শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০ | ২২:৪৩
৩১ শ্রাবণ, ১৪২৭ | ২৪ জিলহজ্জ, ১৪৪১
বিশেষ প্রতিবেদন

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ‘পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে আবার দেখা’, ‘চিৎকার কর মেয়ে দেখি কতদূর গলা যায়’, ‘আমি ভয় করবো না ভয় করবো না’, ‘বান এসেছে মরা গাঙে’- গতকাল এরকম অজস্র স্লোগানে মুখর ছিল রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডির নারীপক্ষের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তাটি। দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৪টা থেকে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে নারীপক্ষ। এতে অংশ নেয় দেশের সমমনা আরও ১৭৩টি সংগঠন।
 নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) দিবস ছিল মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর)। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের সব জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। ‘যৌন আক্রমণ আর না, ধর্ষণ যৌন নির্যাতনসহ সব সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা’ এ প্রতিপাদ্যে এসব কর্মসূচিতে জাতিসংঘ ঘোষিত সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
ধানমণ্ডিতে এ সময় ধর্ষণ প্রতিরোধে প্রচারপত্র বিতরণ, স্লোগান, প্রতিবাদী গান এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন নারীপক্ষের সদস্যরা।
কর্মসূচিতে লিফলেট পাঠ করেন নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক আফসানা চৌধুরী এবং সদস্য নাজমুন নাহার। তারা বলেন, নারীর ওপর সহিংসতা দমনে রাষ্ট্র এতটাই ব্যর্থ যে সহিংসতা এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের নারী যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে; ছেলে শিশুরাও বলাৎকার থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ঘরে-বাইরে সর্বত্র প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণচেষ্টা বা যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্তকরণ, এসিড আক্রমণসহ নানাবিধ সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী-শিশু।
পরিবার, সমাজ, এমনকি রাষ্ট্র এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির কাছেও নিরাপদ নয়।
বক্তারা বলেন, আইনের শাসনের অভাব, বিচারহীনতা, ক্ষমতাসীনদের অনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি, প্রশাসনের রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ দুর্নীতির কারণে ঘটনার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি এখন কেউ আর আমলেই নেন না। বক্তারা নারীর ওপর সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সুষ্ঠু বিচার করাসহ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ, চিকিৎসক ও সংশ্নিষ্ট সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নারীপক্ষের কর্মসূচিতে অধিকার, মৌচাক মহিলা কল্যাণ সংস্থা, ব্রতি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, সচেতন সমাজ সেবা হিজড়া সংগঠন ও সমাজসেবা সংস্কৃতি কেন্দ্রও অংশ নেয়।
মঙ্গলবারের ওই অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে অভিযান সূচনা করে লাগাতার তৎপরতার মাধ্যমে আগামী ২৫ নভেম্বর ‘নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবসে’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন নেতারা।
নোয়াখালী :সকালে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান), এনআরডিএস, এফপিএবি, বন্ধন, গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট, প্রচেষ্টা নারী উন্নয়ন মেলা এর আয়োজন করে। এ সময় বক্তব্য দেন নোয়াখালী নারী অধিকার জোটের সভানেত্রী লায়লা পারভীন, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের সভাপতি গোলাম আকবর ও নাগরিক অধিকার মোর্চার যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলম মাসুদ।
সাতক্ষীরা :অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় ও বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন স্বদেশ, শারি, সুনামসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
স্বদেশের পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় ‘আমরাই পারি’ সাতক্ষীরা জেলা জোটের চেয়ারম্যান আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন সুভাস সরকার, আবদুস সবুর বিশ্বাস, লুইস রানা গাইন, অপরেশ পাল, জ্যোৎস্না দত্ত, আবুল কালাম আজাদ, আনিসুর রহিম, আব্দুল আহাদ প্রমুখ।
ঝিনাইদহ :স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়েলফেয়ার অ্যাফোর্টসের আয়োজনে সকালে শহরের শেরেবাংলা সড়কের পৌর গোরস্তানের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শরিফা খাতুন, সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান তহুরা খাতুন, সাবেক উপাধ্যক্ষ এনএম শাহজালাল, মানবাধিকারকর্মী আমিনুর রহমান টুকু, সুরাইয়া পারভীন মলি, আশরাফুন্নাহার আশা, রুবল পারভেজ, নুরুন্নাহার কুসুম প্রমুখ।
ঠাকুরগাঁও :ইএসডিওর আয়োজনে শহরের চৌরাস্তায় মানববন্ধনে বিভিন্ন স্কুলের শতাধিক ছাত্রছাত্রীসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, ইএসডিওর প্রকল্প কর্মকর্তা আতিয়া ইসলাম রিতুসহ অন্যরা। অন্যদিকে, মানবকল্যাণ পরিষদের আয়োজনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও মাদারীপুর লিগ্যালএইড অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মাসুদ আহম্মেদ সুবর্ণ, তারিক হোসেন, নাজিরা আকতার স্বপ্না ও সাদেকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
নেত্রকোনা : শহরের মোক্তারপাড়ায় পৌরসভার সামনের সড়কে মানববন্ধনে শ্রম উন্নয়ন সংস্থা, জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, ইউনিয়ন নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নারী প্রগতি সংঘ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। একই দিন জেলার বারহাট্টা, পূর্বধলা, মোহনগঞ্জ ও দুর্গাপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
গাইবান্ধা :গণ উন্নয়ন কেন্দ্রে ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শহরের ডিবি রোড আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম, সাইফুল আলম সাকা, প্রবীর চক্রবর্তী, রিক্তু প্রসাদ, মাহমুদা বেগম, মাজেদা খাতুন কল্পনা, সাজেদা পারভীন রুনু, বিপুল কুমার দাশ, প্রতিমা চক্রবর্তী, প্রিয়ন্তী, বিশ্বজিৎ বর্মণ প্রমুখ।
ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) :উদাখালী নারী ফেডারেশনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিনিধি সেলসো মারকাট্রো, ইসরাত জাহান বিজু, মৌসুম ইসলাম, সোহেল রানা, লাকি বেগম, আছমা বেগম, জেনথী বেগম প্রমুখ।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) :ইন্ডিজিনাস পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেসের (আইপিডিএস) আয়োজনে কুলাউড়া স্টেশন চৌমুহনী চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশে আদিবাসী নারী উন্নয়ন ফোরামের সভানেত্রী মনিকা খংলা সভাপতিত্ব করেন।
স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) : মহিলা পরিষদ কাউখালী শাখার উদ্যোগে বিকেলে শহরে র‌্যালির আয়োজন করা হয়। পরে সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভা হয়। সুনন্দা সমাদ্দারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন কাউখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, অধ্যক্ষ অলক কর্মকার, জাহানারা হাবিব ও শাহীদা হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শামীম আরা বেগম নূপুর।
রাজাপুর (ঝালকাঠি) : উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচির যৌথভাবে আয়োজন করে এনজিও সাইডো, নারীপক্ষ ও তারুণ্যের কণ্ঠস্বর প্ল্যাটফর্ম।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) :আভাসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ইউএনও মুনিবুর রহমান। একই সময়ে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এনএসএস।

অনলাইন ডেস্ক> ‘শিক্ষা কখনো বাণিজ্য নয়’—এই মন্ত্রকে পাথেয় করে একদল তরুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে কলেজ শিক্ষার্থীদের এই কোচিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। মধুর ক্যানটিনে বসে এ বিষয়ে কথা হলো ‘খাতা-কলম’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উপসম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে।
২০১৩ সালে ‘খাতা-কলম’ যাত্রা শুরু করে। সে সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এ এস আর সিবগাতুল্লাহ, মো. আলমগীর হোসেন ও মীর হেলাল হোসেন, বাংলা কলেজের সোলাইমান বিশ্বাস ও মেহেদি হাসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাহাত ইসলাম, এনআইএসটির ফারজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহীনূর রহমানসহ আরও কয়েকজন মিলে একটি সাহিত্য পত্রিকা করার কথা ভাবেন। ছয় মাস নিজেরা চাঁদা তুলে একটি তহবিলও গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের শেষের দিকে বের হয় মাসিক ‘খাতা-কলম’-এর প্রথম সংখ্যা। সেই পত্রিকাটিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সময়ে একই নামের সংগঠন গড়ে ওঠে। পত্রিকাটি অনিয়মিত হলেও, সংগঠনের কাজ থেমে নেই।
সংগঠনের নানা শিক্ষামূলক কাজের অংশ হিসেবে গত ২১ জুন থেকে খাতা-কলম বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করানো শুরু করেছে। আলমগীর বললেন, ‘আমরা অভিজ্ঞতা থেকে জানি, বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারগুলোতে খোলামেলা আলোচনা হয় না। খরচও বেশি। এসব কথা মাথায় রেখেই আমরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই কোচিং সেবা দেওয়া শুরু করেছি।’
প্রতি শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় টিএসসির এক কোণের মেঝেতে ১০ থেকে ২০ জন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বসে ক্লাস। চলে কমপক্ষে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা ছাড়াও এখানে ক্লাস নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
খাতা-কলমের সম্পাদক সিবগাতউল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা শনিবারে ক্লাস নিতে চাই। তবে সে জন্য আরও শিক্ষকের প্রয়োজন। আপাতত আমরা বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর জোর দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক এমন যে কেউ নিঃশর্তে আমাদের এখানে যোগ দিতে পারেন। শিক্ষার্থীদের পড়াতে আগ্রহীরাও যোগাযোগ করতে পারেন।’
খাতা-কলমের কর্মীদের চাওয়া একটিই- এই কোচিং সেন্টারে পড়ে কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন, সেও যেন অন্যদের দিকে সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের একজন মো. মেহেদি হাসান। মাগুরার শ্রীপুর সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন মেহেদি। ফল প্রকাশিত হয়েছে ১৭ জুলাই। তিনি ঢাকার একটি প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে পড়ছেন। পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন ‘খাতা-কলমে’র কোচিংয়ে।
মেহেদি বলেন, ‘প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে দায়সারা পড়ালেখা হয়। সেখানে আর্থিক লেনদেনটা মুখ্য। খোলামেলা আলোচনার সুযোগ নেই সেখানে। খাতা-কলমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এখন আমার পড়ালেখায় উন্নতি স্পষ্ট। এই কোচিং সেন্টারে মন খুলে কথা বলা যায়, প্রশ্ন করা যায়। বড় ভাইয়েরাও ভালো করে বুঝিয়ে দেন।’
সংগঠনটিকে অরাজনৈতিক রাখার ব্যাপারে এর নীতিনির্ধারকেরা বদ্ধপরিকর। উপসম্পাদক আলমগীর বলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক সংগঠনের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতার প্রস্তাব আসে। তবে আমরা তা গ্রহণ করি না।’ কোনো লাভের আশা না করে কেউ যদি কোনো সহযোগিতা করতে চান, তাহলে তা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সম্পাদক সিবগাতউল্লাহ।
শুরু থেকেই নানা সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজ করছে খাতা-কলম। ২০১৪ সালে তারা প্রকাশ করে মাত্র ৫০ টাকা মূল্যের ইংরেজি ব্যাকরণ বই ‘ইংলিশ একাডেমি’। ২০১৬ সালে মনীষীদের বিভিন্ন উক্তি নিয়ে ‘বাণী-স্ফুলিঙ্গ’ নামে একটি সংকলনও বের করা হয়। বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্ত করা, বায়ুদূষণের কথা মাথায় রেখে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, দুস্থ লোকজনের মাঝে খাবার ও পোশাক বিতরণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খাতা-কলম। এই সংগঠনের আছে নিজস্ব ‘ছাত্রকল্যাণ তহবিল’। এই তহবিলের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে সাহায্য করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সংবাদপত্র খুললেই আমরা মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। এটা আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করছে। এ প্রবন্ধে আমি যানবাহনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এমন কিছু স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রস্তাব করছি, যা নিশ্চিতভাবে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস করতে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বেশির ভাগ গাড়ি উৎপাদন কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যানবাহন তৈরিতে কাজ করছে, যা চালককে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। এসব প্রযুক্তি বর্তমান বাজারে বিদ্যমান। বেশির ভাগ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্নিং সিস্টেম সাধারণত রাডার, ক্যামেরা, লিডার ও ম্যাপ সেন্সর ব্যবহার করে থাকে। এসব সেন্সর একটা সেন্ট্রাল ব্রেইনকে গাড়ির পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেয়। সেন্ট্রাল ব্রেইন চালককে আগেভাগেই সতর্ক করে কোনো ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকলে। নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে এমন বুঝলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে।
পথচারী সতর্কতা
গাড়ির কাছে কোনো পথচারী অথবা অবকাঠামো থাকলে সিস্টেম বিপ (একধরনের শব্দ) শুরু করবে। বিপের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়তে থাকবে যত দূরত্ব কমে আসতে থাকবে। বাস অথবা ট্রাকে এই সিস্টেম ভালো সহযোগিতা করে থাকে। কারণ চালকের পক্ষে গাড়ির চারপাশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম সাধারণত ক্যামেরা, রাডার ও আলট্রাসনিক সেন্সর ব্যবহার করে যেকোনো বিপদ সম্পর্কে জানান দিয়ে থাকে।
লেন পরিবর্তন সতর্কতা
সাধারণত এই ফিচার গাড়িকে লেনে ধরে রাখতে সাহায্য করে থাকে। ক্যামেরার সাহায্যে লেন লাইন ডিটেক্ট করা হয়। চালক অনিচ্ছাকৃত দাগ পার হলে স্টিয়ারিং টর্ক প্রয়োগ করে গাড়িকে লেনে ধরে রাখে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম সাইড রাডারের সাহায্যে কোনো গাড়ির উপস্থিতি জানান দিয়ে থাকে। গাড়ির চিহ্ন সম্পন্ন আইকন সাইড গ্লাসে দৃশ্যমান হয়, যদি কোনো গাড়ি পার্শ্ববর্তী লেনে বিদ্যমান থাকে। এ ক্ষেত্রে চালক লেন পরিবর্তনে অগ্রিম সতর্ক থাকবেন।
অসতর্ক চালকের জন্য সতর্কতা
অনেক চালক আছেন যাঁরা গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনে কথা বলেন। টেক্সট মেসেজ করেন বা পাশের কারও সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন। আইন করেও এ অভ্যাস বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে চালকের ঘুম চলে আসতে পারে। চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ করার জন্য স্টিয়ারিং হুইলের মাঝে ক্যামেরা বসানো থাকে, যা চালকের চোখের নড়াচড়া থেকে বুঝতে পারে চালক অমনোযোগ কি না এবং চালককে সতর্কতা দিয়ে থাকে।
সামনের সংঘর্ষের অগ্রিম সতর্কতা
সামনে গাড়ি, মানুষ বা পশু থাকলে এ ধরনের ব্যবস্থা অগ্রিম চালককে সতর্কতা দিয়ে থাকে। যদি সংঘর্ষ হওয়ার মতো দূরত্বে চালক চলে আসেন কিংবা অনেক সময় সংঘর্ষ নিশ্চিত হলে এ সিস্টেম নিজেই ব্রেক করে থাকে। সাধারণত রাডার ও ক্যামেরা দিয়ে থ্রেট অবজেক্ট শনাক্ত করা হয়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালাতে পারবে, যা দুর্ঘটনার মাত্রা কমানোর সামর্থ্য রাখে। এ ব্যবস্থা দিন বা রাতে সমানভাবে কার্যকর।
এ রকম আরও অনেক ফিচার বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের মধ্যে সব গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। আমাদের সময় হয়েছে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো। হয়তো কিছুটা ব্যয়বহুল। কিন্তু মানুষের জীবনের থেকে বেশি নয়।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> গৃহিণী ফাতেমা আজীজ নিজেই রান্না করেন। নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে রান্নায় তেল ব্যবহার যতটা পারেন কম করেন। তেলের ব্যবহার বেশি হয়, এমন খাবার বাসায় তেমন রান্না করেন না তিনি। ‘পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে কম পরিমাণ তেল খাবারে ব্যবহার করি। বাজারে যেখানেই কম তেলে রান্না করার উপকরণ পাই, সেটাই পরিবারের জন্য বেছে নিই।’ জানান ফাতেমা আজীজ।
নুরজাহান বেগমের স্বামী হৃদ্​রোগী। স্বামীর কথা ভেবে ২০১৭ সাল থেকে তিনি কম তেলে রান্না করেন। নানা কৌশলে তেল ছাড়া রান্না করার চেষ্টা তিনি। নুরজাহান বেগম বলেন, ‘বর্তমানে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। খাবার নিয়ে সবাই এখন সচেতন। পরিবারের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের জন্য আমি কম তেলে রান্নার রেসিপিগুলোই বেশি রান্না করি।’
যাঁরা নুরজাহান বেগম বা ফাতেমা আজীজের মতো কম তেলে বা তেল ছাড়া রান্না করার উপকরণ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য ওয়ালটন নিয়ে এসেছে ‘এয়ার ফ্রায়ার’।
সুস্থ থাকার জন্য
খাবারে তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে অনেক রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব। তেল অনেকের জন্য শারীরিক ক্ষতির কারণ। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই তেল হৃদ্​রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতি ওজন, বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, ক্যানসারসহ নানা রোগের সৃষ্টি করে। তবে বাঙালির রসনাবিলাসে তেল-মসলার ছড়াছড়ি।
তেল ছাড়া রান্না করা সম্ভব? প্রচলিতভাবে এ ধারণা নেই। কিন্তু তেল ব্যবহার না করেও সুস্বাদু খাবার রান্না করা যায়। যাতে খাবারের স্বাদ থাকবে অটুট, আবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হবে না।
এয়ার ফ্রায়ার
ব্যস্ত জীবনে গৃহস্থালির সব কাজ সুচারুভাবে সামলানো বেশ ঝক্কির ব্যাপার! ঝামেলাহীন স্বাস্থ্যকর রান্নার জন্য দেশের ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্র্যান্ড ওয়ালটন বাজারে ছেড়েছে এয়ার ফ্রায়ার।
স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের কাছে গৃহস্থালি এই পণ্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তেল ছাড়াই যেকোনো খাবার ভাজা বা টোস্ট করা যায় এই যন্ত্রে।
ওয়ালটন এয়ার ফ্রায়ার দিয়ে তেল ছাড়াই তৈরি করা যাবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাইসহ কোলেস্টেরলমুক্ত নানা রকম সুস্বাদু খাবার। আছে বেক এবং রোস্ট করার সুবিধাও। যা প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চর্বিমুক্ত রান্না করতে সক্ষম। ৩০ মিনিটের মধ্যে রান্নায় আছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার সুবিধা। যেসব খাবার ডুবো তেলে রান্না করতে হয়, সেগুলো এ যন্ত্রে তৈরি করা যায়। এটি দিয়ে কেকও বানানো যায়।
কোন ধরনের খাবার কত তাপমাত্রায় কতক্ষণ ধরে রান্না করতে হবে, ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়ালটন এয়ার ফ্রায়ারে দেওয়া আছে এসব নির্দেশনাও। ফলে এই এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার সহজ।
এয়ার ফ্রায়ারে একটি হিটার থাকে, যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমে উত্তপ্ত হয়। এর ফলে ওপরের ফ্যানের বাতাস হিটারের কারণে এমনভাবে গরম হয় যে খাবার মুচমুচে ও বাদামি বা সোনালি রঙা হয়ে ওঠে।
আধুনিক গৃহিণীদের গৃহস্থালি কাজের ঝক্কি-ঝামেলা দূর করতেই ওয়ালটনের গৃহস্থালি পণ্য সম্ভারে যোগ করা হয়েছে এই এয়ার ফ্রায়ার। ওয়ালটন এয়ার ফ্রায়ারে ২ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন ক্রেতা।
দরদাম
আড়াই লিটার ধারণক্ষমতার
এয়ার ফ্রায়ারটির দাম ৬ হাজার
৫০০ টাকা।
কোথায় পাবেন
ওয়ালটন এয়ার ফ্রায়ার পাওয়া যাবে যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা এবং পরিবেশকের দোকানে। এ ছাড়া অন্য ব্র্যান্ডের এয়ার ফ্রায়ার বিভিন্ন বাজারে পাওয়া যায়।

২৪ নিউজভিশন.কম> দুটি স্কুটিতে চারজন নারী। ‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে তাঁরা বেরিয়েছেন দেশ ভ্রমণে। তবে শুধু তাতেই আটকে নেই তাঁরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে অন্তত একটি স্কুলের ছাত্রীদের হাতে–কলমে তাঁরা শেখাচ্ছেন যে কীভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করতে হয়!
চার নারীর এই সংগঠনটির নাম ‘ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ–ভ্রমণকন্যা’। নেতৃত্বে আছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক সাকিয়া হক। তাঁর সহযোগীরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মানসী সাহা তুলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিলভী রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনতাহা রুম্মান অর্থী।
৫৫টি জেলা ভ্রমণ শেষে এই চারজন এসেছিলেন মৌলভীবাজার জেলায়। বুধবার (২৭ মার্চ) সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যান তাঁরা। স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক ঘণ্টার একটি সেশনে তাঁরা অংশ নেন। এ সময় ইভ টিজিং প্রতিরোধে ছাত্রীদের করণীয় বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। এই সেশনে স্কুলের মাঠে উপস্থিত ছিল প্রায় পাঁচ শ ছাত্রী।

দুটি স্কুটিতে চারজন নারী বেরিয়েছেন দেশ ভ্রমণে। দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে অন্তত একটি স্কুলের ছাত্রীদের তাঁরা হাতে–কলমে শেখাচ্ছেন যে ভয় না পেয়ে কীভাবে সাহসের সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। ছবি- সংগৃহীত

সেশনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ, মুক্তিযুদ্ধ, পর্যটন সম্ভাবনা, খাদ্য পুষ্টি, বিভিন্নœরকম সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, বয়ঃসন্ধিকালীন নানা সমস্যা, নারী স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা, বিপদে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার জন্য করণীয় বিভিন্ন বিষয়। ভয় না পেয়ে কীভাবে সাহসের সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
সাকিয়া হক বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে স্বাস্থ্য–সচেতন, উদারমনা নারী সমাজের কোনো বিকল্প নেই। সঠিক শিক্ষা আর ভ্রমণই পারে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে তাকে মানবসম্পদে পরিণত করতে। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল আমরা এই কার্যক্রম হাতে নিই। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পুরো বাংলাদেশ ঘুরব। ভ্রমণের সময় প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের হাতে–কলমে শেখাব কীভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করতে হয়, ভয় না পেয়ে কীভাবে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মানসী সাহা তুলি বলেন, ‘প্রথম যখন আমরা দেশ ভ্রমণের উদ্যোগটি নিয়েছিলাম, তখন পরিবার থেকে অনেক বাধা এসেছিল। এখন আমাদের কাজ দেখে পরিবারের সদস্যরাও খুশি। প্রথম দিকে আমরা নিজের অর্থায়নে সব করলেও এখন আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে কর্ণফুলী গ্রুপ। স্কুটির তেলের খরচ দিচ্ছে তারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ভ্রমণ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করছি। তাদের বিভিন্ন সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছি।’
শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাশ বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল ও কঠিন সময়ে ভয় না পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন তাঁরা। তাঁদের এই সেশনে ছাত্রীরা খুবই উপকৃত হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন.কম> হাফহাতা গেঞ্জি, মাথায় গামছা বাঁধা, এক হাতে লাঙলের মুঠো, অপর হাতে গরু তাড়ানো লাঠি। গরু, লাঙল, জোয়াল নিয়ে চাষ করছেন জমি। দেখলে মনে হবে বোরো মৌসুমে কৃষক জমি চাষ করছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তাঁর দেখাদেখি পুলিশ লাইনসের অপর সদস্যসহ স্কুলের ছেলেমেয়েরাও নেমে পড়ে জমিতে। জমি তৈরিসহ ধানের চারা রোপণের কাজে সহায়তা করেন।
গত শুক্রবার নড়াইলের পুলিশ লাইনে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে জমিতে ধান রোপণ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। পুলিশ লাইনের কোনো জমি যাতে অনাবাদি অবস্থায় না থাকে, সে জন্য নিজে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে জমি চাষ করতে নেমে পড়েন। ২০ শতাংশ জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে।
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পরপর দুবার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেয়েছেন।

পুলিশ সদস্যদের নিয়ে জমিতে ধান রোপণ করছেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ লাইনের কর্মকর্তাসহ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তিন বিঘা জমিতে বিভিন্ন সবজিসহ ৪টি পুকুর পরিষ্কার করে নানা প্রজাতির মাছের চাষ করেন। জৈব সার তৈরি করে তা কাজে লাগান তিনি। উৎপাদিত ফসল এবং মাছ পুলিশ লাইনের মেসে থাকা সদস্যদের কম দামে খাওয়ানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন বলেন, ‘চাকরি জীবনে আমি অনেক স্যারের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু এমন লোক পাইনি।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. গোলাম নবী বলেন, ‘নড়াইলের বর্তমান পুলিশ সুপার একজন ভালো প্রশাসক। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি আপসহীন। কিন্তু তিনি যে একজন ভালো কৃষক, তা জানতাম না।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘আমার কাছে কোনো কাজই ছোট নয়। আমি পুলিশ প্রশাসক হতে পারি, কিন্তু এ সমাজেরই একজন মানুষ।’ তিনি মনে করেন, দেশের উচ্চপদে যাঁরা চাকরি করেন তাঁরা দেশের মানুষের সেবক। কৃষিনির্ভর এই দেশে বেশির ভাগ মানুষই সমাজের তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। চাকরি জীবনে প্রবেশ করার আগে হয়তো-বা বাপ-দাদার সঙ্গে অনেকেই এ ধরনের কাজ করে আজ উচ্চপদে চাকরি করছেন। কোনো কাজই ছোট নয়, এ প্রজন্মকে জানানোর জন্যই তিনি নিজ হাতে হাল চাষ করেছেন। পুলিশ লাইনসের কোনো জমি অনাবাদি পড়ে থাকবে না।

২৪ নিউজভিশন.কম> কার্যালয়ের সামনে শিশুপার্ক। তাতে নানা প্রাণীর ভাস্কর্য। পরিপাটি সেই পার্কে খাঁচায় আছে নানা রকম পোষা পাখি। অ্যাকুরিয়ামে মাছ। ফটকে সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স। কার্যালয়ের ভেতরে গ্রন্থাগার। এটি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যালয়। চেয়ারম্যান আমিনুল হক খন্দকার একে গড়েছেন নিজের মতো করে।
পার্কের বাঁ পাশে একটু উঁচুতে বসার আসন। সেখানে কথা হয় আমিনুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান হওয়ার পর যখন তিনি ভিজিএফ, ভিজিডিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের চাল বিতরণ শুরু করেন, তখন কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে শিশুরা আসত। শিশুদের কেউ কেউ অপেক্ষা সইতে না পেরে কান্নাকাটি করত। তাদের সামলাতে জেরবার অবস্থা হতো মায়েদের। এসব দেখে তিনি কার্যালয়ের সামনে শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করার কথা ভাবেন। ২০১৫ সালের শেষ দিকে তিনি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুমতি নিয়ে সামনের জায়গায় কয়েকটি দোলনা বসান। তা পেয়ে শিশুদের সে কী আনন্দ! এরপর তিনি পার্কটির পরিসর বাড়াতে থাকেন।
জেলার একমাত্র বাল্যবিবাহমুক্ত ইউনিয়ন এটি। জেলায় পরপর দুবার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন আমিনুল হক। এর সুবাদে পেয়েছেন সরকারিভাবে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ। এসব কিছু ইতিবাচক কাজের প্রতি তাঁর উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিচ্ছেন নতুন কিছু উদ্যোগ।
আমিনুল হককে অনুসরণ করে সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউপির চেয়ারম্যান শাহ আলম মিয়া তাঁর ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে গড়ে তুলছেন শেখ রাসেল শিশুকর্নার। ভিতরবন্দের চেয়ারম্যান আমিনুল হকের কাছেই তিনি এর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
ভিতরবন্দ ইউপি কার্যালয়ের পাশেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। দুই প্রতিষ্ঠানের মাঝের প্রায় দুই বিঘা জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে শিশুপার্কটি। পার্কে ঢোকার মুখে ডান পাশে রয়েছে পাখিদের আবাস। খাঁচায় নানা প্রজাতির বিদেশি পোষা পাখি কিচিরমিচির করছে। আছে একটি অ্যাকুরিয়ামও। সেখানে খেলা করছে কয়েক প্রজাতির মাছ।
পাখির খাঁচা ও বসার আসনের মাঝখান দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনে ঢোকার রাস্তা। এর দুই পাশে সারি করে বসানো নানা প্রাণীর ভাস্কর্য। শুরুতেই দুই পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাঘ ও সিংহমূর্তি। গলা উঁচু করে রয়েছে জিরাফ, এক পায়ে ভর দিয়ে রয়েছে ধ্যানমগ্ন বকও। পার্কে রয়েছে ড্রাগন, রম্বুটান, চীনা লেবু থেকে শুরু করে আপেল, কমলা গাছ। বারোমাসি গাছে ফলে আছে সফেদা। গাছে ফুটে আছে সাদা জবা। ছোট্ট কৃত্রিম জলাধারে পদ্ম।
পার্কের দুই পাশের দেয়াল ঘুরিয়ে দেখালেন আমিনুল। এক পাশের দেয়াল যেন পুরো বাংলাদেশ! আরেক দেয়াল যেন বিজ্ঞানের কল্যাণে সভ্যতার এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ। এখানে চাকা আবিষ্কার থেকে কম্পিউটার পর্যন্ত আবিষ্কারের কাহিনি চিত্রিত আছে।
পার্কে ঘুরছিল পাশের নৈয়ারহাট কলেজের একদল ছাত্রী। মালেকা বেগম ও সোনিয়া খাতুন জানায়, কলেজে ক্লাস শেষে তারা পার্কে ঘুরতে এসেছে। এখানে এলে অনেক কিছু চোখে দেখে শেখা যায়। ঘুরে আনন্দও পাওয়া যায়।
দোলনায় দোল খাচ্ছিল কয়েকটি শিশু। তাদের মধ্যে আরফান আলী, জাহানুদ্দি ও কাজলী বলল, তারা মায়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছে। দোল খেতে তাদের খুব ভালো লাগে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, ভিতরবন্দের শিশুপার্কটি শুধু বিনোদনের উৎস নয়, সবার জন্য শিক্ষণীয়ও। মানুষ বই পড়ে যা শেখে, এখানে তার অনেক কিছুই দেখতে পাবে।
শিশুপার্কের সামনেই ভিতরবন্দ ইউপি কার্যালয়ের ভবন। এর একটি চেয়ারম্যানের কক্ষ। আরেকটিতে এজলাস। এই কক্ষে মূলত গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছেন আমিনুল হক। কুড়িগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে শুরু করে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের সব কটি খণ্ড।
আমিনুল হক বলেন, এখানে নাম নিবন্ধন করে বিনা মূল্যে যে কেউ বই নিতে পারেন। এক সপ্তাহের মধ্যে বই ফেরত দিতে হয়। এরপর চাইলে আবার একই বইয়ের জন্য সময় নেওয়া যায়। নতুন বই তো নেওয়াই যায়। আস্তে আস্তে পাঠক বাড়ছে। কেউ বই দিতে চাইলে এখানে দিতেও পারেন বলে জানান তিনি।
এ গ্রন্থাগার থেকে নিয়মিত বই নেন কামরুন্নাহার বেগম। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের অনেক বই নিয়েছেন তিনি। সেগুলো নিজে পড়েছেন, সন্তানদেরও পড়তে দিয়েছেন।

২৪ নিউজভিশন.কম> ‘সকালবেলা মায়ের হাতের ভাত খেয়ে কলেজে যেতাম। কলেজে দুটি শিঙাড়া খেয়ে সারা দিন কাটাতে হতো। সবশেষে রাতে বাসায় ফিরে আবার ভাত। সেই দিনের কথা ভাবলেও অবাক হয়ে যাই।’
মায়ের আদরে স্নেহধন্য সেই মানুষটি আজ কোটিপতি। এমনি এমনি নয়, ব্যাংক থেকে ঋণ করেও নয়, মেধা খাটিয়ে। এটাই তাঁর পুঁজি। সঙ্গে যোগ হয়েছে উদ্যম আর নিরন্তর চেষ্টা। এই দুইয়ের সমন্বয়ে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি খামার। একই সঙ্গে চলে কৃষিকাজ। কাজের যোগফল মিলিয়ে প্রতিবছর মুনাফা করছেন ৩৬ লাখ টাকা।
এই কোটিপতির নাম সাহিদুল ইসলাম। ডাক নাম সাঈদ। বয়স কেবল ৪০ ছুঁয়েছে। লেখাপড়া শেষে চাকরি নয়, নিজ উদ্যোগে সাহিদুলের কিছু করার স্বপ্ন গাঁথা হয় রাজধানী ঢাকায় ছাত্রজীবনে।
১৯৭৮ সালের ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মশুরাকান্দা গ্রামে সাহিদুলের জন্ম। গ্রামটি সোনারগাঁয়ের পানাম নগরের খুব কাছে। বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা মনোয়ারা বেগমের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সাহিদুল চতুর্থ। বাবা ছিলেন মশুরাকান্দার একটি মসজিদের ইমাম। তাঁর বাবার সংসার চালানোর সম্বল ছিল মাত্র ১৬ কাঠা জমি। তাই ছোটবেলা থেকে বেশ কষ্ট করেই পড়াশোনা করতে হতো তাঁকে। সে সময় মশুরাকান্দা গ্রামে পাকা রাস্তা ছিল না বললেই চলে। মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হতো সাহিদুলকে। স্টার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। ভর্তি হন ঢাকার সিটি কলেজে। ১৯৯৬ সালে সিটি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে। ঢাকায় থাকার সময়ই জীবনের বাঁক ঘুরে যায় সাহিদুলের। সে কথাই শনিবার নিজের গ্রামের বাড়িতে বসে এই প্রতিবেদককে জানান তিনি।
টিউশনি করে টাকা জমানো শুরু
সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় প্রতিদিন বাড়ি থেকে মোগরাপাড়ায় হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে আসতে হতো। দুবার বাস বদল করে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় সিটি কলেজে যেতে হতো। ইউনিভার্সিটিতে হলে থাকিনি। কারণ হলে থাকার জন্য রাজনীতিতে জড়াতে হতো। তাই মেসে থাকতাম। কিন্তু মেসের বাড়িওয়ালাদের আচরণে খুব কষ্ট হতো। সেই ক্ষোভ থেকে প্রতিজ্ঞা করি, ঢাকায় একটি বাড়ি আমি কিনবই। তবে চাকরি করে নয়, ব্যবসা করে বাড়ি করব।’
নিজের ইচ্ছায় টাকা জমানো শুরু করেন। অসচ্ছল পরিবারে অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ নেই। তাই উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নেন প্রাইভেট টিউশন। সাহিদুল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রচুর টিউশনি করেছি। নিজের জন্য খুব কম টাকাই খরচ করেছি। কিন্তু টাকা জমাতাম। তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় জমানো টাকা দিয়ে ২০০২ সালে ১০টি গরু কিনেছিলাম। আমাদের এলাকাটি কৃষিপ্রধান। স্থানীয় লোকজনের কাছে গরুগুলো বর্গা দিই। শর্ত ছিল লালনপালন করে ঈদুল আজহার সময় বিক্রি করা হবে। লাভের তিন ভাগের দুই ভাগ কৃষকের। বাকি এক ভাগ আমার। এভাবে বেশ কিছু টাকা আয় করি।’
টিউশনি আর গরু বিক্রির টাকায় ৬ শতাংশ জমি কেনেন সাহিদুল। তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালে অনার্স পাস করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে চাকরি করি। যখন চাকরি ছেড়ে দিই, তখন আমার বেতন ছিল ৭০ হাজার টাকা। বেতনের টাকার বড় অংশও আমি সঞ্চয় করি। এই টাকায় গ্রামে বাবার ১৬ কাঠা জায়গায় ১৪টি গরু কিনে ছোট একটি খামার করি। ২০১১ সালে কোরবানির ঈদের শেষ দিকে হাটে গরুর বেশ দাম ছিল। সেই বছর কিছু লাভ হয়। পরের বছর আমার ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করি সাত লাখ টাকায়। আমার পুঁজি আরও বেড়ে যায়। এভাবে প্রতিবছর গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকি।’
ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে সাহিদুলের
২০১৪ সাল থেকে ঈদের সময় ভারতীয় গরু আসা কমে যায়। সীমান্ত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় সাহিদুল ইসলামের ভাগ্যের চাকা আরও দ্রুত ঘুরতে থাকে। তিনি জানান, ১৬ কাঠা পৈতৃক জমির পাশে তিন বিঘা জমি কিনে ফেলেন ওই সময়। সেখানে প্রায় এক শ গরু লালন-পালন করা যায়। কিন্তু শুধু গরু কিনলে চলবে না। এটি সঠিকভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করা দরকার। এ জন্য গবাদিপশুর প্রচুর খাবার প্রয়োজন। গম-ভুসির দাম বেশি। পড়াশোনা করে, ইন্টারনেট ঘেঁটে ভুট্টার চাষ করা শুরু করেন। হাইব্রিড ভুট্টার চাষ করেন। এই হাইব্রিড ভুট্টা দিয়ে কর্ন সাইলেজ (গরু-ছাগলের খাদ্য) তৈরি করা হয় তাঁর খামারে।
কর্ন সাইলেজ দিয়ে নিজের গরুর খাদ্যের চাহিদা মেটান সাহিদুল ইসলাম। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে কর্ন সাইলেজ উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। সাহিদুল বলেন, প্রতিবছর ৭০টিরও বেশি গরু লালন-পালন করেন তিনি। ঈদুল আজহার প্রায় আট মাস আগে থেকে গরু সংগ্রহ করেন। ঈদ পর্যন্ত এসব গরু কিনতে ও পালন করতে ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়। এই গরুগুলোকে খাবার হিসেবে নিজের জমির থেকে উৎপাদিত কর্ন সাইলেজ দেওয়া হয়। আবার ভুট্টা উৎপাদনে জমির সার হিসেবে এসব গরুর বর্জ্য ব্যবহার করেন। সবকিছু রিসাইক্লিং করা হয়। এ জন্য লাভের অঙ্কও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গ্রামের বাড়িতে সাহিদুলের খামার। ছবি: সংগৃহীত

খামারিদের জন্য সাহিদুলের পরামর্শ হচ্ছে, খামারের কোনো খালি অংশ যেন ফেলে রাখা না হয়। পাঁচ কাঠা জমির ওপর খামার হলেও যে অংশটুকু খালি থাকে তাতে ওই খামারের গরুর জন্য হাইব্রিড ঘাসের চাষ সহজে করা যায়। জায়গা বেশি খালি থাকলে গরুর জন্য হাইব্রিড ভুট্টা তৈরি করা যায়। বছর শেষে এ থেকেও বড় অঙ্কের লাভ করা সম্ভব।
ভুট্টার পাশাপাশি হে নামের গাছ উৎপাদন করছেন সাহিদুল। কর্ন সাইলেজ ও হে খাওয়ালে গরু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মাংসের গুণগত মানও ভালো থাকে। তিনি বলেন, ‘কর্ন সাইলেজ ও হে খাওয়ালে দ্রুত হজম করতে পারে গরু-ছাগল। তাতে এদের শারীরিক গড়ন দ্রুত বাড়ে। মাংসে চর্বিও কম হয়। এই মাংস খেতে সুস্বাদু হয়।’
বছরে মুনাফা ৩৬ লাখ টাকা
আট বছর ধরে খামারে গরু লালন-পালন করে মাত্র একবার লোকসানের মুখে পড়েছিলেন সাহিদুল। তবে সেটি খুব কম ছিল বলে জানান। তিনি বলেন, ২০১২ সালে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়। তবে ২০১৫ সাল থেকে ৩০ লাখ টাকার বেশি লাভ করে আসছেন। সে সময় ২৫ বিঘা জমি লিজ নিয়েছিলেন। এই জমিতে হাইব্রিড ভুট্টার চাষ করেন। প্রতিবছর দুবার এই ভুট্টার চাষ হয়। বৃষ্টি কম হলে তিনবারও ফসল পাওয়া যায়। এই হাইব্রিড ভুট্টা থেকে কর্ন সাইলেজ পাওয়া যায়। ভুট্টাসহ গাছ কেটে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরে সংরক্ষণ করে কর্ন সাইলেজ তৈরি হয়। প্রতি কেজি কর্ন সাইলেজ উৎপাদনে তিন টাকা খরচ হয়। বিক্রি করেন ছয় টাকা দরে। নিজের গরুর চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর ৪০০ টন কর্ন সাইলেজ দেশের বিভিন্ন খামারির কাছে বিক্রি করেন তিনি। এবার তাঁর লাভ হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
লাভের আরও হিসাবের কথাও জানান সাহিদুল ইসলাম। বলেন, ‘আগস্ট মাসে কোরবানির ঈদের সময় ৭০টি গরু আমার খামার থেকে বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা মুনাফা করেছি। ২০১৭ সালেও লাভের পরিমাণ একই ছিল। এ ছাড়া প্রতি মাসে ১৫টি গরু জবাই করা হয় আমার নিজস্ব কসাইখানায়। এই মাংস বিভিন্ন সুপার শপে সরবরাহ করছি। এভাবে আরও ৭ লাখ টাকা লাভ হয়। সব মিলিয়ে ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর খামার থেকে ৩৪ লাখ টাকা লাভ হয়েছে আমার। লাভের টাকায় একটি লিচুর বাগান করেছি। লিচু বিক্রি করে দুই লাখ টাকা লাভ হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন বছরে লাভ হচ্ছে ৩৬ লাখ টাকা।’
খামারিদের কাছে সাহিদুল ‘রোল মডেল’
নিজের সাফল্যকীর্তি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, খামারিদের পরামর্শ দিতে প্রতি মাসে দেশের একটি করে জেলায় যান তিনি। খামারিদের সঙ্গে কথা বলেন। কীভাবে তিনি লাভ করছেন তা অন্য খামারিদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমার কাছে আসছেন। আমি পরামর্শ দিচ্ছি। এর জন্য কোনো টাকা নিই না। আমার মনে হয়, এভাবে চললে অল্প কয়েক বছর পর বাংলাদেশ গরুর মাংস রপ্তানি করতে পারবে। তাই আমি ভবিষ্যৎ ভাবনা নতুন করে শুরু করেছি। সেটি হলো, নিজের খামারে গরুর প্রজনন কাজ শুরু করব। এ জন্য ব্রাহমা ও শাহিওয়াল জাতের বাছুরকে বেছে নিয়েছি। এই জাতের গরু দ্রুত বড় হয়। প্রচুর মাংস পাওয়া যায়।’
বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, ‘খামারিদের প্রধান খরচ হয় খাদ্যে। ৭০ শতাংশ খরচই হয় গরুর খাবারের জন্য। সাহিদুল খাবারের খরচ কমিয়ে ফেলার পদ্ধতি বের করেছেন। আমাদের সংগঠনে সাড়ে ছয় হাজার খামারি আছেন। ফেসবুকেও অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। সেই সব খামারির কাছে সাহিদুল রোল মডেল।’
যে স্বপ্ন নিয়ে কিছু করার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন সাহিদুল, সেই স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। ঢাকায় এখন তাঁর বাড়ি আছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তিন কাঠা জমির ওপর দোতলা বাড়ি করেছেন। স্ত্রী কামরুন্নাহার, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সাহিদুলের সংসার। দুই মেয়ে সাদিয়া ইসলাম (৯) ভিকারুননিসা নূন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে ও নাদিয়া ইসলাম (৬) একই স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলে মেহমেদ ইসলামের বয়স সাড়ে তিন বছর। বাবা এখন বেঁচে নেই। মা মনোয়ারা বেগম আছেন ভাইবোনের জন্য বৃক্ষছায়া হয়ে।

২৪ নিউজভিশন.কম> কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোপচর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে মো. মুছা মিয়া (১৫) রিকশা চালিয়ে পড়াশোনা করছে। সে গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চবিদ্যালয়ে কারিগরি শাখার দশম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে তাকে এ বয়সেই রিকশার হাতল ধরতে হয়েছে।
মুছার বাবা খোরশেদ আলম (৬৫) বলেন, তিনি এই বৃদ্ধ বয়সে শরীর সুস্থ থাকলে ইট ভাঙার কাজ করেন। এতে প্রতিদিন প্রায় তিন শ টাকা আয় করতে পারেন। এ টাকায় সংসারের ভরণপোষণ শেষে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারেন না। বসতভিটা ছাড়া তাঁর আবাদি জমিও নেই।
এক ভাই চার বোনের মধ্যে মো. মুছা মিয়া তৃতীয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার কয়েক বছর পর গত জুনের প্রথম সপ্তাহে বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দ্বিতীয় বোনের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে। তৃতীয় বোন তৃতীয় শ্রেণিতে ও চতুর্থ বোন দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।
মুছা মিয়া বলে, প্রায় প্রতিদিনই সে রিকশা চালায়। মাঝেমধ্যে শরীর সায় দেয় না। সেদিন বিশ্রাম নেয়। স্কুল বন্ধের দিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত রিকশা চালালে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এর আগে অন্যের রিকশা চালাতে গিয়ে প্রতিদিন মালিককে ৩০০ টাকা দিতে হতো। যত কষ্টই হোক তার প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে।
মুছা এর আগে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) ৩ দশমিক ৩৩ জিপিএ পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় (জেএসসি) সে ৩ দশমিক ৭৫ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর বিদ্যালয়ে সে কারিগরি শাখায় ভর্তি হয়েছে। তার ক্রমিক নম্বর ২৪।
মুছা মিয়া আরও বলে, ‘বাবা এ বয়সে সংসার চালাতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের দুমুঠো ভাতের টাকা সংগ্রহ করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর পক্ষে লেখাপড়ার খরচ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বড় বোনকে বিয়ে দিতে ৪০ হাজার টাকা স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। ২০ হাজার টাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সুদে ধার নিতে হয়েছে। পরে ঋণের মাসিক কিস্তি ও সুদের টাকা দিতে গিয়ে, গত আগস্টে মা পেয়ারা বেগম আবার এনজিও থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আমাকে একটি রিকশা কিনে দিয়েছেন। মাসে ঋণের কিস্তি ও সুদের জন্য দিতে হয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। তার ওপর স্কুলে পড়াশোনার খরচ। বিশেষ করে সামনে এসএসসি পরীক্ষা। পরিবারের এমন পরিস্থিতিতে তাকে রিকশার হাতল ধরতে হয়েছে।’
মুছার মা পেয়ারা বেগম বলেন, মেয়েকে বিয়ে দিতে এবং সংসার চালাতে গিয়ে ধারদেনা হতে হয়েছে। নিরুপায় হয়ে একমাত্র ছেলেকে লেখাপড়া করা অবস্থায় রিকশা কিনে দিতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম ও কারিগরি শাখার শিক্ষক রুহুল আমীন বলেন, মুছা মিয়ার লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ রয়েছে। পারিবারিক অভাব-অনটনে ছেলেটি রিকশা চালিয়ে লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

২৪ নিউজভিশন.কম> চিংড়ি মাছের ফেলে দেওয়া খোসা এখন আর বর্জ্য নয়। এই খোসা ব্যবহার করে বাংলাদেশের দুই বিজ্ঞানী স্ট্রবেরির উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান উদ্ভাবন করেছেন। এতে স্ট্রবেরির উৎপাদন ৪৮ শতাংশ বাড়বে।
স্ট্রবেরির সুরক্ষায় উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান উদ্ভাবনের গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। গবেষক দলটি ইতিমধ্যে ওই উপাদান স্ট্রবেরির ওপর প্রয়োগ করে উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে ফলটিতে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা আশা করছে। গবেষণা প্রবন্ধটি গত শুক্রবার অনলাইন বিজ্ঞান সাময়িকী প্লস ওয়ান-এ প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর আন্তর্জাতিক শাখা এই উদ্ভাবনের কার্যকারিতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ‘চিংড়ির খোলস সাধারণত আমরা ফেলে দিই। এই গবেষণার মধ্য দিয়ে আমরা এই ফেলে দেওয়া অংশটিকে সম্পদে পরিণত করতে পেরেছি। এত দিন স্ট্রবেরিতে বিভিন্ন জীবাণু আক্রমণ দমনে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহৃত হতো। এর ফলে স্ট্রবেরির মান খারাপ হতো। কিন্তু উদ্ভাবিত উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান ব্যবহারের পর দেখা গেছে, উৎপাদিত স্ট্রবেরির খাদ্যমান ভালো হয়েছে। এটি নিরাপদও হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, চিংড়ির খোলস থেকে তৈরি ওই উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান ব্যবহারের ফলে স্ট্রবেরিতে মানবদেহের জন্য উপকারী উপাদান ফেনলিক ও ভিটামিন সি’র পরিমাণ দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। এ ছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও বেড়েছে, যা মানুষের শরীর সতেজ রাখতে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, স্ট্রবেরি ছত্রাক ও অণুজীবঘটিত রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের বায়ুতে উচ্চ আর্দ্রতার উপস্থিতি এ ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল। আর একই জমিতে বারবার স্ট্রবেরি চাষের ফলে রোগবালাই আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের রোগ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষক অনুমোদনহীন নানা ধরনের রাসায়নিক বালাইনাশকের মিশ্রণ তৈরি করে মাঠে ব্যবহার করে, যা সামগ্রিকভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের উদ্ভাবিত উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান দেশের স্ট্রবেরির উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি একে সুস্বাদু ও নিরাপদ করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে স্ট্রবেরির চাষ শুরু হয়। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত স্ট্রবেরির উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ে। ২০১৪-১৫ সালে দেশে ২৮০ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি হয় ১ হাজার ৬০০ টন। ২০১৬-১৭ সালে তা কমে ২২১ টন হয়। তবে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা আবারও বেড়ে ৫০০ টন হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ একবার কমে যাওয়া ও বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে কৃষিবিদেরা বলছেন, মূলত ছত্রাকসহ নানা ধরনের রোগের কারণে স্ট্রবেরির উৎপাদন কমে আসে। চিংড়ির খোসা থেকে তৈরি উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান ব্যবহারের ফলে স্ট্রবেরি রোগমুক্ত হবে এবং উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
Select Language