিন্তু এটা শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
কাঁচা মরিচ আয়রনের প্রাকৃতিক উৎস। যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে তারা নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেতে পারেন।
এতে অ্যান্টিব্যাক্টোরিয়াল উপাদান থাকে । এটি ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
সূত্র : এনডিটিভি, নিউজ এইট্টিন

২৪ নিউজভিশন.কম> বিজ্ঞানীরা আট ধরনের ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব এমন একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা পদ্ধতির সফল পরীক্ষা চালিয়েছেন। এই পরীক্ষার নাম ক্যানসারসিক।
এতে ক্যানসারের চিকিৎসায় বিজ্ঞান এক ধাপ এগিয়ে গেল। কেননা, ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসায় নিরাময়ের সুযোগ অনেক বেশি। ওই আট ধরনের ক্যানসারের মধ্যে পাঁচটির ক্ষেত্রেই আগে শনাক্ত করার কোনো পদ্ধতি চালু নেই। এর মধ্যে অন্যতম হলো অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার। আগে থেকে এর লক্ষণ তেমন বোঝা যায় না। এই ক্যানসার শনাক্ত হয় অনেক দেরিতে। দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় এই ক্যানসারে আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই মারা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের একটি দল আট ধরনের ক্যানসার আগে শনাক্ত করতে সক্ষম একটি সাধারণ পদ্ধতির পরীক্ষা চালিয়ে সফল হন। সফলতার হার ৭০ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা একে ‘অত্যন্ত আগ্রহ-উদ্দীপক’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হলো, প্রতিবছর একবার এই পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার আগেই শনাক্ত করে জীবন বাঁচানো।
টিউমারগুলো পরিবর্তিত ডিএনএ ও প্রোটিনের ক্ষুদ্র নমুনা ছড়িয়ে দেয় যা রক্তপ্রবাহে সঞ্চারিত হয়। এই পরীক্ষায় ১৬টি পরিবর্তিত জিন এবং আট ধরনের প্রোটিন শনাক্তের মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয় করা যাবে।
ডিম্বাশয়, যকৃৎ, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কণ্ঠনালি, মলাশয়, ফুসফুস ও স্তন ক্যানসার—এই আট ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত এক হাজার পাঁচজন রোগীকে নিয়ে ক্যানসারসিক পরীক্ষাটি চালানো হয়, যাদের ক্যানসার অন্য টিস্যুতে ছড়ায়নি। পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা সফল।
জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের চিকিৎসক ক্রিস্টিয়ান টোমাসেটি বলেন, ‘ক্যানসার আগে শনাক্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি এই পদ্ধতি ক্যানসারে মৃত্যুর হার ঠেকাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।’
ক্যানসার যত আগে ধরা পড়বে, চিকিৎসায় নিরাময়ের সুযোগ তত বেশি। আট ধরনের ক্যানসারের মধ্যে পাঁচটির ক্ষেত্রেই আগে শনাক্তকরণের কোনো স্ক্রিনিং পদ্ধতি নেই। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে এত কম উপসর্গ দেখা দেয় যে তা শনাক্ত করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। এই ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের পাঁচজনের চারজনই শনাক্ত হওয়ার বছরেই মারা যায়।
এখন থেকে যাদের ক্যানসার শনাক্ত হয়নি, তাদের ক্যানসারসিক পরীক্ষাটি করা হবে। এটাই হবে ক্যানসারসিকের মূল কার্যকারিতার পরীক্ষা।
অন্য স্ক্রিনিং পদ্ধতি যেমন স্তন ক্যানসারের জন্য ম্যামোগ্রামস ও মলাশয়ের ক্যানসারে কোলোনস্কপিজের ক্ষেত্রে এই ক্যানসারসিক পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। টমাসেটি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বছরে একটিবার এই রক্ত পরীক্ষা করা।’
ক্যানসারসিক পরীক্ষার বিষয়ে সায়েন্স সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটা অভিনব, কারণ এই পরীক্ষায় পরিবর্তিত ডিএনএ ও প্রোটিন দুটোই খুঁজে বের করা হয়।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের সেন্টার ফর ইভল্যুশন অ্যান্ড ক্যানসারের দলনেতা ও রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের অনকোলজিস্ট কনসালট্যান্ট গার্ট অ্যাটার্ড বলেন, ‘এটা বিরাট সম্ভাবনা। আমি অত্যন্ত উদ্দীপ্ত। একটি রক্ত পরীক্ষাই শনাক্ত করবে ক্যানসার। ক্যানসার শনাক্ত করতে আমরা এই রক্ত পরীক্ষা চালু করার দ্বারপ্রান্তে।’

২৪ নিউজভিশন.কম> তিনি চিকিৎসক নন। ডিগ্রিও নেই। অথচ অস্ত্রোপচার ও অ্যানেসথেসিয়া—এ দুই কাজই করে যাচ্ছিলেন দেদার। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দুটি ক্লিনিকে গত এক বছরে ৪০০ প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি! এই ব্যক্তির নাম অর্জুন চক্রবর্তী।
অর্জুনের বাড়ি চাঁদপুরের উত্তর নলুয়া গ্রামে। হাইকোর্টের নির্দেশে বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাউফল থানা-পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। থানায় এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, কুমিল্লার মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ফাউন্ডেশন থেকে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) পাস করেছেন। তবে এই কোর্স করে অস্ত্রোপচার করার অনুমতি মেলেনি।
থানায় বসে অর্জুন নিজের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি বলেন, আসল নাম গোপন করে আরেক চিকিৎসকের নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করছিলেন তিনি। চিকিৎসক হিসেবে অর্জুনের নাম ছিল রাজন দাস। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে ওই চিকিৎসকের নেওয়া নিবন্ধন নম্বর (৭০০২০) ব্যবহার করে বাউফল উপজেলার কালিশুরী বন্দরের ‘নিউ হেলথ কেয়ার’ নামের একটি ক্লিনিকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরি নেন অর্জুন। পাশাপাশি উপজেলা সদরের নিরাময় ক্লিনিকেও অস্ত্রোপচার করতেন তিনি।
চিকিৎসক সেজে আয়রোজগার ভালোই হচ্ছিল অর্জুনের। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর এক রোগীর পেটে গজ রেখে দিয়ে ধরা পড়ে যান এই ভুয়া চিকিৎসক।
অর্জুন চক্রবর্তী
গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য পটুয়াখালীর বাউফলের মো. রাসেল সরদারের স্ত্রী মোসা. মাকসুদাকে বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। তখন অর্জুন অস্ত্রোপচার করার পর মাকসুদার একটি মেয়ে হয়। এর এক মাস পর মাকসুদার পেটে তীব্র ব্যথা হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১২ জুলাই সেখানে মাকসুদার অস্ত্রোপচার হয়। তখন তাঁর পেটের ভেতর থেকে গজ বের করা হয়।
এ ঘটনা নিয়ে গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হলো গজ!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লা। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ ঘটনার ব্যাখ্যা জানাতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন, বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধান ও বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারীকে তলব করেন। ওই ঘটনায় কেন তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হবে না—তা রুলে জানতে চাওয়া হয়।
বাউফল থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার হাইকোর্টে হাজিরা দেন অর্জুন চক্রবর্তী। আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত এই ভুয়া চিকিৎসক, পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলা সিভিল সার্জনের দায়ের করা মামলায় অর্জুনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৪ নিউজভিশন.কম> শীতকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক রোগীদের বিনা মূল্যে সেবা ও ওষুধপথ্য দেবেন। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) থেকে এই সেবা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাইদ খোকন।
মেয়র বলেছেন, নাগরিকেরা সিটি করপোরেশনের হটলাইন নম্বরে (০৯৬১১০০০৯৯৯) কল দিলেই বাসায় যাবেন চিকিৎসকেরা।
রোববার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কক্ষ উদ্বোধন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন মেয়র সাইদ খোকন।
চিকনগুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র এ ধরনের সেবা চালু করেন। তাতে নগরবাসী ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছে ও সাফল্য এসেছে বলে জানান তিনি। বলেন, সিটি করপোরেশনের গতানুগতিক চিকিৎসাসেবার বাইরে গিয়ে নাগরিকদের ভালো চিকিৎসা দিতে তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
মেয়র সাইদ খোকন আরও বলেন, ২৮ নভেম্বর তাঁর প্রয়াত বাবা মেয়র হানিফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
মেয়র বলেন, ‘প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নগরের অসংখ্য মানুষ সর্দিকাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। আমাদের এই চিকিৎসাসেবায় সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে দল থাকবে। মোট ১৫০ জনের দল মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। প্রয়োজন অনুসারে সদস্য বাড়ানো হবে।’
রোববার ও সোমবার এই চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা শফিকুল আলমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। সভার আয়োজন করে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

২৪ নিউজভিশন.কম> মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্ত ৮৩ জন রোগী পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ, ৪১ জন নারী, ৭ জন ছেলেশিশু ও ৬ জন মেয়েশিশু। এই হিসাব গত তিন মাসের—গত ২৫ আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত।
সরকার দলের সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
স্পিকারের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সাংসদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এইচআইভি শনাক্তকরণসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
মৌলভীবাজার-২ আসনের সাংসদ আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোলট্রি এবং ফিশ ফিড দেশে ক্যানসারসহ অনেক জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে স্বীকার করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরো বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

২৪ নিউজভিশন.কম> বাজারে এখন অন্যান্য ফলের সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে পানিফল। অনেকেই হয়তো জানেন না, স্বাদ যেমনই হোক না কেন সাধারণ ফলটির রয়েছে দারুণ সব ঔষধি গুণ। এটি মূলত জলজ উদ্ভিদ। কাঁচা কিংবা সিদ্ধ দুই ভাবেই খাওয়া যায় এটি।
পানিফল শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। একারণে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী পানিফল। হার্ট সুস্থ রাখতেও সহায়তা করে এটি। দিনে পাঁচটি পানিফল খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়।
পানিফলের জুস জন্ডিসের জন্যও বেশ উপকারী। এটি শরীরের কোলেস্টরেলের মাত্রা কমায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পানিফলে অন্তত ২ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাছাড়া এতে ভিটামিন বি-৬ থাকায় এটি ঘুমের জন্যও উপকারী। পুষ্টিবিদরা বলেন, মন ভালো রাখে পানিফল। প্রচুর আয়োডিন থাকায় এটি থাইরয়েড গ্লান্ডের জন্যও বেশ কার্যকর।
পানিফলে যেমন প্রচুর পটাশিয়াম আছে তেমনি ভিটামিন -বি এবং ই আছে। আর তাই চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে পানিফল। এই ফল মার্তৃগর্ভে থাকা শিশুর বৃদ্ধির জন্যও খুব উপকারী।
শরীর ঠাণ্ডা করতে পানিফলের জুড়ি নেই। শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে দারুণ কাজ দেয় এই ফল। এটি ত্বকে উজ্জ্বলতাও বাড়ায় । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসার প্রতিরোধক হিসাবেও কাজ করে পানিফল। এটি শরীরে বদ হজমের সমস্যা দূর করে। হামের মতো রোগ সারাতেও এই ফলের জুড়ি নেই।

২৪ নিউজভিশন.কম> ডায়রিয়া ও কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের কলেরার টিকা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। এক বছরের বেশি বয়সীদের মুখে খাওয়ার এ টিকা দেওয়া হবে।
সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কলেরার টিকা দেওয়ার এ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শুধু রোহিঙ্গা নয়, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকেও এ টিকা দেওয়া হবে। ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ লাখ ৫০ হাজার জনকে এ টিকা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, আইসিসিডিডিআরবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেছেন, এ টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। ডব্লিউএইচওসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতায় নয় লাখ টিকা বাংলাদেশে এসেছে। এসব ইতিমধ্যে কক্সবাজারে পৌঁছে গেছে। কলেরার টিকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। টিকাদানকারী প্রতিটি দলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দুজন প্রতিনিধি থাকবেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ নিউজভিশন.কম> বিছানায় শুধু শোয়ার অপেক্ষা। কান পাততে হয় না, কিছুক্ষণ পরই কর্ণকুহরে আছড়ে পড়ে ‘খড়ড়ড়ড়, খড়ড়ড়ড়’। অনেকটা উচ্চাঙ্গসংগীতে বিভিন্ন রাগের অবরোহণ-আরোহণের মতো। হাজার হাঁকাহাঁকি-ডাকাডাকি করে জাগায় কার সাধ্য! অথচ এই মানুষটাই সারা রাত ‘সশব্দ নিদ্রা’ শেষে সকালে উঠে ভীষণ বিস্ময়ের সঙ্গে বলবে, ‘কে নাক ডাকে, আমি!’
আসলে ঘুমের মধ্যে যিনি নাক ডাকেন, তিনি টের পান না। এমন কারও সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমোতে গেলে কিন্তু রাতের ঘুমের দফারফা! বিরক্তির একশেষ। হাসির খোরাক। কিছু ক্ষেত্রে ঈর্ষার পাত্রও। অনেকে ভেবে নেন, নাক ডাকা মানেই ভীষণ গভীর ও নিশ্চিত ঘুম। ভুল। বহু ক্ষেত্রেই নাক ডাকা মানে দৈহিক সমস্যার ‘সতর্কসংকেত’। শ্বাসযন্ত্র ও অন্য কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে মানুষ নাক ডাকতে পারে। চিকিৎসকেরা বলেন, নাক ডাকা নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিরও আলামত।
নাক ডাকার মধ্য দিয়ে শরীর জানিয়ে দেয়, ঘুম একেবারেই ভালো হচ্ছে না। ঘুমন্ত ব্যক্তির শ্বাসনালিতে বাতাসের যাতায়াত কোথাও বাধা পাচ্ছে। পরিণামে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে ঘুমের মধ্যে মৃত্যুও আশ্চর্য নয়! জেনে রাখা ভালো, নাক ডাকার আওয়াজটা আসলে নাক থেকে বের হয় না। এর উৎস গলা থেকে নাকের মধ্যবর্তী অংশে। নানা কারণে এ জায়গায় বাতাস যাতায়াতে বাধা পায় বলেই মানুষ নাক ডাকে। আসুন জেনে নিই নাক ডাকা থেকে মুক্তির কয়েকটি উপায়—
শোয়ার ভঙ্গি পাল্টান
আপনি কি চিত হয়ে ঘুমান? এভাবে ঘুমালে জিব কিছুটা পেছনে চলে গিয়ে শ্বাসনালি বন্ধ করে দেয়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়ে শ্বাসযন্ত্রে কম্পনের সৃষ্টি হয়। ফলে মানুষ নাক ডাকে। কাত হয়ে শোয়ার মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায়। কাত হয়ে শুতে সমস্যা হলে মাথার নিচে অতিরিক্ত বালিশ দিয়েও কাজ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির জেএফকে মেডিকেল সেন্টারের নিউরোফিজিওলজি ও স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুধাংশু চক্রবর্তীর পরামর্শ, চিত হয়ে শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে পায়জামায় কোমরের কাছে টেনিস বল রাখতে পারেন। এতে ঘুমের মধ্যে আপনা-আপনি চিত হয়ে যাওয়া থেকে রেহাই পাবেন।
ওজন কমান
শরীরের অতিরিক্ত ওজন নাক ডাকার সাধারণ কারণগুলোর একটি। তবে শুকনো মানুষও কিন্তু নাক ডাকেন। যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটা প্রমাণিত যে শরীরের ওজন যত বেশি হবে, নাক ডাকার শঙ্কাও ততই বাড়বে। ঘাড়ের চারপাশের মেদ নাক ডাকার অন্যতম একটি কারণ। গলার ভেতরে অতিরিক্ত চর্বি জমলেও এটা হতে পারে। তবে এই অবস্থাটা মারাত্মক। কেননা, গলার মধ্যে চর্বি জমা মানে শ্বাসনালিতে বাতাস কম ঢুকবে। এতে শরীরে অক্সিজেনও কমবে। ৬০ শতাংশের নিচে অক্সিজেনের মাত্রা নামলেই ঘুমের মধ্যে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করুন
অ্যালকোহল কিংবা মদজাতীয় পানীয় জিবের পেশিগুলো শিথিল করে দেয়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের নালি সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে মানুষ নাক ডাকতে পারে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে যাঁরা অ্যালকোহল পান করেন, তাঁদের নাক ডাকার সম্ভাবনা খুব বেশি। রাতে ঘুমোনোর আগে অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায়।
অবশ্য শুধু অ্যালকোহল নয়, ধূমপায়ীদের মধ্যেও নাক ডাকার প্রবণতা সাধারণের চেয়ে বেশি। প্রতিনিয়ত ধোঁয়া গেলার কারণে বায়ুপ্রবাহের স্থান সরু হয়ে আসতে পারে। এ ছাড়া ধূমপানের কারণে নাকের টারবাইনেটস নামে বিশেষ ধরনের টিস্যু স্ফীত হয়ে যায়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতার কারণে নাক ডাকার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
ভালো ঘুমের চেষ্টা করুন
নিশ্চিন্ত ও গভীর ঘুমের মূল্য শুধু অনিদ্রায় ভোগা রোগীরাই বুঝতে পারবেন। মানুষের সুস্থ-সবল দেহের নেপথ্যে রয়েছে ভালো ঘুম। অনিদ্রার অনেকগুলো কুফলের মধ্যে একটি নাক ডাকা। একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার ভালো ঘুম হচ্ছে কি না?
প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। এতে ঘুমের সঙ্গে শরীরের একধরনের সামঞ্জস্য তৈরি হবে। ফলে নাক ডাকার অভ্যাস থাকলে সেটারও পরিবর্তন ঘটবে। বিছানা পরিষ্কার রাখুন। বিছানায় ধুলাবালু থাকলে, ঘর বেশি ময়লা থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হতে পারে। এতে নাকের নালিতে ময়লা সংক্রমিত হয়ে নাকের পেশি ফুলে উঠতে পারে। এতে নাক ডাকার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
জিব ও গলার ব্যায়াম
নাক ডাকা বন্ধে শরীরের এ দুটি অঙ্গের পেশি শক্তিশালী করতে হবে। বয়সের কারণে টিস্যুর স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি কমে আসে। এতে গলায় বাতাস প্রবাহে সমস্যা হয়। এ সমস্যা কাটাতে দরকার ব্যায়াম। যেমন চোয়ালের নিচের অংশ ওপরের অংশ থেকে সামনে প্রসারিত করুন। আবার আগের অবস্থানে নিয়ে যান। টানা ১০ বার কাজটি করুন। এভাবে দিনে ৭ থেকে ১০ বার ব্যায়ামটি করতে পারেন। জিবের ব্যায়াম করতে পারেন কথা বলে। কোনো একটা বাক্য ধীরে ধীরে বলে যান। এভাবে দিনে ৭ থেকে ১০ বার এ ব্যায়াম করুন।
শেষ কথা
যাঁদের ঠান্ডা লেগেই থাকে এবং এ কারণে নাক বন্ধ থাকে, তাঁদের নাক পরিষ্কার করে ঘুমোতে যাওয়া উচিত। ঘুমোনোর এক-দুই ঘণ্টা আগে চা-কফি পান করবেন না। এ সময় মসলাযুক্ত খাবারও পরিহার করুন। প্রচুর পানি পান করলে নাসারন্ধ্রে লেগে থাকা আঠার মতো পদার্থগুলো দূর হবে। এতে নাক ডাকার আশঙ্কাও কমে আসবে। এ ছাড়া প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধে দুই চা-চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এটা নাক ডাকা বন্ধের কার্যকর টোটকা। ঘুমানোর আগে দুধের সঙ্গে এলাচির গুঁড়ো মিশিয়েও খেতে পারেন। তবে এসব চেষ্টা করেও যদি নাক ডাকার সঙ্গে পেরে না ওঠেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

২৪ নিউজভিশন.কম>
ভিটামিন বি৩ সম্ভবত গর্ভপাত ও জন্মগত ত্রুটি রোধ করতে পারে। এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর চালানো হয়। খবর বিবিসি অনলাইনের।

সিডনির ভিক্টর চ্যাং ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা এটিকে ‘দ্বৈত সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা এই একটি গবেষণাতে একই সঙ্গে গর্ভপাত ও জন্মগত ত্রুটির কারণ এবং এর প্রতিকার আবিষ্কার করেছেন।

প্রতিবছর বিশ্বে ৭৯ লাখ শিশু ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। গবেষক দলটি আশা করছে, এই গবেষণার ফল ব্যাপক কল্যাণ বয়ে আনবে।

হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্ম নিয়েছে বা কয়েকবার গর্ভপাত হয়েছে—এমন চারটি পরিবারের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। তাঁরা দেখেছেন, জিনগত দুটি পরিবর্তনের কারণে শিশুর শরীরে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিকোটিনামাইড এডিনিন ডিনুক্লিওটাইডের (এনএড) ঘাটতি তৈরি হয়। ওই উপাদানটি কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন করে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটায়।

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন গবেষক প্রফেসর সালি ডনউডি। ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে তিনি প্রমাণ পেয়েছেন যে গর্ভাবস্থায় কোনো মা যদি নায়াসিন (ভিটামিন বি৩) সেবন করেন, তবে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

গবেষক সালি ডনউডি বলেন, ‘আপনি এনএডির মাত্রা বাড়িয়ে গর্ভপাত ও জন্মগত ত্রুটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারেন। এটা জিনগত সমস্যা দূর করে।’ তিনি বলেন, ‘একই গবেষণায় কোনো সমস্যার কারণ ও সমাধান বের করার ঘটনা দুর্লভ এবং এই সমস্যা প্রতিরোধ করা খুবই সহজ, শুধু একটি ভিটামিনই এই সমস্যা দূর করতে পারে।’

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জিন গোল্ডিং বলেন এই গবেষণাকে তথ্যবহুল বলে অভিহিত করেছেন। তবে এটি সব ক্ষেত্রেই কাজে দেবে এটা ভেবে—এর ব্যাপক প্রয়োগের বিষয়ে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। কারণ, গবেষণাটি হয়েছে চারটিমাত্র পরিবার ও ইঁদুর নিয়ে।

গবেষক প্রফেসর সালি ডনউডি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের বর্তমানে গর্ভাবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট মাল্টিভিটামিন সেবনের সুপারিশ করে থাকেন, যেখানে নিয়াসিন বা ভিটামিন বি৩–এর পরিমাণ থাকে ১৮ মিলিগ্রাম। তিনি বলেন, ‘তবে আমরা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সবাই একই রকমভাবে হজম করতে পারি না।’ তিনি বলেন, একজন নারীর শরীরে কী পরিমাণ এনএডি তৈরি হবে, তা প্রভাবিত করে ওজন এবং ডায়াবেটিস।

সালি ডনউডি বলেন, ‘আমরা জানি না ওই নারীদের শরীরে (গবেষণায় অংশ নেওয়া) কেন পর্যাপ্ত পরিমাণে এনএডি তৈরি হয়নি। এটা পরবর্তী গবেষণার বিষয়।’

২৪ নিউজভিশন.কম>
আমাদের চারপাশে অনেক রকমের ব্যাকটেরিয়া। এগুলোর সংক্রমণে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে। সারাতে খেতে হয় অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে এর ব্যবহারবিধির ওপর। এ ব্যাপারে তাই সচেতনতা জরুরি।
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে চিকিৎসককে শরীর সম্পর্কে সব তথ্য জানানো জরুরি। চিকিৎসক হয়তো নিজে থেকেই অনেক কিছু জিজ্ঞেস করবেন। তারপরও রোগীর সচেতনতা দরকার। কয়েকটি বিষয় জেনে নিন।

১. যেকোনো জ্বরের জন্যই অ্যান্টিবায়োটিক নয়। কখনোই চিকিৎসককে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার জন্য জোর করবেন না বা অনুরোধ করবেন না। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মা-বাবারা প্রায়ই এমনটা করেন। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে জ্বর হয়েছে—এমন প্রমাণ হাতে পাওয়ার আগে অ্যান্টিবায়োটিক নয়।

২. নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকে অনেকের সংবেদনশীলতা থাকে। একই অ্যান্টিবায়োটিক একজনের জন্য প্রাণ রক্ষাকারী; আরেকজনের জন্য প্রাণসংহারীও হতে পারে। কোনো ওষুধে অ্যালার্জি থাকলে তা অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে। ওষুধ সেবন শুরু করার পর ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। প্রয়োজনে ওষুধ বন্ধও করে দিতে পারেন।

৩. অনেক অ্যান্টিবায়োটিক অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় খাওয়া নিষেধ। এতে বিপদ হতে পারে। তাই চিকিৎসককে নিজের শারীরিক অবস্থা জানানো জরুরি।

৪. অনেক ওষুধের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রিয়া হতে পারে। যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িও অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসককে বিষয়টি জানাতে হবে।

৫. ওষুধ কত ঘণ্টা পরপর মোট কত দিন খেতে হবে, তা ভালোমতো জেনে নিন। ঠিক সেই সময় ধরেই ওষুধ খেতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সাধারণত দিনে তিনবার বা চারবারের বদলে আট বা ছয় ঘণ্টা পরপর ওষুধ খেতে বলা হয়। কোনো একটা ডোজ খেতে ভুলে গেলে পরবর্তী ডোজ কিন্তু বেশি খাওয়া যাবে না।

৬. অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ হওয়ার আগেই শরীর ভালো লাগতে পারে। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হয়ে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। পুরো কোর্সটি শেষ করতে হবে। না হলে জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস নাও হতে পারে।

৭. অন্য কেউ কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে গলাব্যথা সারিয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে কখনো অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। আবার আগে যে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে কাশি সেরেছে, সেটি আবার খেলে সেরে যাবে, এমন ধারণা ভুল। আগেরবারের রয়ে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াও ভালো কথা নয়।

৮. শিশুদের ওজন অনুসারে অ্যান্টিবায়োটিক মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত। একই বয়সী আলাদা ওজনের দুই শিশুর অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স দুই রকম হতে পারে। না বুঝে-শুনে বা ধারণা করে তাই শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না। মাত্রা ভালো করে জেনে নিন। পুরোনো মুখ খোলা অ্যান্টিবায়োটিক সিরাপ বা সাসপেনশন আবার ব্যবহার করবেন না। সাসপেনশন তৈরির সঠিক নিয়ম জেনে নিন।

৯. চিকিৎসকের কাছে অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জেনে নিতে হবে। কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে প্রস্রাবের রং লাল হয়ে যায়, কোনোটাতে আবার পেটে গ্যাস হয়। কোনটা খেলে রুচি কমতে পারে বা বমি পেতে পারে। জানা থাকলে ভালো।

১০. কোনো কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বেশি করে পানি পান করতে হয়। কোনো কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে কিছু খাবার বা অ্যালকোহল বিক্রিয়া করে। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক আছে, যা কিডনি বা যকৃতের সমস্যায় সেবন করা যায় না। তাই নিজের শরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিয়ে চিকিৎসককে সাহায্য করতে হবে।

Select Language