রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০ | ০৬:৩১
১৫ চৈত্র, ১৪২৬ | ৪ শাবান, ১৪৪১
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
আলোচিত

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক> নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের কৃষকদের জন্য ৫০টি গ্রামকে ‘ডিজিটাল ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এস্টাবলিশমেন্ট অব ডিজিটাল কানেকটিভিটি (ইডিসি) মেগা প্রকল্পের অধীন একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার (২৩ নভেম্বর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল সামিট ২০১৯’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ডিজিটাল সামিট আয়োজন করে এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব সাউথ ভোলেন্টারস সোসাইটি, চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহর থেকে গ্রাম সবখানে পৌঁছে গেছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা। প্রথমে গ্রামে বসবাসকারী মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সারা দেশে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) স্থাপন করা হয়েছে। দেশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে। আগামী দিনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হবে ইমার্জিং টেকনোলজি। জ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে হবে।
জুনাইদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে চারটি স্তম্ভ—মানবসম্পদ উন্নয়ন, কানেকটিভিটি, ই-গভর্ন্যান্স ও আইটি ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন বাস্তবায়নে কাজ করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ইনফো সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলসহ দেশের সব এলাকায় ইন্টারনেট কানেকটিভিটি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে সব ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটি পৌঁছানো সম্ভব হবে। এস্টাবলিশমেন্ট অব ডিজিটাল কানেকটিভিটি প্রকল্পের আওতায় দেশের গ্রাম পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সংযোগ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক রশীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক> বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তিন মাসে ফেসবুক আয় করেছে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বা ৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ হিসাবে বছরে চার প্রান্তিক থেকে ফেসবুকের আয় গড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মতো। তৃতীয় প্রান্তিকে ফেসবুকের মোট রাজস্ব আয় বাংলাদেশি টাকায় দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে বাংলাদেশ থেকে আয়ের পরিমাণ ফেসবুকের মোট আয়ের শূন্য দশমিক দুই শতাংশ (০.২)।
আন্তর্জাতিক আয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর এবং অন্যান্য ব্যয় বাদে এ প্রান্তিকে ফেসবুকের নিট মুনাফার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫১ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। গত ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ফেসবুক ইনভেস্টর রিলেশনস ওয়েবসাইটে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রান্তিকে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যবহারকারীপ্রতি ফেসবুকের আয় ১৫ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফেসবুক প্রকাশিত ব্যবহারকারীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বা ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই কোটি ৪০ লাখ। বাংলাদেশে শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ২০১৮ সালে আয় করেছিল প্রায় ১৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকারকে কর দিয়ে এবং বছরে বিনিয়োগ ও অন্যান্য খরচ বাদে তাদের নিট মুনাফা ছিল প্রায় তিন হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফেসবুকের ব্যবহারকারী প্রায় ২৪০ কোটি। যাদের মধ্যে প্রতিদিন সক্রিয় থাকে প্রায় ১৬২ কোটি ব্যবহারকারী। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কর দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে। অন্যান্য দেশগুলোর ব্যবহারকারীরা সংশ্নিষ্ট ‘ফেসবুক আয়ারল্যান্ডের’ সঙ্গে। ১৯৮০ সালে প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য প্রণীত ‘দ্বৈত’ আইরিশ চুক্তির আওতায় ‘ফেসবুক আয়ারল্যান্ড’কে শুধু ২ থেকে ৩ শতাংশ হারে আন্তর্জাতিক কর দিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের বিনিয়োগও হয় কেন্দ্রীয়ভাবে, আয়ও দেখানো হয় কেন্দ্রীভূত হিসেবে। ফলে বিশ্বের সব দেশেই ফেসবুক ব্যবহারকারী (ফেসবুক ব্লক করা চীনসহ দু-তিনটি দেশ ছাড়া) থাকলেও এবং সব দেশ থেকেই কম-বেশি আয় হলেও কোনো দেশেই কর দিতে হচ্ছে না ফেসবুককে। ফেসবুকের মতো অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ ও অনলাইন সেবা মাধ্যম গুগল, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্নাপচ্যাট, ওটিটি সেবা মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো, গুগল ডুয়ো একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং আয় করছে। তবে এ মুহূর্তে আয় ও সম্পদের স্থিতির হিসাবে এগিয়ে আছে গুগল। দ্বিতীয় স্থানে আছে ফেসবুক।
ফেসবুকের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আগের মতোই ব্যবহারকারীপ্রতি সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সে দেশে ব্যবহারকারীপ্রতি আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৫৮ মার্কিন ডলার। ইউরোপের দেশগুলো থেকে ব্যবহারকারীপ্রতি গড় আয়ের পরিমাণ ৫১ মার্কিন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন থেকে আয় বেড়েছে ২৮ শতাংশ, বিনিময়মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা থেকে বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় মোট আয় বেড়েছে ২৯ শতাংশ এবং নিট মুনাফা বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক> গুগলের ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব তাদের ওয়েবসাইটের নকশায় পরিবর্তন আনছে। ডেস্কটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে পরিবর্তন আনার বিষয়টি এক ব্লগ পোস্টে তুলে ধরেছে ইউটিউব। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) থেকেই হালনাগাদ ডিজাইনের ইউটিউব ডেস্কটপ ও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
ইউটিউবের নতুন নকশায় বড় আকারের থাম্বনেইল ও ভিডিও শিরোনাম যুক্ত করা যাবে। এ ছাড়া উচ্চ রেজুলেশনে ভিডিও প্রিভিউ দেখার সুযেগাও থাকবে। ভিডিও থাম্বনেইল দেখার সময় সারিতে আরও ভিডিও দেখার জন্য সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া পরে ভিডিও দেখার জন্য ‘ওয়াচ লেটার’ অপশনটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিচ্ছন্ন নকশা দেখাতে কিছু কনটেন্ট দেখানোর অপশন তারা সরিয়ে ফেলছে। তবে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখানোর জন্য সারিগুলো থাকতে পারে। ইউটিউবের হোমপেজে প্রতিটি ভিডিওর নিচে চ্যানেলের আইকন দেখাবে যাতে ভিডিও নির্মাতাকে চিনতে সুবিধা হয়। এ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেল থেকে ভিডিও সাজেস্ট অপশনটিও বন্ধ হয়ে যাবে। ডেস্কটপে ইউটিউব ব্যবহারকারীরা হোম ফিড কাস্টোমাইজড করার সুযোগ পাবেন। এর বাইরে ইউটিউব ভিডিওর মন্তব্য বিভাগটিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক> ১৫ মাস ধরে পানির তলায় পড়ে ছিল আইফোনটি। সেই ফোন উদ্ধারের পরই দেখা গেল দিব্যি চলছে আগের মতোই। ইউটিউবার মিচেল বেনেটের সৌজন্যে হারিয়ে যাওয়া আইফোন ফেরত পেয়েছেন ফোনের মালিক।
মিশেল বেনেট হ্রদ ও নদীর তলায় গুপ্তধনের সন্ধান করে বেড়ান। গুপ্তধনের খোঁজ করতে গিয়েই পানির নিচে একটি আইফোন খুঁজে পান তিনি। কিন্তু অবাক করার ব্যাপার হলো, সেই আইফোন ১৫ মাস ধরে পানির নিচের থাকার পরও আছে সচল। আইফোন উদ্ধারের পুরো কাহিনি বেনেট তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘নাগেটনগিন’-এ তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডিস্টো নদীতে মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বেনেট। সেখানেই তিনি একটি আইফোন খুঁজে পান। আইফোনটি বেনেট প্রথমে বাড়িতে নেন। এরপর সেটি চার্জ দিয়ে চালু করেন। কিন্তু ফোনে পাসওয়ার্ড দেওয়া ছিল। তাই তিনি আনলক করতে পারছিলেন না। এরপর সিম খুলে তিনি অন্য ফোনে ঢুকিয়ে নেন। তারপর খুঁজে বের করেন মালিককে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডিস্টো নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি আইফোন। ছবি: ইউটিউব

১৫ মাস ধরে পানির তলায় পড়ে ছিল আইফোন। মালিক আইফোন হারানোর দুঃখ প্রায় সামলে উঠেছিলেন। ধীরে ধীরে ভুলতে বসেছিলেন সেদিনের ঘটনা। এমনকি অন্য ফোন কিনে ফেলেছিলেন। কখনো স্বপ্নেও তিনি ভাবেননি, সেই ফোন আবার ফিরে পাবেন। ইউটিউবার মিচেল বেনেটের সৌজন্যে হারিয়ে যাওয়া আইফোন আবার হাতে পেলেন মালিক।
ফোনের মালিক এরিকা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ১৯ জুন তিনি পরিবারের সঙ্গে ওই নদীর ধারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এরপর ছবি তুলতে গিয়ে হাত ফসকে তাঁর আইফোন নদীতে পড়ে যায়। ১৫ মাস ধরে নদীর নিচে পড়ে ছিল আইফোনটি। তারপরও সেটি দিব্যি সচল রয়েছে দেখে অবাক এরিকা। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক> দিন-ক্ষণ আগেই ঠিক ছিল— ১০ সেপ্টেম্বর বাজারে আসছে আইফোন ১১। আইফোন-প্রেমীরা অপেক্ষায় ছিলেন শুধু ঘোষণার। এবার তাদের অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ হলো। ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় আইফোন ১১ উন্মোচন করেছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের কুপারটিনোর স্টিভ জব থিয়েটারে আইফোন ১১ উন্মোচন করেছে মার্কিন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
যা থাকছে আইফোন ১১-তে:
আইফোনের নতুন এই সিরিজে থাকছে ৬ দশমিক ১ ইঞ্চির লিকুইড রেটিনা ডিসপ্লে। সহজ করে এই ডিসপ্লের বিশেষত্ব বললে বলতে হবে কোনো ছবি জুম করে দেখতে গেলে এর পিক্সেল দেখা যাবে না কিংবা ফেটে যাবে না। অ্যাপল কর্তৃপক্ষের এমনটাই দাবি! বাজারে ছয় রঙের আইফোন ১১ মিলবে। নতুন এই আইফোনের অডিওতে ডলবি অ্যাটমস সাপোর্ট রয়েছে। আইফোন ১১-তে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ও আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স সংবলিত ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরার সংযুক্তি রয়েছে। পেছনের এই দুটি ক্যামেরাই ১২ মেগাপিক্সেলের। অল্প আলোয় ছবি তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে আইফোন ১১-তে। কারণ রাতের বেলা কিংবা কম আলোতে ছবি তোলার সময় এর নাইট মোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে।
কুইকটেক নামে আইফোন ১১-তে নতুন একটি ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ছবি তোলার মাঝখানে কোনো বিরতি ছাড়াই ভিডিও শুরু করা সম্ভব হবে। ভালো সেল্ফি তোলার জন্য আইফোন ১১-তে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যবহার করে ৪-কে ৬০এফপিএস ভিডিও ছাড়াও স্লো মোশন ভিডিও করা যাবে। এর রয়েছে এ১৩ বায়োনিক চিপ। অ্যাপলের দাবি স্মার্টফোনে এ যাবৎকালে সবচেয়ে দ্রুতগতির সিপিইউ ও জিপিইউ’র এই এ১৩ চিপ। আইফোন এক্সআর-এর চেয়ে এক ঘণ্টা বেশি সময় আইফোন ১১-এর ব্যাটারি সচল থাকবে। এত এত সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আইফোন ১১ পাওয়া যাবে ৬৯৯ মার্কিন ডলারে।

একজন সেল্ফি তুলে দেখছেন আইফোন ১১ প্রো ক্যামেরা দিয়ে। ছবি: এএফপি

একই দিনে আইফোন ১১ ছাড়াও আইফোন ১১ প্রো এবং আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করেছে অ্যাপল। আইফোন ১১ প্রো-তে ৫ দশমিক ৮ ইঞ্চি ও ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চির দুই আকৃতির ডিসপ্লে থাকবে। এর ডিসপ্লে রেজুলেশন ৪৫৮ পিপিআই। এই ডিসপ্লেকে বলা হচ্ছে সুপার রেটিনা ডিসপ্লে। আইফোন ১১ প্রো-তে এইচডিআর ১০ চলবে। এ ছাড়া ডলবি ভিশন ও ডলবি অ্যাটমসও সাপোর্ট করবে বলে অ্যাপলের কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন। আইফোন ১১ প্রো ও আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্সে আগের আইফোনগুলোর চেয়ে যথাক্রমে ৪ ও ৫ ঘণ্টা বেশি সময় চার্জ থাকবে। পেছনের তিনটি ক্যামেরার প্রতিটিই ১২ মেগাপিক্সেলের। এর একটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ল্যান্স, আরেকটি আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল অন্যটি টেলিফোটো ক্যামেরা। প্রো সিরিজের এই আইফোনের সঙ্গে ১৮ ওয়াটের দ্রুত গতির একটি চার্জার দেওয়া হবে।
ডিপ ফিউশন নামে প্রো সিরিজে একটি ফিচার রয়েছে। এই ফিচার ব্যবহার করে একসঙ্গে ৯টি ছবি তোলা যাবে। আইফোন ১১ প্রো ও আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্সের তিনটি ক্যামেরাই ৪-কে ৬০এফপিএস ভিডিও ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। এখন থেকে ছবি সম্পাদনা করার অ্যাপ দিয়ে ভিডিও সম্পাদনা করা সম্ভব হবে প্রো সিরিজের আইফোন দিয়ে। আইফোন ১১ প্রো মার্কিন বাজারে মিলবে ৯৯৯ ডলারে আর আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স পাওয়া যাবে ১ হাজার ৯৯ ডলার খরচ করেই।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক> মানবাকৃতির রোবট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) উদ্দেশ্যে যাওয়া রুশ মহাকাশযান স্যুয়োজ এমএস-১৪ শনিবার  আইএসএসে ভিড়তে ব্যর্থ হয়েছে। নাসা টিভির বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবর, আইএসএস থেকে ১০০ মিটার দূরে এতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। এ সময় রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের দপ্তরে ঘটনার সরাসরি সম্প্রচারও বিঘ্নিত হয়। রোবটটির সঙ্গে কোনো মানুষ নেই। সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যুয়োজ যানটি নিয়ে আইএসএসে প্রবেশ করবে, পরিকল্পনা এমনটিই ছিল। প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এটি আবার চেষ্টা করে স্টেশনে ভিড়তে। এ দফায়ও ব্যর্থ হয় যানটি। স্যুয়োজ যানে করে এর আগে রাশিয়া সব সময় মানুষ নভোচারীই পাঠিয়েছে মহাকাশে। তবে এবারই প্রথম দেশটি মহাকাশে রোবট নভোচারী পাঠাল।
যে রোবটটি স্যুয়োজ এমএস-১৪ যানটিতে রয়েছে, তার নাম ‘ফেডর’ (ফাইনাল এক্সপেরিমেন্টাল ডেমোনস্ট্রেশন অবজেক্ট রিসার্চ)। স্কাইবট এফ৮৫০ নামেও এটি পরিচিত। গত বৃহস্পতিবার এটি স্যুয়োজে করে কাজাখস্তানের বাইকোনর কসমোড্রোম রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে আইএসএসের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। এর আগে ১০ দিন ধরে এটি প্রশিক্ষণ নেয়। মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীদের জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে সহায়তা করতে হবে, তাই মূলত শেখানো হয়েছে একে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসাও ২০১১ সালে ‘রোবনট-২’ নামের এ রকম একটি রোবট পাঠিয়েছিল আইএসএসে।
রুপালি রঙের ফেডর রোবটটি ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি দীর্ঘ এবং ওজন ১৬০ কেজি। ফেডরের নিজস্ব ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার অ্যাকাউন্টও রয়েছে। যেখানে সে পোস্টে লিখেছে, সে সম্প্রতি পানির বোতল খুলতে শিখেছে। এ রকম নতুন নতুন দক্ষতা খুব কম গ্র্যাভিটির পরিবেশে সে কাজে লাগাবে। উৎক্ষেপণের মুহূর্তে ফেডর স্যুয়োজ যানের পাইলটের আসনে বসা ছিল। তার হাতে ছিল একটি ছোট্ট রুশ পতাকা। এ সময় সে ‘চলো যাই, চলো যাই’ বারবার বলছিল। মহাকাশে প্রথমবার পাড়ি দেওয়ার সময় পৃথিবীর প্রথম নভোচারী ইউরি গ্যাগারিনের কণ্ঠে এই একই কথা শোনা গিয়েছিল।
গ্রিনিচ মান সময় শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইএসএসে ভেড়ার কথা ছিল। এখন দুই দফায় ব্যর্থতার পর আগামীকাল সোমবার এটিকে আইএসএসে আবার ভেড়ানোর চেষ্টা করানো হবে। সফল হলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি আইএসএসে অবস্থান করবে। রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, এটি বর্তমানে আইএএস থেকে ৯৬ মিটার দূরে অবস্থান করছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক> শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীরা কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন। তবু ওই সব প্রশ্নের সমাধানে তাঁরা একবিন্দু্‌ও এগোতে পারেননি। এমন একটি প্রশ্ন, পৃথিবীই কি একমাত্র প্রাণের উৎস?
তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) বিজ্ঞানীরা এবার এমন তিনটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা তাঁদের ওই প্রশ্নের সমাধানে সহায়তা করতে পারে। এই মহাজগতে পৃথিবী ছাড়া আর কোনো গ্রহে প্রাণের স্পন্দন আছে কি না, সেই রহস্যের ওপর আলো ফেলতে পারে ওই তিন গ্রহ।
নাসার খুঁজে পাওয়া এই তিনটি নতুন গ্রহের মধ্যে একটি নতুন ধরনের বিশ্ব ব্যবস্থা আছে, যেটা আমাদের সৌরজগতে আগে কখনো দেখা যায়নি।
গবেষকেরা বলছেন, এই রহস্যময় গ্রহগুলো হতে পারে ‘হারিয়ে যাওয়া সেই সূত্র’ যেটা ‘এলিয়েন (ভিনগ্রহবাসী)’ খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীদের জন্য বিশাল এক উপহার হতে পারে।
নতুন এই তিন গ্রহ একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করছে। নক্ষত্রটি আমাদের সূর্য থেকে মাত্র ৭৩ আলোকবর্ষ দূরে। এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া এই ধরনের গ্রহগুলোর মধ্যে এরাই সবচেয়ে কাছে ও ছোট।
গবেষকেরা এই গ্রহগুলো আবিষ্কার করেছেন নাসার এক্সোপ্লানেট সার্ভে স্যাটেলাইট (টিইএসএস) প্রকল্পের মাধ্যমে। এই প্রকল্প ২০১৮ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়। এর উদ্দেশ্য এমন সব নক্ষত্র ও গ্রহ খুঁজে বের করা, যেখানে জীবনের বিবর্তন হয়েছে।
নতুন তিন গ্রহের মধ্যে একটি পাথুরে গ্রহ আছে, যা আমাদের পৃথিবী থেকে কিছুটা বড়। বাকি দুটো গ্রহ গ্যাসের তৈরি, যারা আরেকটু বড়। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহগুলোকে করেছে ‘হারিয়ে যাওয়া সূত্র’। কারণ পাথুরে গ্রহটি অনেকটা পৃথিবী বা মঙ্গলের মতো দেখতে। গ্যাসীয় গ্রহগুলো দেখতে বৃহস্পতি বা শনির মতো।
গ্রহগুলোর অনুসন্ধানী দলের প্রধান ম্যাক্সিমিলিয়ান গুন্থার বলেন, গ্যাস আর পাথুরে গ্রহ কীভাবে এই জায়গাতে সৃষ্টি হয়েছে তা বুঝতে এই নতুন গ্রহগুলো সাহায্য করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর মতো দেখতে ওই গ্রহে এমন তাপমাত্রা থাকতে পারে, যা প্রাণের বিকাশে সহায়তা করতে পারে। তবে এর বায়ুমণ্ডল খুব হালকা বলে ধারণা করা হচ্ছে, একই সঙ্গে এর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেশ উষ্ম।

অনলাইন ডেস্ক> আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সংবাদপত্র খুললেই আমরা মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। এটা আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করছে। এ প্রবন্ধে আমি যানবাহনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এমন কিছু স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রস্তাব করছি, যা নিশ্চিতভাবে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস করতে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বেশির ভাগ গাড়ি উৎপাদন কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যানবাহন তৈরিতে কাজ করছে, যা চালককে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। এসব প্রযুক্তি বর্তমান বাজারে বিদ্যমান। বেশির ভাগ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্নিং সিস্টেম সাধারণত রাডার, ক্যামেরা, লিডার ও ম্যাপ সেন্সর ব্যবহার করে থাকে। এসব সেন্সর একটা সেন্ট্রাল ব্রেইনকে গাড়ির পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেয়। সেন্ট্রাল ব্রেইন চালককে আগেভাগেই সতর্ক করে কোনো ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকলে। নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে এমন বুঝলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে।
পথচারী সতর্কতা
গাড়ির কাছে কোনো পথচারী অথবা অবকাঠামো থাকলে সিস্টেম বিপ (একধরনের শব্দ) শুরু করবে। বিপের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়তে থাকবে যত দূরত্ব কমে আসতে থাকবে। বাস অথবা ট্রাকে এই সিস্টেম ভালো সহযোগিতা করে থাকে। কারণ চালকের পক্ষে গাড়ির চারপাশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম সাধারণত ক্যামেরা, রাডার ও আলট্রাসনিক সেন্সর ব্যবহার করে যেকোনো বিপদ সম্পর্কে জানান দিয়ে থাকে।
লেন পরিবর্তন সতর্কতা
সাধারণত এই ফিচার গাড়িকে লেনে ধরে রাখতে সাহায্য করে থাকে। ক্যামেরার সাহায্যে লেন লাইন ডিটেক্ট করা হয়। চালক অনিচ্ছাকৃত দাগ পার হলে স্টিয়ারিং টর্ক প্রয়োগ করে গাড়িকে লেনে ধরে রাখে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম সাইড রাডারের সাহায্যে কোনো গাড়ির উপস্থিতি জানান দিয়ে থাকে। গাড়ির চিহ্ন সম্পন্ন আইকন সাইড গ্লাসে দৃশ্যমান হয়, যদি কোনো গাড়ি পার্শ্ববর্তী লেনে বিদ্যমান থাকে। এ ক্ষেত্রে চালক লেন পরিবর্তনে অগ্রিম সতর্ক থাকবেন।
অসতর্ক চালকের জন্য সতর্কতা
অনেক চালক আছেন যাঁরা গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনে কথা বলেন। টেক্সট মেসেজ করেন বা পাশের কারও সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন। আইন করেও এ অভ্যাস বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে চালকের ঘুম চলে আসতে পারে। চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ করার জন্য স্টিয়ারিং হুইলের মাঝে ক্যামেরা বসানো থাকে, যা চালকের চোখের নড়াচড়া থেকে বুঝতে পারে চালক অমনোযোগ কি না এবং চালককে সতর্কতা দিয়ে থাকে।
সামনের সংঘর্ষের অগ্রিম সতর্কতা
সামনে গাড়ি, মানুষ বা পশু থাকলে এ ধরনের ব্যবস্থা অগ্রিম চালককে সতর্কতা দিয়ে থাকে। যদি সংঘর্ষ হওয়ার মতো দূরত্বে চালক চলে আসেন কিংবা অনেক সময় সংঘর্ষ নিশ্চিত হলে এ সিস্টেম নিজেই ব্রেক করে থাকে। সাধারণত রাডার ও ক্যামেরা দিয়ে থ্রেট অবজেক্ট শনাক্ত করা হয়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালাতে পারবে, যা দুর্ঘটনার মাত্রা কমানোর সামর্থ্য রাখে। এ ব্যবস্থা দিন বা রাতে সমানভাবে কার্যকর।
এ রকম আরও অনেক ফিচার বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের মধ্যে সব গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। আমাদের সময় হয়েছে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো। হয়তো কিছুটা ব্যয়বহুল। কিন্তু মানুষের জীবনের থেকে বেশি নয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক> ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৩০০ কোটিরও বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলেছে ফেসবুক। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ‘আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি’ পাওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় তারা এমন ব্যবস্থা নিয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলো খোলার ‘কয়েক মিনিটের মধ্যেই’ সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে ফেসবুক।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রতি মাসে ২৪০ কোটি সচল অ্যাকাউন্টের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ বা ১২ কোটি অ্যাকাউন্টই ভুয়া। এর আগের হিসাবের তুলনায় এবারের হিসাবে ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ থেকে ২ শতাংশ বেড়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘৃণা বাক্য ছড়ানোয় প্রায় ৭৩ লাখ পোস্ট ও ছবি সরিয়ে নিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এর আগের হিসাবে সরিয়ে নেওয়া পোস্টের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪ লাখ। এই প্রথমবারের মতো সরিয়ে নেওয়া পোস্টের সংখ্যা প্রকাশ করল ফেসবুক।
কেবল ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসেই ২২০ কোটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ফেসবুক। ব্যবহারকারীরা ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানোর আগে নিজ উদ্যোগেই ৯৯ শতাংশ ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সেগুলো সরিয়ে নেয় ফেসবুক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার এই ঘটনা ফেসবুকের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের কথাই জানাচ্ছে। ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এমনিতেই ফেসবুককে বেশ সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, মিয়ানমার, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে গুজব ছড়ানোর কাজে প্রায় সময়ই ফেসবুক ব্যবহার করা হয়েছে।
এত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য ফেসবুকের মালিকানাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের বেশ কড়া জবাবই দিয়েছেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। জাকারবার্গ বলেছেন, ‘আমি মনে করি না কোম্পানি ভেঙে দিলেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ফেসবুকের এমন অভাবনীয় আর্থিক সাফল্যই আমাদের এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা করবে। আমার তো মনে হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ফেসবুক বার্ষিক যে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ রাখে, টুইটার পুরো এক বছরেও সে পরিমাণ আয় করতে পারে না।’

অনলাইন ডেস্ক> ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়েন হাসান মাহমুদ নাঈম। আউটসোর্সিংয়ের কাজ শেখার জন্য গত বছরের মে মাসে ধানমন্ডির রেক্স আইটি ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন তিনি। ভর্তি ফি বাবদ প্রতিষ্ঠানটি তাঁর কাছ থেকে নেয় আট হাজার টাকা। সেখানে তিনটি ক্লাস করেন হাসান।
সেখানে কস্ট পার অ্যাকশন (সিপিএ) মার্কেটিং, পেইড মার্কেটিংসহ নানা বিষয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর অনলাইনে কিছু কাজ করার পর প্রশিক্ষনার্থী হাসানকে দেওয়া হয় একশ থেকে দুই’শ ডলার। রেক্স আইটির প্রধান আবদুস সালাম পলাশ অনলাইন অ্যাডভারটাইজিং মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থী হাসানকে প্রলুব্ধ করেন। হাসান ওই প্রতিষ্ঠানে এক হাজার ডলার বিনিয়োগ করেন।
হাসানের বাবা এ টি এম মনিরুজ্জামান শনিবার (১৮ মে) মুঠোফোনে বলেন, তাঁর ছেলে হাসান এক হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানটি পরের মাসে লাভসহ এক হাজার ৮০০ ডলার দেয়। তাঁর দাবি, হাসানের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীকে দ্বিগুন অর্থ লাভের প্রলোভন দিয়ে তাদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়। প্রথম প্রথম লাভের টাকা দেওয়া হলেও পরে প্রতিষ্ঠানটি টাকা না দিয়ে গড়িমসি করতে থাকে। তাঁর ছেলে হাসান বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নিয়ে সর্বমোট ৫১ হাজার ৯০৬ ডলার বিনিয়োগ করেন। এই টাকা আর ফেরত পাননি হাসান।
ফেরত চাইলে সালাম বোয়াসিররুস নামের ব্যাংকের অনলাইন ক্রেডিট কার্ড দেন। বাস্তবে বোয়াসিররুস নামের কোনো ব্যাংক বিশ্বের কোথাও নেই।
অনলাইন মার্কেটে কাজ করে লাখ লাখ টাকা আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আবদুস সালামের বিরুদ্ধে গত ১০ মে মামলা হয়। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে এই মামলা করেন হাসানের বাবা এ টি এম মুনিরুজ্জামান। পেশায় মুনিরুজ্জামান একজন শিক্ষক।
আবদুস সালাম বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে সিআইডি গত রোববার তাদের দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে।
মামলার পর ঘটনা তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আউট সোর্সিং এর প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথিত প্রতিষ্ঠান রেক্স আইটির আবুদস সালামকে গ্রেপ্তার করে গত ১১ মে ঢাকার আদালতে হাজির করে সিআইডি।
সিআইডি আদালতকে জানান, আসামি আবদুস সালামসহ তাঁর সহযোগীরা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। ওয়েবসাইটে ভুয়া লেনদেন দেখিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ এই প্রতারকচক্র। আসামি আবদুস সালাম ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খুলে আত্মসাৎ করা টাকা জমা করেন। পরবর্তীতে ওই টাকা তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনেন সালাম। আদালতকে সিআইডি আরও জানিয়েছে, আবদুস সালাম পলাশের প্রতিষ্ঠান রেক্স আইটি ইনস্টিটিউটের নামে চারটি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। আর পলাশ ট্রেডিং করপোরেশনের নামে আরও একটি হিসাব আছে। রেক্স আইটি ইনস্টিটিউট নামের প্রতিষ্ঠানটির সাত থেকে আটশো প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য আসামি আবদুস সালামকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন ঢাকার আদালত। পরবর্তীতে আবদুস সালামের স্ত্রী মনিরাতুল জান্নাত ও আহম্মেদুল রহমান বিপ্লব নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে ১৫ মে আদালতে হাজির করে সিআইডি। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য এই দুজনকে দশ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
প্রধান আসামি আবদুস সালামকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৫ মে আদালতে হাজির করা হয়। পুনরায় তাঁকে দশ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত পুনরায় তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে আবদুস সালামকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।
আদালতকে সিআইডি প্রতিবেদন দিয়ে বলছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আবদুস সালাম অ্যাডভার্টিন নামের ওয়েব সাইটের হুবহু অ্যাডভার্ট গোল্ড নামের ওয়েবসাইট বানান। আসামি সালাম অ্যাডভার্ট গোল্ডকে অ্যাডভার্টিন ওয়েব সাইটের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করেন। বিদেশি বহু ওয়েব সাইটের নকল ওয়েবসাইট তৈরি করেন সালাম। এসব ওয়েব সাইটের ডেটাবেইস বানানো হয়। সালাম এমনভাবে কাজ করতেন যেন প্রশিক্ষণার্থীরা মনে করেন, এটি আসল ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটে টাকা বিনিয়োগ করার জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের প্রলুব্ধ করতেন সালাম। প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা সালাম তাঁর নিজের, স্ত্রীর এবং মায়ের হিসাবে রাখেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপপরিদর্শক মো. আনসার উদ্দিন শনিবার বলেন, আসামি সালাম আউট সোর্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য রেক্স আইটি ইনস্টিটিউট নামের প্রতিষ্ঠান খোলেন। প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
Select Language