মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২০ | ০০:৪৯
২৭ শ্রাবণ, ১৪২৭ | ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪১
রাজনীতি

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দলের সভাপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিতে রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত দপ্তর উপ-কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
আগামী জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “একটা পদে কোনো পরিবর্তন আসবে না। সেটা হচ্ছে আমাদের পার্টির সভাপতি। আমাদের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনি ছাড়া আমরা কেউই অপরিহার্য না। তিনি এখনো আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক অপরিহার্য। তৃণমূল পর্যন্ত সবাই তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘এর পরের পদটা কাউন্সিলরদের মাইন্ড সেট করে দেয়। সেটাও তিনি ভালো করে জানেন। আর দল কীভাবে চলবে, কাকে দিয়ে চলবে সেটাও তিনি জানেন। তিনি যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই করবেন। পরিবর্তন করলেও তার ইচ্ছা, তিনি ডিসাইড করবেন এ ব্যাপারে কারও কোনো কথা থাকবে না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা একেক জন একেক কথা বলেন। কেউ বলেন দুর্বার আন্দোলন ছাড়া মুক্তি নেই আবার কেউ বলে আন্দোলন করার সময় এখনো হয়নি। তাদের নেতৃত্বের মধ্যে আন্দোলনের খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে নানান কথা। আমাদের এখানে কি করার আছে। আমরা এখানে রাজনৈতিক মামলা হলে মুক্তির বিষয়টা বিবেচনা করতাম। এটা রাজনৈতিক কোনো মামলা নয়। এটা দুর্নীতির মামলা।
বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী কাদের বলেন, তারা এখন আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনের ব্যর্থ, তাদের এখন এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার দুরভিসন্ধি ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই।
কাদের বলেন, বিএনপি এখন আদালত প্রাঙ্গণে, আদালতের ভেতরে যে হট্টগোল সৃষ্টি করেছে, এটাই এখন তাদের রাজনীতি। তারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তারা এখন উসকানি দেবে। দ্রব্য মূল্য অস্বাভাবিক করার জন্য তাদেরও একটা কারসাজি আছে সেটাও আমরা তদন্ত করছি। এখনো তারা নীরব আছে তা না, তারা প্রত্যেকটি ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছে।
সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দপ্তর কমিটির আহ্বায়ক পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে তাঁরা বলবেন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আয়োজিত ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের অবৈধ সাজা বাতিল এবং স্বৈরাচার পতন দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বললেন, তিনি (খালেদা) ভালো আছেন। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যখন বলেন, সব ঠিক আছে। তখন বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের ঘাড়ে কয়টা মাথা যে তাঁরা বলবেন, তিনি খুব খারাপ আছেন। আর সেদিনই তো সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তাই বিচারকেরা কে কতটা সাহস রাখবেন, এটা জানি না।
৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর মেডিকেল বোর্ড রিপোর্ট না দেওয়ায় শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেন আদালত। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল সরকার আদালত অবমাননা করেছে। বিএসএমএমইউর উপাচার্য (ভিসি) আদালত অবমাননা করেছেন। ৫ তারিখের মধ্যে দুটি প্রতিবেদন চেয়েছিল। কোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন যে এই রিপোর্ট চিকিৎসকদের স্বাক্ষরসহ হাজির করতে হবে। কিন্তু তাঁরা করেননি। সেখানেই তো আদালত অবমাননা হওয়া উচিত ছিল। প্রধান বিচারপতিকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু অবাক হই যখন ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি আদালত অবমাননার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
হাইকোর্টের ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন। তাঁর শুনানিতে যাঁরা আদেশ মানলেন না, হাইকোর্ট তাঁদের আরও সময় দিলেন। দুর্ভাগ্য এই জাতির।
মির্জা ফখরুল বলেন, পৃথিবীতে এক ভিন্ন ধারা শুরু হয়েছে। যা গণতন্ত্রের পক্ষে না, একনায়কতন্ত্রের ধারা। তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদকে সরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই জাতি গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায়। এরশাদের বিরুদ্ধে যাঁরা আন্দোলন করলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যাঁরা রাস্তায় নেমে প্রাণ দিয়ে জাতির জন্য লড়াই করলেন, তাঁদের সঙ্গে সেদিন কিন্তু বেইমানি করা হয়েছে। আজকে যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গিয়েছেন এবং ক্ষমতা দখল করে আছেন। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কোনো কাজও করেনি।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে হবে। এটাই এখন দায়িত্ব।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগে এখন নেতার অভাব নেই। এখন কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। বড় নেতা, আধুলি নেতা, সিকি নেতা, আরও কত নেতা!
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কাউকে বাদ দেওয়া হয় না। আওয়ামী লীগে দায়িত্বের পরিবর্তন হয়। দায়িত্বের পরিবর্তন মানে বাদ দেওয়া নয়। নবীনের সঙ্গে প্রবীণের মিলন। প্রবীণের সঙ্গে নবীনের মিলন। শক্তির সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিলন। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। আওয়ামী লীগকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ঢেলে সাজাতে হবে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি করতে গিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে নেতার অভাব নেই। এখন কর্মীদের চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। বড় নেতা, আধুলি নেতা, সিকি নেতা, আরও কত নেতা! নেতার শেষ নেই। নেতা আছে, কর্মী পাওয়া যায় না। নেতাদের পোস্টার লাগানোর মানুষ থাকে না। ভাড়া করে পোস্টার লাগাতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি বিশ্বের তিনজন সৎ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একজন। বিশ্বের পরিশ্রমী চারজন রাষ্ট্রনায়কের একজন, বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নেতার একজন। গত ৪৪ বছরে দেশের সবচেয়ে সৎ রাজনীতিবিদের নাম শেখ হাসিনা। বিশ্বের দক্ষ এক প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হতে হবে। নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এখন টাকার বিনিময়ে নেতা হওয়ার সুযোগ শেষ। মনোনয়ন বাণিজ্যের দিন শেষ। সুসময়ের সুবিধাবাদীদের দিন শেষ। এসব চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। নেত্রী টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। এখন থেকেই সাবধান হয়ে যান।’
সম্মেলনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, ত্রাণ ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল বলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। সরকারের হস্তক্ষেপেই আদালতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল ও জামিনবিষয়ক শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেওয়ার পর রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও বিএসএমএমইউ সময় চাওয়ায় ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা দাখিল করতে নির্দেশ দেন আদালত। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সে বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এ আদেশ আসার পরে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে ‘রাজার হালে’ আছেন। তাঁর জন্য কারাগারে ‘মেইড সার্ভেন্ট’ দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সেবায় ‘কাজের বুয়া’ দেওয়ার দৃষ্টান্ত নেই।
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে যে বিচার চলাকালে একটা মামলায় তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রমাণ হয়ে যায়, তিনি ও তাঁর সরকার চান না খালেদা জিয়া মুক্ত হোন। খালেদা জিয়ার মুক্তি করুণার ব্যাপার নয়, এটা তাঁর আইনগত অধিকার। তিনি আরও বলেন, ‘এসব কথা বলেই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) একদিকে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের যাঁরা রিপোর্ট দেবেন, তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর প্রধান অস্ত্র হচ্ছে ভয় দেখানো। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হয়ে তিনি যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা সরাসরিভাবে বিচার বিভাগের ওপরে হস্তক্ষেপের শামিল, আদালত অবমাননার শামিল এবং কিছুটা রায়ের মতোই।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার ঘটনা টেনে বিএনপি মহাসচিব পরিস্থিতিকে বিচার বিভাগের জন্য ও চিকিৎসকদের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার জামিনবিষয়ক শুনানি না হওয়ায় মির্জা ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত জাতি শুধু হতাশই হয়নি, বিক্ষুব্ধ হয়েছে। তাঁরা উদ্বিগ্ন-বিক্ষুব্ধ জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর মুক্তি প্রয়োজন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন, গত রাতেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে আজকে তাঁর জামিনকে বাধা দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে কী পদক্ষেপ হবে, সে প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তি না দিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। দাম বৃদ্ধি করলে হরতালসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।
রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে পেঁয়াজ, চালসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। সংগঠনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদ্যুতের বিষয়ে বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। গত ১১ বছরে তারা ভাড়াভিত্তিক কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে ৬৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিয়েছে। বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হচ্ছে কুইক রেন্টালের নামে লুণ্ঠন। তিনি বলেন, সরকার বলেছিল, কুইক রেন্টাল স্বল্পমেয়াদে কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ হবে। তাতে সস্তায় বিদ্যুৎ মিলবে। শুরুতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কুইক রেন্টাল চলার কথা বলা হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত এটি চলবে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। দাম বৃদ্ধি করলে হরতালসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বিদ্যুতের মতো একটা অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহনের খরচ, খাদ্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়ে। বিদ্যুতের বাড়তি দামের কারণে একদিকে গরিব মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে কলকারখানার উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে বাংলাদেশি পণ্যসামগ্রী প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরউদ্দীন পাপ্পু, জুলহাসনাইন বাবু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দায়িত্ব জ্বালানির দাম বিষয়ে সব পক্ষের মতামত শুনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কিন্তু সরকারের হুকুম তামিল করা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বিইআরসি। কমিশনের শুনানিতে বিশেষজ্ঞরা দেখিয়ে দিয়েছেন, চুরি বন্ধ করা গেলে বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। এমনকি পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র আধুনিকায়ন করেও সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
সমাবেশে শেষে একটি মিছিল পল্টন মোড়, জিরো পয়েন্টের নূর হোসেন চত্বর, বায়তুল মোকাররম ঘুরে আবারও প্রেসক্লাবে আসে। এরপর কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা জুলহাসনাইন বাবু।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে লেজুড়বৃত্তি ছাত্র ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। তারা ছাত্র সংগঠনগুলোকে স্বাধীন রাখার পক্ষে মত দেন এবং নির্বাচিত ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন, ছাত্ররাজনীতি ছাড়া জাতীয় রাজনীতি হয় না।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কথা বলেন।
সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ছাত্র রাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতি থেকে বিযুক্ত করার কোনো বিষয় নেই। জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে ছাত্ররাজনীতিকে যুক্ত করতে হবে। তবে তা ওপর থেকে নিচে নয়, নিচ থেকে ওপরে হতে হবে। এখন ওপর থেকে নিচে হচ্ছে বলে ছাত্ররাজনীতির মূল বিষয়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোধের মধ্যে আসে না কীভাবে ছাত্র সংগঠনের গঠনতন্ত্রের মধ্যে দলের প্রধানেরা সাংগঠনিক প্রধান হয়ে যান। এই হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা একসময় কথা বলেছি। ছাত্ররাজনীতিতে রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করে স্বাধীন সংগঠনে পরিণত করতে হবে। তাহলে আমরা এগোতে পারব।’
ছাত্র সংগঠনগুলোকে সঠিক জায়গায় দাঁড় করাতে হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতিকে যদি কলুষমুক্ত করতে হয় তাহলে জাতীয় রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করেই তা করতে হবে।
রুগ্ন ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির কারণেই বর্তমান সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, লুটপাটের অর্থনীতি বজায় থাকলে সুস্থধারার ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। ছাত্ররাজনীতিতে শুধু ছাত্রদের বিষয় নিয়ে থাকলেই হবে না, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
সিপিবি সভাপতিও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ চালানোর কথা বলেন। তিনি ডাকসুর প্রাক্তন ভিপি, জিএস নিয়ে ‘কাউন্সিল অব এক্স ভিপিস জিএস অব ডাকসু’ প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেন।
জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় রাজনীতি সঠিকভাবে না থাকলে ছাত্ররাজনীতিও থাকবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করতে হলে ছাত্ররাজনীতি থাকতে হবে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সত্যের পক্ষে তারুণ্যের থাকতে হবে। এই দেশে এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রের আন্দোলনের ভ্যানগার্ড হচ্ছে ছাত্ররা। ন্যায়ের সংগ্রামে ছাত্রদের আরও বেশি করে যুক্ত হতে হবে। জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রদের এখন বেশি করে যুক্ত করা দরকার।
ডাকসুর নির্বাচন হওয়ার পরে এ সময়ের মধ্যে ডাকসু নেতারা শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের কাজ করতে পেরেছে বা সরকারের কাছে কী দাবি উত্থাপন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার। এ ছাড়া তিনি বলেন, শিক্ষক রাজনীতি বা ছাত্ররাজনীতিতে কিছু সমস্যা থাকলেও শিক্ষা ব্যবস্থা ধসে যায়নি। শিক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে। তবে তিনিও ডাকসুর মতো দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন বলে জানান।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, এখন ঐতিহাসিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই পরিবর্তনের জন্য তিনি ভিপি নুরুল হককে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজনীতিতে না জড়ালে দেশ কীভাবে এগোবে প্রশ্ন রেখে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক বলেন, রাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি চলে তার দায় গুটিকয়েক ছাত্রসংগঠনের। তার মধ্যে আছে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবির।
ছাত্র সংগঠনের কমিটি হয়, দলের প্রধানদের নিয়ন্ত্রণে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, ছাত্রদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয় না। যোগ্যদের নেতৃত্বে আনা হয় না। এ ছাড়া বলেন, জাতীয় রাজনীতিবিদরা যখন এক জায়গায় আসতে পারেননি তখন ছাত্ররা তাদের এক করতে বাধ্য করেছে। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি যারা করছেন তাদের বাইরে যারা আছেন তারা এক হতে পারলে বিপ্লবের জন্য যথেষ্ট বলে জানান।
গোল টেবিলে সভাপতির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, শিক্ষার গুণগত মান, কর্মক্ষেত্রে যোগ্য লোক না পাওয়ার বিষয়গুলো ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি আলোচনায় আসা দরকার।
সঞ্চালকের ভূমিকায় সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির অনেক ঐতিহ্য আছে। আমরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে নই। তবে লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতির বিপক্ষে।’
সুজনের পক্ষ থেকে ছাত্ররাজনীতিতে সুস্থতা ফিরিয়ে আনার জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা-যোগ্যতার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ, রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য, শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা, ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।
গোলটেবিলে আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদ, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত ও আবু সাঈদ খান, শিক্ষাবার্তা সম্পাদক এ এন রাশেদা প্রমুখ।

অনলাইন ডেস্ক> তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশে সন্ত্রাস-দুর্নীতি বিএনপির সৃষ্টি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাস-দুর্নীতি করেছে।
তথ্যমন্ত্রী রোববার (১ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের নতুন ভবনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তাঁর দুই পুত্রের দুর্নীতির তথ্য প্রমাণিত হয়েছে। দুর্নীতি দায়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে তাণ্ডব চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী হত্যা করা হয়। বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয় জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করছেন সেটি তাদের বেলায় মানায়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপিসহ দেশবিরোধী একটি মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়াচ্ছে। বিএনপির এসব চক্রান্তের পরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সাফল্য বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন, জামালপুরে সিপিবির সমাবেশে হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক। তিনি এ ঘটনায় নিন্দা জানান। এ ছাড়াও সড়ক পরিবহন আইন দুর্ঘটনা রোধে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রচার উপ কমিটি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে ক্রোড়পত্র বের করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত একটি অ্যালবাম তৈরি করা হবে। এ ছাড়া একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রসহ একটি ব্যাগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-কমিটির সদস্য আখতার হেসেন, শেখ তন্ময় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সমাজকে পুরোপুরি দূষিত করে ফেলেছে। সমাজে বিভক্তি এত ভয়ংকরভাবে ঢুকে গেছে, এখন ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না। ১৯৭৫ সালে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন কেউ সমালোচনা করলে তাকে রক্ষীবাহিনী দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। নারী ও শিশুরাও রক্ষা পেত না।
রবিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত এক সেমিনারে ফখরুল এসব মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘টাকা বানানো নাকি একটা ব্যাধি বা রোগ। সেই রোগে আপনারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। গ্লোবাল ইনট্রিগ্রিটি ফোরাম বলছে, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ৫০ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।’

অনলাইন ডেস্ক> আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মৎস্যজীবী লীগের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসের
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাছে আইনের শাসন, বিচার ব্যবস্থা, আদালত নিরাপদ নয়। তারা আদালত, আইনের শাসন ও বিচার মানে না। বিএনপি আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তারা আদালত প্রাঙ্গণে ভাংচুর ও পুলিশের ওপর হামলা করেছে এবং ইটপাটকেল ছুড়েছে। এই অবস্থায় বিএনপি যদি কখনও ক্ষমতায় আসে তাহলে পরিণতি কী হবে সেটা সহজেই বুঝতে পারা যায়।
নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ‘চক্রান্ত এখনও চলমান আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয় সরকারকে হটানোর ষড়যন্ত্র চলছে। আপনাদের সর্তক থাকতে হবে।’
মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে ও নেতৃত্বের দাপট দেখিয়ে চাঁদাবাজি চলবে না। অফিসে অফিসে গিয়ে চাঁদাবাজি করবেন, এ রকম নেতা আমরা চাই না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, যাদেরকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তা প্রমাণ হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাদ দেওয়া হবে।
মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক নারায়ণ চন্দ্র চন্দ্রের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন।
পরে মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলনে নবনির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি হিসেবে মো. সাইদুর রহমান, কার্যকরী সভাপতি হিসেবে সাইদুল আলম মানিক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ আজগর লস্করের নাম ঘোষণা করেন তিনি।
এছাড়াও সম্মেলনে মৎস্যজীবী লীগ সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবুল বাশার, আব্দুল গফুর, মোহাম্মদ আলম, বাবুল মিয়া, মীর আসাদুজ্জামান, শাহে আলম মিয়া ও নাসরিন সুলতানা। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম, টিপু সুলতান ও রফিকুল ইসলাম রফিক।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ‘বিদায় ঘণ্টা’ বেজে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে কৃষিবিদ জাবেদ ইকবালের স্মরণে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। ঘণ্টার ধ্বনি শোনা যাচ্ছে চারদিকে। নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতাই সরকারের পতন ডেকে আনছে।
তিনি বলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেব বলেছেন- ইডেনে উনি (শেখ হাসিনা) ঘন্টা বাজিয়ে ক্রিকেট খেলা উদ্বোধন করেছেন, তাদেরও ঘণ্টা বাজছে।
সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রটাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, সেটাকে এখন আমরা কোনো মতেই সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে পারি না। এটাকে অগণতান্ত্রিক ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবার সকল চক্রান্ত সম্পন্ন হয়েছে।
Select Language