রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০১:৪৪
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
সর্বশেষ সংবাদ

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> বঙ্গবন্ধু বিপিএলের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত। দুদিন পর এ মঞ্চ কাঁপাতে আসছেন ভারতের সালমান খান, ক্যাটরিনা কাইফ, সনু নিগম, কৈলাস খের; বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে থাকছেন জেমস ও মমতাজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিটের দাম ও প্রাপ্তিস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মঞ্চের সামনে মিরপুর শের-এ বাংলা স্টেডিয়ামের মাঠে বসে সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফের অনুষ্ঠান দেখতে হলে কিনতে হবে ১০ হাজার টাকার টিকিট। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসে দেখতে হলে নিতে হবে ২ হাজার ৫০০ টাকার টিকিট। সবচেয়ে ‘সুলভ’ ক্লাব হাউসের টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা। আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মাঠে কিংবা গ্যালারিতে বসে এই অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ পাবেন মাত্র ৮ হাজার দর্শক। এর মধ্যে সৌজন্য টিকিট থাকছে ৩ হাজার। প্রায় ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মাত্র ৫ হাজার দর্শকের জন্য টিকিট ছাড়ছে বিসিবি।
বিপুলসংখ্যক দর্শকদের জন্য সরাসরি অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ না রাখার ব্যাখ্যায় দুদিন আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘মঞ্চের পেছনে দিতে পারছি না, পাশেও দিতে পারছি না। আগে যে ধারণা ছিল, সেটা অনেক কমে গেছে। পিচ নষ্ট হতে পারে বা মাঠ নষ্ট হতে পারে, এমন ঝুঁকি নিতে পারব না।’
আগামী রোববারের জমকালো এই অনুষ্ঠানের টিকিট ছাড়া হচ্ছে শুক্রবার থেকে। টিকিটি সরাসরি কেনা যাবে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে। পাওয়া যাবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেট ও সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামের বুথ থেকে।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। গেট খোলা হবে বেলা আড়াইটায়। অনুষ্ঠান শুরু বিকেল সাড়ে চারটায়।
বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি, মাছরাঙা টিভি ও নিউজ টুয়েন্টিফোর।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> দক্ষিণ এশিয়ান গেমস (এসএ) দিয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিযান শুরু করেছে মালদ্বীপের মেয়েরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের মেয়েরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা দল। দুই দলের শক্তির পার্থক্যটা তাই দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। পোখারায় বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) তা আরও প্রকটভাবেই বুঝল মালদ্বীপের মেয়েরা। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের কাছে ২৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে মালদ্বীপ।
আগে ব্যাট করে ফারজানা ও নিগারের জোড়া সেঞ্চুরিতে ২ উইকেটে ২৫৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তাড়া করতে নেমে লড়াই করা দূরে থাক দাঁড়াতেই পারেনি মালদ্বীপের মেয়েরা। অলআউট হয়েছে মাত্র ৬ রানে! তবে বাংলাদেশের মেয়েরা মালদ্বীপকে এত কম রানে অলআউট করতে বেশ সময়ই নিয়েছে। ১২.১ ওভার পর্যন্ত খেলেছে মালদ্বীপের মেয়েরা।
এসএ গেমস ক্রিকেটের ফাইনাল আগেই নিশ্চিত করা বাংলাদেশের মেয়েদের বিশাল ব্যবধানের এ জয়টা কিন্তু প্রত্যাশিতই। কেননা, মালদ্বীপ এ ইভেন্টের দুর্বলতম দল। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা দলটিকে যতটা দুর্বল ভেবেছিলেন এ ফলের পর ভাবনাটা নিশ্চিতভাবেই আরও পেছাতে পারে—মালদ্বীপ নারী ক্রিকেট দল তাহলে কতটা দুর্বল!
বাংলাদেশের বোলার রিতু মনি প্রথম ওভারেই ৩ উইকেট নেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে উইকেট পেলেও হ্যাটট্রিকের মুখ দেখেননি তিনি। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারেও আরও ২টি উইকেটের দেখা পান রিতু। পরের ওভারে অধিনায়ক সালমা খাতুন নেন আরও ২ উইকেট। ৩ রান তুলতেই মালদ্বীপ ততক্ষণে ৬ উইকেট হারিয়েছে। আর ৩ রান তুলতেই বাকি ৪ উইকেট হারায় দলটি। ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রিতু ও সালমা।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাকে ‘সন্ত্রাসের গডমাদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এরপরও বলব খালেদা জিয়া যে জেলে আছেন, সেখানে অনেক ভালো আছেন। রাজার হালে আছেন।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই সন্ত্রাসের গডমাদার হচ্ছেন খালেদা জিয়া। যিনি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে মানুষ খুন করেন, ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে পারেন- তার চেয়ে বড় সন্ত্রাসী আর কে হতে পারে?
তিনি বলেন, আর যেন কোনো সুদখোর, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গীবাদী, অগ্নিসন্ত্রাসী, মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী ও এতিমের টাকা আত্মসাতকারী দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, দেশকে ধ্বংসের দিকে নিতে না পারে- দেশবাসীর প্রতি সেই আহ্বানই থাকবে।
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে যিনি কারাগারে গেছেন, তার এত মায়াকান্না কেন? খালেদা জিয়া মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন, পুড়িয়ে হত্যা করেছেন- সেটা তো সত্য।
তিনি বলেন, এই দরদ যারা দেখান, তারা খালেদা জিয়া ও বিএনপি-জামায়াত জোটের হাতে অগ্নিদগ্ধ মানুষগুলোর কষ্টের চেহারা দেখে আসা উচিত! এরপরও বলবো খালেদা জিয়া যে জেলে আছেন, সেখানে অনেক ভালো আছেন। রাজার হালে আছেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বুকের রক্ত দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবেই আমরা মাথা উঁচু করে থাকব। কারো কাছে মাথানত করবো না। বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে ধরে রাখতে হবে।
জিয়া পরিবারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান খুনি, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও খুনি। আর তার ছেলে আরেকটা খুনি। এরা খুনির পরিবার। সন্ত্রাস-দুর্নীতি আর মানুষ খুন করা ছাড়া এরা আর কিছুই বোঝে না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি অনেক কথাই বলে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ২০০৮ এর নির্বাচনে তারা মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল। আর এবারের নির্বাচনে তারা জিততে পারবে না জেনেই মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে।
তিনি বলেন, একটি আসনের জন্য তিনজন করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আর এই মনোনয়নের জন্য প্রার্থীদের তিন জায়গায় টাকার ভাগ দিতে হয়েছে। এক ভাগ দিতে হয়েছে লন্ডনে আর দুই ভাগ দিতে হয়েছে বাংলাদেশে। একজনকে লন্ডন ছাড়াও গুলশান আর নয়াপল্টন অফিসে ভাগ দিতে হয়েছে। যিনি দিতে পারেননি- তিনি মনোনয়ন পাননি। এমনও হয়েছে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, পরে আরেকজন বেশি টাকা দেওয়ায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে করা জরিপগুলোতে বিএনপি দেখেছে, তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তারা নির্বাচনকে বাণিজ্য হিসেবে নেয়। তারপরও তাদের যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সংসদেও গেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।
পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসন ও অত্যাচার-নির্যাতনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তি এদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি। তাই স্বাধীনতার পর দেশটা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল- তখনই ১৫ আগষ্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হলো। ১৫ আগষ্টের হত্যাকাণ্ডে যে জিয়াউর রহমান একেবারেই জড়িত- সেটা তো খুনি ফারুক-রশিদের স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর এত অত্যাচার- নির্যাতন হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগকে ধরে রেখেছেন। তারা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্তই নেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান যেভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন, একই কাজ খালেদা জিয়াও করেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ঠিক একইভাবে মানুষকে হত্যা করেছেন। অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন। অপারেশন ক্লিনহাটের নামে মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, আবার তার যাতে বিচার না হয় সেজন্য সংসদে দায়মুক্তির আইনও পাস করিয়েছেন। অর্থাৎ খালেদা জিয়া হত্যার রাজনীতিকে বৈধতা দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা ও সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তার কারাগারে যাওয়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে জেলে গেছেন। এই মামলা তো করেছিল তার পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখানে আওয়ামী লীগ কী করেছে? আওয়ামী লীগ তো এই মামলা করেনি। বরং খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতেই আমার বিরুদ্ধে ১২টা মামলা দিয়েছিলেন। একটা মামলায়ও দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধ দিয়ে খালেদা জিয়া মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। সেই অবরোধ-হরতাল এখনও তোলেননি। তার হুকুমে কত মায়ের কোল খালি হয়েছে, কত বোন বিধবা হয়েছে! তার জন্য আবার কারও কারও মায়াকান্নাও দেখি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া তো জেলে আছেন, এখন জেল থেকে হাসপাতালে। তিনি তো রাজার হালেই আছেন। জেলে তার জন্য মেইড সার্ভেন্টও দেওয়া হয়েছে। কোথাও কিন্তু এটি নেই যে, একজন জেল খাটছেন আর তার দেখাশোনার জন্য আরেকজন কাজের লোক রয়েছেন- বিনা অপরাধে যে নিজেও জেল খাটছে। পৃথিবীর কোনো দেশে এই দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবে না জেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সেবার জন্য কোনো কাজের বুয়া যায়। তারপরও খালেদা জিয়াকে এই সুবিধাটা দেওয়া হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো প্রতিহিংসার মনোভাব নেই।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার এই অসুস্থতা তো পুরনো। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পরই আমেরিকায় তার হাঁটু রিপ্লেস করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সৌদি আরবেও তার হাঁটুর অপারেশন হয়েছিল। আর বিদেশে যাওয়ার পরে খালেদা জিয়া যখন শপিং করেন, তখনও হুইল চেয়ারে শপিং করতেন। ফালু হুইল চেয়ার ঠেলতেন, আর তিনি গিয়ে শপিং করতেন। তিনি যখন হজ করেন, সেখানেও ফালু হুইল চেয়ার ঠেলতেন। তার হুইল চেয়ারে বসা, সেটা নতুন কিছু হয়। এটা তো বহু যুগ ধরেই দেখে আসছি।
তিনি বলেন, আর খালেদা জিয়ার এই জেলে থাকা আর অসুস্থতার কথা বলেই কিছু লোকের এত হাহাকার কেন? এত দরদ, এত মায়াকান্না কেন? এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেই তো তিনি জেলে গেছেন। আল্লাহ তায়ালাই তো বলে দিয়েছেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করলে তিনিই তার ব্যবস্থা নেবেন।
সরকারের সমালোচনা করে এক শ্রেণির সুশীল সমাজ ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই এতগুলো টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে। খালেদা জিয়া তো দেননি। আর সেই টিভি চ্যানেলের টকশোগুলোতে টক ঝাল কত কথাই তারা বলে যাচ্ছেন! এত কথা বলার পরও আবার বলছেন, এই সরকারের আমলে কথা বলার পরিবেশ নেই। সেটি বড় কথা নয়। আওয়ামী লীগ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে নেবে।
টানা ১০ বছরে দেশ ও জাতির কল্যাণে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানেই মানুষের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশকে ধ্বংস করেছে, বিশ্বে দেশের সম্মান নষ্ট করেছে, মর্যাদা ধূলিস্মাৎ করেছে। আওয়ামী লীগ আজ সেই পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলছে, মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। সেজন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কোথায় যাবে- সেই পরিকল্পনাও আগে থেকেই করা হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ হবে। ২১০০ সালের মধ্যে প্রতিটি মানুষকে উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন দিতে শতবর্ষের ডেল্টা প্লান করা হয়েছে। এদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে জাতীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিচালনায় সভায় শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
রুদ্বদ্বার বৈঠকে দলের বার্ষিক আয়-ব্যয় ও আগামী বাজেট অনুমোদন ছাড়াও আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বাংলাদেশিদের জন্য হজ কোটা ১০ হাজার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সে হিসাবে এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯১ জন পবিত্র হজ পালন করার সুযোগ পাবেন।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে মক্কায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আর সৌদি আরবের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির হজ ও ওমরাহ প্রতিমন্ত্রী ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ বিন সোলায়মান মাশাত।
মুসলিম জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের অনুকূলে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজ কোটা বরাদ্দ দেয়। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের সুযোগ পেয়ে আসছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান মুসলিম জনসংখ্যার ভিত্তিতে এবার অতিরিক্ত ২০ হাজার বাংলাদেশির হজের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২০ সালে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ আগস্ট। বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে ২৫ জুন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। দাম বৃদ্ধি করলে হরতালসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।
রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে পেঁয়াজ, চালসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। সংগঠনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদ্যুতের বিষয়ে বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। গত ১১ বছরে তারা ভাড়াভিত্তিক কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে ৬৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিয়েছে। বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হচ্ছে কুইক রেন্টালের নামে লুণ্ঠন। তিনি বলেন, সরকার বলেছিল, কুইক রেন্টাল স্বল্পমেয়াদে কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ হবে। তাতে সস্তায় বিদ্যুৎ মিলবে। শুরুতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কুইক রেন্টাল চলার কথা বলা হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত এটি চলবে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। দাম বৃদ্ধি করলে হরতালসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদ্যুতের মতো একটা অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহনের খরচ, খাদ্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়ে। বিদ্যুতের বাড়তি দামের কারণে একদিকে গরিব মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে কলকারখানার উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে বাংলাদেশি পণ্যসামগ্রী প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরউদ্দীন পাপ্পু, জুলহাসনাইন বাবু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দায়িত্ব জ্বালানির দাম বিষয়ে সব পক্ষের মতামত শুনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কিন্তু সরকারের হুকুম তামিল করা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বিইআরসি। কমিশনের শুনানিতে বিশেষজ্ঞরা দেখিয়ে দিয়েছেন, চুরি বন্ধ করা গেলে বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। এমনকি পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র আধুনিকায়ন করেও সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
সমাবেশে শেষে একটি মিছিল পল্টন মোড়, জিরো পয়েন্টের নূর হোসেন চত্বর, বায়তুল মোকাররম ঘুরে আবারও প্রেসক্লাবে আসে। এরপর কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা জুলহাসনাইন বাবু।

অনলাইন ডেস্ক> ইতালিতে ২০১৬ সালে এক ভয়ংকর ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে প্রাণ হারিয়েছিল কয়েক শ মানুষ। সেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক চলছিল। ঠিক এমন সময় প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলেন এক আইনপ্রণেতা।
অবিশ্বাস্য হলেও এ ঘটনা ইতালির পার্লামেন্টে। গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ওই বিতর্ক দেখতে এসেছিলেন কট্টর লোকরঞ্জনবাদী দল লিগ পার্টির নেতা ও আইনপ্রণেতা (এমপি) ফ্লাভিও ডি মুরোর প্রেমিকা এলিসা দে লিও।
এ বিতর্কের ফাঁকে স্পিকারের কাছ থেকে কথা বলার অনুমতি নেন ফ্লাভিও। তিনি বলেন, ‘আমরা যাঁরা এই কক্ষের সদস্য, জাতীয় জরুরি ইস্যু নিয়ে তাঁরা সব সময় ব্যস্ত থাকি। প্রতিদিন আমরা রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক করি। কিন্তু যাঁরা আমাদের ভালোবাসেন, এসব করতে গিয়ে তাঁদের অবহেলা করি আমরা।’ এরপর তিনি একটি আংটি বের করে তাঁর প্রেমিকার দিকে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটা আমার জন্য বিশেষ। এলিসা, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’
এলিসা তখন হ্যাঁ কিংবা না কিছুই বলেননি। ফলে উদ্বেগ ছিল। তবে পরে ফ্লাভিও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এলিসা তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। তিনি বিয়েতে রাজি হয়েছেন। ফ্লাভিও বলেন, ‘আমরা বিয়ে করতে যাচ্ছি। তবে তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।’

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> আইপিএলের নিলাম এবার হতে যাচ্ছে কলকাতায়। ১৯ ডিসেম্বর আইপিএলের নিলামে উঠতে নিবন্ধন করেছেন ৯৭১ ক্রিকেটার। ভারতীয় ক্রিকেটার আছেন ৭১৩, ভারতের বাইরের ২৫৮। এই ২৫৮ ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের ৬ বাংলাদেশি ক্রিকেটার।
আইপিএলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, ৯৭১ ক্রিকেটারের মধ্যে ৭৩জনের দল পাওয়ার সুযোগ হবে। ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নিলামে থাকছে বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটারের নাম। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ আইপিএল খেলার লক্ষ্যে নিবন্ধন করেছেন তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ। এই ছয় ক্রিকেটারের মধ্যে মোস্তাফিজ ও তামিমেরই আইপিএল-অভিজ্ঞতা আছে। মোস্তাফিজ হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছিলেন ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। ২০১৮’তে খেলেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে। গতবার বিসিবি তাঁকে অনুমতি দেয়নি নিবন্ধনের। তামিম ২০১২ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সের স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর।
আইপিএলে বাংলাদেশের নিয়মিত মুখ যিনি—সাকিব আল হাসানের নিলামে ওঠার সুযোগ নেই, আগ থেকেই জানা। আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি এক বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকেই নিষিদ্ধ।
বিদেশি ক্যাটাগরিতে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। নিলামে উঠতে নিবন্ধন করেছেন ৫৫ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৫৪ ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কা ৩৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪, নিউজিল্যান্ড ২৪, ইংল্যান্ড ২২। এমনকি আফগানিস্তান থেকেও নিবন্ধন করেছেন ১৯ ক্রিকেটার। সে তুলনায় বাংলাদেশের সংখ্যাটা কমই।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> ফিল্মফেয়ার গ্ল্যামার অ্যান্ড স্টাইল অ্যাওয়ার্ডের চোখ ধাঁধালেন বলিউডের তারকারা। রেড কার্পেটে দুরন্ত সাজে ধরা দিলেন দীপিকা পাড়ুকোন, আলিয়া ভাট, আনুশকা শর্মা থেকে শুরু করে বরুণ ধাওয়ান, সাইফ আলি খান ও আয়ুষ্মান খুরানাসহ বহু তারকা। এ অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ বলিউড তারকা উপস্থিত থেকে নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
যে বিজয়ীরা ঘরে নিয়ে গেলেন পুরস্কার:
রিস্ক টেকার অব দ্য ইয়ার – রাজকুমার রাও
ইমার্জিং ফেস অব ফ্যাশন – অনন্যা পাণ্ডে
ওম্যান অব স্টাইল অ্যান্ড সাবস্ট্যান্স – দিয়া মির্জা
ফিট অ্যান্ড ফ্যাবুলাস – কৃতী শ্যানন
হটস্টেপার অব দ্য ইয়ার (মহিলা) – কিয়ারা আডবানি
এজেস অ্যাহেড হটস্টেপার অব দ্য ইয়ার (পুরুষ) – কার্তিক আরিয়ান
দ্য স্পেশালিষ্ট – মনীশ মালহোত্রা
ডিভা অব দ্য ইয়ার – মালাইকা অরোরা
ট্রেইলব্লেজার অব ফ্যাশন – করণ জোহর
মোস্ট স্টাইলিস্ট স্টার (মহিলা) – আলিয়া ভাট
মোস্ট স্টাইলিস্ট স্টার (পুরুষ) – আয়ুষ্মান খুরানা
স্টাইল আইকন – সাইফ আলি খান
মোস্ট গ্ল্যামারাস স্টার (মহিলা) – আনুশকা শর্মা
মোস্ট গ্ল্যামারাস স্টার (পুরুষ) – বরুণ ধাওয়ান (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জনগণের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে জনস্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে রাষ্ট্রের সব ব্যয় নির্বাহ এবং উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হয়। তাই সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) যশোর সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের ষষ্ঠ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সেনানিবাসে সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে কোর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।
পুনর্মিলনী প্যারেডে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সিগন্যাল কোর সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশীদার। দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সিগন্যাল কোর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসা অর্জন করেছে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একইভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে সশস্ত্র বাহিনীকে অবদান রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদদের পাশাপাশি সিগন্যাল কোরের সদস্যদের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন।
সেনাবাহিনীর সার্বিক ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্প্রতি সারাদেশের দুটি সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, বরিশাল, সিলেট ও রামুতে তিনটি স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানি ও চারটি ব্রিগেট সিগন্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আওতায় সেনাবাহিনীতে সাইবার ওয়ারফেয়ার গ্রুপ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট, স্যাকটম ইউনিট ও স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সমিশন ইউনিট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনীর সমরশক্তি ও যোগাযোগ সক্ষমতা সুসংহত করবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আশা করি দায়িত্ব পালনকালে আপনারা শুদ্ধাচার কৌশল যথাযথভাবে প্রতিপালন করবেন। নিজের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবেন। সেনাসদস্যরা বিশেষত সিগন্যাল কোর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ অর্পিত দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণদানকারী শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ ‘অমর প্রাণ’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ‘কেউ কেউ আমার পদত্যাগ দাবি করছেন। পদত্যাগ করা এক সেকেন্ডের বিষয়, তাতে যদি পেঁয়াজের দাম কমে। এই মন্ত্রিত্ব কাজ করার জন্য।’
বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি এবং চড়া দামের মধ্যে কথাগুলো বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে ব্যবসায়ীদের করণীয় নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটি রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) এই সভার আয়োজন করে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদ, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব আবদুছ সাত্তারসহ এফবিসিসিআইয়ের কয়েকজন পরিচালক, বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ী ও দোকানমালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে অল্প সময়ের মধ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বছরের শেষ দিকে প্রতি মাসে ১ লাখ টন পেঁয়াজ আসে। ভারত বন্ধ করে দেওয়ায় এসেছে ২৫ হাজার টন করে। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসত। সেখানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। এই অঞ্চলের সব দেশেই পেঁয়াজের দাম চড়া।
পেঁয়াজের বাজার সামাল দিতে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করার পর তারা উদ্যোগী হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এস আলমের প্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।’
কোনো মুনাফা ছাড়া পেঁয়াজ আমদানি করে দেওয়ায় সিটি, মেঘনা ও এস আলমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের পেঁয়াজের খরচ পড়েছে কেজিপ্রতি সাড়ে ৪২ টাকা। এ পেঁয়াজ টিসিবিকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর বাইরে অনেকে আমদানি করছে, সেটা তো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এই মুনাফালোভীদের মূল্যবোধ সংকটের সময়ও জাগ্রত হয় না।
বক্তব্য দেওয়ার সময় ১৯৬৬ সাল থেকে রাজনীতি ও ১৯৭২ সাল থেকে ব্যবসা করার কথা উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আগামী তিন বছরে পেঁয়াজে স্বাবলম্বী হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এবার নতুন পেঁয়াজ উঠলে ভারতীয় পেঁয়াজ আমি বন্ধ করে দেব।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দোকানমালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি কমে গেছে। মানুষের মধ্যে ঝোঁক নেই। কারণ সবাই দেশকে ভালোবাসে। তিনি বলেন, ৩০-৩৫ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ টাকা হয়েছে। আশপাশের দেশেও দাম ১২০ টাকার কাছাকাছি। তবে দেশে ২৫০ টাকা হওয়ার কারণ নেই।
আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব আবদুছ সাত্তার বলেন, এক শ্রেণির মুনাফাখোরের উন্নয়ন দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাদের লক্ষ্য কীভাবে সরকারকে ঠেকানো যায়। বাজার খারাপ করে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেন। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা বলেন, ‘কেউ যদি সরকারকে বিপাকে ফেলতে দামায় বাড়ায়, তাহলে ব্যবস্থা নিন। আমরা আন্দোলন করব না। তবে যৌক্তিক হতে হবে।’
শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, এবার মৌসুমের শেষ দিকে বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছিল। ফলে কৃষকেরা ঘরে মাচা করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, গুদামে পেঁয়াজ রাখা যায় না। তিন দিন পরই পচন ধরে।
Select Language