শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০ | ১৭:২৮
২০ চৈত্র, ১৪২৬ | ৯ শাবান, ১৪৪১
পরিবেশ প্রতিবেশ

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> হঠাৎই কার্যালয়ের আঙিনার বড় গাছগুলো নাই হয়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া শতাধিক গাছ কাটায় কক্সবাজারের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তাদের দাবি, নতুন যোগদান করা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোটি টাকা মূল্যের এসব গাছ কেটে ফেলেছেন। অথচ কদিন আগেও বড় বড় গাছের সুশীতল ছায়ায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়টির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত মনোরম। সুন্দর এ সরকারি কার্যালয়টির সুনামও ছিল চারদিকে।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দেখা গেছে, কার্যালয়ের আঙিনায় শতাধিক গাছ কেটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর বেশিরভাগই মেহগনি জাতের মাতৃগাছ। আরও গাছ কাটার জন্য শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই গাছ কাটার জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা স্থানীয় বন বিভাগকেও জানানো হয়নি।
গাছ কাটার বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘অফিস ভবনের সংস্কার কাজ চলছে। অফিস আঙিনায় এত বেশি গাছ হয়েছে যে, ভবনের ওপর সূর্যের আলো পড়ে না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে।’
গাছগুলো কাটা ও বিক্রির জন্য কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হয়েছে। তবে বন বিভাগ ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে তিনি স্ব্বীকার করেন।
কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বন বিভাগের কর্মীরা সরেজমিন গাছের পরিমাপ করে মূল্য নির্ধারণ করেন। সরকারি একটি ফি নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের আঙিনায় গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়নি।
এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় প্রাঙ্গণের শতাধিক গাছ কাটার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ওই স্থানে নতুন কোনো ভবন না হলেও শতাধিক মাতৃগাছ এভাবে কেটে ফেলার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বড় বড় গাছের ছায়ায় অফিসটি দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণ ছিল। এখানে অনেক পাখির আবাসস্থ্থলও ছিল। একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনায় শতাধিক মাতৃগাছের প্রাণ গেল। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ‘সবুজের জয়গানে, এসো মিলি প্রাণে প্রাণে’ এ স্লোগানের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলার সকল শিক্ষার্থীরা নিজেদের এক দিনের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার বৃক্ষ রোপণ করেছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও বাঘা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।
জলবায়ু পরিবতর্নের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে ২০১৫ সাল থেকে উদ্যোমী তরুণ জুবায়ের আল মাহমুদ রাসেল নিজের উদ্ভাবিত থিম ‘এক দিনের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে গাছ রোপণ’ আন্দোলন শুরু করেন। গত চার বছর এই আন্দোলনে সারাদেশের ৭৫০টি স্কুলের লাখো শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের বড়াইগ্রাম, সিলেটের বিয়ানীবাজার এবং খুলনার দিঘলীয় উপজেলার শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রায় আড়াই লাখ বৃক্ষ রোপণ করে। সর্বশেষ এ বছর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৬ সেপ্টেম্বর ১ লাখ ৬ হাজার গাছ রোপণ করেছে চারঘাট এবং বাঘার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শির্ক্ষার্থীরা। এ নিয়ে গত ৫ বছরে গাছের সংখ্যা দাঁড়ালো সাড়ে তিন লাখ।
অনুষ্ঠানে জুবায়ের আল মাহমুদ জানান, আগামী ২ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদী এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শিক্ষার্থীরা একযোগে আরও ১ লাখ গাছ রোপণ করবে। এছাড়া সিলেটের বিয়ানীবাজার ও খুলনার দিঘলীয়া উপজেলায় বিভিন্ন স্কুলে বৃক্ষরোপণ চলছে।
জুবায়ের বলেন, ‘প্রতিবছর বিছিন্নভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হলেও এবারই প্রথমবারের মতো ‘বিশ্ব ওজন দিবস’ উপলক্ষে চারঘাট-বাঘার শিক্ষার্থীরা অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য যে লাখো গাছ রোপণ করল, তা বিশ্বে বিরল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি- বাংলাদেশের ৫ কোটি শিক্ষার্থীকে নিয়ে যদি বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনে বৃক্ষরোপণ করা যায়, তাহলে খুব সহজে বাংলাদেশ সবুজে পরিণত হবে এবং এই আন্দোলন যদি জাতিসংঘের উদ্যোগে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে খুব সহজে সারা পৃথিবী বিশাল এক অরণ্যে পরিণত হবে।’ তিনি জাতীয়ভাবে বৃক্ষরোপণের জন্য ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ দিবস’ ঘোষণা করে বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীকে নিয়ে বৃক্ষরোপণের দাবি জানান।
চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন। অন্যদিকে, বাঘা উপজেলা সদরে অবস্থিত বাঘা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃক্ষরোপণ উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা। উভয় অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের উপকারিতা সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন বক্তরা।
চারঘাটে উপজেলা চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা গাছগুলো বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোপণ করবে এবং যত্ন করবে যেন গাছগুলো তোমাদের সাথেই বেড়ে ওঠে।’
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বৃক্ষপ্রেমিক জুবায়ের আল মাহমুদের উদ্ভাবন এবং প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে ১ দিনের টিফিনের টাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫৬ হাজার গাছ রোপণের জন্য বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তার উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে আজ সোমবার বৃক্ষরোপণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে বাঘার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘তোমরা আজ পৃথিবীর বুকে ইতিহাস তৈরি করলে। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট দিনে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে। তাহলে জলবায়ুর প্রভাব থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পাবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, ‘জুবায়েরের এই আন্দোলন অত্যন্ত যুগোপযোগী। শিক্ষার্থীরা যদি এই গাছগুলো রোপনের পর বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে, তাহলে উপকৃত হবে দেশ। সুফল পাবে জাতি।’

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সারা দেশে নদী দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকারি সংস্থা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। কমিশনের ওয়েবসাইটে বিভাগওয়ারি তালিকা বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী দেশের ৬১ জেলায় দখলদারের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭৪২ জন। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নদী দখলদারের সংখ্যা ৯৫৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকোর্টের ১৩৯৮৯/২০১৬ নম্বর রিট পিটিশনের আদেশ সুষ্ঠু বাস্তবায়নে জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের এক সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের এ তালিকা জনস্বার্থে প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও আহ্বায়ক এবং জেলা নদী রক্ষা কমিটির কাছ থেকে সংশ্নিষ্ট জেলার এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ তালিকা একটি চলমান প্রক্রিয়া। কারও কাছে তালিকায় অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে কমিশনকে অবহিত করা হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালিকায় নোয়াখালী জেলায় সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫৮৩ জন দখলদারের নাম রয়েছে। সর্বনিম্ন দখলদারের জেলা লালমনিরহাটে ১৪ জনের নাম তালিকায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য আলাউদ্দিন বলেন, চিহ্নিত অবৈধ নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সব জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তারাই এসব দখলদারের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
বিভাগওয়ারি তালিকা : বিভিন্ন বিভাগওয়ারি তালিকায় দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের গাজীপুর জেলায় ৫১ জন, মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৫০, ফরিদপুরে ১১৪, কিশোরগঞ্জে ১০৩, রাজবাড়ীতে ২৬, নরসিংদীতে ৩৯৬, মাদারীপুরে ২৭৩, গোপালগঞ্জে ৩৯৬ ও শরীয়তপুরে ৬৫ নদী দখলদার রয়েছেন। এ বিভাগের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার তালিকাসংবলিত পিডিএফ ফাইলটি ‘ডিলিটেড’ বা মুছে দেওয়া অবস্থায় ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে।
রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলায় ৩৬০ জন, বগুড়ায় ৪০, রাজশাহীতে ২০৩, নওগাঁয় ২২০, জয়পুরহাটে ৮০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৫, নাটোরে ৯১৭ ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ২২৫ জনের নাম তালিকায় আছে।
খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলায় ৪২৭ জন, নড়াইলে ৯৮, মেহেরপুরে ১১৫, মাগুরায় ৮৪, কুষ্টিয়ায় দুই হাজার ৩৬২, খুলনায় ১৭৬, ঝিনাইদহে ১৬৯ ও যশোর জেলার ৫৭৮ জন নদী দখলদারের নাম তালিকায় রয়েছে। এ বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলার নাম ‘ডিলিটেড’ বা মুছে ফেলা অবস্থায় ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে।
বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলায় ৪২৮ জন, পিরোজপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৬০৩, ঝালকাঠিতে ২০৩, বরিশালে এক হাজার ৩০৮ ও বরগুনার এক হাজার ৩৮২ জন দখলদারের নাম তালিকায় রয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনায় ৫১২ জন, শেরপুরে ৬৮ ও জামালপুরে ৬৮৭ জনের নাম তালিকায় রয়েছে।
সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে ৬৯৬ জন, মৌলভীবাজারে ৪৬৮, সিলেটে ২৪৪ ও হবিগঞ্জে ৬০০ জনের নাম তালিকায় আছে।
রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলায় ৯৮০ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০৩, কুড়িগ্রামে ৫৪, রংপুরে ১৬, লালমনিরহাটে ১৪ ও দিনাজপুর জেলায় এক হাজার ৪৭ জনের নাম তালিকায় আছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলায় তিন হাজার ৫৮৩ জন, কুমিল্লা জেলায় দুই হাজার ৯৮৯, চট্টগ্রামে এক হাজার ৭৫৬, রাঙামাটিতে ৫১, লক্ষ্মীপুরে ৮০৫, খাগড়াছড়িতে ২৬, ফেনীতে ২৭৯, কক্সবাজারে ২৭৩, চাঁদপুরে ৫৩৩, বান্দরবানে ৩৭০ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৪৭ জনের নাম তালিকায় রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের ওপর পর্বত সমান চাপ সৃষ্টি করেছে। স্থানচ্যুত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ। চলতি শতাব্দীর শেষে, বাংলাদেশের উপকূল বরাবর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা দেড় মিটার বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সময়ে উপকূলে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করবে। ভয়ংকর ঝড় এবং অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ার তথা জলোচ্ছ্বাস এখন বাংলাদেশে প্রতি দশকে একবার করে আঘাত হানছে। ২১০০ সালের মধ্যে সেটা প্রতি বছর তিন থেকে ১৫ বার নিয়মিত আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি, পরিবেশ এবং উন্নয়ন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জয়েস জে চেনের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণালব্ধ মত তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। জয়েস জে চেন জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যের জটিল সম্পর্কের ওপর গবেষণা করছেন। বাংলাদেশ বিষয়ে তাঁর মতামত নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন উইলিয়াম পার্ক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রথাগত জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গ্রামের মানুষেরা বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ের নেওয়ার চেষ্টা করছে। বন্যা উপদ্রুত দেশটির মানুষ নতুন নতুন বিষয় প্রবর্তন, পরিবর্তন যোগ্যতা, প্রাণোচ্ছ্বাসের সমন্বয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে রয়েছে। তবে পরিবেশের চরম অবস্থা তাদের যেদিকে ঠেলে দিচ্ছে তাতে যে কারও সহিষ্ণুতার মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমাগত বাড়তে থাকায় গ্রামের বাংলাদেশিদের ওপর তা পর্বত সমান চাপ সৃষ্টি করেছে। আগে লোকজন মৌসুমি বন্যার সবচেয়ে খারাপ সময়ে বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্য কোথাও সরে যেতে পারত। তবে এখন নিয়মিত জলাবদ্ধতা ফসল উৎপাদনকে অসম্ভব করে তুলছে। নোনা পানিতে টিকছে না ফসল। বিকল্প কাজের ব্যবস্থাও সীমিত।
ঐতিহাসিকভাবে, বাংলাদেশের মানুষ মৌসুমি বন্যাকে ঘিরেই কাজ করত। বছরের অন্য সময়টায় চলত ফসল উৎপাদন। পানি বেড়ে জমি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়লে তারা কর্মহীন থাকত বা কাজের সন্ধানে শহরে যেত। চলতি শতাব্দীর শেষে, বাংলাদেশের উপকূল বরাবর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ৫ মিটার বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ২১০০ সালের মধ্যে প্রতি বছর তিন থেকে ১৫ বার নিয়মিত সর্বনাশা ঝড় ও অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের শিকার হতে পারে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় গ্রামের মানুষেরা তাদের পথ বেছে নেওয়ার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। তাদের হয় জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে অথবা কাজ ও ঘর খুঁজে নিতে হবে অন্য কোথাও।
বাংলাদেশ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ চেন বলেন, জলবায়ু এত বেশি প্রতিকূল হয়ে উঠছে যে লোকজনের স্থানান্তর বা অভিবাসনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি বছর আনুমানিক এক লাখ লোক বন্যার কারণে স্থানান্তরিত হচ্ছে। অতীতে দেখা গেছে, বাৎসরিক বন্যা, নদী ভাঙনের কারণে লোকজন স্থানান্তরিত হতো। এখন দেখা যাচ্ছে, লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে তা পরিবেশের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করছে। লবণাক্ত পানির কারণে জমি স্থায়ীভাবে বদলে যাওয়ায় ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, জমি বন্যায় ডুবে গেলে আগে লোকজন কয়েক মাসের জন্য কাজ করতে শহরে চলে যেত। বন্যার পানি নেমে গেলে ফিরে আসত। এখন আর সেটা সম্ভব হয় না। মানুষ উপলব্ধি করতে পারছে, এভাবে বেশি দিন টেকা যায় না।
কিছু ক্ষেত্রে, লবণাক্ত পানি কখনো কখনো সুযোগ সৃষ্টি করে। যেখানে ধান জন্মাত এক সময়, সেটি এখন চিংড়ি চাষিদের দখলে চলে গেছে। এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ চেন বলেন, ‘যখন আমরা দেখি, মানুষ কৃষি উৎপাদন থেকে অন্য কিছুতে সরে যাচ্ছে, পরিবারের লোকজনকে দেখে মনে হয়, তারা ফসল উৎপাদন থেকে সরে গিয়ে মাছ চাষের মতো জল-কৃষিতে বেশ ভালো করছে। তাদের বেশ উচ্ছলও দেখায়। তবে উৎপাদনের এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তারা আজ যে খুশি থাকছে, তা ভবিষ্যতে টেকসই হওয়া জরুরি।’ তিনি বলেন, যদি বেশিসংখ্যক মানুষ এই পরিবর্তন আনে এবং যদি আরও বেশি লবণাক্ত পানি জমিতে ঢুকে যায় তাহলে তা নতুন সংকট তৈরি করবে এবং এমনভাবে তা অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে যা মানুষের অনুমান করতে পারছে না।
কৃষিকাজের জন্য মাটির দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে পানির পথ পরিবর্তন করে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করা হচ্ছে। যা ‘ডাচ পদক্ষেপ’ নামেই বেশি পরিচিত। বাংলাদেশে কৃষি জমিকে রক্ষা করতে জমির পাশে পাশে সরু নালার মতো কাটা হয়। তবে উত্তেজনা তখনই দেখা দেয়, যখন কিছু কৃষক তাদের ফসলি জমি লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষার চেষ্টা করেন, আর তার প্রতিবেশী কৃষকেরা চিংড়ি চাষের জন্য লবণাক্ত পানি দিয়ে জমি ডুবিয়ে ফেলেন।
অর্থনীতিবিদ চেনের ভাষায়, সমুদ্রের পানি ঠেকানোর জন্য বাঁধ বা কোনো প্রাচীর নির্মাণ সাহায্যের চেয়ে সংকটই বেশি তৈরি করে। এতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। একটি গ্রুপ আছে যারা ফসল উৎপাদন থেকে জল কৃষিতে সরে গেছে, তারা আরও বেশি করে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করাতে চায়।
চেন বলেন, বাংলাদেশে দুই ধরনের অভিবাসন ঘটতে দেখা যায়। কেউ ভালো সুযোগের আশায় শহরমুখী হন। কেউ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়ি ছাড়েন। নিচু এলাকা হিসেবে বাংলাদেশ সব সময় সমুদ্র পৃষ্ঠের পরিবর্তনজনিত কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। চেন বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ভালো অবস্থায় রয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধ জলবায়ু এই প্রবৃদ্ধি কত দিন অব্যাহত থাকবে তা অনুমান করা কঠিন করে তুলেছে। কিছু কৃষক বাংলাদেশ লবণাক্ত পানি সহনশীল কিছু ফসল ফলানোর চেষ্টা করছে। তবে তাতে খুব বেশি সাফল্য নেই।
চীনের কিছু গবেষক বলছেন, তাঁরা লবণাক্ত পানি প্রতিরোধী কিছু ধান উদ্ভাবন করতে পেরেছেন, তবে সেগুলো কতটা টিকবে সে বিষয়ে এখনো বড় ধরনের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি।
বাংলাদেশে উপকূলীয় এলাকার বড় শহরে অনেক অভিবাসন ঘটছে। চেন সতর্ক করেছেন, এখনো অনেক মানুষ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের কারণে ওই শহরগুলো ভবিষ্যতে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষকে নতুন আশ্রয়ের সন্ধান করতে হতে পারে।

অনলাইন ডেস্ক> ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে পৃথিবীর ‘ফুসফুস’খ্যাত বিশ্বের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল আমাজন। এককভাবে সবচেয়ে বড় এই রেইন ফরেস্টে (ঘনবর্ষণ বনভূমি) চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৭৫ হাজার বার আগুন লেগেছে। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) পর্যন্ত বনের দুই হাজার ৫০০টি এলাকা আগুনে পুড়েছে। প্রতি মিনিটে ভস্ম হচ্ছে দুটি ফুটবল মাঠের সমান এলাকা। এর পাশাপাশি বনখেকোদের দৌরাত্ম্য তো আছেই। কৃষি ও শিল্পের জন্যও উজাড় করা হচ্ছে বন। তাই পরিবেশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এখনই বন ধ্বংস ঠেকানো না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে বনাঞ্চলটি হয়তো বিলীন হয়ে যাবে। আমাজন নদী অববাহিকায় নয়টি দেশের ৭০ লাখ বর্গকিলোমিটারে বিস্তৃত এ বনাঞ্চল থেকে পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন উৎপাদিত হয়। এ কারণে একে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়। এ ছাড়া সেখানে প্রায় ১৬ হাজার প্রজাতির ৩৯ হাজার কোটি বৃক্ষ, ৪৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড়, ৪২৮ প্রজাতির উভচর, ৩৭৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তিন হাজার প্রজাতির মাছ ও জলজপ্রাণী রয়েছে। পৃথিবীর আর কোনো বনে এত বেশি প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য নেই। সুনিবিড় এই বনভূমিতে এখনও এমন সব উদ্ভিদ আর প্রাণীর প্রজাতি আছে, যা রয়ে গেছে মানুষের জানাশোনার বাইরে। গবেষকরা প্রতিনিয়তই নতুন কোনো জীব খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
আমাজনের নিয়ন্ত্রণহীন দাবানলকে আন্তর্জাতিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন। ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো থেকে হলিউড সুপারস্টার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, সঙ্গীতশিল্পী ম্যাডোনাসহ অনেক তারকা ও পরিবেশবিদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এ উদ্বেগে কান না দিয়ে উল্টো পরিবেশবাদী এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে আমাজনে আগুন লাগানোর অভিযোগ তুলেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো।

দাবানলে পুড়ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল আমাজন- সংগৃহীত

আমাজন অরণ্যের ৬০ শতাংশ পড়েছে ব্রাজিলে। যেখানে এখনও ১৯৬৫ সালের আইন প্রচলিত। এর অধীনে ভূমির মালিকেরা তাদের জমির কিছু অংশে বনায়ন করতে বাধ্য। আমাজনের ১৩ শতাংশ পেরুতে এবং বাকি অংশ রয়েছে কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম এবং ফরাসি গায়ানায়। পৃথিবীর মোট রেইন ফরেস্টের অর্ধেকটাই এই অরণ্য নিজেই। শুস্ক মৌসুমে আমাজনে দাবনল স্বাভাবিক ঘটনা হলেও চলতি বছরে যেভাবে আমাজন পুড়ছে, তা পৃথিবীর জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত। বর্তমানে ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য রোরাইমা, অ্যাক্রি, রোনডোনিয়া ও আমাজোনাসের হাজার হাজার হেক্টর আগুনে পুড়ছে। আর সেই দাবনলের ধোঁয়া প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার উড়ে সাওপাওলোর মতো ব্রাজিলের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর আকাশও আচ্ছন্ন করে রাখছে। এখনই দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে তা ব্রাজিলীয়দের জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে আমাজনে বসবাসকারী তিন শতাধিক আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনও বিপন্ন হবে।
প্রায় সাড়ে ১১ হাজার বছর আগে আমাজনে মানুষের বসতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে সেখানে দুই লাখের মতো আদিবাসী ও উপজাতি রয়েছে। তাদের জীবন-জীবিকাও জঙ্গল ঘিরে। তবে বন উজাড় হওয়ায় এবং জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। আমাজনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী জিনগু। এ ছাড়া আমাহুয়াকা, হুয়াওরানি, কোগি ইন্ডিয়ানসসহ তিন শতাধিক সম্প্রদায় রয়েছে।
আমাজন বিনাশে বৈধ-অবৈধ খনি বাণিজ্যেরও বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। নয়টি দেশে বিস্তৃত আমাজনের ২৪৫টি এলাকায় দুই হাজার ৩১২টি অবৈধ খনি রয়েছে বলে জানিয়েছে আমাজন সোশিও-এনভায়রনমেন্টাল। ক্লার্ক ইউনিভার্সিটির গবেষণায় বলা হয়েছে, খনি ও তেল, গ্যাস উত্তোলনে ঝুঁকিতে রয়েছে আমাজন। এ ছাড়া আগামী দুই দশকে এখানে বড় ধরনের অবকাঠামোগত প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হবে। ক্লার্ক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি প্রার্থী লরা সোলস বলেন, বৈধ খনি ও সংশ্নিষ্ট অবকাঠামোগত প্রকল্প বনাঞ্চলের জন্য হুমকি। আর জলবায়ু পরিবর্তনে আমাজনের বন বিনাশের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করা পরিবেশবিদ আদ্রিয়ান মুয়েলবার্ট বলেছেন, অতীতে দাবানল বৃষ্টিহীনতার সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু এই বছর আর্দ্রতা যথেষ্ট রয়েছে। এর কারণে মনে করছি এই আগুন অরণ্য বিনাশের জন্যই।
বুধবার ব্রাজিলের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইনপে) স্যাটেলাইট উপাত্ত বিশ্নেষণ করে জানায়, গত বছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় এ বছর আমাজনে ৮৫ শতাংশ বেশি বার আগুন লেগেছে। সাধারণত জুলাই-অক্টোবর গ্রীষ্ফ্মকালীন মৌসুমে আমাজনে দাবানল হয়। বজ্রপাত ও গাছের ডালে ডালে ঘর্ষণ থেকে প্রাকৃতিক দাবানলের সূত্রপাত। তবে এখন বনাঞ্চলে কৃষি, পশুচারণ ও শিল্পের প্রসারের জন্য আগুন লাগিয়ে বন উজাড়ের মতো অহরহ ঘটনা ঘটছে। ইনপের তথ্য অনুয়ায়ী, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত এ দুই কারণে আমাজনে ৪০ হাজার বার আগুন লেগেছে, যেখানে ২০১৯ সালে একই সময়ে এ সংখ্যা ৭৫ হাজার বার এবং ২০১৭ সালে ছিল প্রায় ৫৫ হাজার বার, ২০১৬ সালে ছিল প্রায় ৭০ হাজার বার। ইমপের সর্বশেষ পরিসংখ্যান আরও বলছে, ২০১৮ সালে সব মিলিয়ে সাত হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল হারিয়ে গেছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালের আপাত পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আমাজন বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার এই হার প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর তিনগুণ হয়েছে। শুধু গত মাসেই ২২০০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল খালি করা হয়েছে, যা গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় ২৮০ শতাংশ হারে বেশি।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, মুনাফামুখী ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর পরিবেশবিরুদ্ধ কথাবার্তা বন উজাড়ের কর্মকাণ্ড উস্কে দিচ্ছে। এ অভিযোগের বিরুদ্ধে স্থানীয় সময় বুধবার ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে বোলসোনারো দাবি করেছেন, যেসব বেসরকারি সংগঠনের (এনজিও) তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে আমাজনে আগুন দিচ্ছে। তবে এ কথার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।
পরিবেশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মোঙ্গাবের তথ্যমতে, আমাজন জঙ্গল প্রতি বছর ২০০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। আর পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের ২০ শতাংশ উৎপাদন করে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার হার কমাতে এই বনভূমির বিশাল ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে আলোকপাত করে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে এক টুইটে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোন বলেন, আমাজন রেইন ফরেস্ট আমাদের গ্রহের ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে- তাতে আগুন জ্বলছে। জরুরি ভিত্তিতে জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দুই দিনে সদস্যদের এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। ফ্রান্সের বিয়ারিৎজ শহরে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে শিল্পোন্নত সাত দেশ- কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত জি-৭-এর সম্মেলন। তবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো ফরাসি প্রেসিডেন্টকে ‘চটকবাজ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, আমাজন দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়কে হাতিয়ার করে মাক্রোন বৈশ্বিক রাজনীতির ফায়দা তুলতে চাইছেন। আমাজন অববাহিকার দেশগুলো ছাড়া জি-৭ সম্মেলনে এ ইস্যুতে আলোচনা আহ্বান করা ঔপনিবেশিক মানসিকতা ছাড়া কিছুই নয়।
অন্যদিকে আমাজনের আগুনের ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ম্যাডোনা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বোলসানারো দয়া করে আপনার নীতি বদলান এবং শুধু আপনার দেশকেই নয়, পুরো বিশ্বকে সহযোগিতা করুন। এ ছাড়া হলিউডের সুপারস্টার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও তার ভক্তদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাজন গ্রুপকে অনুদান দিন এবং নির্বাচন এলে এমন নেতাকে ভোট দিন, যিনি জলবায়ু সংকট বোঝেন।’ আমাজন গ্রুপস জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কাজ করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস অ্যাটমোসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের (ক্যামস) বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, আমাজনে আগুন লাগলে তা দুই-তিন হাজারেরও বেশি কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আটলান্টিক উপকূলের দেশগুলোয় পৌঁছে যেতে পারে। চলতি বছরে আমাজনের আগুন থেকে ২২৮ মেগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাপক মাত্রায় বিষাক্ত কার্বন মনোঅক্সাইডও উৎপন্ন হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল অঞ্চলে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষ এই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। একই কারণে হুমকিতে রয়েছে ভেনিজুয়েলা, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডরসহ আমাজনের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের মানুষ। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়াচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড। ফলে আমাজন পুড়ে ছাই হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি আটকানোর প্রধান উৎসও হারাবে মানুষ। তখন এর ভয়ঙ্কর পরিণতি ভোগ করতে হবে গোটা বিশ্বের মানুষকে।

অনলাইন ডেস্ক> বাস টার্মিনালে টিকিট কাউন্টারের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে মানুষ। প্রত্যেকের হাতে প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্য পদার্থ। উদ্দেশ্য, কাউন্টারে জমা দেবেন এসব প্লাস্টিক। তাহলেই যে আর আলাদা করে অর্থ দিয়ে টিকিট কিনতে হবে না!
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রমী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার শহর সুরাবায়াতে। যেসব যাত্রীরা কাউন্টারে প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্য জমা দেবেন, তাঁদের আর আলাদা করে অর্থ খরচ করে টিকিট কাটতে হবে না।
মূলত সমুদ্র দূষণ কমাতেই সুরাবায়া শহরের প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনের পর সমুদ্র দূষণের দিক থেকে দ্বিতীয় দেশ ইন্দোনেশিয়া। দূষণ কমাতে নতুন এক প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটি। ২০২৫ সালের মধ্যে সমুদ্রে প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্যের পরিমাণ ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের (রিসাইক্লিং) ওপর মনোযোগী হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতেই তাই এমন অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুরাবায়ার প্রশাসন।

তিনটি বড় আকারের প্লাস্টিক বোতল কিংবা পাঁচটি মাঝারি আকারের বোতল জমা দিলে মিলছে এক ঘণ্টা দূরত্বের যাত্রাপথের টিকিট। বোতল না থাকলে ১০টি প্লাস্টিকের কাপ জমা দিলেও মিলছে একই টিকিট। শর্ত একটাই, বোতলগুলো নোংরা থাকা যাবে না কিংবা দুমড়ানো-মোচড়ানো অবস্থায় আনা যাবে না।
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে সাড়াও মিলছে ব্যাপক। যাত্রীরা নিজ উদ্যোগেই প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে ভ্রমণ করছেন গণপরিবহনে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের সুরাবায়া শহরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৬ হাজার যাত্রী প্লাস্টিকের বিনিময়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন। ৪৮ বছর বয়সী শহরের এক বাসিন্দা ফ্রান্সিসকা নুগরাহেপি এএফপিকে বলেছেন, ‘খুবই বুদ্ধিদীপ্ত একটি সমাধান এটি। যেখানে সেখানে ছুড়ে ফেলার বদলে লোকজন এখন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে রাখবে এবং সেগুলো কাউন্টারে নিয়ে আসবে।’

নুরহায়াতি আনোয়ার নামের এক যাত্রী তাঁর তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে সপ্তাহে একদিন প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাসে ভ্রমণ করেন। বিনা খরচে বাসে ভ্রমণ করার জন্য সপ্তাহজুড়ে আলাদা করে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে রাখেন, এমনটাও জানালেন ৪৪ বছর বয়সী আনোয়ার। তিনি বলেন, ‘অফিসে হোক বা বাসায়, ফেলে না দিয়ে মানুষ এখন বর্জ্য সংগ্রহ করে রাখার চেষ্টা করছে। সুরাবায়ার মানুষ এখন বুঝতে শিখছে, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।’
সুরাবায়ার এক পরিবহন কর্মকর্তা ফ্রাঙ্কি ইউনুস বলেছেন, শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্যই নয়, বরং শহরের মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহী করে তুলতেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ফ্রাঙ্কি ইউনুস বলেন, ‘মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া মিলছে। প্লাস্টিকের বিনিময়ে ভ্রমণের এই সুবিধা মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলছে।’
নতুন এই উদ্যোগের জন্য ২০টি নতুন বাস রাস্তায় নামিয়েছে সুরাবায়া কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি বাসেই রাখা হয়েছে প্লাস্টিক সংগ্রহের ঝুড়ি, তদারকি করার জন্য আছেন আলাদা কর্মকর্তাও। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, প্রতি মাসে প্রায় ৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। এরপর রিসাইক্লিং কোম্পানিগুলোর কাছে নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয় বর্জ্যগুলো।
সুরাবায়ার দেখাদেখি ইন্দোনেশিয়ার অন্য অঞ্চলগুলোও এমন পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে। সমুদ্র বাঁচাতে মাত্র একবার ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পর্যটকপ্রিয় দ্বীপ বালি। রাজধানী জাকার্তাও প্লাস্টিকের তৈরি শপিং ব্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যালেন ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশন নামের একটি গবেষণা সংস্থা ২০১৬ সালে জানিয়েছিল, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী মোট মাছের চেয়ে বেশি ওজনের প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হবে। ধারণা করা হয়, প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ টন প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্য পদার্থ সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হয়।

অনলাইন ডেস্ক> দিনকে দিন বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। এর ফলে বিশ্বে দেখা দিয়েছে উষ্ণায়ণ। বরফ গলছে মেরু প্রদেশে। সবচেয়ে ভয়ংকর অবস্থা গ্রিনল্যান্ডে। সেখানে এক দিনেই বরফ খণ্ড গলেছে ১ হাজার ১০০ কোটি টন (১১ বিলিয়ন)। বরফ গলে পানি হয়ে যাওয়ার এ খবরে আতঙ্কিত বিজ্ঞানীরা। গলে যাওয়া বরফের পরিমাণ অলিম্পিকের ৪৪ লাখ সুইমিং পুলের সমান।
গ্রিনল্যান্ডে অবশ্য বরফ গলার ঘটনা আশ্চর্যের কিছু নয়। সাধারণত গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে গ্রীষ্মেই। এ বছর বরফ গলতে শুরু করেছে একটু আগেই। চার মাস ধরে সেখানে বরফ গলছে।
মেরু প্রদেশ নিয়ে গবেষণা করা ডেনমার্কের ওয়েবসাইট ‘পোলার পোর্টাল’ এবং ‘ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টার’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহ (জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ) ধরেই গ্রিনল্যান্ডের বরফ অতিরিক্ত হারে গলেছে। এর মধ্যে গত ৩১ জুলাই বরফস্তরের উপরিভাগের ৬০ শতাংশ গলে গেছে। এতে প্রায় ১১ বিলিয়ন টন বরফ সুমেরু মহাসাগরে মিশে গেছে। ২০১২ সালের পর এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি হারে বরফের গলে যাওয়া। তাপমাত্রার পারদ যদি এর মধ্যে না নামে, তবে আরও বরফ গলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, উত্তর পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সাদা বরফস্তরের ওপর নীল বিন্দু, যা আসলে বরফ গলে তৈরি হওয়া জলাশয়ের মতো স্থান। ছবি: সংগৃহীত

ডেনমার্কের আবহাওয়া ইনস্টিটিউটের জলবায়ু বিজ্ঞানী রুথ মোট্রাম জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসে গ্রিনল্যান্ডের ১৯৭ বিলিয়ন টন হিমবাহ গলে পানিতে মিশে গেছে। এর ফলে মাত্র এক মাসে সমুদ্রের পানির বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ০.১ মিলিমিটার বা ০.০২ ইঞ্চি। এর পরিমাণ অলিম্পিকের ৮ কোটি সুইমিং পুলের সমান। তিনি বলেন, এ বছরে গড়ে মাসে ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন টন বরফ গলেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৯৫৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বরফ গলেছে চলতি বছরেই। তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙে গেছে। গ্রীষ্মে বরফ গলে পানিতে পরিণত হয়েছে।
উপগ্রহ চিত্রে উত্তর–পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের সাদা বরফস্তরের ওপর নীল বিন্দু দেখা গেছে। এগুলো আসলে বরফ গলে তৈরি হওয়া জলাশয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভাবে সমুদ্রে পানিস্তর বাড়ার ফলেই সামুদ্রিক ঝড় এত বেশি হচ্ছে আজকের পৃথিবীতে। ইউরোপে তাপপ্রবাহের জেরে গত এক সপ্তাহে (জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ) গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত উচ্চ চাপ বলয় তৈরি হয়েছে। তার ফলেই সেখানের বরফস্তর গলে যাচ্ছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট

অনলাইন ডেস্ক> বিশ্বব্যাপী কমে যাচ্ছে সবুজ গাছপালার সংখ্যা। বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা, গলে যাচ্ছে দুই মেরুর বরফ। এমন অবস্থায় দারুণ ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপ নিয়েছে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া। এক দিনেই ২০ কোটির বেশি গাছ লাগিয়েছে দেশটি!
ইথিওপিয়ার সরকারের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এক দিনে সবচেয়ে বেশি গাছ লাগানোর বিশ্ব রেকর্ড করেছে ইথিওপিয়া, এমন দাবিও করছে দেশটির সরকার।
দেশটির প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী টুইট করে বলেছেন, ইথিওপিয়ায় সোমবার (২৯ জুলাই) কেবল এক দিনেই ২২ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। ৪০০ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার, এমনটিও জানিয়েছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা।
খরা প্রবণ এই দেশটিতে সবুজ গাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, একবিংশ শতাব্দীতে এসে ইথিওপিয়ার বনভূমির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমতে কমতে মাত্র ৪ শতাংশের একটু ওপরে এসে ঠেকেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে তাই এমন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তারা যেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন, সে কারণে বিভিন্ন সরকারি অফিসও বন্ধ রাখা হয়েছিল।
কত গাছ লাগানো হলো, সেটি গুনে রাখার জন্য আলাদা লোক নিয়োগ দিয়েছে ইথিওপিয়ার সরকার, এমনটিও বলা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে। দেশটির অন্তত ১ হাজার ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। সাধারণ জনগণকে গাছ লাগাতে উৎসাহ করতে সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারণামূলক ভিডিও প্রচার করছে ইথিওপিয়ার সরকার।
তবে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সমালোচকদের দাবি, দেশটিতে চলমান নানা সংকটের ওপর থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে নিতেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। দেশটিতে চলমান জাতিগত বিদ্বেষের কারণে প্রায় ২৫ লাখ লোক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এক দিনে সবচেয়ে বেশি গাছ লাগানোর স্বীকৃত রেকর্ডটি বর্তমানে ভারতের দখলে। ২০১৬ সালে ৮ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের সহযোগিতায় এক দিনে ৫ কোটি গাছ লাগিয়েছিল ভারত।

২৪ নিউজভিশন.কম> চিংড়ি মাছের ফেলে দেওয়া খোসা এখন আর বর্জ্য নয়। এই খোসা ব্যবহার করে বাংলাদেশের দুই বিজ্ঞানী স্ট্রবেরির উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান উদ্ভাবন করেছেন। এতে স্ট্রবেরির উৎপাদন ৪৮ শতাংশ বাড়বে।
স্ট্রবেরির সুরক্ষায় উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান উদ্ভাবনের গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। গবেষক দলটি ইতিমধ্যে ওই উপাদান স্ট্রবেরির ওপর প্রয়োগ করে উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে ফলটিতে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা আশা করছে। গবেষণা প্রবন্ধটি গত শুক্রবার অনলাইন বিজ্ঞান সাময়িকী প্লস ওয়ান-এ প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর আন্তর্জাতিক শাখা এই উদ্ভাবনের কার্যকারিতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ‘চিংড়ির খোলস সাধারণত আমরা ফেলে দিই। এই গবেষণার মধ্য দিয়ে আমরা এই ফেলে দেওয়া অংশটিকে সম্পদে পরিণত করতে পেরেছি। এত দিন স্ট্রবেরিতে বিভিন্ন জীবাণু আক্রমণ দমনে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহৃত হতো। এর ফলে স্ট্রবেরির মান খারাপ হতো। কিন্তু উদ্ভাবিত উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান ব্যবহারের পর দেখা গেছে, উৎপাদিত স্ট্রবেরির খাদ্যমান ভালো হয়েছে। এটি নিরাপদও হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, চিংড়ির খোলস থেকে তৈরি ওই উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান ব্যবহারের ফলে স্ট্রবেরিতে মানবদেহের জন্য উপকারী উপাদান ফেনলিক ও ভিটামিন সি’র পরিমাণ দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। এ ছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও বেড়েছে, যা মানুষের শরীর সতেজ রাখতে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, স্ট্রবেরি ছত্রাক ও অণুজীবঘটিত রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের বায়ুতে উচ্চ আর্দ্রতার উপস্থিতি এ ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল। আর একই জমিতে বারবার স্ট্রবেরি চাষের ফলে রোগবালাই আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের রোগ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষক অনুমোদনহীন নানা ধরনের রাসায়নিক বালাইনাশকের মিশ্রণ তৈরি করে মাঠে ব্যবহার করে, যা সামগ্রিকভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের উদ্ভাবিত উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান দেশের স্ট্রবেরির উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি একে সুস্বাদু ও নিরাপদ করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে স্ট্রবেরির চাষ শুরু হয়। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত স্ট্রবেরির উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ে। ২০১৪-১৫ সালে দেশে ২৮০ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি হয় ১ হাজার ৬০০ টন। ২০১৬-১৭ সালে তা কমে ২২১ টন হয়। তবে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা আবারও বেড়ে ৫০০ টন হয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ একবার কমে যাওয়া ও বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে কৃষিবিদেরা বলছেন, মূলত ছত্রাকসহ নানা ধরনের রোগের কারণে স্ট্রবেরির উৎপাদন কমে আসে। চিংড়ির খোসা থেকে তৈরি উৎপাদন বৃদ্ধিকারক উপাদান ব্যবহারের ফলে স্ট্রবেরি রোগমুক্ত হবে এবং উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

২৪ নিউজভিশন.কম> অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুইডেন। এখন চলছে গরমকাল। এ বছর প্রচন্ড গরম পড়েছে। তীব্র তাপদাহে স্থানীয়দের জনজীবন অস্বস্তিতে পড়েছে। আর এ সময়টাতে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর দর্শনার্থীও বেড়াতে এসেছেন।

Select Language