রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০৩:০৩
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
সর্বশেষ সংবাদ

২৪ নিউজভিশন.কম>
একটি কচ্ছপের পেট থেকে শত শত ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে এসব মুদ্রা বের করেছেন। তাই কি না ২৫ বছর বয়সী এই কচ্ছপটিকে ‘ব্যাঙ্ক’ নামে ডাকা হচ্ছে। মুদ্রাগুলোর মোট ওজন প্রায় পাঁচ কেজি!
এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সোমবার (৬ মার্চ) ওই মেয়ে কচ্ছপটির পেটে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা। পেট থেকে একে একে বের করা হয় ৯১৫ মুদ্রা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় শহর শ্রী রাচার একটি ঝরনার কাছে থাকত কচ্ছপটি। সেখানে প্রতিদিন অনেক পর্যটক যান। স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, এই ঝরনার কাছে কচ্ছপকে লক্ষ্য করে ধাতব মুদ্রা ছুড়ে মারলে আয়ু বাড়ে ও সৌভাগ্যের দরজা খুলে যায়। ক্রমশ এই বিশ্বাস বিদেশি পর্যটকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে ওই ঝরনা দেখতে যাঁরা যান, তাঁরাই কচ্ছপকে লক্ষ্য করে ধাতব মুদ্রা ছুড়ে মারেন। আর ঝরনার পানিতে থাকা কচ্ছপেরা সেই ধাতব মুদ্রাগুলো গিলে ফেলত। এভাবে গিলতে গিলতে এই কচ্ছপটির পেটে ৯১৫ মুদ্রা জমে যায়; মুদ্রাগুলোর মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ কেজিতে। এত মুদ্রার ভারে কচ্ছপটির শরীরে ফাটল দেখা দেয়। কচ্ছপটিকে উদ্ধারের পর আজ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুদ্রাগুলো বের করা হয়। কচ্ছপটির শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালোর দিকে।
এবিসিনিউজের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসের শেষের দিকে কচ্ছপটিকে এটির আবাসস্থলের কাছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখে নৌবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করে। পরে তাঁরা কচ্ছপটিকে থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী চিকিৎসা বিভাগে পাঠিয়ে দেন। সে সময় কচ্ছপটিকে নিয়ে থাই গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন দেখে কচ্ছপটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন অনেকেই। তার অস্ত্রোপচারের জন্য ৪২৮ ডলার সাহায্য জমা পড়ে।
চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী চিকিৎসা বিভাগের ডিন রুংরোজ থানাওংনুয়েচ বলেন, কচ্ছপটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির। এটির শরীরে ফাটল সৃষ্টি হয়ে সংক্রমণ হয়েছিল। এর কারণে কচ্ছপটি মারাও যেতে পারত। এই প্রজাতির কচ্ছপ ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী চিকিৎসা বিভাগের পাঁচজন শল্য চিকিৎসকের একটি দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চেতনানাশক দিয়ে কচ্ছপটির অস্ত্রোপচার করেন। পেট থেকে বের করা মুদ্রাগুলোর বেশির ভাগ বিবর্ণ হয়ে ক্ষয়ে গেছে। এ ছাড়া তার পেট থেকে মাছ ধরার দুটি বড়শিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শল্য চিকিৎসকদের দলে থাকা পাসাকর্ণ ব্রিকসাওয়ান বলেন, অস্ত্রোপচারের পর কচ্ছপটির অবস্থা ভালোর দিকে। আগামী দুই সপ্তাহ এটিকে শুধু তরল খাবার দেওয়া হবে।

২৪ নিউজভিশন.কম>
শেষ রক্ষা হচ্ছে না। বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতীসহ দলটির কয়েকজন নেতা ছাড় পাবেন না। সোমবার (৬ মার্চ) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত আভাস দিল, লালকৃষ্ণ আদভানিসহ বিজেপি নেতাদের আবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট আগামী ২২ মার্চ এ ব্যাপারে আদেশ দেবেন।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশীসহ শীর্ষ কয়েকজন বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে। নিম্ন আদালত ওই অভিযোগ থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এলাহাবাদ হাইকোর্টে যায়। সেখানেও বিচারক একই রায় দেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এবার আভাস দিলেন, লালকৃষ্ণ আদভানিসহ বিজেপি নেতাদের আবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয় ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের উদ্যোগে সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল সেই দিন। লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশী, উমা ভারতী, কল্যাণ সিংহ, কাটিয়ারসহ শীর্ষ কয়েকজন বিজেপি নেতা সেখানে প্ররোচনামূলক ভাষণ দেন। এরপরেই বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়। উপস্থিত বিশাল জমায়েতকে উসকে দিয়ে মসজিদ ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত তাঁরাই করেছিলেন—এ অভিযোগেই মামলা হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।
বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং আদভানিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা—দুটিরই তদন্ত করছে সিবিআই। কিন্তু রায়বেরেলির একটি আদালত আদভানিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খারিজ করে দেন। এতে ৮৯ বছর বয়সী আদভানিসহ বিজেপি নেতারা রেহাই পান। এরপর সিবিআই এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্টও জানিয়ে দেয়, নিম্ন আদালতের রায় ঠিক আছে। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় পাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। দেশের সর্বোচ্চ আদালত আজ সোমবার আভাস দিয়েছে, আদভানিরা ছাড় না-ও পেতে পারেন। গাঁধীনগর ও কানপুরের প্রবীণ সাংসদ লালকৃষ্ণ আদভানি ও মুরলি মনোহর যোশী তো বটেই, সম্ভবত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতীও ছাড় পাচ্ছেন না।
সুপ্রিম কোর্ট সোমবার বলেছেন, ‘পদ্ধতিগত কারণে আদভানি এবং অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমরা খারিজ হতে দেব না। ১৩ জনের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে সম্পূরক অভিযোগ দিতে সিবিআইকে আমরা অনুমতি দিচ্ছি।’ এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যে আদালতে বাবরি মসজিদ মামলার বিচার চলছে, সেই আদালতকেই একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিচার করতেও বলা হবে।
তবে আদালতে আদভানির আইনজীবী এর বিরোধিতা করে বলেন, যদি তা-ই হয়, তবে নিম্ন আদালতে ১৮৩ প্রত্যক্ষ সাক্ষীকে আবার ডাকতে হবে।
আগামী ২২ মার্চ চূড়ান্ত রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সোমবার মামলাটির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে আদভানিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Select Language