বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২০ | ০৫:০৭
২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১০ শাওয়াল, ১৪৪১
সর্বশেষ সংবাদ

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দলের সভাপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিতে রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত দপ্তর উপ-কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
আগামী জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “একটা পদে কোনো পরিবর্তন আসবে না। সেটা হচ্ছে আমাদের পার্টির সভাপতি। আমাদের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনি ছাড়া আমরা কেউই অপরিহার্য না। তিনি এখনো আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক অপরিহার্য। তৃণমূল পর্যন্ত সবাই তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘এর পরের পদটা কাউন্সিলরদের মাইন্ড সেট করে দেয়। সেটাও তিনি ভালো করে জানেন। আর দল কীভাবে চলবে, কাকে দিয়ে চলবে সেটাও তিনি জানেন। তিনি যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই করবেন। পরিবর্তন করলেও তার ইচ্ছা, তিনি ডিসাইড করবেন এ ব্যাপারে কারও কোনো কথা থাকবে না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা একেক জন একেক কথা বলেন। কেউ বলেন দুর্বার আন্দোলন ছাড়া মুক্তি নেই আবার কেউ বলে আন্দোলন করার সময় এখনো হয়নি। তাদের নেতৃত্বের মধ্যে আন্দোলনের খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে নানান কথা। আমাদের এখানে কি করার আছে। আমরা এখানে রাজনৈতিক মামলা হলে মুক্তির বিষয়টা বিবেচনা করতাম। এটা রাজনৈতিক কোনো মামলা নয়। এটা দুর্নীতির মামলা।
বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী কাদের বলেন, তারা এখন আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনের ব্যর্থ, তাদের এখন এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার দুরভিসন্ধি ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই।
কাদের বলেন, বিএনপি এখন আদালত প্রাঙ্গণে, আদালতের ভেতরে যে হট্টগোল সৃষ্টি করেছে, এটাই এখন তাদের রাজনীতি। তারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তারা এখন উসকানি দেবে। দ্রব্য মূল্য অস্বাভাবিক করার জন্য তাদেরও একটা কারসাজি আছে সেটাও আমরা তদন্ত করছি। এখনো তারা নীরব আছে তা না, তারা প্রত্যেকটি ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছে।
সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দপ্তর কমিটির আহ্বায়ক পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা, বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বরং বন্ধুত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত এগিয়ে যাবে। উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে।
‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এসব কথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ সংগ্রামে ভারতের বহুমাত্রিক অবদানের বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ।
বীরাঙ্গনাদের ত্যাগের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। তিনি বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ একটি মাস। এই মাসে তাঁরা দুর্দশা ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। ভারত তার নিজস্ব সম্পদের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে প্রায় এক কোটি নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছিল এবং ভারতের সেনারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। বন্ধুরা একে অপরের জন্য এটাই করে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচ বছরের ভিসা, আর্মড ফোর্সেস হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। সরকারি হিসাবে দুই লাখ এবং বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তিন কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বরাত দিয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে তা এই অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করবে। আশা করছি, ভারত প্রাণপণ চেষ্টা করবে যাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননা দেওয়া হয় ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিসকে। তিনি বলেন, ২৫ মার্চের পরে বাংলাদেশ থেকে মানুষ ভারতে আশ্রয় নেওয়া শুরু করে। এমনকি দিনে ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনাও আছে। ওই সময় ভারত শরণার্থীদের দারুণভাবে সহযোগিতা করেছে।
দেশ স্বাধীন করতে কোনো রাষ্ট্রকে এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি বলে মন্তব্য করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় ’৭৫ এর পরে বেশির ভাগ সময় দেশ শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, যারা বাংলাদেশকে বারবার ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পেনসাকোলায় নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে পাল্টা গুলিতে ওই বন্দুকধারীও নিহত হয়েছেন বলে এসকাম্বিয়া কাউন্টির শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে নাভাল এয়ার স্টেশন পেনসাকোলায় (এনএসএসপি) হামলার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
হামলার ঘটনায় এনএসএসপি’র উভয় পাশের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শেরিফের দুই ডেপুটি আহত হয়েছেন। তবে দুজনই আশঙ্কামুক্ত বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গোলাগুলিতে আহত আটজনকে ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ওই হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
এক টুইটার বার্তায় ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস বলেন, বিষয়টি গভর্নর অফিস থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর আরও সদস্য পাঠানো হবে।
শেরিফ ডেভিড মরগান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার একজন ডেপুটি ঘাঁটির একটি শ্রেণিকক্ষে ওই হামলাকারীকে গুলি করে মেরেছেন। হামলাকারীর নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হবে না। তবে ওই বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন ওই নৌঘাঁটিতে ১৬ হাজারেরও বেশি সামরিক ও প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বেসামরিক সদস্য আছেন।
এরআগে মাত্র দুদিন আগে হাওয়াইয়ের পার্ল হারবার সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর এক নাবিকের গুলিতে দুই বেসামরিক নিহত ও একজন আহত হন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে তাঁরা বলবেন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আয়োজিত ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের অবৈধ সাজা বাতিল এবং স্বৈরাচার পতন দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বললেন, তিনি (খালেদা) ভালো আছেন। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যখন বলেন, সব ঠিক আছে। তখন বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের ঘাড়ে কয়টা মাথা যে তাঁরা বলবেন, তিনি খুব খারাপ আছেন। আর সেদিনই তো সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তাই বিচারকেরা কে কতটা সাহস রাখবেন, এটা জানি না।
৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর মেডিকেল বোর্ড রিপোর্ট না দেওয়ায় শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেন আদালত। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল সরকার আদালত অবমাননা করেছে। বিএসএমএমইউর উপাচার্য (ভিসি) আদালত অবমাননা করেছেন। ৫ তারিখের মধ্যে দুটি প্রতিবেদন চেয়েছিল। কোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন যে এই রিপোর্ট চিকিৎসকদের স্বাক্ষরসহ হাজির করতে হবে। কিন্তু তাঁরা করেননি। সেখানেই তো আদালত অবমাননা হওয়া উচিত ছিল। প্রধান বিচারপতিকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু অবাক হই যখন ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি আদালত অবমাননার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
হাইকোর্টের ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন। তাঁর শুনানিতে যাঁরা আদেশ মানলেন না, হাইকোর্ট তাঁদের আরও সময় দিলেন। দুর্ভাগ্য এই জাতির।
মির্জা ফখরুল বলেন, পৃথিবীতে এক ভিন্ন ধারা শুরু হয়েছে। যা গণতন্ত্রের পক্ষে না, একনায়কতন্ত্রের ধারা। তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদকে সরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই জাতি গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায়। এরশাদের বিরুদ্ধে যাঁরা আন্দোলন করলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যাঁরা রাস্তায় নেমে প্রাণ দিয়ে জাতির জন্য লড়াই করলেন, তাঁদের সঙ্গে সেদিন কিন্তু বেইমানি করা হয়েছে। আজকে যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গিয়েছেন এবং ক্ষমতা দখল করে আছেন। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কোনো কাজও করেনি।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে হবে। এটাই এখন দায়িত্ব।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির প্রমুখ।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> অবশেষে চারহাত এক করে ফেললেন নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি ও অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় সৃজিতের দক্ষিণ কলকাতার লেক গার্ডেনসের বাড়িতে স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়েতে দুই পরিবারের লোকজন এবং কিছু বন্ধুবান্ধব উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের সময় সৃজিতের পরনে ছিল পাজামা, পাঞ্জাবি ও জহরকোট। আর মিথিলার পরনে লাল জামদানি।
বিয়েতে মিথিলার বাবা-মা ও মেয়ে আয়রাসহ পরিবারের অন্য সদস্য এবং সৃজিতের মা ও বোন ছাড়াও টালিউড তারকা রুদ্রনীল, শ্রীজাত, ইন্দ্রদীপ, যিশু, নীলাঞ্জনা, অনুপম, পিয়া উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। রেজিস্ট্রি ম্যারেজের পর টালিউডের অতিথিদের নিয়ে বিশেষ পার্টি হবে। জানা গেছে, মিথিলার পরিবার দুই কেজি ওজনের চারটি ইলিশ নিয়ে গেছেন সৃজিতের জন্য।

মিথিলা জানিয়েছেন, শনিবার মধুচন্দ্রিমায় তারা সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন। সেখানে মধুচন্দ্রিমার পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলা পিএইচডির রেজিস্ট্রেশন করবেন। সব মিলিয়ে সুইজারল্যান্ডে এক সপ্তাহ থাকবেন তারা।
গত সেপ্টেম্বরে একটি ঘরোয়া পার্টিতে সৃজিত ও মিথিলাকে প্রথম একসঙ্গে দেখা যায়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সৃজিতের জন্মদিনের বিশেষ ছবিতেও পাওয়া যায় মিথিলাকে। সর্বশেষ তাদের দুজনকে ঢাকায় আর্মি স্টেডিয়ামে ফোকফেস্টে দেখা যায়।
এর আগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসানের সঙ্গে মিথিলার বিয়ে হয় ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট। তাদের বিচ্ছেদ হয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ) নিজেদের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভুটানকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ভুটানের দেওয়া ৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারের ঝড়ো ফিফটিতে মাত্র ৬.৫ ওভারেই বাংলাদেশ জয়লাভ করেছে।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) নেপালের কীর্তিপুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে ভুটান। দুই ওপেনার তেনজিন ওয়াংচুক জুনিয়র (১৫) ও জিগমে ডঙ্গি (১২) শুরুটা ভাল করলেও টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে হারিয়ে মাত্র ৬৯ রান সংগ্রহ করে।
দলীয় ২৩ রানে ওয়াংচুক বিদায় নেওয়ার পর ভুটানের হয়ে আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। কেবল জিগমে সিংগে (১৩) দুই অংকের ঘর ছুঁতে পারে।
জবাবে ৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটে নামেন জাতীয় দলের দুই তারকা সৌম্য ও নাঈম শেখ। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মারে অপরাজিত ৫০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন সৌম্য। অপরপ্রান্তে ১ ছক্কায় ১৩ বলে ১৬ রান করে সৌম্যকে সঙ্গ দেন নাঈম শেখ।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেটে নিয়েছেন মানিক খান। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান রানা, তানভীর ইসলাম, মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি ও সৌম্য।
এই নিয়ে চলতি এসএ গেমসে টানা দ্বিতীয় জয় পেলো বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে টাইগারদের পয়েন্ট ৪। আর ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশ শনিবার তৃতীয় ম্যাচ খেলবে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আমরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে। এজলাসে বসে আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।’
খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল ও জামিনবিষয়ক শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেওয়ার পরও আদালতকক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অবস্থান-হইচইয়ের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানিয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগে দাখিল হয়নি। এটিসহ দুটি প্রতিবেদন কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে সকালে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসবে।
এই শুনানি চলাকালেই রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে হইচই হয়। হইচইয়ের মধ্যেই আদালত আদেশ দেন।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষে অবস্থান নেন। তাঁরা হইচই করতে থাকেন।
সকাল ১০টার দিকে দিকে বিচারপতিরা আদালতকক্ষ ত্যাগ করেন।
বিচারপতিরা চলে যাওয়ার পরও বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা আদালতকক্ষে বসে থাকেন।
বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারপতিরা এজলাসে আসেন। অন্য মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। তখনো বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা আদালতকক্ষে বসে ছিলেন। তাঁরা হইচই করেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ডায়াসে দাঁড়ান। এ সময় আদালত বলেন, তাঁরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখেননি।
খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমি শেষবারের মতো কথা বলতে চাই।’
আদালত বলেন, ‘আমরা আদেশ দিয়েছি। আর কোনো কথা শুনব না।’
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আরজি জানান।
আদালত বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃহস্পতিবার শুনব।’
এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তুমুল হইচই করেন।
হইচইয়ের মধ্যে আদালতের ক্রম অনুসারে মামলা ডাকা হয়। ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শুনানির জন্য দাঁড়ান আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা টেবিল চাপড়ান। শুনানি করার চেষ্টা করেন আজমালুল হোসেন কিউসি।
এ সময় বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ছাড়া আর কোনো শুনানি হবে না।
একপর্যায়ে সরকার-সমর্থক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী স্লোগান দেন, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। তাঁরা ‘খালেদা জিয়া’, ‘খালেদা জিয়া’ বলেন স্লোগান দেন।
আজমালুল হোসেন কিউসি যে মামলা শুনানির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন, সেটির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন আদালত।
পরে বিচারপতিরা আদালতের এজলাস ত্যাগ করেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগে এখন নেতার অভাব নেই। এখন কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। বড় নেতা, আধুলি নেতা, সিকি নেতা, আরও কত নেতা!
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কাউকে বাদ দেওয়া হয় না। আওয়ামী লীগে দায়িত্বের পরিবর্তন হয়। দায়িত্বের পরিবর্তন মানে বাদ দেওয়া নয়। নবীনের সঙ্গে প্রবীণের মিলন। প্রবীণের সঙ্গে নবীনের মিলন। শক্তির সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিলন। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। আওয়ামী লীগকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ঢেলে সাজাতে হবে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি করতে গিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে নেতার অভাব নেই। এখন কর্মীদের চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। বড় নেতা, আধুলি নেতা, সিকি নেতা, আরও কত নেতা! নেতার শেষ নেই। নেতা আছে, কর্মী পাওয়া যায় না। নেতাদের পোস্টার লাগানোর মানুষ থাকে না। ভাড়া করে পোস্টার লাগাতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি বিশ্বের তিনজন সৎ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একজন। বিশ্বের পরিশ্রমী চারজন রাষ্ট্রনায়কের একজন, বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নেতার একজন। গত ৪৪ বছরে দেশের সবচেয়ে সৎ রাজনীতিবিদের নাম শেখ হাসিনা। বিশ্বের দক্ষ এক প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হতে হবে। নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এখন টাকার বিনিময়ে নেতা হওয়ার সুযোগ শেষ। মনোনয়ন বাণিজ্যের দিন শেষ। সুসময়ের সুবিধাবাদীদের দিন শেষ। এসব চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। নেত্রী টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। এখন থেকেই সাবধান হয়ে যান।’
সম্মেলনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, ত্রাণ ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বর্তমানে নির্ধারিত নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞার বাইরে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত কোনো ব্যক্তি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার (আবেগী দাতা) হিসেবে কাউকে কিডনি দিতে পারবেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশোধিত মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের এ সংক্রান্ত ধারা ও বিধান ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করতে পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) এই রায় দেন।
একবার কিডনি প্রতিস্থাপনের পর দ্বিতীয় দফায় সন্তানের কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে আইনি জটিলতা সূত্রে ঢাকার বাসিন্দা ফাতেমা জোহরা ১৯৯৯ সালের আইনের তিনটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০১৭ সালে ওই রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৪ আগস্ট আদালত রুল দেন। ১৯৯৯ সালের আইন ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে রিট আবেদনকারীর করা সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূরক রুল হয়। এই রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাশনা ইমাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। রিটে ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে পক্ষভুক্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহীনুজ্জামান শাহীন।
রায়ের বিষয়ে আইনজীবী রাশনা ইমাম বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত এবং সম্পর্ক আছে-এমন ব্যক্তি চাইলে প্রত্যয়ন বোর্ডের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার হিসেবে কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন বলে রায়ে এসেছে। ছয় মাসের মধ্যে আইন ও বিধিমালা সংশোধন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নিকট আত্মীয়ের বাইরে কিডনি দানের সুযোগ তৈরি হলো। তবে অপরিচিত বা সম্পর্ক নেই এমন ব্যক্তি কিডনি দিতে পারবে না।
আইন অনুসারে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনা-বেচা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে রাশনা ইমাম বলেন, কিডনি দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রত্যয়ন বোর্ডের জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ইমোশনাল ডোনেশন হচ্ছে কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে একটি প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। প্রত্যয়ন বোর্ড দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক, পরিচয় যাচাই করবে। কোন পরিস্থিতিতে কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা থাকতে হবে। দাতা স্বেচ্ছায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করছেন কি না, অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, দাতা মানসিকভাবে সুস্থ বা মাদকাসক্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দাতা-গ্রহীতার দেওয়া তথ্যে বৈপরীত্য আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে বলে নীতিমালায় এসেছে।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, নিকট আত্মীয় পাওয়া না গেলে ইমোশনাল ডোনারের সঙ্গে গ্রহীতার পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সম্পর্ক প্রত্যয়ন বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করতে হবে বলে রায়ে এসেছে। দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের সপক্ষে দালিলিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করে তা নথিভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, অর্থ লেনদেনের কোনো প্রতিশ্রুতি আছে কি না এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী আছে কি না এবং দাতা-গ্রহীতার তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদনও প্রত্যয়ন বোর্ডকে বিচার বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল বলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। সরকারের হস্তক্ষেপেই আদালতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল ও জামিনবিষয়ক শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেওয়ার পর রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও বিএসএমএমইউ সময় চাওয়ায় ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা দাখিল করতে নির্দেশ দেন আদালত। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সে বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এ আদেশ আসার পরে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে ‘রাজার হালে’ আছেন। তাঁর জন্য কারাগারে ‘মেইড সার্ভেন্ট’ দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সেবায় ‘কাজের বুয়া’ দেওয়ার দৃষ্টান্ত নেই।
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে যে বিচার চলাকালে একটা মামলায় তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রমাণ হয়ে যায়, তিনি ও তাঁর সরকার চান না খালেদা জিয়া মুক্ত হোন। খালেদা জিয়ার মুক্তি করুণার ব্যাপার নয়, এটা তাঁর আইনগত অধিকার। তিনি আরও বলেন, ‘এসব কথা বলেই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) একদিকে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের যাঁরা রিপোর্ট দেবেন, তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর প্রধান অস্ত্র হচ্ছে ভয় দেখানো। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হয়ে তিনি যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা সরাসরিভাবে বিচার বিভাগের ওপরে হস্তক্ষেপের শামিল, আদালত অবমাননার শামিল এবং কিছুটা রায়ের মতোই।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার ঘটনা টেনে বিএনপি মহাসচিব পরিস্থিতিকে বিচার বিভাগের জন্য ও চিকিৎসকদের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার জামিনবিষয়ক শুনানি না হওয়ায় মির্জা ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত জাতি শুধু হতাশই হয়নি, বিক্ষুব্ধ হয়েছে। তাঁরা উদ্বিগ্ন-বিক্ষুব্ধ জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর মুক্তি প্রয়োজন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন, গত রাতেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে আজকে তাঁর জামিনকে বাধা দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে কী পদক্ষেপ হবে, সে প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তি না দিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।
Select Language