রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০৩:০৪
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
দেশ-দেশান্তর

অনলাইন ডেস্ক> বেশ কিছুদিন ধরেই এক ‘রহস্যময়’ রকেট আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। সেই চেষ্টা চলাকালীন গত আগস্টে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে প্রাণ হারান সাতজন। ভয়ংকর এই দুর্ঘটনার পরও রাশিয়া এই প্রকল্প অব্যাহত রাখবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিশ্চিত করেছেন, যেকোনো কিছুর মূল্যে এই রকেট রাশিয়া আনবেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই রহস্যময় রকেট বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর পদক তুলে দেন পুতিন। সেখানেই এই রকেট প্রকল্প অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের উদ্দেশে পুতিন বলেন, ‘যা-ই হোক না কেন, আমরা অবশ্যই একে নিখুঁতভাবে তৈরি করব। পৃথিবীতে শান্তি নিশ্চিত করার জন্য এ রকম অনন্য প্রযুক্তির অস্ত্রের অবশ্যই প্রয়োজন আছে।’ রকেটটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানালেও পুতিন জানিয়েছেন, এই রকেটে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।
গত ৮ আগস্ট রুশ নৌবাহিনীর একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে রকেটটির ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হয়ে পাঁচজন প্রকৌশলীসহ মোট সাতজন নিহত হন। এ ছাড়া গুরুতর আহত হন আরও ছয়জন। রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটম জানায়, বিস্ফোরণ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তার কারণে প্রকৌশলীরা সমুদ্রে ছিটকে পড়েছিলেন। বিস্ফোরণের পরপর নিকটবর্তী বড় শহর সেভেরদভিনস্কে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬ গুণ বেড়ে যায়। পরে ওই এলাকায় কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।
যে রকেট নিয়ে এত আলোচনা, সেটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি রাশিয়া। যে কারণে রকেটটি নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছেই। রাশিয়া কেবল এতটুকু নিশ্চিত করেছে যে, রকেটটির ইঞ্জিন পরিচালিত হবে পারমাণবিক শক্তির সাহায্যে। গুঞ্জন ছিল, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল কিংবা পানির নিচ থেকে আক্রমণে সক্ষম ড্রোন তৈরির জন্য পরীক্ষা চালাচ্ছে রাশিয়া। তবে রাশিয়া ও পাশ্চাত্য দেশগুলোর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘নাইনএম৩৭০ বুরেভেস্টনিক’ নামের একটি মিসাইল তৈরির জন্যই এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে রাশিয়া। ন্যাটো এ ধরনের রকেটকে বলে থাকে ‘স্কাইফল’।
প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, এই মিসাইলে (মতান্তরে রকেট) কোনো বাঁধাধরা সীমা থাকবে না। অর্থাৎ যেকোনো দূরত্বের লক্ষ্য ধ্বংস করতে পারবে এই ক্ষেপণাস্ত্র।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়ার এই নতুন অস্ত্র প্রতিশোধমূলক অভিযানে কাজে দেবে। মূলত পারমাণবিক হামলার পর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে এই নতুন প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক> যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হিরন আলী (৪২) নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নেলসন স্ট্রিটে নিজ বাড়ির সামনে হিরনের মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) লন্ডনের রয়্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহত হিরন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বৈদ্যকাপন (উজান-মসলা) গ্রামের মৃত ইরফান আলী ও হারুনা বিবি দম্পতির বড় ছেলে। লন্ডনেই তার জন্ম। সেখানেই একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় একটি ফাস্টফুডে খাবার কিনতে যান হিরন। খাবার নিয়ে ফিরে এসে বাসায় ঢোকার সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার হিরনের মৃত্যু হয়। তবে কে বা কারা কী কারণে হিরনকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
লন্ডনে অবস্থানরত বিশ্বনাথের সুরিরখালের বাসিন্দা ও হিরনের শ্যালক কাওসার আহমদ জানান, স্ত্রী রোহেনা, ১৫ বছরের মেয়ে জাহিনা ও ৮ বছরের ছেলে তানজিমকে নিয়ে নেলসন স্ট্রিটের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন তার দুলাভাই।

অনলাইন ডেস্ক> জার্মানির সাবেক প্রভাবশালী রাজনীতিক ও নাৎসি বাহিনীর নেতা অ্যাডলফ হিটলারের জিনিসপত্র ও ব্যবহৃত সামগ্রী নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। বুধবার (২০ নভেম্বর) দেশটির মিউনিখ শহরের একটি নিলাম কোম্পানি এসব বিক্রি করেছে।
এভাবে প্রকাশ্যে হিটলারের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বিক্রি করাকে নিন্দা জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংগঠন। হ্যারমান হিস্টোরিকা নামের নিলাম প্রতিষ্ঠানটি বুধবার নাৎসি আমলের ৮০০ সামগ্রী বিক্রির জন্য নিলামে তুলেছিল।
নিলাম প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বার্নহার্ড পাচার বলেন, একসঙ্গে নাৎসি জমানার এত জিনিস কখনোই নিলামে ওঠানো হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এই নিলাম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিপুলসংখ্যক ক্রেতার আগ্রহে তা শেষ পর্যন্ত মধ্যরাত পর্যন্ত গড়ায়। নিলাম চলাকালে পাঁচ শতাধিক ক্রেতা অনলাইনে তাঁদের পছন্দের সামগ্রীর জন্য দরদাম করেন।
নিলামে হিটলারের ফোল্ডিং সিলিন্ডার টুপি, তাঁর লেখা বই মাইন কাম্ফ, লবণদানি, তাঁর প্রেমিকা ইভা ব্রাউনের সন্ধ্যাকালীন পার্টি ড্রেসসহ বিভিন্ন কিছু বিক্রি করা হয়।
এ ঘটনায় হিটলারকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইহুদিদের একটি সংগঠনের সভাপতি রাব্বি মেনাচেম মার্গোলিন। তিনি নিলামকারী প্রতিষ্ঠান হ্যারমান হিস্টোরিকাকে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানান।
নিলামে হিটলারের ফোল্ডিং সিলিন্ডার টুপিটি ৫০ হাজার ইউরোর কিছু বেশি, ইভা ব্রাউনের সন্ধ্যাকালীন পার্টি ড্রেসটি ৪ হাজার ৬০০ ইউরো, মাইন কাম্ফ বইটি ১৩১ হাজার ইউরোতে বিক্রয় হয়েছে। এ ছাড়া একটি তলোয়ার, গাছের পাতাসংবলিত হীরাখচিত ক্রুশ, একটি যুদ্ধসজ্জার ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন জিনিস ১৩৫ হাজার ইউরোতে বিক্রয় হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে একই নিলাম প্রতিষ্ঠান হিটলারের একটি ইউনিফর্ম জ্যাকেট ২৭৫ হাজার ইউরোতে বিক্রি করেছিল।
প্রসঙ্গত, ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জার্মানির তৎকালীন চ্যান্সেলর ছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। পরে মিত্রবাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে ১৯৪৫ সালে হিটলার ও তাঁর প্রেমিকা ইভা ব্রাউন বার্লিনে আত্মহত্যা করেন।

অনলাইন ডেস্ক> রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে দায়ের করা মামলায় মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচি।
বুধবার (২০ নভেম্বর) মিয়ানমার সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘোষণায় হতবাক হয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। খবর এএফপির।
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) ওআইসির পক্ষে সম্প্রতি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। আগামী মাসে এর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের রক্ষার জন্য জরুরি নিষেধাজ্ঞা চাইতে পারে গাম্বিয়া। পরবর্তী সময়ে আইসিজের কাছে আরও বড় সিদ্ধান্ত চাওয়া হতে পারে।
মিয়ানমার বলছে, হেগের আদালতে জাতীয় স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবেন সুচি। তবে দেশটি খ্যাতনামা আইনজীবীও নিয়োগ দিয়েছে।
রোহিঙ্গা নিধনের জন্য সুচি পশ্চিমা দুনিয়ায় তীব্র সমালোচিত হলেও নিজ দেশে তার ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। মিয়ানমারের অনেকেই সরকারি এই প্রচারণায় বিশ্বাস করে যে, রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী। তবে ঐতিহাসিকরা এবং পশ্চিমা সরকারগুলো এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
আইসিজেতে সুচির লড়ার ঘোষণার পেছনেও রাজনীতি আছে। মিয়ানমারে আগামী বছর জাতীয় নির্বাচন। তার আগে এ ঘোষণায় দেশটির অনেকে সুচির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক> লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে একটি বিস্কুট কারখানায় বিমান হামলায় বাংলাদেশিসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। সোমবারের (১৮ নভেম্বর) এ হামলায় নিহতদের মধ্যে দু’জন লিবিয়ার এবং অপর পাঁচজন বাংলাদেশ, ইজিপ্ট ও নাইজেরিয়ার নাগরিক বলে দেশটির স্বাস্থ্য দফতরের বরাত দিয়ে এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে। তবে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি বলছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ও অপর দু’জন লিবিয়ান।
ত্রিপোলিভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাজধানীর ওয়াদি এল রাবি এলাকা অবস্থিত কারখানাটিতে এ বিমান হামলা চালানো হয়। সিটি সেন্টারের দক্ষিণে অবস্থিত ওই এলাকায় কয়েক মাস ধরে লড়াই চলছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালেক মার্সেত এপিকে বলেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ও দু’জন লিবীয় রয়েছেন। এছাড়া হামলায় অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নাইজেরিয়া ও বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় আহতদের পায়ে রক্তমাখা ব্যান্ডেজ দেখা গেছে।
এ বছরের এপ্রিল থেকে ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সংঘর্ষ চলছে।

অনলাইন ডেস্ক> যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে এবার রেকর্ড সংখ্যক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (পিএ) প্রাথমিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাউস অব কমন্সের মোট ৬৫০টি আসনের বিপরীতে এবার বিভিন্ন দল থেকে মোট প্রার্থী হয়েছেন ৩ হাজার ৩২২ জন। এঁদের মধ্যে ১ হাজার ১২০ জন নারী। যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অতীতে এমনটি আর ঘটেনি।
আগামী ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার ছিল প্রার্থী মনোনয়নের শেষ দিন। এবার ৮টি দল এবং ২০৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
পিএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বাম ধারার লেবার পার্টি। দলটি মোট ৬৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৩ জনই নারী, যা দলটির মোট প্রার্থীর ৫২ শতাংশ। রক্ষণশীল-নীতির ধারক কনজারভেটিভ দলে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ১৯০, যা দলটির মোট ৬৩৫ প্রার্থীর ৩০ শতাংশ।
এ ছাড়া, উদারপন্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাট মোট ৬১১ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন ১৮৮ জন। গ্রিন পার্টির ৪৯৮ প্রার্থীর ২০৪ জন নারী। আর ওলেসভিত্তিক প্রাদেশিক দল প্লাইড কামরির মোট ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে নারী আছেন ৯ জন। এই তিনটি দল মোট ৬০টি আসনে ব্রেক্সিট বিরোধী একক প্রার্থী দিতে সমঝোতা করেছে। যে কারণে দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা অতীতের তুলনায় কমেছে।
তবে প্রার্থী সংখ্যায় তুমুল পতন ঘটেছে কট্টর ডানপন্থী দল ইউনাইটেড কিংডম ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টির (ইউকিপ)। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) বিরোধী ইউকিপ ২০১৭ সালে মোট ৪৬৭ আসনে নির্বাচন করে। দলটি এবার মাত্র ৪৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যার মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন ১০ জন।
অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বে নবগঠিত ব্রেক্সিট পার্টি ৬ শতাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত ২৭৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ৫৪ জন। চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ব্রেক্সিট পার্টি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
তবে নাইজেল ফারাজ প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বসিয়ে দিয়েছে কনজারভেটিভরা। আজ শনিবার লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের দুটি অভিযোগ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে নানা প্রতিশ্রুতির লড়াই। লেবার দলের বামপন্থী নেতা জেরেমি করবিন গ্যাস, বিদ্যুৎ রেলওয়েকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই ২০১৭ সালের নির্বাচনে। এবার তিনি ব্রিটিশ টেলিকম (বিটি) কোম্পানিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে ঘরে ঘরে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট এবং টেলিফোন সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং রাষ্ট্রীয় কল্যাণ সেবা আরও উদার করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরছেন তিনি। করবিনের এমন প্রতিশ্রুতির চাপে ব্রেক্সিটময় এই নির্বাচনের বিতর্ক ভিন্ন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে করবিনের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সবি খেপাটে কমিউনিস্ট বুলি’। কিন্তু লেবারের প্রতিশ্রুতির ধাক্কা সামাল দিতে তিনি ঠিকই দলীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইতিমধ্যে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতি নির্বাচনে ধনিদের জন্য কর কর্তনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কনজারভেটিভরা এবার সেটি এখন পর্যন্ত উচ্চারণও করেনি।

অনলাইন ডেস্ক> স্পেনের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, দু’জন পুরুষের যৌন মিলনের মধ্যদিয়ে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পেয়েছেন তারা। এ ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র (ইসিডিসি)। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
ইসিডিসি জানায়, পরস্পরের মধ্যে যৌন মিলন হয়েছিল- মাদ্রিদের এমন দুই পুরুষ বাসিন্দার মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার খবর দিয়েছে স্পেন। তাদের মধ্যে সর্বসম্প্রতি আক্রান্ত ব্যক্তি (৪১) গত বেশকিছু দিনে স্পেনের বাইরে যাননি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তার মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা যায় ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু নিশ্চিত হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তার পুরুষ সঙ্গীর মধ্যে একই লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এই ব্যক্তি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে কিউবা ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে গিয়েছিলেন।
মাদ্রিদ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা সুজানা জিমেনেজকে উদ্ধৃত করে টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিসম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত পুরুষটির পুরুষ সঙ্গী কিউবা ভ্রমণে গিয়ে মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।
ইসিডিসির এক স্বাস্থ্য বুলেটিনে অতিসম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত জনের সংক্রমণকে ‘স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট’ ও আগেরজনের ঘটনাকে ‘আমদানিকৃত’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। আক্রান্ত ওই দুজনের বাসস্থান ও আশেপাশের এলাকায় পতঙ্গতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে নেতিবাচক ফল পায় মাদ্রিদের স্বাস্থ্য বিভাগ। অর্থাৎ সেখানো কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
জেনেটিক সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে উভয় ব্যক্তির ভাইরাসের জীবতাত্ত্বিক ধরণ অভিন্ন বলেও প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ভাইরাসটি কিউবায় ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু ভাইরাসের মতো বলেও প্রমাণ পেয়েছেন স্পেনের গবেষকরা।
স্পেনে পর্যালোচনা তুলে ধরে ইসিডিসি বলছে, বাহকের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণের জ্ঞাত অন্য মাধ্যমের কোনো ডেটা না থাকায় ‘স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট’ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘যৌন সংক্রমণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক> ভারতের অযোধ্যার আলোচিত বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি মামলার রায়ে মসজিদ নির্মাণে সরকারকে অন্যত্র পাঁচ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের রায়ে বলা হয়, মসজিদের নিচে স্থাপনা থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এটি মন্দির কি না, তা নিশ্চিত নয়।
২ দশমিক ৭৭ একর বিরোধপূর্ণ জমিতে মন্দিরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। ওই জমিতেই বাবরি মসজিদ ছিল।
শনিবার (৯ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ভারতের বহুল আলোচিত এই মামলার রায় পড়া শুরু করেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে গড়া পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। এ রায় ঘোষণাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০ অক্টোবর থেকে অযোধ্যা শহরে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।
হিন্দুত্ববাদীদের বিশ্বাস, উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ভগবান রামচন্দ্র জন্মেছিলেন। তাঁর জন্মস্থান বলে চিহ্নিত জায়গায় ষোড়শ শতকে মোগল সম্রাট বাবরের আমলে একটি মসজিদ তৈরি হয়। নাম দেওয়া হয় বাবরি মসজিদ। মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি নিয়ে সেই থেকে হিন্দু-মুসলিম যে বিরোধ চলছিল, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর তা অন্যদিকে বাঁক নেয়। ওই দিন কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেন। এ নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত দুই হাজার লোক নিহত হয়। সেই থেকে বাবরি মসজিদের ২ দশমিক ৭৭ একর জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধিতা শুরু হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ওই জমি বিবদমান তিন পক্ষ রাম লালা, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়ার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ হয় সুপ্রিম কোর্টে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, মসজিদটি ফাঁকা জায়গায় নির্মাণ হয়নি। এর নিচে অন্য কাঠামো ছিল। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার খননের ফলে যেসব জিনিস পাওয়া গেছে, এতে বোঝা গেছে সেগুলো ইসলামি নয়। অযোধ্যায় বিকল্প স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্দিরের জন্য সরকারকে ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে এ ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। বিরোধপূর্ণ জমি চলে যাবে ট্রাস্টের কাছে।
রায়ে বলা হয়, বাবরি মসজিদ ভাঙার মধ্য দিয়ে আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিরোধীরা। ‘আজাদি মার্চ’-এর ব্যানারে হাজারো বিক্ষোভকারী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনে দাবির বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাঁর পদত্যাগ ছাড়া সব দাবি মেনে নিতে রাজি আছেন। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দেশটির জিও টিভির অনলাইনে এ খবর জানানো হয়।
গত ২৭ অক্টোবর সিন্ধু প্রদেশ থেকে আজাদি মার্চের ব্যানারে দাবির পক্ষে গাড়ি শোভাযাত্রা বের করা হয়। ৩০ অক্টোবর সেই গাড়িবহর পাঞ্জাব ছেড়ে লাহোরে পৌঁছায়। আর ৩১ অক্টোবর গাড়িবহরটি ইসলামাবাদে পৌঁছে দাবির পক্ষে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়।
গত শুক্রবার ক্ষমতাসীন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতারা ঝাঁজালো বক্তব্য দেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেন। পরে অবশ্য সময় বাড়ানো হয়। জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান জানান, সরকারের আলোচনা কমিটির সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবারও সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা চলমান রয়েছে। সরকারবিরোধী রাহবার কমিটির আহ্বায়ক আকরাম দুয়ারানি বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবির পক্ষে অনড়।’
এদিকে মঙ্গলবার বিরোধীদের দাবি মেনে নিতে সরকারি কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী নিজের পদত্যাগ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আলোচনায় বসতে রাজি আছেন তিনি।
এর আগে পাকিস্তানে গণতন্ত্র ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগ চায় বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। এ জন্য দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার আপস করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিলাওয়াল।
রক্ষণশীল ধর্মীয় সংগঠন জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) দলের নেতা ফজল-উর-রেহমানের ইমরান খান বিরোধী এই প্রচারণায় সমর্থন জানিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং বেনজির ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো। তবে কোনো ধরনের অসাংবিধানিক পদক্ষেপকে তারা সমর্থন করবে না বলে জানিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> গোটা বিশ্বেই বাজি ধরে মানুষ কত বিচিত্র কাণ্ডই না করছে। এবার বন্ধুর সঙ্গে অদ্ভুত এক বাজি ধরে জীবন দিতে হলো ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলায়। মৃত ওই ব্যক্তির নাম সুভাষ যাদব।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৪ নভেম্বর) যাদব তার এক বন্ধুর সঙ্গে জৌনপুরের বিবিগঞ্জ মার্কেট এলাকায় ডিম খেতে যায়। এ সময় ডিম খাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুজনে বাজি ধরে ঠিক করে, যে একসঙ্গে ৫০ টি ডিম খেতে পারবে সেই ২ হাজার পাবেন।
চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করে যাদব ডিম খেতে শুরু করেন। একে একে তিনি ৪১ ডিম খেয়ে ফেলেন। কিন্তু ৪২ তম ডিম খেতে শুরু করতেই তিনি থমকে যান এবং অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
স্থানীয় লোকজন সঙ্গে সঙ্গে যাদবকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে সঞ্জয় গান্ধী পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কয়েক ঘণ্টা পর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। সূত্র :এনডিটিভি
Select Language