রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০১:৫২
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
আনন্দ ভুবন

অনলাইন ডেস্ক> ১৯৯৩ সালের কথা। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এলোমেলো হয়ে যায় নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবন। কারণ, ওই বছরের ২২ অক্টোবর তাঁর একটি ছবির শুটিং দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। শোকার্ত ইলিয়াস কাঞ্চন এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর সিনেমাও করবেন না। একসময় শুরু করলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। সাড়া জাগানো অনেক ছবির অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এখনো। এভাবে কেটে গেছে ২৫ বছর বেশি সময়। তাঁর সংগঠনের নাম এখন জাতীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে।
আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে এখন প্রতিবছর পালিত হয় নিরাপদ সড়ক দিবস। সংগঠনর কর্মকাণ্ড জাতিসংঘেও প্রশংসিত হয়েছে। স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক পেয়েছেন। তবে এ আন্দোলন নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। এ আন্দোলন করে বারবার বিভিন্ন মহলের হুমকির শিকার হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সর্বশেষ নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে গত সপ্তাহে বেশ কয়েক দিন বাংলাদেশের বাস-ট্রাকের শ্রমিকেরা যে ‘কর্মবিরতি’ পালন করেছেন, সেখানে চলচ্চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবিকে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবিসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে কিংবা কুশপুত্তলিকা তৈরি করে সেখানে জুতার মালা দেওয়া হয়েছে।
এসব আচরণে কষ্ট পেলেও থেমে যাওয়ার পাত্র নন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বলেছেন, নিজের ক্যারিয়ার জলাঞ্জলি দিয়ে, নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে সড়ক নিরাপদের যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম, সেটা আমি চালিয়েই যাব। কাঞ্চন বলেন, ‘যাদের জন্য আমি সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি; কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়। দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার ক্যারিয়ারে সময় না দিয়ে নিরাপদ সড়কে সময় দিয়েছি। যখন দেখি, এ বিষয়টি নিয়ে বাজে মন্তব্য হচ্ছে, তখন খারাপ লাগে, কষ্ট লাগে। এ ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে অগণিত ভক্তসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারা। বিস্ময় নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে এ কেমন আচরণ! তিনি তো সবার ভালোর জন্যই আন্দোলনটা শুরু করেছেন, বছরের পর বছর চালিয়ে নিয়ে গেছেন।
চিত্রনায়ক রুবেল বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেব। তাঁর দাবি সবারই দাবি। তাঁর এই কাজ দেশব্যাপী প্রশংসা পেয়েছে। তাঁর সঙ্গে দেশের মানুষ রয়েছে। তাঁকে নিয়ে যেসব মানুষ এ ধরনের পোস্টার তৈরি করেছে, তারা নোংরা মনের পরিচয় দিয়েছে। আমি এ ঘটনার প্রতিবাদের পাশাপাশি তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘আমরা কাঞ্চন ভাইয়ের পাশে আছি। তিনি যেভাবে চাইবেন, আমরা তাঁর সঙ্গে আছি। যারা নোংরামি করছে, তারা দেশের ও সমাজের শত্রু। শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই। কাঞ্চন ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে সচেতন করে আসছেন, এটা আমাদের গর্বের বিষয়। তাঁর এই সুন্দর কাজের সঙ্গে শিল্পীরা থাকবেন এবং শিল্পী সমিতি আছে।’
অভিনেতা ইমন বলেন, ‘কাঞ্চন ভাইকে নিয়ে যারা কটূক্তি করছে, আমি আমার জায়গা থেকে তাদের ধিক্কার জানাই। কারণ, কাঞ্চন ভাই আমাদের পথপ্রদর্শক, সিনিয়র অভিনেতা। নিরাপদ সড়ক প্রত্যেক মানুষের অধিকার। কাঞ্চন ভাইয়ের স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এরপর থেকে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ভূমিকা রেখে আসছেন। আমাদের দেশে বড় গাড়িগুলো রাস্তায় নামলে প্রাইভেট কার, রিকশা—এগুলোকে কিছুই মনে করে না। আমি ফেসবুকে দেখেছি, কাঞ্চন ভাইকে নিয়ে বাজে ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। আমি মনে করি, কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে আমাদেরও একাত্মতা প্রকাশ করা উচিত।’

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> আগামী ১৪ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের এক্সসেল লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত অনুষ্ঠান। এরই মধ্যে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য লন্ডনে পৌঁছেছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯’ রাফা নানজিবা তোরসা। বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার (২০ নভেম্বর) দিবাগত রাত একটার ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। তখন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান আয়োজকেরা।
রাফা নানজিবা তোরসা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অবশেষে সময় এসেছে। এ বছর মাতৃভূমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমি প্রস্তুত। সবাই আমাকে সমর্থন করুন, আমার জন্য দোয়া করুন।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের শিক্ষার্থী রাফা নানজিবা তোরসা। পাশাপাশি আবৃত্তি, নৃত্য ও সামাজিক কাজ করছেন। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘মিস ওয়ার্ল্ডের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে ভালোবেসেই প্রতিযোগিতায় এসেছি। নিজেকে আগে মানবতার সেবায় নিয়োজিত করতে চাই। দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপন করা আমার মূল লক্ষ্য। বিনোদন অঙ্গনে কাজ হয়তো করব, তবে এখনই না। বিনোদন অঙ্গন আমার দ্বিতীয় বিকল্প।’
‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বললেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজ করব। মানুষকে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলে না, মনটাও সুন্দর হতে হবে। বিশ্ব মানবতার জন্য কাজ করতে হবে। আমি আগে থেকেই মানুষের জন্য কাজ করতে ভালোবাসি। সে জন্যই এই প্রতিযোগিতায় আসা। শুরুতেই শিক্ষা নিয়ে কাজ করব। ১১ বছর বয়স থেকে আমি লায়ন ফাউন্ডেশনের অধীনে এডুকেশন ফর লাইফসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজ করছি।’
‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার জন্য নিজের প্রস্তুতি নিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চ্যাম্পিয়নরা এখানে লড়বেন। বিষয়টি অনেক বড়। নিজের যে দুর্বলতাগুলো আছে, সেগুলো পূরণ করার চেষ্টা করেছি। লক্ষ্য নিয়ে এগোতে নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করা দরকার, সেভাবেই করেছি।’
গত ১১ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সারা দেশ থেকে অংশ নেওয়া ৩৭ হাজারের বেশি প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯’ হন রাফা নানজিবা তোরসা। সেদিন তাঁর মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> বিয়ের দিনক্ষণ মোটামুটি ঠিকই হয়ে আছে; এরমধ্যে এখন আবার নতুন এক খবর শোনাচ্ছেন সৃজিত! তবে কী সত্যিই পিছিয়ে যাচ্ছে মিথিলার সঙ্গে তার বিয়ের দিন!
খবরের ভেতরের খবরে অনেকটা রহস্যই যেন রাখছেন ভারতের এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি। তিনি বলছেন, আগে ভ্যেনু ঠিক হোক, তারপর বিয়ে।
সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশের ছোটপর্দার অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার সঙ্গে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সৃজিতের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। দুই পক্ষই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
আনন্দাবাজার পত্রিকা বলছে, নিজের বিয়ের খবর অবশ্য মেনে নিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক। তবে তা ঠিক কবে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। উল্টে মজা করেই তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘কোথাও এখনও বিয়ের দিন নির্দিষ্ট করে বলিনি। কিন্তু, অনেক জায়গাতেই তা আপনা আপনি লেখা হয়ে যাচ্ছে। এর পর যদি, আমার বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে আমাকেই পাঠিয়ে দেওয়া হয় তা হলেও আমি অবাক হব না।’
সৃজিতের এই উত্তর অবশ্য তার দর্শকদের কাছে যথেষ্ট নয়। বরং, যে বিয়েতে মিশে যাবে টলিউড এবং ঢালিউড, সেই হাইভোল্টেজ বিবাহ-বাসর নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। আর বিয়ের কথায় সৃজিত নিজেও যেন টানটান উত্তেজনা বজায় রাখার পক্ষে।
বিয়ের দিন ক্ষণ নিয়ে তার উত্তর, ‘এখনই বিয়ের দিন সুনিশ্চিত করতে পারছি না। তবে শীতকালেই বিয়ে করার ইচ্ছা। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই সময়টাই বিয়ের জন্য আমার পছন্দ। কারণ এ সময় ছবির কাজ কম থাকে।’
তাহলে সত্যিই কি তার বিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি? উত্তরে সৃজিত বলছেন, ‘প্রোপার ভ্যেনু না পেলে বিয়ের দিন পিছিয়েও যেতে পারে। তা হলে বিয়ে করার পরবর্তী সুযোগ হবে জুন মাসে। কারণ, ছবির কাজে ব্যস্ত আছি।’
বিয়ের জন্য পছন্দ শীতকাল। কিন্তু, বিবাহ বাসরের জায়গা? সৃজিতের অবশ্য স্পষ্ট উত্তর, ‘ডেস্টিনেশন ম্যারেজও করতে পারি। কারণ সবাইকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে এমনটা তো নয়।’

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> ‘আমি প্রেম করছি। যার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছি তিনি বাংলাদেশের। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন। বিয়ের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে আগামী বছরের যে কোন সময়ে বিয়ে করতে পারি।’
মুক্তি প্রতিক্ষিত ছবি ‘রবিবার’-কে কেন্দ্র করে প্রসেনজিত ও জয়া আহসানের দীর্ঘ আলাপচারিতা প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানেই কথা প্রসঙ্গে প্রেম ও বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করলে জবাবে কথাগুলো বলেন জয়া আহসান।
এদিকে কলকাতায় ব্যস্ত হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন বইছিল সেখানেই কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন জয়া। সে গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে জয়া এবার জানালেন তার প্রেমিক কলকাতার নয় বাংলাদেশে।
সাক্ষাৎকারে জয়া আহসানকে বলা হয়, কলকাতার এক তারকা জানিয়েছেন যে জয়া বাংলাদেশের একজনের সাথে প্রেম করছেন এবং আগামী বছর বিয়ে করবেন। নিজের সম্পর্কে এই খবর শুনে জয়া আহসান বলেন, ‘ওহ! আমার সম্পর্কে এত কিছু কে বললেন?’
এরপর জয়াকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে কি এই খবর গুজব কিনা। উত্তরে জয়া বলেন, ‘না। আমি প্রেম করছি। যার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছি তিনি বাংলাদেশের। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন। কিন্তু বিয়ের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি।’
জয়া এখন ব্যস্ত আছেন কৌশিক গাঙ্গুলির পরিচালনায় ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছবির শুটিং নিয়ে। সেপ্টেম্বরে শুটিং করেছেন সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত ‘ভূতপরী’ ছবির। ২৭ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে অতনু ঘোষ পরিচালিত ‘রবিবার।’ ছবিতে প্রথমবারের মতো প্রসেনজিতের সঙ্গে অভিনয় করছেন জয়া।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> ভারতের এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে বিয়ে করছেন বাংলাদেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী, মডেল ও উপস্থাপক মিথিলা। অনেক দিন থেকেই তাঁদের প্রেমের খবর আলোচিত হচ্ছে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) মিথিলার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে সৃজিত মুখার্জি আর মিথিলার বিয়ের সম্ভাবনা আছে।
এদিকে সোমবার দুপুরে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আগামী বছর ২২ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করবেন সৃজিত মুখার্জি ও মিথিলা। ভারতের এই পত্রিকার অনলাইন সংস্করণকে তা নিশ্চিত করেছেন সৃজিতের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মিথিলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, গত শুক্রবার সৃজিত মুখার্জি ঢাকায় আসেন। সোমবার সকালে তিনি কলকাতায় ফিরে গেছেন।
সৃজিত আর মিথিলাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফোক ফেস্টে। এর আগে কলকাতায় দুর্গাপূজায় অষ্টমীর দিন তাঁরা একসঙ্গে ঘুরেছেন পূজামণ্ডপে। তাঁদের সেসব ছবি ভাইরাল হয়েছে অন্তর্জালের দুনিয়ায়। আর সেসব ছবির নিচে জড়ো হয়েছে লাখ লাখ লাইক ও মন্তব্য। সেখানে অষ্টমীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ছবির মানুষদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ভক্তরা। এক বন্ধু লিখেছেন, ‘গুজব তাহলে সত্য ছিল…আপনাদের বিবাহবন্ধনের জন্য অভিনন্দন!’ অভিনেত্রী স্বাতী বসু মুখার্জি লিখেছেন, ‘ভালো থেকো, ভালো রেখো।’ সৌরভ নন্দী নামের এক ভক্ত লিখেছেন, ‘ভালো, দুই বাংলা জুড়ে যাবে।’
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ছিল সৃজিত মুখার্জির জন্মদিন। ওই দিন কেক কাটার অনুষ্ঠানে সৃজিতের পরিবারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মিথিলা। এর আগে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতেও মিথিলা কলকাতায় এসে সৃজিতের সঙ্গে দেখা করেছেন। যদিও তাঁদের প্রেমের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মিথিলা বরাবরই মিষ্টি হেসে জানিয়েছেন, তাঁরা কেবলই ভালো বন্ধু।
মিথিলার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গত মার্চে সৃজিত মুখার্জি বলেছেন, ‘আমি ২০১০ সাল থেকে সোমবার পর্যন্ত যে কজন নায়িকার সঙ্গে কাজ করেছি, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশের সঙ্গে এমন জল্পনা হয়েছে। এটাকে আমি পেশাগত বিড়ম্বনা হিসেবে মেনে নিয়েছি। ঐতিহাসিকভাবে দেখলে এসব জল্পনা অধিকাংশ সময়ই ভিত্তিহীন হয়েছে, আর কিছু সময়ে সঠিক হয়েছে। যেহেতু আমি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু জানি না, তাই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বলা মুশকিল। তবে মিথিলা আমার ভালো বন্ধু, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।’
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসানের সঙ্গে মিথিলার বিয়ে হয় ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। অন্যদিকে সৃজিতের ‘রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস’ এখনো সিঙ্গেল।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> নন্দিত কথাশিল্পী প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খান সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হয়েছেন। পাত্র যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব আহমেদ। গুলতেকিনের পারিবারিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গুলতেকিনের বনানীর বাসায় অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে ঘরোয়া আয়োজনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়েতে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, গুলতেকিনের মতো আফতাব আহমেদেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েক বছর আগে তারও বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। আফতাবের একমাত্র ছেলে লন্ডনে পড়াশোনা করছেন।
হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে গুলতেকিনের দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য বিচ্ছেদে গড়ায় ২০০৪ সালে। হুমায়ূন-গুলতেকিনের তিন কন্যা নোভা, শীলা, বিপাশা ও এক পুত্র নুহাশ। গুলতেকিনের চার সন্তানের সম্মতিতে এই বিয়ে হয়েছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিয়ে অনুষ্ঠানে ঢাকায় বসবাসরত গুলতেকিনের ছেলে-মেয়েরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের কয়েকদিন পর গুলতেকিন যুক্তরাষ্ট্রে তার মেজো মেয়ের বাসায় বেড়াতে গেছেন।
বিপুল জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখালেখিতে অনেক সময়ই ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের অবতারণা করতেন। সেই সূত্রেই বাঙালি পাঠকদের কাছে আশি ও নব্বই দশকে গুলতেকিন অতি পরিচিত এক জীবন্ত চরিত্র হয়ে ওঠেন। ১৯৭৬ সালে ১৫ বছরের কিশোরী গুলতেকিনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। তারপর দীর্ঘ প্রায় তিন দশকে গুলতেকিনের সঙ্গে তার সংসারের খুটিনাটি বহু বিবরণের সঙ্গে হুমায়ূনের পাঠকরা পরিচিত। তেমনই বিপুল আলোচনার বিষয় হয় হুমায়ূনের সংসার ভেঙে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত।
২০০৪ সালে গুলতেকিনকে ডিভোর্স দেন হুমায়ূন। পরের বছর তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওনকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের জুলাইয়ে হুমায়ূন আহমেদ ৬৪ বছর বয়সে মারা যান।
রাজধানীর একটি খ্যাতনামা ইংরেজি স্কুলের শিক্ষক গুলতেকিন খান কয়েক বছর সাহিত্যচর্চা বিশেষত কাব্যচর্চায় মনোযোগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> নিজ অফিসে বিদেশি মদ রাখায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে করা মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বুধবার (১৩ নভেম্বর) এ চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের উপপরিদর্শক জামাল।
চলতি বছরের ২৩ জুলাই সিআইডি পুলিশের সাইবার তদন্ত শাখার উপপরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৬ জুন পান্থপথের আর্ব এন্টারটেইনমেন্ট থেকে তেজগাঁও থানার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় আসিফ আকবরের অফিসকক্ষে চার বোতল বিদেশি মদ পাওয়া যায়। মদ পাওয়ার পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।
লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ নিজের কাছে রাখায় তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই তেজগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই এসেছিল। মোটামুটি সবাই জানতেন কোন দুই গুণী পাচ্ছেন এ বছরের হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার। অবশ্য এ জন্য দর্শকের আগ্রহের কমতি ছিল না। বরং পুরস্কার দেওয়া-নেওয়ার পাশাপাশি নাচ আর হ‌ুমায়ূন আহমেদকে বিষয় করে আড্ডায় দারুণ সময় কাটাল হ‌ুমায়ূন অনুরাগী ও স্বজনদের।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই হ‌ুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যে পালাবদলের তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর একের পর এক উপন্যাসে পাঠকের কাছে নন্দিত হয়েছেন অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা নিয়ে। অনেক দিন ধরেই তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গস্পর্শী। তিনি মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ-সরল গদ্যে তুলে ধরে পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। আমৃত্যু সেই জনপ্রিয়তার স্রোতে ভাটার টান পড়েনি। বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র হিসেবে তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন সাহিত্য সমালোচকেরা। আপন দ্যুতিতে উদ্ভাসিত এই লেখকের স্মরণে দেশের কথাসাহিত্যিকদের শিল্পসৃষ্টিতে প্রেরণা জোগাতে প্রবর্তিত হয়েছে ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় পুরস্কারটি প্রবর্তন করেছে জনপ্রিয় পাক্ষিক ‘অন্যদিন’। বুধবার সেই জননন্দিত লেখক হ‌ুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মবার্ষিকী। দিনটিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯’ দিল এক্সিম ব্যাংক ও পাক্ষিক পত্রিকা অন্যদিন।
মূলত, কথাসাহিত্যে অবদানের জন্যই ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। সামগ্রিক অবদানের জন্য প্রতিবছর একজন প্রবীণ ও একজন নবীন কথাসাহিত্যিককে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এবার সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য এ পুরস্কার পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। নবীন সাহিত্যশ্রেণীতে পুরস্কার পেয়েছেন ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ উপন্যাসের জন্য সাদাত হোসাইন।
মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবীণ ও নবীন দুজন কথাসাহিত্যিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে রাবেয়া খাতুনকে পাঁচ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। সাদাত হোসাইনকে দেওয়া হয় এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রদান মঞ্চটি এদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে নানা কথামালায় ভরে ওঠে।
এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন এই পুরস্কারের জন্য গঠিত বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অতিথিদের পাশাপাশি কথা বলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও লেখকের ছোট ভাই শিক্ষাবিদ লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বর্তমান সমাজে আমরা অবক্ষয় দেখি। আর এসব অবক্ষয় দূর করতে পারে সৃজনশীল নানা কর্ম। হ‌ুমায়ূন আহমেদের নামাঙ্কিত এ পুরস্কার এই অঙ্গনের মানুষদের অনুপ্রেরণা দেবে।’
মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্য শুধু অসংখ্য পাঠক তৈরি করেননি, পাশাপাশি তাঁর লেখা অনুপ্রাণিত করেছে অসংখ্য লেখককে। তাঁর নামাঙ্কিত এ পুরস্কার তরুণ লেখকদের উৎসাহিত করবে বলে আশা করি।’
আসাদুজ্জামন নূর বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ এমন একজন মানুষ, যিনি অবিস্মরণীয় কিছু সৃষ্টি করে গেছেন। তিনি সৃষ্টিগুলো করেছেন বলেই আমরা কাজগুলো করতে পেরেছি। একজন জনপ্রিয় লেখক ও উঁচুমানের লেখকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যদি লেখক উঁচুমানের না হন, তাহলে তাঁর লেখা জনপ্রিয় না হয়ে পারে না।’
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদ অমরতার আসন গ্রহণ করেছেন। এখন তাঁর নামে নামাঙ্কিত পুরস্কার নিয়ে আমরা কত দূর যেতে পারি, সেটি দেখার বিষয়। এই পাঁচ বছরে যাঁরা এ পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁরা এ পুরস্কারকে সম্মানিত করেছেন।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, হ‌ুমায়ূন আহমেদ দীর্ঘ জীবন লাভ না করলেও তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে জাগিয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁর লেখা বাংলাদেশের মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁর বড় কৃতিত্ব ঢাকায় তিনি একটি বিশাল পাঠকশ্রেণি তৈরি করেছেন, যার ফল এখনো রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্রসংগীত ও হ‌ুমায়ূন আহমেদের লেখার গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা করেন মুনমুন আহমেদ ও তাঁর দল। অনুষ্ঠানে আরও এসেছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, মনিরুল ইসলাম, কবি রুবী রহমানসহ আরও অনেকে।
২০১৫ সালে প্রবর্তিত হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। ২০১৫ সালে ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হ‌ুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছিলেন যথাক্রমে শওকত আলী এবং সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম। ২০১৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন হাসান আজিজুল হক এবং স্বকৃত নোমান। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছিল জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত এবং মোজাফ্ফর হোসেনের হাতে। গত বছর এই পুরস্কার পেয়েছেন প্রবীণ কথাশিল্পী রিজিয়া রহমান এবং নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে ফাতিমা রুমি।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> মোশাররফ করিম দেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। অভিনয় দিয়ে যারা দর্শকের খুব কাছাকাছি চলে গেছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম তাদের মধ্যে অন্যতম। পরিচালকদেরও যেন ভরসার জায়গা তিনি।
বৃহস্পতিবার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় ২০১৭ ও ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া শিল্পীদের নাম ঘোষণা করে। এতে গেল দুই বছরে সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন যথাক্রমে ফজলুর রহমান বাবু ও মোশাররফ করিম।
২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কমলা রকেট’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা কৌতুক অভিনেতার পুরস্কার দেয়া হয় মোশাররফ করিমকে। বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। এর মধ্যেই শনিবার (৯ নভেম্বর) মোশাররফ করিম জানিয়ে দিলেন ওই পুরস্কার তিনি গ্রহণ করছেন না।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৮-এ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (কৌতুক চরিত্রে) পুরস্কার প্রসঙ্গে মোশাররফ করিম বলেন, ‘কমলা রকেট’ চলচ্চিত্রে আমি যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছি সেটি কোনোভাবেই কমেডি বা কৌতুক চরিত্র নয়। ছবিটির চিত্রনাট্যকার, পরিচালকসহ সহশিল্পীরা নিশ্চয় অবগত আছেন। একই সঙ্গে যারা ছবিটি দেখেছেন তারাও নিশ্চয় উপলব্ধি করেছেন ‘কমলা রকেট’-এ আমার অভিনয় করা ‘মফিজুর’ চরিত্রটি কোনো কৌতুক চরিত্র নয়। এটি প্রধান চরিত্রগুলোর একটি।
কৌতুক চরিত্র তার কাছে কাছে অন্যসব চরিত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্মানিত জুরি বোর্ডের কাছে আমার অনুরোধ, ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্রে’ আমার জন্য বরাদ্দ করা পুরস্কারটি প্রত্যাহার করে নিলে ভালো হয়। না হলে আমার পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আমি কাজটাকে ভালোবেসে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই। আমার ভক্ত, শুভাকাঙ্খিসহ সকলের কাছে আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া চাই। একই সঙ্গে যারা পুরস্কার পেয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই।
মোশাররফ করিম বর্তমানে ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে রয়েছেন। গণমাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আনন্দ ভুবন ডেস্ক> ‘নিয়তি’ ছবির জন্য ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক হিসেবে নাম আসে নৃত্য পরিচালক হাবিবের। অথচ হাবিব দাবি করেছিলেন ওই ছবিতে নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজই করেননি তিনি। পরে পুরস্কারও গ্রহণ করেননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে সে বছর বেশ সমালোচনা হয়।
এবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে দুই বছরের (২০১৭-১৮) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম। যেখানে পরিচালক, শিল্পীসহ চলচ্চিত্রের সব শাখার কলাকুশলী রয়েছেন। এরমধ্যে ২০১৭ সালের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের জন্য ‘সেরা সম্পাদক’ হিসেবে মো. কালামের নাম ঘোষণা করা হয়, যিনি একজন ভারতীয়।
অথচ ফেব্রুয়ারিতে পুরস্কারের জন্য চলচ্চিত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড যে বিজ্ঞপ্তি দেয় সেখানে বলা হয়েছিল, কেবল বাংলাদেশিরা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন।
তাহলে চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় কালামের নাম কীভাবে এলো- সে প্রশ্নের জবাবে জুরি বোর্ডের সদস্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, কালাম যে একজন বিদেশি সেটা আমাদের জানাই ছিল না। আর এই সিনেমার শিল্পী-কলাকুশলীদের তালিকায় ১৯ নম্বরে কালামের যে ঠিকানা দেওয়া আছে সেটি ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর।
বিষয়টি নিয়ে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবি প্রযোজক সানী সানোয়ার বলেন, ‘ভুলবশত এটি হয়ে গেছে। আমি যখন কাগজে সাইন করেছিলাম তখন সবকিছু চেক করিনি। যে প্রস্তুত করেছে কাগজটি সে ওই ঠিকানা কেনো ব্যবহার করলো তা বুঝতে পারছি না। আমার কাছে যখন কাগজটি আসে তখন শুধু সাইন করে দিয়েছি। কিন্তু গতকাল যখন ঘোষণার খবর জানলাম, তখন আমরাও ভেবেছি যে কালাম তো ভারতীয়। সে কিভাবে পাবে এই পুরস্কার। ভুল যেহেতু হয়ে গেছে তাই তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে কোনো পরবর্তী সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত আছি।’
Select Language