রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০২:০৭
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
সংসদ

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> একাত্তরে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনে যে সব বাঙালি বেতনভোগী হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে তাদের তালিকা আগমী বিজয় দিবস অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর থেকে প্রকাশ করা হবে। রোববার (১ ডিসেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারের হাতে তালিকা আসতে শুরু করেছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে যতটুকু আসবে পর্যায়ক্রমে তা প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিকে জানান হয়েছে। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম এবং এ বি তাজুল ইসলাম অংশ নেন।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু হওয়ার কথা জানায় মন্ত্রণালয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কাজ শুরু করে।
রোববার সংসদীয় কমিটি জানায় গত ২১ মে ১৯৭১ সালের বেতনভোগী রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়। ডিসিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, মাগুরা, শেরপুর, গাইবান্ধা ও যশোরের শার্শা উপজেলায় কোনো বেতনভোগী রাজাকারের নাম পাওয়া যায়নি। তবে চাঁদপুরে ৯ জন, মেহেরপুরে ১৬৯, শরিয়তপুরে ৪৪, বাগেরহাটে ১ জন ও নড়াইলে ৫০ জন রাজাকারের নাম পাওয়া গেছে।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ১৪ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য গৃহনির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ২০ কোটি টাকা। এক একটি বাড়ি নির্মাণ করতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার হিসেবে এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বাজারে পেঁয়াজের অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধির ঝাঁজ লেগেছে সংসদের বৈঠকেও। সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন। তারা বলেছেন, সরকারের জনপ্রিয়তা নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতেই দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তারা পেঁয়াজ আমদানির ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন। আরেক সদস্য পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এর পর এ ইস্যুতে আরও বক্তব্য দেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ও বিএনপিদলীয় সদস্য হারুনুর রশীদ। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ সময় উপস্থিত ছিলেন না। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় ২০০ টাকা হয়ে গেছে। কী কারণে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বাড়ছে?
তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেই যখন বলেন, ১০০ টাকার নিচে দাম নামবে না; তাহলে ব্যবসায়ীরা তো সুযোগ পেয়ে যায়। বলা হচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। তাহলে কেন দাম বাড়ছে- এটা বোধগম্য নয়। এতে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে বলেছিলেন, পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গেছে। তিনি ভারতকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ না করতে অনুরোধ করেছিলেন। সংসদে অর্থমন্ত্রী আছেন; বাণিজ্যমন্ত্রীকে দেখা যাচ্ছে না।
তিনি এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থমন্ত্রী যদি জবাব দেন তাহলে সংসদ আশ্বস্ত হতে পারে।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর অনেক কর্তব্য রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পেঁয়াজের দাম একটু হয়তো বেড়েছে। দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হচ্ছে, আজকে পেঁয়াজের কেজি দুইশ’ টাকা- আমরা কোনোদিনই এটা ভাবিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশে পেঁয়াজের কী চাহিদা, তা আগেই মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। আমাদের দরকার কত, আছে কত। যেটা ঘাটতি তা তুরস্ক, মিসরসহ অন্য দেশ থেকে আগেই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তার ওপর আমদানি শুল্ক্ক কমিয়ে দেওয়া হয়। তিনি পেঁয়াজ আমদানিকারকদের কিছুদিনের জন্য এই সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করে বলেন, তাহলে অবশ্যই বাজারে প্রভাব পড়বে।
সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, বাজারে কিন্তু পেঁয়াজ আছে। এর দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু গতকাল দাম ছিল দেড়শ’ টাকা, আর আজ দুইশ’ টাকা। এটা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। এই সময় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এই কাজগুলো করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদ ওয়াদাবদ্ধ। দেশের মানুষকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষ রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাবে- এটা মেনে নেওয়া যায় না। এর একটা ব্যবস্থা হওয়া উচিত। নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।
বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পেঁয়াজ নিয়ে রসিকতা করা হচ্ছে। কাজেই পেঁয়াজের ব্যাপারে সরকারের তৎপর হওয়া উচিত। জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, মঙ্গলবার বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৮০ টাকা। ওই দিন এই সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের মূল্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। এট বলার পরদিন দাম হয়ে গেল ১৫০ টাকা। আর আজকে হলো ২০০ টাকা। পত্রিকায় দেখলাম, ভারতে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় কৃষক কাঁদছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের এত ভালো সম্পর্কের পর নিশ্চয়ই সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পদক্ষেপ নিলে এ সংকট থাকত না।
পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কি-না, তা খতিয়ে দেখার দাবি করে চুন্নু বলেন, বাজারে পেঁয়াজ নেই- তা কিন্তু নয়। বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আছে, কিন্তু মূল্য বাড়ছে। এটা একটা ষড়যন্ত্র। সরকারের অনেক অর্জন। এটা সরকারের বদনাম করার একটা পদ্ধতি। তিনি বলেন, একটি অভিযানের দরকার আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে তিনি এই ষড়যন্ত্র বের করার দাবি জানিয়ে বলেন, মানুষ পেঁয়াজ কিনতে পারে না। এ কারণে সরকারের বদনাম হচ্ছে। কিছু খারাপ কাজের জন্য অনেক ভালো কাজ ম্লান হয়ে যায়। অনেক ফেনসিডিল ব্যবসায়ী রাস্তাঘাটে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মরে যায়। পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী ব্যবসায়ীরা বন্দুকযুদ্ধে মরে যাক। তাহলে এটা একটা উদাহরণ হবে। পেঁয়াজের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে অভিযান হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> জাতীয় পার্টির সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী একাই সব কাজ করেন বলে মন্ত্রীরা নিজেদের রাজা মনে করেন। তাঁদের আর কোনো কাজ করতে হয় না। জনগণকে তাঁরা প্রজা মনে করেন।
দেশে ঘুষ, সন্ত্রাস, ক্যাসিনো, মাদকসহ সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সারা বছর অব্যাহত রাখা হোক—নিজের আনা এ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে রুস্তম আলী ফরাজী বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) এসব কথা বলেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের অনুরোধে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন।
রুস্তম আলী ফরাজীকে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, দেশে পুলিশ আছে, প্রশাসন আছে। তাদের নাকের ডগাতে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনো, জুয়া ও মদ চলে আসছিল। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকেই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। মন্ত্রীরা কিছুই করেন না। তাঁরা গাড়িতে পতাকা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। তাঁদের পেছনে দেশের হাজার হাজার টাকা ব্যয় হয়।
রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘আমাদের সংবিধান অনুযায়ী মদ, জুয়া ও গণিকাবৃত্তি নিষিদ্ধ। সুতরাং এসব বন্ধ করতে হবে। কারণ, আজকাল ছাত্ররা ক্লাসে না গিয়ে বাইরে বাইরে ঘোরে, মাদক সেবন করে। পুলিশের অফিস, ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস—সব জায়গাতেই দুর্নীতি। এসব অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের সভাপতিকে সরিয়ে দিয়েছেন। আরও অনেককে দলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের সিদ্ধান্ত জেলা–উপজেলা পর্যায়েও নিতে হবে। জেলা–উপজেলা থেকেও সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিদায় করে দিতে হবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন, দুর্নীতি বন্ধ করা যায়। আমি মাঠের চিত্র পর্যবেক্ষণ করে বলতে পারি, এটা করতে পারলে আওয়ামী লীগের দুই হাজার লোক থাকবে না। কিন্তু দুই কোটি মানুষের সমর্থন বাড়বে।’
প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দুর্নীতি, ঘুষ, ক্যাসিনো চাই না। তবে এসব বন্ধ করতে গিয়ে রাজনীতিবিদদের যেন খাটো না করা হয়।
সরকারি দলের শহিদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আমি আশা করি মাদক, ক্যাসিনো, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তর থেকে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই অভিযানে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি কর্মচারীসহ জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, তিনি তার জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এ দেশের উন্নয়নের জন্য যা যা করার দরকার তিনি তাই করবেন। দেশের মানুষের কল্যাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুর মতো নিজের জীবনকেও উৎসর্গ করবেন তিনি।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্যের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন সংসদ নেতা।
জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অর্থাৎ দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে।
সংসদ নেতা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশনও বদ্ধপরিকর। কারা অভিজাত গাড়ি কিনেছেন, সে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের কোন কোন ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছেন, সে সম্পর্কিত তথ্য পাঠাতে দুর্নীতি দমন কমিশন সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।
সরকারদলীয় সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সারাদেশে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সরকারপ্রধান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং ও নানা ধরনের সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, এটা ঠিক যে রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের হাত রয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে সমস্যা এবং ‘৭৮ ও ‘৭৯ সালে রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি করেছিলেন।
তিনি বলেন, আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ একটি বিশেষ মহল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে বিশ্বাস করে। তারা বাংলাদেশে সবসময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিতে তার সরকার বিশ্বাস করে।
শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পরিষ্কার অবস্থান হচ্ছে, বাংলাদেশের মাটিতে থেকে এবং এ দেশের মাটি ব্যবহার করে কেউ কোনো দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে পারবে না। সন্ত্রাসী তৎপরতার জন্য বাংলাদেশের মাটি কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান নিয়ে সরকারদলীয় সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে ভারত ও চীনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তারা আশ্বাস দিয়েছে, তারাও চেষ্টা করছে। শুধু ভারত কিংবা চীন নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে আরও যেসব দেশের সীমান্ত রয়েছে যেমন থাইল্যান্ড ও লাওস- এমন সব দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত- এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটির সঙ্গে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তিও হয়েছে। তবে এ দেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা তাদের কিছু দাবি তুলে ধরেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফেরত যেতে চাচ্ছে না। বিষয়টি এখন মিয়ানমার সরকারের ওপরই নির্ভর করছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তাদের নাগরিকদের ফেরত যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তারা যে নিরাপদ থাকবে- সেই বিশ্বাস সৃষ্টি করা মিয়ানমারেরই দায়িত্ব।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে কটূক্তি করায় তীব্র সমালোচনার মুখে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ।
বুধবার (১৩ নভেম্বর) সংসদে দাঁড়িয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। সংসদের বৈঠকে দাঁড়িয়ে কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধিতে (ব্যক্তিগত কৈফিয়ত) ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দেন রাঙ্গাঁ। যদিও তার বক্তব্যের শুরুতে একাধিক সাংসদকে হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।
এর আগে বিকেল সোয়া ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
গত ১০ নভেম্বর গণতন্ত্র দিবসে দলীয় এক আলোচনা সভায় জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ শহীদ নূর হোসেনের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য রাঙ্গাঁর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন।
এমন পরিস্থিতিতে বুদবার সংসদের বৈঠকে রাঙ্গাঁ বলেন, গত দু’দিন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। যে কারণে অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি একটা ভুল করেছি। এজন্য সব দোষ আমার ঘাড়ে নিচ্ছি। এই সংসদে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য করেননি দাবি করে রাঙ্গাঁ বলেন, প্রতিমন্ত্রী থাকতে তিনি এই সংসদে অনেক কথা বলেছেন। এই সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি অজস্রবার জয় বাংলা বলেছেন; জাতির পিতা বলেছেন। জাতির পিতাকে নিয়ে কোনো রকম ভুল বলে থাকলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
প্রধানমন্ত্রীকে তিনি সন্ত্রাসবাদ-দুর্নীতিবাজ এগুলো বলেননি দাবি করে রাঙ্গাঁ বলেন, তার দল ক্ষমতায় এলেও তিনি মন্ত্রী হতে পারতেন না, প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রী করেছেন। তারপরও ভুল করে থাকলে নিঃশর্ত ক্ষমা চাই। সহকর্মীরা আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
রোববার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কার্যালয়ে মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় নিহত শহীদ নূর হোসেনকে ‘অ্যাডিকটেড, ইয়াবাখোর’ বলে মন্তব্য করেন মশিউর রহমান রাঙ্গা।
ওইদিন তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাকে হত্যা করলেন। নূর হোসেন কে? নূর হোসেন কে? একটা অ্যাডিকটেড ছেলে। একটা ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিলখোর।’

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রেক্ষাপটে গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রস্তাব বুধবার (১৩ নভেম্বর) সংসদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধিতে সরকারি দলের সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
সরকারি দলের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রস্তাবটি অত্যন্ত বাস্তব সম্মত। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬ষ্ঠ। জলবায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের ৪ কোটির উপর মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উপকূলীয় ১০টি জেলা পানির নিচে ডুবে যেতে পারে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এজন্য বিশ্বে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী এজন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। প্রস্তাবটি গ্রহণ করে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য তিনি আহ্বান জানান। খবর বাসসের
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এদেশের উপকূলে ১০টি জেলার মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকে। ইউনিসেফের হিসাব মতে, ১ কোটিরও বেশি শিশু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তি ভঙ্গ করে উন্নত দেশগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, এটি তাদের বোঝাতে হবে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘে এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে, বাংলাদেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ কর্তৃক ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দীন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, সংসদে এই প্রস্তাব পাস হলে সংসদের মর্যাদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং দায়িত্বশীল সংসদ হিসেবে আবারো দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার সোলার প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে কার্বন নিঃস্বরণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ঢাকা শহরের আশপাশের ইটভাটা যে পরিমাণ কার্বন নিঃস্বরণ করে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তার ১শ’ ভাগের ১০ ভাগও করছে না।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্য সংসদ সদস্যরা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যান্য দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বোঝাতে হবে।
তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যারা দায়ী, ওইসব দেশকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানব সভ্যতার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে যেতে হবে।
সরকারি দলের সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, বাংলাদেশ জরবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। নিজস্ব অর্থ দিয়ে এই সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো এই সমস্যার জন্য দায়ী, অথচ এটি সমাধানে তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উন্নত দেশগুলো তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলেও বাংলাদেশ অঙ্গীকার করেছে, কার্বন নিঃস্বরণ ৫ শতাংশ কামাবে, সহযোগিতা পেলে আরো ১০ শতাংশ কমাবে।
তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রেখে যেতে তাদেরকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে, জীব বৈচিত্র রক্ষা করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা করা অতীব প্রয়োজন। উন্নত দেশের যুব সমাজ জেগে উঠেছে, আমাদের যুব সমাজেরও এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে।
সরকারি দলের সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম, কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াসিকা আয়শা খান, নজরুল ইসলাম বাবু, জাতীয় পার্টির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী, মুজিবুল হক, জাসদের সদস্য শিরিন আখতার, বিএনপির সদস্য হারুনুর রশীদ, রুমিন ফারহানা প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন।
কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধিতে সংসদে আনীত প্রস্তাবটি হলো- “সংসদের অভিমত এই যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অস্তিত্বের সংকট, উপর্যুপরি দুর্যোগের ভয়াবহআঘাত এবং চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার বৃদ্ধি, জীববৈচিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা, ক্রমবর্ধমান পানি সংকট, মহাসাগরগুলোর উপর অভাবনীয় চাপ এবং সম্পদের অমিতাচরী ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে গ্রহজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হোক।”

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ‘টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল)’ পাঁচ বছরের এই প্রকল্পের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্প এলাকা চিহ্নিত হয়নি। তবে গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণ ও পরামর্শক নিয়োগ হয়েছে। প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ব্যয় ১১০ কোটি টাকা হলেও এই সময়ে চূড়ান্ত হয়নি কিসের ওপর ও কাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রথম বছরে ৬৫ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে খরচ হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা। ৬০০ গ্রামের ৪০ হাজার বননির্ভর পরিবারকে নিয়ে এই প্রকল্পের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রামগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। এক হাজার ৫০২ কোটি টাকার এই প্রকল্পের এক হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কমিটি অসন্তোষ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।
বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। কিন্তু তাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। মৌলিক কাজগুলোই করা হয়নি। এক বছর পরও তাদের পরিকল্পনা গোছানো নয়। পরিকল্পনার দিক থেকে কোনো ধরনের স্বস্তি খুঁজে পাননি এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন তো অনেক পরের কথা।
সাবের চৌধুরী বলেন, এত বড় প্রকল্পের পরিচালককে আরও কয়েকটি প্রকল্পের দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। কমিটি বলেছে, এত বড় প্রকল্পের জন্য একজন সার্বক্ষণিক পরিচালক নিয়োগ করতে হবে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) গঠন করা হলেও তা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়েও কমিটি প্রশ্ন তুলেছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের নামটা যত ভালো, কাজ ততটা ভালোভাবে শুরু হয়নি।
কমিটির কার্যপত্র পর্যালোচনা ও সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বনজ সম্পদ উজাড় রোধ ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকা সুবিধা প্রদানসহ বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা সামনে নিয়ে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্প নেওয়া হয়। মেয়াদ শুরুর ছয় মাসের মাথায় গত বছর ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সংশ্নিষ্টরা জানান, দেশের আটটি বিভাগের ২৮টি জেলায় পাঁচটি বনাঞ্চলে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও প্রকল্প এলাকায় বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়বর্ধক কাজের সুযোগ সৃষ্টি। এর মাধ্যমে বন ও রক্ষিত এলাকা সংলগ্ন ৬০০টি গ্রামের ৪০ হাজার বননির্ভর পরিবারের উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া ৫২ হাজার ৭২০ হেক্টর বৃক্ষশূন্য পাহাড়ি ও সমতল বনভূমিতে বনাচ্ছাদন, নতুন জেগে ওঠা চরে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন, ২০টি রক্ষিত এলাকায় দুই হাজার ৫০০ হেক্টর বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং এক হাজার ৩৩০ হেক্টর এলাকায় বন্যপ্রাণীর চলাচল পথের উন্নয়ন, ছয়টি বনে রক্ষিত বনব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন, পাখি শুমারি ও রিং পরানো ও শিকারি পাখি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জাতীয় বনাঞ্চল এক দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিএনসিসিকে সর্বোচ্চ জরিমানার সুপারিশ : আমিনবাজার বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের দায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) সর্বোচ্চ জরিমানা করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। আমিনবাজারে ডিএনসিসির ওই বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ল্যান্ডফিলটি কোনো রকমের পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে। কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, আমিনবাজারের বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশন নিয়ে আলোচনার পর পরিবেশ অধিদপ্তর ডিএনসিসিকে তিনটি নোটিশ দেয়। ডাম্পিং স্টেশনটি বন্ধ করার জন্য বলা হলেও তাতে রাজি হয়নি ডিএনসিসি। তারা আরও এক থেকে দেড় বছর সময় চেয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি সাবের চৌধুরী বলেন, পরিবেশ দূষণের জন্য জরিমানার বিধান আছে। আইন সবার জন্য সমান। সিটি করপোরেশন এখানে কোনো বিশেষ সুবিধা পেতে পারে না। তাদের ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ড অবৈধ। পরিবেশ অধিদপ্তর আগেও এ ব্যাপারে চিঠি পাঠিয়েছে। তারা কোনো সাড়া দেয়নি। ওই বর্জ্য স্টেশন বন্ধ করার জন্যও তাদের চিঠি দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের জরিমানা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, মোজাম্মেল হোসেন, দীপংকর তালুকদার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জাফর আলম, রেজাউল করিম বাবলু এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার অংশ নেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যার রাজনীতি করে না। প্রতিহিংসার রাজনীতিতেও বিশ্বাসী নয়। সেটা করলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকত না।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিন সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলের একাধিক সংসদ সদস্যের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিএনপি সরকারের সময় তাদের হাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যে পরিমাণ হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছি তা নজিরবিহীন। এদেশে জঙ্গি সৃষ্টি, অগ্নিসন্ত্রাস, বোমা হামলা, মানি লন্ডারিং, এতিমের টাকা আত্মসাৎসহ হেন অপকর্ম নেই যা খালেদা জিয়া, তার দুই ছেলে এবং তার দলের নেতারা করেননি।
এর আগে রুহিন ফারাহানা প্রশ্ন করার সময় বলেন, দেশে বর্তমানে মানুষ হত্যার বিচার থেকে মশা মারা পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। এর লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (রুমিন) একটি অনাকাঙ্খিত, অসংসদীয় ও অবান্তর প্রশ্ন করেছেন। তিনি মানুষ হত্যা আর মশা মারাকে একই সমতলে নিয়ে এসেছেন। আমি সংসদ সদস্যের নেত্রী খালেদা জিয়ার মতো দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালেই কি প্রশ্নকারী খুশি হতেন?
শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্র একটি যন্ত্রের মতো। এই যন্ত্রের বিভিন্ন কল-কব্জা যখন সমন্বিতভাবে কাজ করে, তখনই রাষ্ট্র ভালো থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র ভালোভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের অকার্যকর হওয়ার কথা উনি (রুমিন ফারাহানা) বলছেন। অকার্যকর রাষ্ট্রের উদাহরণ তো বিএনপিই সৃষ্টি করেছিল। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসত রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তির কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী ঘুমিয়ে থাকতেন, সিদ্ধান্ত দিতেন তাঁর পুত্র হাওয়া ভবন থেকে। মন্ত্রী-সচিবরা হাওয়া ভবন থেকে নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুণতেন।
সংসদ নেতা বলেন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যার অন্যতম কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের সমন্বয় করা। মন্ত্রীদের কাজের তদারকি করা। জনগণ আমাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। আরাম-আয়েসের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করিনি আমি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে। যিনি তার জীবনটাই উৎসর্গ করেছিলেন এ দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে হিসেবে জনগণের প্রতি আমারও দায়বদ্ধতার একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। আমি সেটাই প্রতিপালনের চেষ্টা করছি। সে জন্যই আমি দিনরাত পরিশ্রম করছি। কোনো প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করার জন্য নয়, সব প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় রাখার জন্য সব সময়ই সচেষ্ট থাকছি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নিলসন প্রচেষ্টা ও জনগণের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে রোল মডেল হয়ে আছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে বিশ্ব সেরার জায়গা দখল করেছে। এসব আপনা-আপনি হয়নি। সবার পরিশ্রমেই হয়েছে। প্রতিষ্ঠান অকার্যকর থাকলে এসব অর্জন সম্ভব হতো না।
তিনি বলেন, প্রশ্নকর্তা এমপির দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের রক্তে রঞ্জিত হয়ে খুনিদের সহায়তায় ক্ষমতায় বসেছিলেন। জিয়াউর রহমানের প্রতিহিংসার বলি হয়ে জেলখানায় নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন জাতীয় চার নেতা। জিয়াউর রহমানই এ দেশে হত্যা-ক্যুর অপরাজনীতি শুরু করছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর শত শত অফিসার-সৈনিককে হত্যা করেছিলেন। ঘুষ-দুর্নীতি ও লুটপাটের সংস্কৃতিও চালু করেছিলেন তিনি। মেজর জিয়াই একটা পুরো প্রজন্মকে নষ্ট করেছেন। তাই বিএনপি এমপির মুখে মানুষ মারার বিষয়টি অবলীলায় চলে আসে। এটাই তো তাদের দলীয় আদর্শ। আর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া যে তার স্বামীর চেয়েও এক কাঠি সরেস- সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রশ্নকর্তার নেত্রী খালেদা জিয়াও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার শাসনামলে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকেসহ আওয়ামী লীগের পুরো নেতৃত্বকে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় মদদে খুনের নেশায় মত্ত হয়েছিল বিএনপি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসসহ ২০১৪ সালের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা দেশবাসী নিশ্চয় ভুলে যাননি। ওই সময়ে বিএনপি নারী-শিশুসহ ৫০০ নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। নির্মমভাবে হত্যা করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ২৪ সদস্যকে। ৫৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তিন হাজার যানবাহন, ২৯টি রেল, ৯টি লঞ্চ এবং ৭০টি সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে। অসংখ্য বৃক্ষ নিধনসহ গবাদি পশুও আগুনে পুড়িয়েছে।
গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে। আমি জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি। সুতরাং মানুষের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। খালেদা জিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ চালাই না। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমাই না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাই। বাকি সময় দেশের কোথায় কী হচ্ছে, তার খোঁজ রাখার চেষ্টা এবং সমস্যার সমাধান করি।
জাতীয় পার্টির ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৩ আগস্ট পর্যন্ত সরকার ১ লাখ ৫৭ হাজার এনএস-ওয়ান কিটসহ মোট ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ কিট আমদানি করা হয়েছে। ৬ আগস্ট থেকে বিদেশ হতে কাঁচামাল এনে দেশেই ডেঙ্গু রোগের কিট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার কিট সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ কিট ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।
তিনি বলেন, ঢাকায় অকার্যকর মশার ওষুধ কেনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেঙ্গু রোগ মোকাবেলায় নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগ ৬৪ জেলায় মনিটরিং টিম গঠন করেছে। এ মনিটরিং টিম জেলা পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহ দেওয়া, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে।
গণফোরামের মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুজিব বর্ষ’-এর বছরব্যাপী আয়োজন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার নিজের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। দেশের জন্য আমি কী করতে পারলাম, সেটাই আমার মূল লক্ষ্য।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো চুক্তি সম্পাদনের সময় দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই খসড়া প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করা হয়। তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে। চুক্তিটি সম্পাদনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে এ বিষয়ে এখনও চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ২০১৭ ও ১৮ সালে ভারত সফরকালে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আগামী অক্টোবরে ভারত সফরকালেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান বিষয়ে আমি আলোচনা করব। এ ব্যাপারে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের রুমানা আলীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের চাপে মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় চূক্তিগুলো স্বাক্ষর করলেও তা বাস্তবায়নে যথেষ্ট গড়িমসি করছে। যাবতীয় প্রস্তুতি থাকার পরেও কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে সম্মত না হওয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। কারণ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। তবে আশা করা যায়, বাংলাদেশের অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শিগগিরই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করবে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যার রাজনীতি করে না, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসীও নয়। সেটায় বিশ্বাস করলে এদেশে বিএনপির অস্তিত্ব থাকত না।
বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিন সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলের একাধিক সংসদ সদস্যের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিএনপি সরকারের সময় তাদের হাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যে পরিমাণ হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছি তা নজিরবিহীন। এদেশে জঙ্গি সৃষ্টি, অগ্নিসন্ত্রাস, বোমা হামলা, মানি লন্ডারিং, এতিমের টাকা আত্মসাৎসহ হেন অপকর্ম নেই যা খালেদা জিয়া, তার দুই ছেলে এবং তার দলের নেতারা করেননি।
এর আগে রুহিন ফারাহানা প্রশ্ন করার সময় বলেন, দেশে বর্তমানে মানুষ হত্যার বিচার থেকে মশা মারা পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। এর লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (রুমিন) একটি অনাকাঙ্খিত, অসংসদীয় ও অবান্তর প্রশ্ন করেছেন। তিনি মানুষ হত্যা আর মশা মারাকে একই সমতলে নিয়ে এসেছেন। আমি সংসদ সদস্যের নেত্রী খালেদা জিয়ার মতো দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালেই কি প্রশ্নকারী খুশি হতেন?
শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্র একটি যন্ত্রের মতো। এই যন্ত্রের বিভিন্ন কল-কব্জা যখন সমন্বিতভাবে কাজ করে, তখনই রাষ্ট্র ভালো থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র ভালোভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের অকার্যকর হওয়ার কথা উনি (রুমিন) বলছেন। অকার্যকর রাষ্ট্রের উদাহরণ তো বিএনপিই সৃষ্টি করেছিল। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসত রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তির কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী ঘুমিয়ে থাকতেন, সিদ্ধান্ত দিতেন তাঁর পুত্র হাওয়া ভবন থেকে। মন্ত্রী-সচিবরা হাওয়া ভবন থেকে নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুণতেন।
সংসদ নেতা বলেন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যার অন্যতম কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের সমন্বয় করা। মন্ত্রীদের কাজের তদারকি করা। জনগণ আমাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। আরাম-আয়েসের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করিনি আমি।

অনলাইন ডেস্ক> প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উচ্চ আদালত জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। অবৈধ যখন ঘোষণা করেছেন, তখন তাদের দু’জনের কেউই আর রাষ্ট্রপতি থাকেন না, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী তাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা বৈধ নয়, এটাই বাস্তবতা। কারণ এই একটি রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার সুযোগ হয়েছে।
রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর আমাকে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও চড়াই-উতরাই অতিক্রম করতে হয়েছে। জেনারেল জিয়া ৩২ নম্বরের বাড়িতে আমাকে ঢুকতেই দেননি, এটাই বাস্তবতা। এরশাদ প্রথমে মার্শাল ল’ জারি করে পরে নিজেই ক্ষমতা দখল করে নেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা হত্যার পর জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন, এরপর এরশাদও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন ভণ্ডুল করতে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। সে সময় রওশন এরশাদ এগিয়ে আসেন। জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল এবং অন্য কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। অনেক বাধা অতিক্রম করে তখন নির্বাচন করতে আমরা সক্ষম হই, যদিও এই নির্বাচন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেন। নির্বাচনে যদি জনগণের অংশগ্রহণ না থাকত তাহলে আমরা তো সরকারে টিকে থাকতে পারতাম না। জনগণ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এবং ভোট দিয়েছিল বলেই আমরা ৫ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে সংসদের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক দল অংশগ্রহণ করেছে, অথচ এই সংসদকে অবৈধ বলেও বিএনপির সদস্যরা শেষ পর্যন্ত সংসদে এসেছেন।
তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আমরা সরকার গঠন করে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। গত ১০ বছরে দেশ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিচারপতি আব্দুস সাত্তার প্রার্থী হন। তখন এরশাদ দেশের বাইরে গিয়ে বলেছিলেন সাত্তার তাদের প্রার্থী। আমরা এটার প্রতিবাদ করেছিলাম। তখন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেননি। সাত্তার সাহেব ছিলেন তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে হঠাৎ করে সাত্তার সাহেবের বিরুদ্ধে একটা বিবৃতি দেন। ১৯৮২ সালে এরশাদের ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। বিনিময়ে এরশাদ সাহেব তাকে দুটি বাড়ি এবং নগদ ১০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। জিয়ার মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা হয় কিন্তু বিএনপি কোনোদিনও এই মামলা পরিচালনা করেনি। পরে জিয়াউর রহমান হত্যার জন্য খালেদা জিয়া এরশাদকে দায়ী করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এক মিলিটারি ডিক্টেটরের পরিবর্তে আরেক মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতায় আসুক এটা আমাদের কাম্য ছিল না, এজন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দল এর প্রতিবাদ করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল এরশাদের ব্যবহার, আচার-আচরণ অনেক অমায়িক ছিল। মানুষের প্রতি তার দরদ ছিল। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরে জিয়া ক্ষমতায় আসেন। তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেননি। যেটা জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এসে করেছেন।
নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে এরশাদের সঙ্গে সংলাপের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় আমাদের ১৪ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা ছিল। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তাদের মুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে জনসভায় গুলিবর্ষণসহ এরশাদের আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিভিন্ন অত্যাচার এবং তার নিজের কারাবরণের কথাও উল্লেখ করেন।
১৯৮৬ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই নির্বাচন যদি অবাধ, নিরপেক্ষ হতো তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকত এবং এরশাদকেও বিতর্কিত হতে হতো না। নিজেই আবার পরে সংসদ ভেঙে দিয়ে আবারো বিতর্কের মুখে পড়েন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে প্রায় কোনো দলই অংশগ্রহণ করেনি। এরপরই আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং জনগণের আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। একই ধরনের নির্বাচন খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় থাকতে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি করেছিলেন। তখনও কোনো দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তিনি ওই নির্বাচনে জয়লাভ করে নিজেকে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও জনগণ তাকে দেড় মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে দেয়নি।
তিনি বলেন, জনসমর্থন না থাকলে অর্থাৎ সত্যিকার অর্থেই যদি জনগণ ভোট দিয়ে না থাকে তাহলে ওই নির্বাচনে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে নানা চড়াই- উতরাই পেরিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদসহ বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি সুষমা স্বরাজের আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের স্থলসীমানা চুক্তির বিলটি তিনিই ভারতের সংসদে উত্থাপন করেন এবং দলমত নির্বিশেষে সব সদস্য এই বিলটি পাস করেন

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ ও মানুষের জন্যই তার রাজনীতি। কারও কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতার রাজনীতি করি না। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে হবে সেই রাজনীতিও করি না। তার জীবনের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নতি ও মানুষের কল্যাণ। দেশের মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি ও শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করা হবে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কেউ সাহস না পায়।
এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ধর্ষকদের চেহারা যেন বারবার দেখানো ও প্রকাশ করা হয়। যাতে এই জঘন্য অপরাধীরা লজ্জা পায়।
পাশাপাশি পুরুষ সমাজকেও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, নারীরা কেন একা প্রতিবাদ করবে? এ বিষয়ে পুরুষদেরও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী ভাষণের পর রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্পিকার।
দৃঢ়কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশকে আরও সমৃদ্ধিশালী করব। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করব ভিক্ষুকমুক্ত, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশ।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই দেশের উন্নয়ন হয়। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। সারা বিশ্বেই এখন বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। দেশকে আরও উন্নতি করতে হলে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এবারের বাজেটে আমরা প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ ভাগে উন্নীত করতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ, আমরা দেশকে উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
সংসদ নেতা বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বেও আজ প্রমাণিত উন্নয়নে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন বিশাল বাজেট নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। বাজেটে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৮ ভাগ। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি মানুষের কল্যাণের জন্য। ভিক্ষা চেয়ে নয়, দেশের নিজস্ব সম্পদ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। কারণ, আমাদের দেশের সম্পদ জনগণ আর দেশের মাটি হচ্ছে উর্বর। আমরা দেশের যে উন্নতি করতে পারি তা আজ প্রমাণিত। আগামী এক বছরে দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।

গ্যাসের দাম ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যাঁরা গ্যাসের দাম নিয়ে আন্দোলন করছেন, তাঁরা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না, অথবা উন্নয়নটা দেখতে পাচ্ছেন না। এটা দুঃখজনক। গ্যাসের দাম ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু জনগণের কথা চিন্তা করে তা করা হয়নি। ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ধর্ষণের বিচারসংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন সংসদ নেতা।

এর আগে বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়াতে চাই না।’

রওশনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাসের দাম নিয়ে যথেষ্ট কথাবার্তা ও আন্দোলন হয়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য অনেকে সমালোচনা করেছেন, প্রতিবাদ করেছেন।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। চাহিদা ছিল ৩৭০০ এমএমসিএফটি কিন্তু সরবরাহ করা যাচ্ছিল মাত্রা ২৬০০ এমএমসিএফটি। এই ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে এক হাজার এমএমসিএফটি এলএনজি গ্যাস আমদানি শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতি ঘন মিটারে উৎপাদন খরচ হয় ৭ দশমিক ৫০ টাকা। এলএনজির খরচ পড়ে ৩৩ দশমিক ৭৫ টাকা। এ জন্য প্রতি বছর ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৭৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা করা হয়নি। আমাদের প্রতি ঘনমিটারের এলএনজি আমদানির মূল্য পড়ছে ৬১ দশমিক ১২ টাকা। কিন্তু সেখানে আমরা নিচ্ছি ৯ দশমিক ৮০ টাকা। অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৩২ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে। ফলে এর জন্য ১৯ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এটাও আবার সব ধরনের ট্যাক্স আর শুল্ক বাদ দিয়ে।’
সংসদ নেতা বলেন, গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বিবেচনা করে মাত্র ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গ্যাস ব্যবহারের হিসাব নির্দিষ্ট রাখতে ইবিসি মিটার দেওয়া হবে। এতে বিল পরিশোধ সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কথা চিন্তা করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা সহনশীল পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে টাকা দিচ্ছি। আবার জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকেও দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের আর্থিক চাপ যাতে বেশি না পড়ে, তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর ৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা ভর্তুকি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলএনজির সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংমিশ্রণেরও একটা খরচ আছে। মিশ্রিত গ্যাসের মূল্য সহনীয় রাখার জন্য গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর থেকে ৯৪ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের পুরোটাই প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ জন্য সরকারের ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় বন্ধ হয়েছে। এই টাকা আদায় করে উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা যেত। কিন্তু মানুষের অসুবিধার কথা চিন্তা করে তা করা হয়নি। সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের পরও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এলএনজি আমদানির কারণে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি ছিল, যা ভর্তুকি দিয়েই সরকার পূরণ করেছে।

গত ১০ বছরে সরকার ১ হাজার ২৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস নতুন করে জাতীয় পাইপলাইনে যুক্ত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারটি ব্লকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য পৃথক চুক্তি হয়েছে। ভোলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে। সেখানে উত্তোলনও শুরু হয়েছে।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। শিল্পায়ন হচ্ছে। শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। গ্যাসের জন্য কূপ খনন করা হচ্ছে, পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা উত্তোলন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেটা করছি, তা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য। কোনো উন্নয়ন জ্বালানি ছাড়া হয় না। আমরা ৯৩ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। আমরা ২০২৪ সালের মধ্যে ডাবল ডিজিটে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাই। এ জন্য আমাদের জ্বালানি দরকার। এলএনজি আমদানির কারণে জনজীবনে বাড়তি চাপ যাতে না পড়ে, সে জন্য দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে মিশ্রিত করে জাতীয় পাইপলাইনে সরবরাহ করছে। এ ক্ষেত্রে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ঘনমিটারে মাত্র ১২ দশমিক ৬০ টাকা।’
শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাস দিতে না পারলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হবে। ভর্তুকি দিয়েই এটা আনা হচ্ছে। জনগণের থেকে এই বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কী করা উচিত? যতটা উৎপাদন বা আনার খরচ হবে পুরোটাই জনগণের থেকে নেওয়া উচিত। কিন্তু সেটা তো আমরা করছি না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশের গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের থেকে অনেক কম। যাঁরা বলেছেন ভারত দাম কমিয়েছে, সেটা কিন্তু সঠিক নয়।
গৃহস্থালিতে বাংলাদেশে ১২.৬০ টাকা, ভারতে ৩০.৩৭ রুপি, শিল্পে বাংলাদেশে ১০.৭০, ভারতে ৪০ থেকে ৪২ রুপি। সিএনজি বাংলাদেশে ৪৩ টাকা, ভারতে ৪৪ রুপি আর বাণিজ্যিক বাংলাদেশে ২৩ টাকা এবং ভারতে ৫৮-৬৫ রুপি। তাহলে ভারত কমাল কী করে? প্রতিটি ক্ষেত্রে তো বেশি আর তাদের রুপিতে তো আরও বেশি।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেননি। যে কারণে ২০০১ সালে বেশি ভোট পেয়েও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারেনি। জিমি কার্টারের কাছে মুচলেকা দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
Select Language