রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০১:৩২
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন ডেস্ক> গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি রাকিবুল হাসান (রিগ্যান) আদালতের কাছে দাবি করেছেন, রায় ঘোষণার দিন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁকে আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপিটি দিয়েছিলেন। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আজ মঙ্গলবার এ দাবি করেন রাকিবুল হাসান।
ওই ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান বলেন, ২০১৬ সালে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার রাকিবুলসহ অন্য আসামিদের আজ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় আদালত রাকিবুলের কাছে জানতে চান, রায় ঘোষণার দিন পরা টুপি তিনি (রাকিবুল) কোথায় পেয়েছিলেন? জবাবে রাকিবুল আদালতে বলেন, ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাত এক লোক তাঁকে টুপিটি দিয়েছিল। যে লোক টুপি দিয়েছে, তাকে তিনি চেনেন না।
হোলি আর্টিজান হামলা মামলায় গত বুধবার রাকিবুল, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান। তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে অভিজাত রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজান বেকারিতে আইএস মতাদর্শ অনুসরণকারী পাঁচ জঙ্গি হামলা চালান। তাঁরা বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জনকে হত্যা করেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানের, তিনজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া দুজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন জঙ্গিদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড ও গুলিতে।
বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণার পরই রাকিবুল আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপি পরে এজলাস থেকে বের হন। এরপর প্রিজন ভ্যানে আরেক জঙ্গি জাহাঙ্গীর হোসেনের মাথায়ও একই ধরনের টুপি দেখা যায়। যদিও হোলি আর্টিজানে হামলার পর থেকেই পুলিশ দাবি করে আসছে, জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
আবার কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, হোলি আর্টিজান বেকারি হামলা মামলায় রায়ের পর দুই আসামি আইএসের যে টুপি পরেছিলেন, তা কারাগার থেকে আনা হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রিজন) কর্নেল আবরার হোসেন বলেন, তাঁরা কারাগারের সংশ্লিষ্ট স্থানের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন। কারাগারে কর্তব্যরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই দিন জঙ্গিরা কারাগার থেকে কোনো টুপি নিয়ে বের হননি। সেদিন আদালতে আনার সময় প্রিজন ভ্যানে তোলার আগে তল্লাশি করা হয়েছিল। তখনো কোনো টুপি পাওয়া যায়নি। এমনকি আদালত থেকে এই আসামিদের কারাগারে ফেরত আনার পরও তল্লাশি করা হয়। সে সময়ও এমন কোনো টুপি তাঁদের কাছে পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ বলে পরিচিত বাড়িতে জঙ্গিদের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্ট্রম-২৬’ নামের ওই অভিযানে নয়জন নিহত হন। আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান নামের একজনকে।
এই মামলা তদন্ত করে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট রাকিবুল হাসানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। গত ৯ মে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
সরকারি কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান বলেন, এই মামলার পলাতক এক আসামির সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরবর্তী শুনানির জন্য ১৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার আসামিরা হলেন আসলাম হোসেন র‌্যাশ, শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ, মামুনুর রশিদ রিপন, আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট, আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর, সালাহ উদ্দিন কামরান, আবদুর রউফ প্রধান, আবদুস সবুর খান, হাদিসুর রহমান সাগর ও রাকিবুল হাসান রিগ্যান।
পলাতক আছেন আসামি আজাদুল। জামিনে আছেন কাশেম ও রউফ।

অনলাইন ডেস্ক> প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘আকসা’ ও ‘জিসোমিয়া’ সইয়ের জন্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে এ নিয়ে দুই দেশ আলোচনার টেবিলে আছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কূটনৈতিক সূত্রগুলো সংবাদমাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছে।
দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসেছেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী র‍্যান্ডল শ্রাইভার। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁদের এই আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
মঙ্গলবার দিনের প্রথম ভাগে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন র‍্যান্ডল শ্রাইভার। এরপর বিকেলে তিনি প্রথমে তারিক আহমেদ সিদ্দিক পরে গওহর রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই প্রতিবেদককে জানায়, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের মধ্যে এখন যে সহযোগিতা আছে, তা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে দুই পক্ষই। অবশ্য প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা দুই দেশের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে কর্মদক্ষতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বেশি সংখ্যায় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।
জানা গেছে, দুই পক্ষের আলোচনায় অস্ত্র বিষয়ক কেনাকাটা বিষয়ক চুক্তি-আকসা (একুইজেশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং অস্ত্র বিষয়ক গোপন তথ্য বিনিময় ও সুরক্ষার চুক্তি-জিসোমিয়ার (জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) প্রসঙ্গটি এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তির হেলিকপ্টার ও রাডার কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী কোনো দেশের কাছে উন্নত প্রযুক্তির সমরাস্ত্র বিক্রির আগে সেই দেশের সঙ্গে জিসোমিয়া সই করার বাধ্যবাধকতার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন র‍্যান্ডল শ্রাইভার । এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশ চুক্তি দুটি সইয়ের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সহকারী মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সাগরের বুকে বুকে নতুন চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ টেনেছেন। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দুই দেশের এক সঙ্গে কাজের সুযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতায় সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে দুই পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। র‍্যান্ডল শ্রাইভার সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সামর্থ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সমস্যার প্রসঙ্গটি আলোচনায় এসেছে। সহকারী মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী র‍্যান্ডল শ্রাইভার প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন, এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যদের ভূমিকা রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> কখনো দশরথ স্টেডিয়াম, কখনো সাতদোবাদো ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এভাবেই সারা দিন ঘুরতে হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদকর্মীদের। না ঘুরে আর উপায় কী? দশরথে যখন মাহফুজুর রহমান হাইজাম্পে সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন, ততক্ষণে কারাতেয় আল আমিন সোনা জিতে ফেলে দিয়েছেন হইচই। এর কিছুক্ষণ পর সোনা জেতেন কারাতেকা হোমায়রা আক্তার ও মারজান আক্তার। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) কাঠমান্ডুতে সোনায় মোড়ানো দিন কেটেছে বাংলাদেশের। এ ছাড়া কারাতেয় মেয়েদের কুমিতে অনূর্ধ্ব-৬৮ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন মরিয়ম খাতুন বিপাশা। ছেলেদের কুমিতে অনূর্ধ্ব-৬৭ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ মোহাম্মদ ফেরদৌসের।
আর সব মিলিয়ে ৩টি সোনা, ৪টা রুপা ও ৪টি ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ। ৪টি রুপার ২টিই এসেছে শুটিং থেকে। শুরুতেই রুপা জেতেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দলগত ইভেন্টে রুপা জেতেন সৈয়দা আতকিয়া হাসান, উম্মে জাকিয়া সুলতানা ও শারমিন আক্তার রত্না। যদিও এই ইভেন্টে আবারও হতাশা করেছেন মেয়েরা। সেই ২০১০ সালের পর থেকে কোনো সোনার পদক নেই বাংলাদেশের। এবার ফাইনাল রাউন্ডে উঠলেও আতকিয়া পঞ্চম ও জাকিয়া সপ্তম হয়েছেন। ছেলেদের ৫০ মিটার এয়ার রাইফেলে থ্রি পজিশনে রুপা জিতেছে ইউসুফ আলী, আবদুল্লাহ হেল বাকী ও শোভন চৌধুরী। অবশ্য এককে সুবিধা করতে পারেননি ইউসুফ ও বাকি। শোভন ফাইনালেই উঠতে পারেননি। আর ইউসুফ হয়েছেন ষষ্ঠ, সপ্তম বাকি।
উশুতে ছেলেদের চ্যাং চুয়ান তাউলু ইভেন্টে রুপা জিতেছেন ওমর ফারুক। তিনি পেয়েছেন ৯.৩৪ পয়েন্ট। ৯.৪৮ পয়েন্ট নিয়ে এই ইভেন্টে সোনা জিতেছেন নেপালের বিজয় সিনজালি। আর ব্রোঞ্জ জিতেছেন শ্রীলঙ্কার সাউমা প্রভাকারা। মেয়েদের চ্যাং চুয়ান তাউলু ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাংলাদেশের নূরবাহার খানম। মেয়েদের সানদা অনূর্ধ্ব-৫২ কেজিতে ফাহমিদা তাবাসসুমের ব্রোঞ্জ।
খো খোতে ছেলেদের বিভাগে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। কাল কৃতিপুরে প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের সঙ্গে প্রথম দুই ইনিংস টাই করে বাংলাদেশ। এরপর অতিরিক্ত ইনিংসে বাংলাদেশে জিতেছে ২৪-২৩ পয়েন্টে। ফাইনালে তারা ভারতের মুখোমুখি হবে। ফাইনাল শুরু হবে ১১টায়। মেয়েদের খো খোতে এক ইনিংস ও ১ পয়েন্টে নেপালের কাছে হেরে ফাইনালের আশা শেষ বাংলাদেশের। কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে খেলবে বাংলাদেশ।
তবে বাংলাদেশের জীর্ণ অ্যাথলেটিকসের কঙ্কালসার চেহারাটা কাঠমান্ডুতেও ফুটে উঠল। দশরথ স্টেডিয়ামে এক পাশে যখন সোনার লড়াইয়ে ব্যস্ত মাহফুজুর রহমান, আরেক পাশে গেমসের সবচেয়ে আকর্ষণী ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বরাবরের মতোই হতাশা উপহার দিলেন ইসমাইল হোসেন, শিরিন আক্তাররা। অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটারে ছেলেদের বিভাগে হতাশ করেছেন ইসমাইল হোসেন। ১০.৭৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ইসমাইল হয়েছেন পঞ্চম। ১০.৯৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে অষ্টম হয়েছেন হাসান মিয়া। আর মেয়েদের বিভাগে ১০০ মিটারের হতাশা উপহার দিয়েছেন শিরিন আক্তার। ১২.৩২ সেকেন্ড সময় নিয়ে সপ্তম হয়েছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> এন্ড্রু কিশোর এখন ক্যানসারে আক্রান্ত। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা চালানোর জন্য গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে নিজের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন। দেশের জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ক্যানসার ধরার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, চিকিৎসার জন্য তিনি কারও কাছ হাত পাতবেন না। তাই রাজশাহী শহরে ভদ্রা আবাসিক এলাকায় পাঁচ বছর আগে কেনা ফ্ল্যাটটি ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। যিনি কিনেছেন, তাঁর কাছ থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর যাবৎ এন্ড্রু কিশোর প্রায় প্রতি মাসেই রাজশাহীতে যাওয়া–আসা করেছেন। রাজশাহীতে গিয়ে যেন তাঁর থাকার সমস্যা না হয়, সে কারণেই তিনি অনেক কষ্ট করে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। কিন্তু নিজের চিকিৎসার খরচ জোগানোর জন্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেই ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হয়েছে।
২০১২ সালে নিজের ওস্তাদের নামে রাজশাহীতে আব্দুল আজিজ বাচ্চু স্মৃতি সংসদ গড়ে তোলেন এন্ড্রু কিশোর। এই সংগঠন থেকে নিয়মিত ত্রৈমাসিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন রাজশাহী ও এর আশপাশের এলাকার শিল্পীরা। প্রতিটি অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকতেন এন্ড্রু কিশোর। সংগঠনটি দুস্থ ও অসহায় শিল্পীদের নানাভাবে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া সংগঠনটি নিয়ে এন্ড্রু কিশোর নানা সামাজিক কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন। গত বছর বন্যায় নিজে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এই সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখার জন্য তিনি নিয়মিত রাজশাহী যাওয়া–আসা করতেন।
এন্ড্রু কিশোরের এখন একমাত্র সম্বল মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সেনপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাট। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এ ছাড়া তাঁর আর কোনো সম্পদ নেই।
এরই মধ্যে এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসা বাবদ এক কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) জানা গেছে, দেশের বরেণ্য এই সংগীতশিল্পী চিকিৎসায় সহায়তার জন্য অনেকেই পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে এরই মধ্যে এন্ড্রু কিশোরকে কেমোথেরাপি দেওয়া শুরু হয়েছে। গত ২৪ নভেম্বর তিনি প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এ পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে সেখানে থাকতে হবে। ২৬ নভেম্বর থেকে কেমোথেরাপির পরবর্তী সাইকেল শুরু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ৩টি সাইকেলে আরও ১২টি কেমোথেরাপি দেওয়া হবে। তাঁর এই চিকিৎসা সম্পন্ন করার জন্য আরও ২ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন।
এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার জন্য তহবিল গঠনের আবেদন করেছেন তাঁর স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু। ‘গো ফান্ড মি’ নামের ওয়েবসাইটে এটি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা বোর্ডের কাগজপত্র নিয়ে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী বাংলাদেশিরা এই অনলাইন ফান্ডিংয়ের পেজ চালু করেছেন।
এন্ড্রু কিশোর বললেন, ‘এমনটি আমি চাইনি। বাধ্য হয়ে এটি খুলতে হয়েছে। আর পারছি না।’
এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন মোমিন বিশ্বাস। তিনি সরকারসহ দেশের চলচ্চিত্র, সংগীত, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন অঙ্গনের লোকজনকে এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক> প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতি পরিবেশগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কক্সবাজারে একটি পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতির অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জীবন-জীবিকার ক্ষতি করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদে সম্প্রতি বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অন্যান্য পার্লামেন্টে উদ্যোগ গ্রহণের বৈশ্বিক জরুরি আহ্বান জানিয়ে জলবায়ু ঝুঁকির বর্তমান অবস্থা ঘোষণার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতির তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ২০১৬ সাল ছিল তিনগুণ। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বাংলাদেশে অনুরূপ পরিস্তিতি সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) স্পেনের ফেরিয়া দি মাদ্রিদে (আইএফইএমএ) হলে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের (কপ২৫) সাধারণ সাধারণ গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর: বাসস
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন কি ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, তার একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। কিন্তু আমি সতর্ক করে দিতে চাই যে, সহিষ্ণুতা ও অভিযোজনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের উচিত হবে শিল্প পূর্ব পর্যায়ের পূর্বের অবস্থায় অর্থাৎ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের কোন ভুল না থাকা সত্ত্বেও আমাদের লোকজন বাস্তুচ্যুত হবে, তাই আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের আবাসনের দায়িত্ব নিবে এবং তাদের জীবিকার সুযোগ দিবে। তিনি বলেন, অনেকের মধ্যে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আগ্রহের অভাব সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত প্রয়াসের ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং জাতিসংঘ হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত প্লাটফরম। ১০০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক অবদানসহ আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার সকল ‘তহবিল’ নিয়োজিত করতে হবে।
পরিবেশের আরো অবনতি রোধকল্পে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্যারিস চুক্তির সকল ধারাসহ প্রাসঙ্গিক সকল বৈশ্বিক চুক্তি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যর্থতার ফলাফল সকল দেশের ওপর সমানভাগে, বিশেষ করে যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী তাদের ওপর বর্তাবে এবং আমাদের নিষ্ক্রিয়তা প্রত্যেক জীবিত মানুষের জন্য হবে মারাত্মক।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশের আরো অবনতি রোধকল্পে আমাদের প্যারিস চুক্তির সকল ধারাসহ প্রাসঙ্গিক সকল বৈশ্বিক চুক্তি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে।
মারাত্মক পরিস্থিতি এবং মারাত্মক পরিস্থিতে রূপ নেয়া ঠেকাতে এই জন্য পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিকদের দায়িত্ব উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সিদ্ধান্তহীনতা কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে সকল আলোচনায় ‘লস এন্ড ডেমেজ’ নীতিকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে লস এন্ড ডেমেজ অর্থায়ন বিবেচনায় ‘ওয়ারস’ ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম’কে আরো জোরালো সমর্থন দিতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের বৈশ্বিক চিত্রপট খুবই সমন্বয়হীন, জটিলতাপূর্ণ ও অত্যন্ত অপ্রতুল। প্যারিস চুক্তিতে ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথকীকৃত দায়িত্ব’-এর নীতির ভিত্তিতে বিশেষ পরিস্থিতি এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহ ও ‘বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহ’-এর প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। জলবায়ু অর্থায়নের প্রত্যেক সরবরাহ প্রক্রিয়ায় এই স্বীকৃতি মেনে চলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তির কাঠামো ও বাস্তবায়নের আলোকে সমতা অথবা স্বচ্ছতার ধারণা একটি মৌলিক ইস্যু, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সহযোগিতায় এই চুক্তির সুফল অর্জিত হতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সভ্যতার ক্ষতি করছে এবং পৃথিবীকে ধ্বংস করছে। এটি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের অস্তিত্বের জন্য এখন হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সময়ের সবচেয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছি।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও অনিয়ম ঠেকানো যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সোমবার আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানি চলাকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় একটি মামলা ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকার কথা; কিন্তু অদৃশ্যভাবে সেটি ৯০ নম্বর ক্রমিকে যায়। বিষয়টি তখন আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তখন এফিডেভিট শাখার কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, কী আর করব বলুন? এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসিয়েও অনিয়ম রুখতে পারছি না। এ সময় আপিল বেঞ্চে আরও চার বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সিসি কামেরা বসালাম। এখন সবাই বাইরে এসে এফিডেভিট করে। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেকেই মামলার তালিকা ওপর-নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছেন।
এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অনেক আইনজীবীও আদালতে আসেন না। বেতন বেশি হওয়ায় এমন হচ্ছে। বেতন কম হলে তারা ঠিকই কষ্ট করে আদালতে আসতেন। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক এক আদেশে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকে আপিল বিভাগে তলব করেন। তিনি আপিল বিভাগে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিলেও তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। পরে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে ভবিষ্যতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে রেলওয়ের সেবা সপ্তাহ। এ উপলক্ষে কমলাপুর, চট্টগ্রামসহ রেলের বড় স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেবেন রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। যাত্রীদের ব্লাড প্রেশার ও ডায়াবেটিকস পরীক্ষা করা হবে চিকিৎসা সেবার আওতায়।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই উপলক্ষে ৪ থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেবা সপ্তাহ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে ১০টি টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। তারা সূচি মেনে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা, প্ল্যাটফর্ম পরিচ্ছন্ন রাখা, চলন্ত ট্রেনের টয়লেট পরিষ্কার কি না তা তদারক করবে। এ ছাড়া রেল লাইনের ওপর থাকা পদচারী সেতু ও উড়াল সড়কে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না তাও পরীক্ষা করবে। চলন্ত ট্রেনের পানি ও পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা আছে কিনা, যাত্রীদের সঙ্গে ট্রেনের কর্মীদের আচরণ ও ট্রেন চলাচলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতাও পর্যবেক্ষণ করবে টাস্কফোর্সের সদস্যরা।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে লেজুড়বৃত্তি ছাত্র ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। তারা ছাত্র সংগঠনগুলোকে স্বাধীন রাখার পক্ষে মত দেন এবং নির্বাচিত ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন, ছাত্ররাজনীতি ছাড়া জাতীয় রাজনীতি হয় না।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কথা বলেন।
সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ছাত্র রাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতি থেকে বিযুক্ত করার কোনো বিষয় নেই। জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে ছাত্ররাজনীতিকে যুক্ত করতে হবে। তবে তা ওপর থেকে নিচে নয়, নিচ থেকে ওপরে হতে হবে। এখন ওপর থেকে নিচে হচ্ছে বলে ছাত্ররাজনীতির মূল বিষয়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোধের মধ্যে আসে না কীভাবে ছাত্র সংগঠনের গঠনতন্ত্রের মধ্যে দলের প্রধানেরা সাংগঠনিক প্রধান হয়ে যান। এই হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা একসময় কথা বলেছি। ছাত্ররাজনীতিতে রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করে স্বাধীন সংগঠনে পরিণত করতে হবে। তাহলে আমরা এগোতে পারব।’
ছাত্র সংগঠনগুলোকে সঠিক জায়গায় দাঁড় করাতে হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতিকে যদি কলুষমুক্ত করতে হয় তাহলে জাতীয় রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করেই তা করতে হবে।
রুগ্ন ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির কারণেই বর্তমান সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, লুটপাটের অর্থনীতি বজায় থাকলে সুস্থধারার ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। ছাত্ররাজনীতিতে শুধু ছাত্রদের বিষয় নিয়ে থাকলেই হবে না, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
সিপিবি সভাপতিও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ চালানোর কথা বলেন। তিনি ডাকসুর প্রাক্তন ভিপি, জিএস নিয়ে ‘কাউন্সিল অব এক্স ভিপিস জিএস অব ডাকসু’ প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেন।
জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় রাজনীতি সঠিকভাবে না থাকলে ছাত্ররাজনীতিও থাকবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করতে হলে ছাত্ররাজনীতি থাকতে হবে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সত্যের পক্ষে তারুণ্যের থাকতে হবে। এই দেশে এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রের আন্দোলনের ভ্যানগার্ড হচ্ছে ছাত্ররা। ন্যায়ের সংগ্রামে ছাত্রদের আরও বেশি করে যুক্ত হতে হবে। জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রদের এখন বেশি করে যুক্ত করা দরকার।
ডাকসুর নির্বাচন হওয়ার পরে এ সময়ের মধ্যে ডাকসু নেতারা শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের কাজ করতে পেরেছে বা সরকারের কাছে কী দাবি উত্থাপন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার। এ ছাড়া তিনি বলেন, শিক্ষক রাজনীতি বা ছাত্ররাজনীতিতে কিছু সমস্যা থাকলেও শিক্ষা ব্যবস্থা ধসে যায়নি। শিক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে। তবে তিনিও ডাকসুর মতো দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন বলে জানান।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, এখন ঐতিহাসিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই পরিবর্তনের জন্য তিনি ভিপি নুরুল হককে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজনীতিতে না জড়ালে দেশ কীভাবে এগোবে প্রশ্ন রেখে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক বলেন, রাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি চলে তার দায় গুটিকয়েক ছাত্রসংগঠনের। তার মধ্যে আছে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবির।
ছাত্র সংগঠনের কমিটি হয়, দলের প্রধানদের নিয়ন্ত্রণে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, ছাত্রদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয় না। যোগ্যদের নেতৃত্বে আনা হয় না। এ ছাড়া বলেন, জাতীয় রাজনীতিবিদরা যখন এক জায়গায় আসতে পারেননি তখন ছাত্ররা তাদের এক করতে বাধ্য করেছে। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি যারা করছেন তাদের বাইরে যারা আছেন তারা এক হতে পারলে বিপ্লবের জন্য যথেষ্ট বলে জানান।
গোল টেবিলে সভাপতির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, শিক্ষার গুণগত মান, কর্মক্ষেত্রে যোগ্য লোক না পাওয়ার বিষয়গুলো ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি আলোচনায় আসা দরকার।
সঞ্চালকের ভূমিকায় সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির অনেক ঐতিহ্য আছে। আমরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে নই। তবে লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে।’
সুজনের পক্ষ থেকে ছাত্ররাজনীতিতে সুস্থতা ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা-যোগ্যতার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ, রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য, শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা, ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।
গোলটেবিলে আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদ, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত ও আবু সাঈদ খান, শিক্ষাবার্তা সম্পাদক এ এন রাশেদা প্রমুখ।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> ব্যালন ডি’অর লিওনেল মেসি পাচ্ছেন সেই খবর আগেই বের হয়েছে। ফাঁস হয়েছে ব্যালন ডি’অরের একটি তালিকাও। গেলবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ নতুন বিজয়ী মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন সেই সংবাদও দিয়েছে মার্কা। বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা।
প্যারিসে সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাতে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকীর সেরা ফুটবলার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসির নাম।
রোনালদোকে ছাড়িয়ে লিও জিতে নিলেন রেকর্ড ছয়টি ব্যালন ডি’অর। এর আগে রোনালাদো এবং মেসি সমান পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেটা এখন এককভাবে নিজের করে নিলেন মেসি। উল্লেখ্য ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকী ১৯৫৬ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর দেওয়া শুরু করে।
এবারের মৌসুমে সেরা ফুটবলার পুরস্কারের জন্য ৩০ জন মনোনীত হন। এর মধ্যে বার্সেলোনার লিওনেল মেসি, লিভারপুলের ভার্জিল ভ্যান ডাইক এবং জুভেন্টাসের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ব্যালন ডি’অরের ফেবারিট হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পান।
মেসি-রোনালদো যুগ শুরু হওয়ার আগে ২০০৭ সালে ব্রাজিলের এসি মিলান ফরোয়ার্ড রিকার্ডো কাকা ব্যালন ডি’অর জেতেন। এরপর শুরু হয় রোনালদো-মেসির সাপলুডু খেলা। সঙ্গে ব্যালন ডি’অরে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা আধিপত্যও। এক দশক মেসি-রোনালদো পুরস্কারটি নিজেদের করে রাখেন। গেল মৌসুমে লুকা মডরিচ তাদের রাজত্ব নিজের দখলে নেন। কিন্তু এবার আবার রাজত্ব পুনরুদ্ধার করলেন মেসি। ২০১৫ সালের পরে জিতলেন সেরার এই পুরস্কার। তবে রিয়াল-বার্সার আধিপত্যে ছেদ পড়েনি।
মেসি গেল মৌসুমে বার্সার হয়ে ৪০ গোল করেছেন। সঙ্গে সহায়তা দিয়েছেন ১৭ গোলে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এবং লা লিগায় তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। দলকে লা লিগা এবং সুপার কোপা জিতিয়েছেন। গোলের সামনে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন তিনি। এখন ফিফার বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলারের পুরস্কারও ডাকছে তাকে। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অর জয়ীই ফিফার বর্ষসেরার পুরস্কার জেতেন।
ব্যালন ডি’অরের তালিকায় দুইয়ে থেকে শেষ করেছেন লিভারপুল ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোয় তিনি ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। রোনালদোর জায়গা হয়েছে সেরা তিনে। এছাড়া লিভারপুলের দুই ফরোয়ার্ড সাদিও মানে চারে এবং মোহামেদ সালাহ পাঁচে থেকে শেষ করেছেন।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> বিপিএলের জাঁকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে ব্যস্ততার শেষ নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তৈরি হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা গাজী টিভিতে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রচারণা। বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসছেন বলিউডের জনপ্রিয় দুই তারকা সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ।
বিসিবি আগেই জানিয়েছে, এবার বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জৌলুশের কমতি থাকবে না। জৌলুশ বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন আয়োজকেরা। ৮ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এ প্রসঙ্গে সোমবার (২ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাচ্ছি না। এটা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চূড়ান্ত করবে। অনেক শিল্পীর সঙ্গে কথা হয়েছে, চূড়ান্তও হয়েছে।’
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেল অবশ্য নিশ্চিত করেছেন, বলিউড তারকা সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফ আসছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ভারতীয় তারকা শিল্পীদের মধ্যে আরও থাকছেন সনু নিগম ও কৈলাস খের। বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে আছেন জেমস ও মমতাজ। জমকালো এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৫ সালে বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছিলেন হৃতিক রোশন ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। চার বছরের বিরতিতে আবারও বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ আলোকিত করবেন বলিউড তারকারা। শেখ সোহেল বলেছেন, ‘জাঁকালো আয়োজনে ভালো একটা আলোড়ন তৈরি করতে চাই। সালমান খান আর ক্যাটরিনা কাইফ যদি থাকেন, আর কিছু রাখার দরকার আছে? আমাদের সব মনোযোগ এখন ৮ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে। সালমান-ক্যাটরিনা একসঙ্গে কমই অনুষ্ঠান করেন। দুই বড় তারকাকে আমরা এক জায়গায় করতে চাচ্ছি, আশা করি অনুষ্ঠানটা অন্য রকম হবে।’
বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল পাঁচটায়। আর ব্যাটে-বলের লড়াই শুরু হবে ১১ ডিসেম্বর।
Select Language