বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০ | ১০:৫৩
১৩ কার্তিক, ১৪২৭ | ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২
সু-সংবাদ

২৪ নিউজভিশন.কম> বিশ্ব নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় শীতল পাটিকে যুক্ত করেছে ইউনেস্কো।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে ইউনেস্কো এ স্বীকৃতি দেয়।’
এর আগে গত বছর ইউনেস্কোর এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ ছাড়া গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।
দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে চলছে বিশ্বের নির্বস্তুক ঐতিহ্য সংরক্ষণার্থে গঠিত আন্তর্জাতিক পর্ষদের সম্মেলন। এই সম্মেলনের শেষ পর্বে উঠে এসেছে বাংলাদেশের সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প শীতলপাটি।
জাতীয় জাদুঘরের সচিব মোহাম্মদ শওকত নবীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সিলেট অঞ্চলের দুই বিখ্যাত পাটিকর গীতেশচন্দ্র ও হরেন্দ্রকুমার দাশ। সম্মেলনস্থলে এই দুই পাটিকর তাদের বুননশৈলী উপস্থাপনা করেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া উন্নতমানের শীতল পাটি প্রদর্শন করা হচ্ছে সেখানে।
একই সঙ্গে দেশের মানুষের কাছে এই কারুশিল্প তুলে ধরতে জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগে মঙ্গলবার শুরু হয়েছে শীতলপাটির বিশেষ প্রদর্শনী।
জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ৯ দিনের এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি সচিব মোহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেন খান এবং লোকশিল্পগবেষক চন্দ্রশেখর সাহা। শীতলপাটি নিয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি চিত্রশিল্পী হাশেম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

একসময় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ায় শীতলপাটির ব্যাপক কদর ছিল। শীতলপাটি ভারতসম্রাজ্ঞী মহারানী ভিক্টোরিয়ার ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদেও স্থান পেয়েছিল। ভারতবর্ষে আগমনের প্রমাণ ও স্মৃতিস্মারক হিসেবে ভিনদেশিরা ঢাকার মসলিনের পাশাপাশি সিলেটের বালাগঞ্জের শীতলপাটি নিয়ে যেতেন। কথিত আছে, দাসের বাজারের রূপালি বেতের শীতলপাটি মুর্শিদ কুলি খাঁ সম্রাট আওরঙ্গজেবকে উপহার দিয়েছিলেন। সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই ‘শীতলপাটি’কে কেউ কেউ নকশিপাটিও বলে থাকেন। মৈমনসিংহ গীতিকা ও লোকসাহিত্যেও নানাভাবে উঠে এসেছে শীতলপাটির কথা। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে হাতে বোনা এই শিল্পে এখনও যুক্ত আছে শতাধিক গ্রামের চার হাজার পরিবার। যারা এই পাটি বুনে থাকেন তাদের বলা হয় ‘পাটিয়াল’ বা ‘পাটিকর’।
প্রদর্শনী উদ্বোধনের সময় আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, বিদেশেও শীতলপাটির কদর রয়েছে। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই শিল্পে নতুনত্ব এনে তাকে রক্ষা করতে হবে। এখন কারুশিল্পীরা তাদের মনের মতো শীতলপাটি তৈরি করতে পারেন না। শিল্পীরা তাদের স্বাধীনতা হারাচ্ছেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।’
জাদুঘরের এ প্রদর্শনীজুড়ে এখন নানা রকম শীতলপাটি। কোনোটায় পাখি, কোনোটায় ফুল-লতা-পাতা আঁকা। জ্যামিতিক নকশাও রয়েছে এতে। ঘুরতে ঘুরতে দেখা যাবে মসজিদ, চাঁদ-তারা, পৌরাণিক কাহিনীচিত্র, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, শাপলা, পদ্ম আঁকা ছোট-বড় শীতলপাটি।
ঐতিহ্যবাহী ৬ ফুট ৯ ফুট আয়তনের একটি পাটির দাম বর্তমানে ২০ হাজার থেকে শুরু থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ধরনের একটি পাটি তৈরি করতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। ছোট আকারের পাটি বুনতে সময় লাগে এক থেকে দেড় মাস।
শীতলপাটি কীভাবে তৈরি করা হয়, তাও দেখা যাবে এ প্রদর্শনীতে। গ্রামীণ আদলে ছাউনি বানিয়ে মৌলভীবাজারের চারজন শিল্পী শীতলপাটি বুনছিলেন। তাদের একজন মৌলভীবাজারের আরতি রানী দাশ সেই ছোটবেলায় বাবা ধীরেন্দ্র দাশের হাত ধরে শীতলপাটি বুনন শিখেছিলেন। তিনি জানান, নান্দনিকভাবে একটি পাটি তৈরি করতে এক মাস থেকে কমপক্ষে দেড় মাস সময় লাগে।
কথা হলো মৌলভীবাজার আসা আরও তিন শিল্পী রমাকান্ত দাশ, অজিত কুমার দাশ ও অরুণ চন্দ্র দাশের সঙ্গে। তারাও কথায় কথায় জানালেন শীতলপাটি তৈরির গল্প। প্রদর্শনালয়ের একটি কোণে রয়েছে সেসব যন্ত্রপাতি বা উপকরণ, যা পাটি তৈরিতে কাজে লাগে। রমাকান্ত দাশ বলেন, ‘পাটি বুনতে লাগে চিমটা, আমড়া পাতা, কাপড়ের টুকরা, বেতিতে পানি ছিটানোর হাতা, চটি, মুর্তা বেত, জাক ও দা। এগুলো একটি পরিসরে প্রদর্শন করা হচ্ছে।’ প্রদর্শনী চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই প্রদর্শনী।

২৪ নিউজভিশন.কম> জন্ম থেকে পঙ্গু ইডেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী আঁখিমণির স্বাভাবিক চলাফেরার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। আর ক’দিন পরেই নিজ পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারবেন তিনি। তার এই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার চিকিৎসার পাশাপাশি লেখাপড়ার সব দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি।
দুই পায়ে ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া আঁখিমণির ২০টি বছর কেটেছে দুঃসহ যন্ত্রণায়। পা দুটি বাঁকা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারতেন না তিনি। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ভার বহনের সামর্থ্য ছিল না টাঙ্গাইলের সখীপুরের দরিদ্র পরিবারটির। এ অবস্থায় আঁখিমণির চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তার তত্ত্বাবধানে প্রায় দেড় বছর রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) আঁখিমণির চিকিৎসা চলছে। এর আগে একটি পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) অন্য পায়ের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অগ্রগতি দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে আঁখির শয্যাপাশে হাজির হন মন্ত্রী। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
এ সময় হাসপাতালের শয্যায় আবেগাপ্লুত আঁখি তার পড়ালেখা শেষ করার অদম্য ইচ্ছা প্রকাশ করলে ওবায়দুল কাদের সে দায়িত্বও নেন।
আঁখির মা সালমা আক্তার জানান, জন্মত্রুটি নিয়ে আঁখির জন্ম। কিন্তু অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে পড়ালেখায় বরাবরই ভালো করেছে সে। ভর্তি হয় ইডেন কলেজে। কিন্তু স্বাভাবিক চলাফেরা সে করতে পারত না। পা দুটি বাঁকা হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাকে। চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ায় মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

২৪ নিউজভিশন.কম> একে অপরের প্রতি সন্দেহ থেকে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন জুয়েল-পাখি দম্পতি। একপর্যায়ে পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি। এ দম্পতির রয়েছে পাঁচ বছরের একটি ফুটফুটে সন্তান। শিশুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসারটির ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ নেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম। কথা বলেন দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই আলাদা কাউন্সেলিং শুরু করেন এ কর্মকর্তা। এরপর ভবিষ্যতে পারিবারিক সব ধরনের সমস্যায় তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাদের। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই তাদের ভুল বুঝতে পেরে সরে আসেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে। রক্ষা পায় একটি পরিবার। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা পায় নিষ্পাপ শিশুটিও।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সন্তানকে কোলে নিয়ে নগরের সদরঘাট থানার মাদারবাড়ির বাসায় ফেরেন মা ও বাবা। হাসলো তাঁদের সন্তান ফুটফুটে সন্তানটি।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জুয়েল ও পাখির। দু’জনের সংসার ছিল খুবই সুখের। বছর পেরোতেই এই দম্পতির কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে সন্তান। জুয়েলের নিজস্ব পিকআপভ্যান রয়েছে। সেটি নিজেই চালান তিনি। সংসারে তেমন অভাব-অনটন নেই। নগরের মাদারবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা তারা। কিন্তু কিছুদিন আগে থেকে দু’জনের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। গত ২ নভেম্বর জুয়েলের সঙ্গে আর সংসার করতে চান না জানিয়ে কমিউনিটি পুলিশের কাছে আবেদন করেন পাখি বেগম। আবেদনটি চলে আসে নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপকমিশনারের কাছে। তিনি বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেন সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলমকে। দুই পরিবারকে মঙ্গলবার বিকালে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন তিনি। তার ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হন স্বামী-স্ত্রীসহ দুই পরিবারের সদস্যরা।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আবেদনটি পাওয়ার পর দুই পরিবারকে আসতে অনুরোধ করি। এই দম্পতির একটি শিশুসন্তান রয়েছে। শিশুটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সংসারটির ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ নিই। স্বামী ও স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে আলাদা আলাদা কথা বলি। তাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সন্দেহ করে। এ ছাড়া তাদের আর কোনো সমস্যা নেই। দীর্ঘক্ষণ দু’জনকে আলাদা আলাদা কাউন্সেলিং করেছি। তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, তারা আলাদা হয়ে গেলে তাদের নিষ্পাপ শিশুটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সন্তানকে ছেড়ে তারা নিজেরাও সুখী হবেন না। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে পুনরায় একত্রে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের পারিবারিক যে কোনো সমস্যায় পুলিশি সহায়তারও আশ্বাসও দেন তিনি।

২৪ নিউজভিশন.কম> শীতকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক রোগীদের বিনা মূল্যে সেবা ও ওষুধপথ্য দেবেন। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) থেকে এই সেবা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাইদ খোকন।
মেয়র বলেছেন, নাগরিকেরা সিটি করপোরেশনের হটলাইন নম্বরে (০৯৬১১০০০৯৯৯) কল দিলেই বাসায় যাবেন চিকিৎসকেরা।
রোববার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কক্ষ উদ্বোধন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন মেয়র সাইদ খোকন।
চিকনগুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র এ ধরনের সেবা চালু করেন। তাতে নগরবাসী ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছে ও সাফল্য এসেছে বলে জানান তিনি। বলেন, সিটি করপোরেশনের গতানুগতিক চিকিৎসাসেবার বাইরে গিয়ে নাগরিকদের ভালো চিকিৎসা দিতে তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
মেয়র সাইদ খোকন আরও বলেন, ২৮ নভেম্বর তাঁর প্রয়াত বাবা মেয়র হানিফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
মেয়র বলেন, ‘প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নগরের অসংখ্য মানুষ সর্দিকাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। আমাদের এই চিকিৎসাসেবায় সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে দল থাকবে। মোট ১৫০ জনের দল মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। প্রয়োজন অনুসারে সদস্য বাড়ানো হবে।’
রোববার ও সোমবার এই চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা শফিকুল আলমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। সভার আয়োজন করে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

২৪ নিউজভিশন.কম> পাবনার ঈশ্বরদীর প্রায় শতাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের (পিপিএম) কাছে ‘আত্মসমর্পন’ করেছেন।
ওই মাদক ব্যবসায়ীরা মুচলেকা দিয়ে অঙ্গীকার করেন, আর কোনোদিন তারা মাদক ব্যবসা করবে না এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও কমিউিনিটি পুলিশিং কমিটি ঈশ্বরদীকে মাদকমুক্ত করার লক্ষে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মাদক বিক্রেতাদের ওই আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পাবনা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির মঞ্চের সামনে আত্মসমর্পন করতে আসা মাদক ব্যবসায়ীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু, ইউএনও নাছরিন আক্তার, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক, সাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক রানা সরদার, প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম, সাংবাদিক মাহাবুবুল হক দুদু ও পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি।
‘আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার বক্তব্যে বলেন, সবচেয়ে মাদকপ্রবণ এলাকা ঈশ্বরদী উপজেলা। গত জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এ নিয়ে মোট সংখ্যা ১৭০ জন আত্মসমর্পন করেছে। মামলা সংক্রান্তে পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করেছে তাদের পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার জিহাদুল হক বক্তব্যে বলেন, গত ১০ মাসে ঈশ্বরদীতে পুলিশী অভিযানে ৬২৪টি মাদকের মামলা এবং ৭৪৩ জনকে মাদকের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন.কম>
জামদানির পর এবার বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে ইলিশ বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেল। পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর বলছে, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন) পণ্য হিসেবে ইলিশ নিবন্ধনের সব প্রক্রিয়া শেষ। এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য অধিদপ্তরের হাতে ইলিশের জিআই নিবন্ধনের সনদ তুলে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার সানোয়ার হোসেন সোমবার (৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের জানান, ‘মৎস্য অধিদপ্তর আমাদের কাছে রুপালি ইলিশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এ বছরের ১ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। আইন অনুসারে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার দুই মাসের মধ্যে দেশে বা বিদেশ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি জানাতে হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি। সে অনুসারে এ পণ্য এখন বাংলাদেশের স্বত্ব। এখন এটি চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনের প্রক্রিয়াধীন আছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এর স্বত্ব মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে তুলে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বলেন, ‘এই ইলিশ বাংলাদেশের সম্পদ আমাদের জাতীয় মাছ। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে পেতে আবেদন করি। এই ইলিশ আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। এটি আমাদের একার অর্জন নয়, গোটা জাতির অর্জন।’
বাংলাদেশের পণ্য আন্তর্জাতিকভাবে যেন স্বীকৃতি পায়, সে জন্য আন্দোলন করে বিল্ড বেটার বাংলাদেশ। সংগঠনটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বিপাশা মতিন বলেন, জামদানির পর এটি হচ্ছে দ্বিতীয় পণ্য, যেটি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেল। এটি একটি অত্যন্ত আনন্দের খবর। এর ফলে অন্যান্য আরও ৭০টি পণ্য জিআই পণ্য হিসেব স্বীকৃতি পাওয়ার পথ সুগম হলো।

ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ইলিশ ধরা পড়ে।
ইলিশ আছে—বিশ্বের এমন ১১টি দেশের মধ্যে ১০টিতেই ইলিশের উৎপাদন কমছে। একমাত্র বাংলাদেশেই ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

২৪ নিউজভিশন.কম>
উন্নয়নশীল বিশ্বে সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় বহু নারীর মৃত্যু ঘটে। তবে কনডমসহ মাত্র তিনটি সস্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করেই এই মৃত্যু ঠেকানো যায়। এর নাম ইউবিটি কিট। বর্তমানে আফ্রিকাজুড়ে ধাত্রীদের ইউবিটি কিট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। খবর বিবিসির।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই কিট দিয়ে চিকিৎসায় সফলতার হার ৯৭ শতাংশ। এই কিট লাখ লাখ মায়ের জীবন বাঁচাতে পারে। আফ্রিকার কেনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক ধাত্রী অ্যানি মুলিঞ্জ বলেন, ‘এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা এ পর্যন্ত তিনজনের জীবন বাঁচিয়েছি। সন্তান জন্মদানের সময় কোনো নারীর যখন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, তখন আমরা এটা ব্যবহারের পরই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়।’

বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে গর্ভাবস্থায় ও সন্তান জন্মদানের সময় একজন মায়ের মৃত্যু ঘটে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ। আর এর সমাধান হলো ইউবিটি কিট। এতে রয়েছে একটি কনডম, একটি ক্যাথেটার ও একটি সিরিঞ্জ, যার মূল্য পাঁচ ডলারেরও কম। এটিতে কাজ হয়। এদিকে চিকিৎসাকেন্দ্রে তীব্র রক্তক্ষরণে আক্রান্ত নারীর চিকিৎসায় ৪০০ ডলারেরও বেশি খরচ করতে হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্যই এই খরচ অনেক বেশি।

ধাত্রী অ্যানি মুলিঞ্জ বলেন, ‘আমরা কনডমের মধ্যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে কনডমের মুখের কাছের অংশটি বেঁধে ফেলি এবং কনডমটি হাত দিয়ে জরায়ুর ভেতরে ঢুকিয়ে দিই। এরপর সিরিঞ্জ দিয়ে ক্যাথেটারে ভেতরে স্যালাইন ঢুকিয়ে ফুলিয়ে দিই কনডমটি। এটি ফুলে ওঠায় জরায়ুর মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্তক্ষরণ থেমে যায়। আফ্রিকাজুড়ে ধাত্রীদের ওই কিট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

ধাত্রী অ্যানি মুলিঞ্জ আরও বলেন, ‘গত বছরের শুরুর দিকের ঘটনা। সন্তান জন্মদানের পর এক মায়ের গর্ভফুল অপসারিত হওয়ার কয়েক মিনিট পরেই তাঁর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্ত অবিরত পানির মতো গড়িয়ে পড়তে থাকে। তখন ইউবিটি কিট ব্যবহারের কথা মাথায় আসে। আমি জরায়ুতে কনডম ঢুকিয়ে ফুলিয়ে দিই। পাঁচ মিনিটের মধ্যে রক্তক্ষরণের মাত্রা কমে যায়। ওই নারী সুস্থ হয়ে সন্তানসহ বাড়ি ফেরেন।’

২৪ নিউজভিশন.কম>
তার বয়স মাত্র ১১ বছর। অথচ এই বয়সেই আলবার্ট আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিংয়ের মতো বিখ্যাত বিজ্ঞানীর চেয়েও বুদ্ধিমান সে। নাম তার অর্ণব শর্মা। সম্প্রতি বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় আইনস্টাইন ও হকিংয়ের চেয়ে দুই নম্বর বেশি পেয়েছে সে!

বুদ্ধিমত্তা মাপার পরীক্ষাগুলোর মধ্যে মেনসা টেস্ট অন্যতম। খুব কঠিন পরীক্ষা বলে এর ‘কুখ্যাতি’ আছে। আর সেই পরীক্ষাতে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই অংশ নিয়েছিল অর্ণব। যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের রিডিং শহরে মা-বাবার সঙ্গে থাকে সে।
মেনসা টেস্টে ১৬২ নম্বর পেয়েছে অর্ণব। অথচ পরীক্ষায় বসার আগে এর প্রশ্ন সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তার। স্রেফ মনের জোরেই কয়েক সপ্তাহ আগে পরীক্ষায় বসে সে। আর তার পরই ইতিহাস।
মেনসার পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র বলেছেন, অর্ণব যে নম্বর পেয়েছে, তা খুব কম মানুষই অর্জন করতে পেরেছে।

১৯৪৬ সালে অক্সফোর্ডে বিজ্ঞানী ল্যান্সেলট লিওনেল ওয়্যার ও আইনজীবী রোল্যান্ড বেরিল মেনসা সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে সারা বিশ্বে এটি ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট জনসংখ্যার শীর্ষ ২ শতাংশ বুদ্ধিমান মানুষকে এই সোসাইটির সদস্যপদ দেওয়া হয়। তবে এর জন্য মেনসা অনুমোদিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

ব্রিটিশ অনলাইন পত্রিকা দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পরীক্ষার প্রাথমিক ফল নির্ধারণের জন্য মৌখিক যুক্তির সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এতে বুদ্ধিমত্তার মাত্রায় যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ১ শতাংশ মেধাবীদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে সে।
অর্ণব বলেছে, ‘মেনসা টেস্ট বেশ কঠিন। আমি এতে উত্তীর্ণ হওয়ার আশা করিনি। আমার পরীক্ষাটি শেষ করতে আড়াই ঘণ্টার মতো লেগেছিল।’ সে জানিয়েছে, মাত্র সাত-আটজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল প্রাপ্তবয়স্ক।

অবশ্য এতে ঘাবড়ে যায়নি অর্ণব। সে বলেছে, ‘আমার কোনো প্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু আমি কোনো স্নায়বিক চাপে ভুগিনি। পরীক্ষার ফল শুনে মা-বাবা কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন ঠিকই। তবে তাঁরা বেশ খুশিও হয়েছেন।’
অর্ণবের মা মিশা ধামিজা শর্মা বলেন, ‘পরীক্ষার পুরোটা সময় আমি প্রার্থনা করেছি। ভাবছিলাম, কী জানি কী হয়! কারণ, এর আগে মেনসা টেস্টের কোনো প্রশ্নপত্রও দেখেনি সে।’

পড়াশোনায় হাতেখড়ির পর থেকেই গণিতে ভালো দক্ষতা ছিল অর্ণবের। তার মা জানান, মাত্র আড়াই বছর বয়সেই ছেলের প্রতিভা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিলেন। মিশা ধামিজা শর্মা বলেন, ‘তখনই এক শর বেশি গুনতে পারত সে।’

রিডিং শহরের ক্রসফিল্ডস স্কুলে পড়াশোনা করে অর্ণব। এরই মধ্যে ইটন কলেজ ও ওয়েস্টমিনস্টারে নির্বাচিত হয়েছে সে। এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ।
তবে অর্ণব শুধু গণিতেই ভালো, তা কিন্তু নয়। গান ও নাচের প্রতিও আগ্রহ আছে তার। আট বছর বয়সেই একটি নাচের প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল সে।

২৪ নিউজভিশন.কম>
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি কিশোর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ২১তম আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৩ বছর বয়সী তারিকুল বিশ্বের ৮৯ জনকে পেছনে ফেলে জয়ী হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) মুহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ২ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম। এ বছর পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনে দুবাই চেম্বার অব কমার্সের অডিটোরিয়ামে শুরু হয় এ প্রতিযোগিতা। পরপর নয় রাত প্রতিযোগিতা চলার পরই ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। কোরআন তিলাওয়াতে প্রথম তারিকুল ইসলাম সুন্দর কণ্ঠ (বিউটিফুল ভয়েস) বিভাগে চতুর্থ হয়েছে।
এ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হুজায়ফা সিদ্দিকী। হুজায়ফা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে দুই লাখ দিরহাম। হুজায়ফা সিদ্দিকী সুন্দর কণ্ঠের জন্যও পুরস্কার পেয়েছে।

মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সেলফি তোলায় ব্যস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।


তৃতীয় পুরস্কারটি যৌথভাবে পেয়েছে গাম্বিয়ার মোডুউ জোবে এবং সৌদি আরবের আবদুল আজিজ আল ওবায়দান। তারা দুজনে ১ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম পেয়েছে।
কোরআন প্রতিযোগিতায় সেরা দশের অপর বিজয়ীরা হলেন মোহনা আহমেদ (বাহরাইন), মোহাম্মদ আল হাদি আল বশির (লিবিয়া), ওমর আল রাফি (কুয়েত), মোহাম্মদ আবেকা (মৌরিতানিয়া), হাবিমানা মাকিনি (রুয়ান্ডা) ও মোহাম্মদ নাগিব (মিশর)।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ।

২৪ নিউজভিশন.কম>
কথায় আছে ,যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন। নারীর জন্য কথাটা দারুন উৎসাহব্যঞ্জক। তবে সংগ্রামী জেসমিনের ক্ষেত্রে কথাটা অারো একটু বেশি। অন্য রকম। কথাটা এমন হতে পারে, যিনি রাঁধেন, চুুলও বাঁধেন আবার রিক্সাও চালান!
চট্টগ্রামের অলিতেগলিতে যারা বিচরণ সেই মোসাম্মৎ জেসমিনকে লোকে ডাকে‘ক্রেজি আন্টি’ অথবা ‘পাগল আন্টি’ বলে। কিন্তু তাতে তিনি থোড়াই কেয়ার করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল তিনি। এক চিলতে ঘরের দাওয়ায় রাখা থাকে নীল-লাল-সবুজ রঙা ঝকঝকে রিক্সাটা। সকাল হলেই শাড়ি পরে রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিন সন্তানের মা। রুটিনটা ৩৬৫ দিনে বদলায় না এতটুকু। সকাল থেকে রাত রোজ ৮ ঘণ্টা ডিউটি করে বাড়ি ফেরেন মোসাম্মাৎ জেসমিন। সম্ভবত বাংলাদেশের একমাত্র মহিলা রিক্সাচালক তিনি।

প্রিয় রিক্সা নিয়ে চট্টগ্রামের রাস্তায় জেসমিন


কথা প্রসঙ্গে গর্বিত পরিশ্রমী এই মা বললেন, ছেলেদের অনাহারে রাখা সম্ভব ছিল না। ওদের শিক্ষিতও করতে চেয়েছিলাম। আল্লা আমাকে হাত-পা দিয়েছেন। ভিক্ষা তো করতে পারব না। তাই রিক্সা চালাই। কাজ করি।
কিন্তু, হঠাৎ রিক্সা চালানোর কথা মাথায় আসল কেন এমন প্রশ্নের জবাবে জানালেন, সংসারের সব দায়িত্ব ছেড়ে অন্য একটি সম্পর্কে জড়িয়ে ঘর ছেড়েছিলেন স্বামী। তিন ছেলেকে নিয়ে যেন অথৈ জলে পড়েছিলেন জেসমিন। একটা কাজ দরকার। যে করেই হোক বাঁচাতে হবে সংসারটা। প্রথমে লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ নিলেন বছর ৪৫ এ পা দেওয়া জেসমিন। কিন্তু সেই টাকায় ছেলেদের খাওয়াই জোটে না ঠিক মতো, পড়াবেন কী ভাবে? ছেড়ে দিলেন। আবারও শুরু হল কাজের খোঁজ। স্থানীয় একটি কাপড়ের কারখানায় কাজে ঢুকলেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে হাড়ভাঙা খাটুনি। বেতনও যত্সামান্য। অতএব আবারও বিফল মনোরথ হতে হয় জেসমিনকে। এ বার উপায় বেরোল ঠিকই। কিন্তু তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সহজ হল না।
প্রতিবেশীর রিক্সাটি ভাড়া নিতে চাইলেন। নিজেই চালাবেন রিক্সা। রিক্সা চালিয়েই রোজগার করবেন। সকলেই অবাক তাঁর সিদ্ধান্তে। কিন্তু বদ্ধপরিকর জেসমিন। তাঁর কথায়, ‘অনেক কটূক্তি সহ্য করেছি। লোকে আমাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করত। কিন্তু আমি না রোজগার করলে ছেলেদের বাঁচাব কী করে?’
শুধু তাই নয়, রিক্সা চালানো শুধু পুরুষদের পেশা, মেয়েদের এই পেশায় আসার কোনও অধিকার নেই— এমনও শুনতে হয়েছে দেশের প্রথম মহিলা রিকশা চালক জেসমিনকে। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলতেন ইসলাম ধর্ম মহিলাদের ওই ধরনের কাজকে অনুমতি দেয় না। অনেকে রিক্সা চড়ে টাকা দিতে চাইতেন না। একই দূরত্ব যাওয়ার জন্য পুরুষ রিক্সাওয়ালাদের থেকে কম টাকাও দেওয়া হত আমাকে।’’
এত প্রতিকুলতা আর হাজার ব্যঙ্গ-কটূক্তিও থামাত পারেনি জেসমিনকে। এখন রিক্সা প্রতিদিনের ভাড়া মিটিয়ে ৬০০ টাকা হাতে থাকে তাঁর। এ ভাবেই কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর। শাড়ি পরে, লাল হেলমেট মাথায় রিক্সা চালিয়ে চট্টগ্রামের রাস্তায় এখন যথেষ্ট জনপ্রিয় এই ‘পাগল আন্টি’।

প্রয়োজনে নিজেই হাত লাগান রিক্সা মেরামতে

Select Language