রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০১:৪৫
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
ধর্মের বাণী

২৪ নিউজভিশন.কম> টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আগামী শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) শুরু হচ্ছে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের বার্ষিক মহাসম্মেলন-৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। ইতিমধ্যে আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতির ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ শুক্রবারের আগেই শেষ হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ১২ জানুয়ারি শুরু হওয়া এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। প্রথম পর্বের আগত মুসল্লিদের জন্য পুরো ময়দানকে বেশ কয়েকটি খিত্তায় বিভক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেক খিত্তায় জিম্মাদার নিয়োজিত থাকবেন একজন। আগত তাবলিগ কর্মীরা প্রত্যেক খিত্তায় নিয়োজিত জিম্মাদারের কাছে পরামর্শ গ্রহণ করবেন বিভিন্ন বিষয়ে। এবারের দুই পর্বের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন ৩২ জেলার মুসল্লিরা।
প্রথম পর্বে অংশ নেবেন ঢাকা, শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, ঝিনাইদহ, জামালপুর ও ফরিদপুর জেলার মুসল্লিরা।
ইজতেমায় আগত এসব মুসল্লির সুবিধার্থে গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ, স্থায়ী টয়লেট ও সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে বয়ান মঞ্চ, দোয়া মঞ্চ, তুরাগ নদে ভাসমান সেতু ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।
বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি গিয়াস উদ্দিন জানান, মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইজতেমা ময়দানে জায়গা কম থাকায় ২০১৬ সাল থেকে ৬৪ জেলার মুসল্লিদের ৩২ জেলা করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এই ৩২ জেলার মুসল্লিদের মধ্যে আবার ১৬ জেলা করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক বছর পরপর ৩২ জেলার মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রথম পর্বে অংশ নেবেন ১৬ জেলার মুসল্লি ও দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন ১৬ জেলার মুসল্লি। বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় এ বছরও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিংয়ে পুলিশের জন্য ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। তা ছাড়া সিভিল বেশে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ইজতেমা মাঠের ভেতরে খিত্তায় খিত্তায় অবস্থান করবেন। আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যের পাঁচটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনা করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে, টঙ্গী তুরাগ নদের তীরে এক বর্গকিলোমিটার এলাকা, ১৬৫ একর জমির ওপর বাঁশের খুঁটি দিয়ে চটের ছাউনির মাধ্যমে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে।
বিশ্ব ইজতেমার আরেক মুরুব্বি মাওলানা মাহফুজ জানান, এবারের আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতির ৯০ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিদিন প্রস্তুতি কাজে অংশ নিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও সিটি করপোরেশন পানি, বিদ্যুৎ ও টয়লেট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এ বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো মাঠে দাগ (কাতার) দেওয়া হয়েছে নামাজের জন্য। মুসল্লিদের জেলা ও উপজেলায় নির্ধারণ করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে খুঁটি ও খিত্তা। বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের তুরাগ পারাপারের জন্য ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে।
প্রতি বছরের মতো এবারও বিদেশি মেহমানদের জন্য ইজতেমা মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে টিন দিয়ে কামরা নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। পশ্চিমে তুরাগ পাড়ে গ্যাস সুবিধাসহ রান্নার চুলা ও রন্ধনশালা নির্মাণ করা হয়েছে তাদের জন্য। এ ছাড়া ইজতেমা শুরুর আগে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, বিলবোর্ড ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে। যানজট নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক কাজ করবে ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ। এ ছাড়াও বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিত, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস, চিকিৎসাসেবা বাস্তবায়ন এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক অফিস চত্বরে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে রোববার (৭ জানুয়ারি) সকালে। এ প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহম্মদ হুমায়ূন কবীর, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও ইজতেমা ময়দানের শীর্ষ মুরুব্বিরা। এ সভায় সার্বিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
চার দিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।

২৪ নিউজভিশন.কম> একদা হজে যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল সমুদ্রপথ। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ জাহাজে ওঠার জন্য গিয়ে জড়ো হতেন মুম্বাইয়ে। তখনও মুম্বাইকে বোম্বাই বলা হতো এবং ওই পর্যন্ত পৌঁছার পরও হজে যেতে ব্যর্থ হওয়াদের রসিকতা করে ‘বোম্বাই হাজি’ বলা হতো। গত শতাব্দীর ষাটের দশক পর্যন্ত সমুদ্রপথে হজযাত্রা অব্যাহত ছিল। সময় একটু বেশি লাগলেও এতে খরচও বেশ সাশ্রয় হতো। বাংলাদেশের হাজিরা যাতে আবার সমুদ্রপথে হজে যেতে পারেন, সে জন্য হজ জাহাজ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নৌ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে এ নিয়ে একাধিক সভা করেছেন। সভায় সমুদ্রপথে হজ জাহাজ চালুর কার্যক্রম কীভাবে সহজতর করা যায়- সেটা নিয়ে চুলচেরা বিশ্নেষণ ও পর্যালোচনা হয়।
বাংলাদেশে সমুদ্রপথে হজযাত্রা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও আফ্রিকার দুটি দেশ এরই মধ্যে সমুদ্রপথে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতও একই পথ অনুসরণ করছে। আগামী বছর সমুদ্রপথে সৌদি আরবে হজযাত্রী পাঠাবে তারা। বাংলাদেশও এখন নৌপথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, কীভাবে সমুদ্রপথে হজযাত্রা চালু করা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক বলেন, নৌপরিবহনমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর উপায়ও খোঁজা হয়েছে। প্রতি বছর বিমানে হজযাত্রী পাঠাতে যে ধরনের ঝামেলা ও সংকট তৈরি হয়, সমুদ্রপথকে কাজে লাগানো সম্ভব হলে তা অনেক কমবে। সময় একটু বেশি লাগলেও খরচ অনেক কম হবে।
তিনি আরও বলেন, দুটি মাধ্যমে এ কাজটি করা যেতে পারে। একটি সরকারিভাবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মাধ্যমে জাহাজ কিনে হজ জাহাজ চালু করা যেতে পারে। অন্যটি বেসরকারি শিপিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নিজেরা উদ্যোগী হয়ে জাহাজ কিনে সরকারের অনুমতি নিয়ে এ কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে।

২৪ নিউজভিশন.কম> হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগে আশকোনার হজ ক্যাম্পে বিক্ষোভ মিছিল করছেন হজযাত্রীরা। শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।
মিছিলে প্রতারক হজ এজেন্সির মালিকদের বিচার ও হজে যাওয়ার নিশ্চয়তার দাবি তোলেন হজযাত্রীরা। তাঁরা জানান, মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাভিয়েশন, আল বালাক, সানজিদ ট্রাভেল, ইকো ট্রাভেলসহ কয়েকটি এজেন্সি যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়েও টিকিট দেয়নি। এ বছরের হজযাত্রার শেষ মুহূর্তে গতকাল শুক্রবার এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ নিয়ে হজযাত্রীরা জড়ো হন আশকোনার হজ ক্যাম্পে। এজেন্সিকে টাকা দিয়েও হজে যেতে না পারার অনিশ্চয়তায় মুষড়ে পড়েছেন তাঁরা।
শনিবার সকালে হজ পরিচালকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন। তিনি বলেন, যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তারা যদি দুই দুনের মধ্যে হজযাত্রী পাঠানোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জিডি থেকে মামলা করা হবে।
বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়ার কথা। ৯৫১ জনের পাসপোর্ট শেষ দিনেও জমা না পড়ায় তাঁদের ভিসা পাওয়ার আর সুযোগ নেই। তাই এবার বাংলাদেশ থেকে হজে যাচ্ছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪৭ জন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯৬ জন হজযাত্রী। হজ ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, বিমানের শেষ প্রাক্-হজ ফ্লাইট (২৬ আগস্ট) শনিবার। সৌদি এয়ারলাইনসের শেষ প্রাক্-হজ ফ্লাইট সোমবার (২৮ আগস্ট)। এই সময়ের মধ্যে ভিসা পাওয়া ১৭ হাজার ১৫১ জন হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। প্রায় তিন হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরবে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

২৪ নিউজভিশন.কম>
আগামী ২ সেপ্টেম্বর, শনিবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। বুধবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য

২৪ নিউজভিশন.কম>
পবিত্র হজের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ সোমবার (১৪ আগস্ট) পর্যন্ত বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার ৯২৪ জন হজযাত্রীকে ভিসা দিয়েছে। ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের কাছে আর কোনো হজযাত্রীর ভিসার আবেদন জমা নেই।

এবার হজযাত্রীদের যাওয়া নিয়ে জটিলতা এবং এ নিয়ে ১৩ আগস্ট হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়ার কথা। সেই হিসাবে এখনো ৮ হাজারের কিছু বেশি হজযাত্রীর ভিসা বাকি আছে।

বাকি হজযাত্রীদের ভিসার বিষয়ে জানতে চাইলে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দিন গত রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৪ আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৩ জনের ভিসার আবেদন নিবন্ধিত হয়েছে। আশা করছি, বাকি ১ হাজার ২৮৫ জনের আবেদন বুধবারের মধ্যে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। চূড়ান্ত সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশের সব হজযাত্রী ভিসা পেয়ে যাবেন বলে আমাদের ধারণা।’

এদিকে রাজধানীর আশকোনার হজ কার্যালয় বলেছে, হজ এজেন্সিগুলোকে তাগাদা দেওয়ার পর মঙ্গলবার হজ কার্যালয়ে ৪৫৩ জন হজযাত্রীর পাসপোর্ট জমা পড়েছে। ১১ হাজার ৫৪৭ জন হজযাত্রীর পাসপোর্ট জমা পড়েনি। সৌদি দূতাবাসে ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট)।

মঙ্গলবার হজ ফ্লাইটে কোনো যাত্রী-সংকট হয়নি। হজ কার্যালয় মনে করছে, হজযাত্রীদের ভিসা পেয়ে সময়মতো সৌদি আরব পৌঁছাতে আর কোনো জটিলতা হবে না।

হজযাত্রীদের ভিসা পেতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় ১৩ আগস্টের মধ্যে হজ কার্যালয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ায় ১৬টি এজেন্সিকে হজ কার্যালয়ে সোমবার তলব করা হয়। সোমবারের সভায় তাদের তিন দিন সময় বেঁধে দিয়ে সতর্ক করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হজ কার্যালয়ের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তলব করা ১৬টি এজেন্সির মধ্যে এখনো ২টি এজেন্সি প্রায় ৪০০ হজযাত্রীর পাসপোর্ট জমা দেয়নি। ৬৯৫টি এজেন্সির কারও ৫টি, কারও ১০টি করে পাসপোর্ট এখনো জমা দেওয়ার বাকি। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ হাজার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাকি পাসপোর্ট জমা হওয়া এক দিনেও সম্ভব।

বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয় গত ২৪ জুলাই। শুরুর দিকে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় গত ১৮ দিনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনসের ২৭টি হজ ফ্লাইট বাতিল বা পেছানো হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বিমান ও ২৭ আগস্ট সৌদি এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে শেষ প্রাক্-হজ ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা।

হজ কার্যালয়ের সূত্র বলেছে, মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সৌদি এয়ারলাইনসের চারটি ও বিমানের ছয়টি ফ্লাইটে ৩ হাজার ৭৭২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ৬৫ হাজার ৭৮৪ জন সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

এজেন্সিগুলো পাসপোর্ট জমা দিতে কেন দেরি করল—এমন প্রশ্নে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন বলেন, সৌদি আরবে হজযাত্রীদের মক্কা ও মদিনায় থাকার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। এটা হিসাব করে হজ এজেন্সিগুলো পরের দিকে ফ্লাইট বুকিং করে। এই হিসাবে বিমান বাংলাদেশ যদি ক্যাপাসিটি তৈরি বা স্লট বরাদ্দ নিত, তাহলে এই সমস্যা হতো না। ২৭টি হজ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার দায় কার এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এর দায়দায়িত্ব হাবের নয়। বাড়িভাড়ার সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কিত।

হাবের মহাসচিব বলেন, ‘এখন থেকে আর ফ্লাইট খালি যাবে না। আর ক্যাপাসিটি লস হওয়ারও কোনো আশঙ্কা আমি দেখি না। প্রতি মুহূর্তে এটা কমছে। আশঙ্কার কিছু নেই। ভিসা নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না।’

২৪ নিউজভিশন.কম>
আগামী ২৫ জুন রোববার আমেরিকায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাডাম সেন্টার তাদের ওয়েব সাইটে এই ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৭ মে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিবস শুরু হয়েছে এবং শেষ হবে ২৪ জুন শনিবার। ২৫ জুন রোববার পবিত্র শাওয়াল মাসের প্রথম দিন এবং ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিবসেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমেরিকায়ও ঈদুল ফিতরই হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহত্তম উৎসব। এ উপলক্ষে পুরো রমজান মাস ধরে কেনাকাটা চলছে।
ফিতরা: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। এ বছর আমেরিকায় জন প্রতি সর্বনিম্ন ফিতরার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১৫ ডলার। যে কেউ ইচ্ছা করলে সর্বনিম্ন এই হার থেকে সর্বোচ্চ হারে ফিতরা আদায় করতে পারবেন। এটি এক ধরনের সাদকা বা দান, যা রোজার ভুলত্রুটি দূর করার জন্য আদায় করা হয়। ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করার বিধান রয়েছে।

২৪ নিউজভিশন.কম>
সুইডেনের সবচেয়ে উত্তরের শহর কিরুনায় গ্রীষ্মকালে প্রায় দেড় মাস সূর্যাস্তই হয় না। এবারের রমজানের প্রায় অর্ধেকটাই পড়েছে এই সময়ে। আর আর্কটিক সার্কেল বা উত্তর মেরু বলয়ের ভেতরে অবস্থিত এই শহরে এখন প্রায় ৭০০ মুসলিম বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেই রোজা রাখেন। কিন্তু যেখানে সূর্য ডোবে না, সেখানে কখন সেহরি খাবেন আর কখনই বা ইফতার করবেন তাঁরা? আল জাজিরা ডটকম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সূর্য না ডোবার দেশে রোজা রাখার অভিজ্ঞতার কথা।

উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের অনেকটা অংশজুড়েই গ্রীষ্মকালের একটা নির্দিষ্ট সময় আক্ষরিক অর্থেই সূর্য ডুবতে দেখা যায় না। তেমনি শীতকালেরও একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে সূর্য উঠতে দেখা যায় না। গ্রীষ্মকালের এ সময়টাকে ‘মেরু দিন’ এবং শীতকালের এই সময়টাকে ‘মেরু রাত্রি’ বলা হয়ে থাকে। স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের দেশ সুইডেনের কিরুনা শহরটি আর্কটিক সার্কেল বা উত্তর মেরু বলয়ের আরও ১৪৫ কিলোমিটার ভেতরে। এখানে গ্রীষ্মকালেও পর্বত চূড়াগুলো সাদা বরফে ঢাকা থাকে। পুরো গ্রীষ্মকালেই রাতের আকাশ থাকে অনেকটাই আলোকিত, পুরো শীতকালে দিনের আলোর দেখা মেলা ভার।

মাত্র ১০০ বছরের কিছু আগে বসতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে কিরুনা শহরের পত্তন হয়েছিল মূলত লোহার খনিকে ঘিরে। খনির শহর কিরুনায় সব মিলিয়ে হাজার বিশেক বাসিন্দার মধ্যে একটা বড় অংশই অভিবাসী শ্রমিক। এঁদের মধ্যে আছেন বিভিন্ন দেশ থেকে সুইডেনে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী মুসলিমরাও। গত কয়েক দশকে এখানে আসা মুসলিমরা ভৌগোলিক কারণে নামাজের সময়সূচি এবং রোজা রাখা নিয়ে বিপাকে পড়েন। এ বিষয়ে মুসলিম ধর্ম-তাত্ত্বিকদের নির্ধারণ করা কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় কিরুনার মাত্র কয়েক শ মুসলিমও ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম মেনে চলেন।

গ্রীষ্মকালে দিনের আলোয় কিরুনা শহরের ‘সিটি হল’ বা নগর মিলনায়তন।

সিরিয়া থেকে আসা গাশান আলানকার জানান, ‘রাত সাড়ে তিনটার সময় সেহরি করে আমি যখন রোজা শুরু করি, তখনো আমার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করতে থাকে মধ্যরাতের সূর্য। আমার ঘরে দুই পরত করে পর্দা লাগানো থাকলেও বাইরে থেকে আসা আলোর মধ্যেই আমাকে ঘুমাতে যেতে হয়।’

আলানকার সৌদি আরবের মক্কা নগরের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন। তবে, তাঁর ইবাদত কবুল হয় কি না, তা নিয়ে সংশয়ও আছে আলানকারের। সিরিয়ায় যুদ্ধের কবল থেকে পালিয়ে মাত্র সাত মাস আগে লেবানন হয়ে তুরস্ক ও গ্রিস ঘুরে কিরুনায় আসেন তিনি। মক্কার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওইটাই ইসলামের জন্মভূমি। আমি ভুল করছি কি না, জানি না। কিন্তু আল্লাহর ঘরকে ঘিরে আমার ইবাদত তো কবুল হওয়ার কথা।’

অবশ্য, কিরুনা শহরের বেশির ভাগ মুসলিমই এক হাজার ২৪০ কিলোমিটার দূরে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের স্থানীয় সময়ের সঙ্গে মিল রেখে সেহরি ও ইফতার করেন। ডাবলিনভিত্তিক মুসলিম শরিয়া আইন বিশেষজ্ঞদের সংগঠন ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফতোয়া অ্যান্ড রিসার্চ (ইসিএফআর) সম্প্রতি তাঁদের এই পরামর্শ দিয়েছে। এখানকার এত দীর্ঘ দিনে রোজার অভিজ্ঞতা সশরীরে দেখে এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য সংগঠনটির মহাসচিব হুসেইন হালাওয়াকে এই রমজানে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসেন কিরুনার মুসলিমরা। স্টকহোমের সময় অনুসরণ করা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা নিকটবর্তী শহর, যেখানে ‘রাত আর দিন আছে।’

ইরিত্রিয়া থেকে আসা মুসলিম ইদ্রিস আবদুল ওয়াহাব ইসিএফআরের ফতোয়া অনুসরণ করে স্টকহোমের সময় মেনে রোজা রাখেন। সেই হিসাবে রমজানে তাঁর দীর্ঘতম রোজাটি হবে ২০ ঘণ্টার।

কিরুনায় আরেক দল মুসলিম আছেন, যাঁরা নামাজের স্থানীয় নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে মিল রেখেই রোজা রাখেন। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান থেকে আসা কানিজ ফাতিমা তাঁদের অন্যতম। এই সময়সূচি অনুসারে সেহরি ও ইফতার করলে ফাতেমার রোজার দিনগুলো গড়ে ১৮ ঘণ্টার মতো হবে। তবে, সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে তাঁকে সর্বোচ্চ ২৩ ঘণ্টাও রোজা রাখতে হবে। নিজের মতামত তুলে ধরে ফাতিমা বলেন, ‘আমি কিরুনায় থাকি। সারা বছর আমি এখানকার নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়ি। তাহলে রমজানের সময় আমি কেন স্টকহোমের সময় মেনে রোজা রাখব?’ বেলুচিস্তান থেকে কিরুনায় আসার পর থেকে গত চার বছরই ফাতিমা এই নিয়ম মেনে চলছেন।

কিরুনা শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কুকুরে টানা স্লেজ-গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো মেরুবলয়ের পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

সোমালিয়া থেকে আবদুল নাসের মোহাম্মদ ২০০০ সালে কিরুনায় আসেন। সেবার এখানে রমজান পড়েছিল শীতকালের মাঝামাঝি। তিনি বলেন, ‘কোথাও প্রতিষ্ঠিত কোনো ইসলামি সংগঠন এ বিষয়ে স্পষ্ট মতামত দেয়নি এবং আমি ইন্টারনেটে খুঁজেও কিছু পাইনি। তাই আমাকে আমার মতোই আইন বানিয়ে নিতে হয়েছিল। আমি সে সময় প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার মতো রোজা রেখেছি।’

আবদুল নাসের এখন কিরুনার ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান। তিনি এখন গ্রীষ্মকালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সময়সূচি মেনে সেহরি ও ইফতার করেন। কেননা তুরস্কই সুইডেন থেকে সবচেয়ে কাছের মুসলিমপ্রধান দেশ। তবে, বিষয়টা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘ইসলাম কঠোর নয়। আর রোজাও মানেও খালি উপোস থাকা বা নিজেকে কষ্ট দেওয়া নয়। ফলে, মানুষের নিজের সুবিধামতো বেছে নেওয়ার অধিকার আছে।’

কিরুনা শহরের খনি থেকে ট্রেনের মালগাড়িতে করে লোহার আকর বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের অনুসরণ করা হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে মাস বা তারিখ শুরু হয় চাঁদ দেখা যাওয়ার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যায়। আর প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় নির্ধারণ হয়ে থাকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত মেনে চলে সূর্যের অবস্থানের সাপেক্ষে। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সঙ্গে হিসাব মেলালে দেখা যায়, চাঁদের পরিক্রমা অনুসারে প্রতিবছরই ১১ দিন করে এগিয়ে আসে রমজান মাস। আর এই হিসাবে প্রতি ৩৩ বছরে একবার ঘুরেফিরে ঠিক একই সময়ে রমজান পালনের সুযোগ পান মুসলিমরা।

কিরুনায় এবারের রমজান গ্রীষ্মকালে হলেও একসময় তা শীতকালে চলে যাবে। আর এখন সূর্য না ডোবার সমস্যার পরিবর্তে তখন সূর্য না ওঠার সমস্যায় পড়বেন এখানে বসবাসকারী মুসলিমরা। গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখার পরিবর্তে তখন মাত্র কয়েক ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে তাঁদের। কিন্তু শীতকালের কিছুদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়তে হবে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই। কেননা বছরের ওই সময়ে মাত্র ঘণ্টা দুয়েকের জন্যই আকাশে সূর্য দেখা যাবে। বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফতোয়া অ্যান্ড রিসার্চের মহাসচিব হুসেইন হালাওয়া আল জাজিরাকে জানান, কিরুনার মতো এমন প্রতিকূল ভৌগোলিক অঞ্চলে নামাজ ও রোজার সময়সূচি নির্ধারণ করা নিয়ে এই বছরের শেষ দিকে তাঁরা একটা সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছেন।

২৪ নিউজভিশন.কম>
শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান। মুসলমানদের কাছে এই মাস অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। শনিবার (২৭ মে) এশার নামাজের পর থেকেই শুরু হয়েছে তারাবির জামাত। শেষ রাতে সাহ্রি খেয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমান নরনারীরা দিবাভাগে পানাহার-বিরত থেকে সিয়াম পালন শুরু করেছেন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে তাঁর বাণীতে রমজান মাসের পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে এর সঠিক প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, সবাই রমজানের পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে এর সঠিক প্রতিফলন ঘটাবেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অবদান রাখবেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে জীবনের সর্বস্তরে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সকল প্রকার অকল্যাণ বর্জন করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরস্পরকে সহযোগিতা করি। জীবনের সর্বস্তরে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করি।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে পৃথক বাণীতে মাসটির পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান এবং দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

২৪ নিউজভিশন.কম>
রোববার (২৮ মে) থেকে শুরু হচ্ছে সিয়াম সাধনার পবিত্র রমজান মাস। আজ শুক্রবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এ তথ্য জানান।

শুক্রবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, আজ দেশের কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে সিয়াম সাধনার রোজা। ২২ জুন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৩৮ সালের রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার রমজানের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শনিবার থেকে সৌদি আরবে রোজা পালন করবেন সৌদি আরবের মুসলমা​নরা।

২৪ নিউজভিশন.কম>
আগামী ১১ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হবে। বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) থেকে পবিত্র শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ১৪ শাবান ১১ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।
সভায় পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় আগামীকাল ২৮ এপ্রিল শুক্রবার থেকে পবিত্র শাবান মাস গণনা শুরু হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৪ শাবান, ১১ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হবে।

সভায় ওয়াক্‌ফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রেস) মো. মিজান-উল-আলম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার ফজলে রাব্বী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) মো. শাখাওয়াত হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব শাফায়াত মাহবুব, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দিন আহমাদ, ধর্মসচিবের একান্ত সচিব মো. গোলাম মওলা, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুর রহমান, স্পারসোর সিএসও মো. শাহ আলম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Select Language