রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০১:২৭
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
সিলেট

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগে এখন নেতার অভাব নেই। এখন কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। বড় নেতা, আধুলি নেতা, সিকি নেতা, আরও কত নেতা!
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কাউকে বাদ দেওয়া হয় না। আওয়ামী লীগে দায়িত্বের পরিবর্তন হয়। দায়িত্বের পরিবর্তন মানে বাদ দেওয়া নয়। নবীনের সঙ্গে প্রবীণের মিলন। প্রবীণের সঙ্গে নবীনের মিলন। শক্তির সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিলন। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। আওয়ামী লীগকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ঢেলে সাজাতে হবে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি করতে গিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে নেতার অভাব নেই। এখন কর্মীদের চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। বড় নেতা, আধুলি নেতা, সিকি নেতা, আরও কত নেতা! নেতার শেষ নেই। নেতা আছে, কর্মী পাওয়া যায় না। নেতাদের পোস্টার লাগানোর মানুষ থাকে না। ভাড়া করে পোস্টার লাগাতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি বিশ্বের তিনজন সৎ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একজন। বিশ্বের পরিশ্রমী চারজন রাষ্ট্রনায়কের একজন, বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নেতার একজন। গত ৪৪ বছরে দেশের সবচেয়ে সৎ রাজনীতিবিদের নাম শেখ হাসিনা। বিশ্বের দক্ষ এক প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হতে হবে। নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এখন টাকার বিনিময়ে নেতা হওয়ার সুযোগ শেষ। মনোনয়ন বাণিজ্যের দিন শেষ। সুসময়ের সুবিধাবাদীদের দিন শেষ। এসব চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। নেত্রী টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। এখন থেকেই সাবধান হয়ে যান।’
সম্মেলনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, ত্রাণ ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সালামের এক যুবকের ওপর চালানো বর্বর নির্যাতনের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য এবাদুর রহমানের বাড়িতে অনেক মানুষের উপস্থিতিতে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেধড়ক মারধর করছেন সালাম। নির্যাতনের শিকার যুবককে চিৎকার করে বাঁচার আকুতি করতে দেখা যায় ভিডিওতে।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকালে ইউপি সদস্য এবাদুর রহমানসহ আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান নামে তিনজনকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। এরপর সন্ধ্যায় কানাইঘাটের দনা বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয় সালাম মেম্বারকে। এ নির্যাতনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার গিয়াস উদ্দিন (৩৫) কাজলসার ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের মৃত সফর আলীর ছেলে। তিনি জানান, শাহজাহান তার কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত না দেওয়ায় শাহজাহানের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন তিনি। ওই মোবাইল নেওয়াকে চুরি হিসেবে উল্লেখ করে শাহজাহান ও আনোয়ার তাকে ধরে এবাদ মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেই সালাম মেম্বার তার ওপর প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে নির্মম নির্যাতন চালান।
জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো.আব্দুন নাসের জানান, ঘটনাটি প্রায় মাস তিনেক আগের। ভিডিওটি ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। এছাড়াও সালাম মেম্বারের বিরুদ্ধে পুলিশ নানা অপরাধে জড়িত থাকার খবর পেয়েছে।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটি আগের হলেও আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সালাম মেম্বার গত ১০ নভেম্বর আটগ্রামের আশ্রয়নকেন্দ্রের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বিতুলকে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে বিষয়টিতে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন। এ ঘটনায় বুতুলের চাচাত ভাই শাকিল আহমদ পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সালাম মেম্বার আশ্রয়নকেন্দ্রটি তার কব্জায় রেখে নারী ও মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছেন। পুলিশের সঙ্গেও রয়েছে তার সখ্য। কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে শায়েস্তা করা হয়। ইতিপূর্বে এক অভিযোগকারীকে মারধর করে বসত ঘরে আগুন দিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে।
জকিগঞ্জ আশ্রয়কেন্দ্রের একাধিক বাসিন্দা জানান, আশ্রয়কেন্দ্রের একটি ঘর প্রায় ছয় বছর ধরে দখলে সেখানে নারী রেখে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন সালাম। সরকারি জায়গা ও কেন্দ্রের পুকুর দখল করে তার অপকর্মের বাধ্যগতদের মাঝে বিতরণ করে দিয়েছেন। আশ্রয়নকেন্দ্রের অনেক নারীর তার কুদৃষ্টি থেকে রেহাই পায়নি। সংখ্যালঘু পরিবারের এক সদস্য জানান,সালাম মেম্বারের নির্যাতনে তার ভাই ১০ বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি নয়, বিদেশ থেকে এনে প্রক্রিয়াজাতের পরে তা ভারতে রপ্তানি করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
সিলেটে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আউটার স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আব্দুল মোমেন বলেন, ‘একটা ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে যে বাংলাদেশ ভারতকে গ্যাস দিয়ে দিচ্ছে। আসলে বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে তা ভারতে রপ্তানি হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এতে বাংলাদেশেরই লাভ হবে।’ এ সময় তিনি বেশ কয়েকটি দেশের উদাহরণ টানেন।
ভারতের সঙ্গে পানিবিনিময় নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানবিক বিষয়ের কথা মাথায় রেখে ফেনী নদীর কিছু পানযোগ্য পানি ভারতকে দেওয়া হবে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই বিভিন্ন সময় চুক্তি হয়। তারই অংশ হিসেবে আরও নানা চুক্তি হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
আউটার স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমসহ ক্রীড়াঙ্গনের ব্যক্তিরা। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতারা ছিলেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সিলেট নগরীর বুক চিরে বয়ে চলছে সুরমা নদী। সিলেটের ‘প্রাণ’খ্যাত এই নদী দূষণ-দখলে হুমকিতে রয়েছে। নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এর উভয় তীরই বর্জ্যের ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে। এই আবর্জনা পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে ব্রিটিশ তিন এমপিসহ কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নদীর চাঁদনীঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন ইংল্যান্ডের কনজারভেটিভ পার্টির পল স্কালি, সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট এনি মারগারেট মেইন এবং বব ব্ল্যাকম্যান এমপির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল। চলমান ‘ক্লিন সুরমা গ্রিন সিলেট’ প্রকল্পের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে এনি মারগারেট মেইন বলেন, ‘সিলেট তথা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। এখানকার তরুণ সমাজ যেভাবে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছে, তা আসলেই দৃষ্টান্তস্বরূপ। তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারায় আমরা গর্বিত।’
সুরমা নদীর তীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ যে কোনো প্রয়োজনে সিলেট সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সংগঠনটি। সরকারি সহায়তায় সুরমা নদীর দুই তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করছে সিলেট সিটি করপোরেশন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে নাগরিকদের নামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর শনিবার ভোর থেকেই সিলেটের সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তালিকায় বাদপড়াদের কেউ যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত এলাকার পুলিশকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ আগস্ট) আসামের বহুল আলোচিত নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে বাদ পড়েন রাজ্যের ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন। ফলে ভারতে অবস্থানরত এই নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বেশ কয়েক দিন ধরে এই লোকদের ‘বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী’ বলে অভিহিত করে আসছেন। এখন যে কোনো সময় তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিজিবি সদস্যদের। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসকারী লোকজনকে বিজিবির পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক নানা নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সিলেট বিভাগের চার জেলার সব দিক ঘিরে রেখেছে ভারত। বিশেষ করে সিলেটের ১৩ উপজেলার মধ্যে সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার এবং মৌলভীবাজারের বেশ কিছু অংশ আসামের খুব কাছাকাছি। এ ছাড়া গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা মেঘালয় রাজ্যের কাছাকাছি হলেও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এসব এলাকার লোকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জকিগঞ্জের সীমান্তবর্তী মানিকপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, আসামের সঙ্গে সিলেটের জকিগঞ্জের দূরত্ব সুরমা নদীর এপার-ওপার। তাই বিজিবি থেকে তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে বাহবা পেলেও সেখানের স্থানীয়রা ভালো নেই। একই দুশ্চিন্তা আমাদের মধ্যেও ভর করেছে। ঠিক একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন উপজেলার কসকনপুর এলাকার হাসান মিয়া।
বিজিবির ১৯ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল সাঈদ হোসেন বলেন, বিষয়টি মাথায় রেখে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি আসামের পরিস্থিতির যদি কোনো সময় অবনতি হয়, সেদিকেও আমাদের নজরদারি আছে।
তিনি বলেন, সীমন্ত পথ কিংবা অন্য কোনো অবৈধ পথ দিয়ে কোনো ভারতীয় নাগরিককে পুশইন করার চেষ্টা হলে তা মোকাবেলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বিজিবির। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় এদেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের কোনো তৎপরতা দেখার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্নিষ্ট বিজিবি ক্যাম্পে খবর দিতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ। এ নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কারণ দেখছি না। আসামের ব্যাপারে আলাদা কোনো নির্দেশনা নেই। তার পরও আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সব সময় সতর্ক আছি।

 

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, আয়ু বেড়েছে। এ গুলো বর্তমান সরকারের সফলতা। দেশে দরিদ্রের হার কমেছে। অতি দরিদ্রের হার ৫ শতাংশে নিয়ে আসব আমরা।’
শনিবার (২৪ আগস্ট) সকালে সিলেটে দুরারোগ্য ব্যাধি ও জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী। সিলেট নগরের রিকাবিবাজারে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়।
বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য কম উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিকে আমি মানবিক উন্নয়ন হিসেবে আখ্যায়িত করি। এশিয়ার ৪৫টি দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৩। প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সফলতা।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সুবিধা বঞ্চিত, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধাসহ ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছেন। এ ক্ষেত্রে সঠিক মানুষ যাতে টাকা পায় সে দিকে নজরদারি বাড়াতে হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রভাষক সানজিদা সুলতানা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক সন্দ্বীপ কুমার সিংহ, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চিকিৎসা সহায়তার এ কর্মসূচির আওতায় সিলেট জেলার ১৪টি উপজেলার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির ২৬৮ জনকে এক কোটি ৩৪ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

অনলাইন ডেস্ক> একাত্তরে বাংলাদেশ যেদিন মুক্ত-স্বাধীন হয়, সেই ১৬ ডিসেম্বর তার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে চার মাস। সুনামগঞ্জের আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলা হয়েছে সেদিনের সেই শিশুর বিরুদ্ধে! একাত্তরে জন্ম নেওয়া শিশু কীভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হয়, তা নিয়ে তোলপাড় সুনামগঞ্জজুড়ে। গত মঙ্গলবার স্থানীয় আমল গ্রহণকারী আদালতের বিচারক এই অভিযোগ ঢাকার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাহিরপুরের শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধের আওটা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজাফর আলী এই অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের তাহিরপুর প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলামকে (৪৮) অভিযুক্ত করেন। তাহিরপুরের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভজিৎ পাল এই অভিযোগ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে বাদীপক্ষ এই বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে, মামলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী (পিপি) শামছুন নাহার বেগম শাহানা বলেন, এমন কোনো মামলার কথা জানি না। যে আদালতের কথা বলা হচ্ছে, তার বিচারক নিশ্চয় অভিযোগ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তের বয়সের ব্যাপারে তিনি বলেন, যিনি অভিযোগ করেছেন তাকেই এটি প্রমাণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তের বয়স সত্যিই মাত্র কয়েক মাস হলে মামলা এমনিতেই খারিজ হওয়ার কথা।
সুজাফর আলী অবশ্য তার অভিযোগে জানিয়েছেন, উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে আমিনুল ইসলামের বয়স বর্তমানে ৬৩। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমিনুল ইসলাম একজন যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আলবদল, চাঁদাবাজ, আলশামস, পরধন-পরনারী লোভী ও দেশবিরোধী।’ আমিনুলের বাবা উপজেলার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তার দাবি, মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় আমিনুল শান্তি কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকতার পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে ১৯৮৮ সাল থেকে টানা দু’দফা তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আসন্ন নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সুজাফর আলীকে দিয়ে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে এখনও প্রগতিশীল রাজনীতিতে সক্রিয়। তার মতে, সামনে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র তার সম্মানহানির জন্য নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় তার জন্ম। দেশ যখন স্বাধীন হয় তখন তার বয়স চার মাস ১৬ দিন। তখন কীভাবে যুদ্ধাপরাধ করা সম্ভব?
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, আমিনুল ইসলামের জন্ম ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। তবে মামলার বাদী সুজাফর আলী বলেন, তাকে যারা তথ্য দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে সবকিছু প্রমাণ করবেন। আমিনুল বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটু কথা বলেছেন, এমন অভিযোগ করে সুজাফর জানান, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি এই ‘মামলা’ করেছেন- অযথা হয়রানির জন্য কিছু করেননি। কারও ইন্ধনেও তিনি এ মামলা করেননি।
এসব অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুজাফর আলী মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন, কাগজপত্র দেখে ঘণ্টাখানেক পর বিস্তারিত বলবেন। তবে তিনি আর যোগাযোগ করেননি। এমনকি যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকেও আর পাওয়া যায়নি। এদিকে তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অনুপম রায় বলেন, আমিনুল ও তিনি ১৯৮৬ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর তারা দু’জনেই উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের দুইবারের সাবেক কমান্ডার রইছ আলী জানান, তিনি টেকেরঘাট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সে সময় সুজাফর আলীকে তিনি কখনও দেখেননি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় সুজাফরের নাম কীভাবে এসেছে, তাও তার জানা নেই। যে কারণেই হোক না কেন, আমিনুল ইসলামকে হয়রানি করার জন্যই সুজাফর এ মামলা করেছেন বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
মুক্তিযোদ্ধা রইছ আলী বলেন, এলাকার মানুষ হিসেবে সুজাফর আলী ও আমিনুল দু’জনকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। আমিনুলের বয়স এখনও পঞ্চাশ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় সে কয়েক মাসের বাচ্চা ছিল। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এমন ভিত্তিহীন মামলা করে তাদের সবাইকে বিব্রত ও অসম্মানিত করা হয়েছে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ : আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তাহিরপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব। গত বুধবার দুপুরে অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ও যায়যায়দিন প্রতিনিধি বাবরুল হাসান বাবলুর সভাপতিত্বে জরুরি সভায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তৃতা করেন প্রেস ক্লাব উপদেষ্টা রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ইত্তেফাক প্রতিনিধি আলম সাব্বির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মানবজমিন প্রতিনিধি এমএ রাজ্জাক, অর্থ সম্পাদক ও ভোরের কাগজ প্রতিনিধি এসএম সাজ্জাদ শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংবাদ প্রতিনিধি কামাল হোসেন, নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সিলেট ভয়েস২৪ডটকম প্রতিনিধি আবির হাসান মানিক, সুনামগঞ্জের সময় প্রতিনিধি সামায়ুন কবীর, মুবিনুর মিয়া, রোমান আহমেদ তুষা প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সিলেটে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ফেলে দেওয়া ২০ ট্রাক পশুর চামড়া ময়লার ভাগাড়ে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
কোরবানিদাতা ও বিভিন্ন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এসব চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলেন। এতে নগরীতে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তা সংগ্রহ করেন। সবশেষে আবর্জনাবাহী ট্রাকে তুলে তা নগরীর উপকণ্ঠ পারাইরচকের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে পুঁতে ফেলা হয়।
অন্তত ১০ টন কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়েছে বলে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে। এদিকে ক্রেতা না পেয়ে অনেকে নদীতে চামড়া ফেলে দেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান বলেন, নগরী থেকে প্রায় ২০ ট্রাক চামড়া ডাম্পিং করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকালে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে এসব চামড়া ফেলে রাখা ছিল।
সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ভালো দাম না পাওয়ায় মানুষ চামড়া রাস্তায় ফেলে রাখলে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। ফলে পরিত্যক্ত চামড়া অপসারণ করে পারাইরচকে ময়লার ভাগাড়ে ফেলা হয়েছে। এসব চামড়া প্রায় ১০ টন হবে বলে জানান তিনি।
প্রতি বছরের মতো এবারেও নগরী ও আশপাশ এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাদ্রাসা। কিন্তু দিন শেষে সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে তারা ৭০-৮০ টাকার বেশি দাম পাননি। এমনকি অনেক ব্যবসায়ী বাকিতে চামড়া কিনতেও রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ রাস্তায় চামড়া ফেলে প্রতিবাদ করে।
স্থানীয় কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ জানান, সংগৃহীত ৮ শতাধিক চামড়া সোমবার রাতে রাস্তায় ফেলে দেয় নগরীর খাসদবির দারুস সালাম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নগরীর ক্বিনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীতে কাঁচা চামড়া ফেলায় পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইভাবে বালাগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীতে চার শতাধিক চামড়া ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাঁচটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা।
সিলেট নগরীতে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে অনেকে ২৫-৩০ টাকা দাম পেয়েছেন। অতীতে চামড়া ব্যবসায়ীদের লোকজন সরাসরি বাসাবাড়িতে এসে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করলেও এবার তা দেখা যায়নি। ঢাকার ট্যানারি মালিকরা আগের টাকা না দেওয়ায় ক্ষতির কথা বলে চামড়া ব্যবসায়ীরা প্রতিটি গরুর চামড়া ২৫-৩০ টাকার বেশি দিতে রাজি হননি।
নগরীর আম্বরখানার আব্দুল লতিফ জানান, দেড় লাখ টাকার দুটি গরুর চামড়া ৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
অন্যান্য বছরের মতো এবারেও নগরীর রেজিস্টারি মাঠে চামড়ার সবচেয়ে বড় অস্থায়ী বাজার বসেছিল। এখানে প্রতিটি গরুর চামড়া ২৫ থেকে ২শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কোথাও ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সিলেটে ঘু‌ড়ি উড়া‌তে গি‌য়ে বাসার ছাদ থে‌কে প‌ড়ে এক পু‌লিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে।
রোববার (১১ আগস্ট) বি‌কেল ৫টার দি‌কে নগরীর চারা‌দিঘীর পার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘ‌টে। নিহত জু‌বের আহমদ সিলেট মহানগর গো‌য়েন্দা পু‌লি‌শের (ডি‌বি) সহকারী ক‌মিশনার ছি‌লেন।
মহানগর পু‌লিশ ক‌মিশনার গোলাম কিব‌রিয়া দুর্ঘটনায় জুবেরের মৃত্যুর তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রেছেন।
প‌রিবা‌রের বরাত দি‌য়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউ‌ন্সিলর আব্দুল মু‌হিত জা‌বেদ জানান, বিকেল ৫টার দিকে চারাদিঘীর পাড় এলাকার আল আমিন ৫ নম্বর বাসার চার তলার ছাদে ঘুরি উড়াতে ওঠেন জুবের আহমদ।
তিনি জানান, হঠাৎ এই পুলিশ কর্মকর্তা অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এক‌টি বেসরকা‌রি ক্লি‌নি‌কে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে রেখে গেছেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সিলেট শহরতলির টুকেরবাজার এলাকার খামারে বড় হয়েছে বিশাল আকৃতির গরুটি। ১ হাজার ২৮০ কেজি (৩২ মণ) ওজনের গরুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘রয়েল বিদ্যুৎ’। ৬ বছর বয়সী গরুটি লম্বায় ১৪ ফুট ও উচ্চতায় ৬ ফুট। দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। বৃহদাকৃতির গরুটি এরই মধ্যে সিলেটে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গরুটি দেখতে তাই খামারে ছুটছেন অনেক ক্রেতা।
সিলেট সুরমা ক্যাটেল ফার্মের উদ্যোক্তা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু নোমান জানান, ৬ বছর ধরে গরুটির পরিচর্যা করছেন। শখ করে নাম দিয়েছেন রয়েল বিদ্যুৎ। এ বছর দেশে যে ক’টি বড় আকারের গরু রয়েছে, এর মধ্যে রয়েল বিদ্যুৎ একটি- এমন দাবি তার।
সুরমা ক্যাটেল ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, টিনশেডের লম্বা ঘরে রাখা হয়েছে ৩২টি গরু। ঘরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল বিদ্যুৎকে গোসল করাচ্ছেন দু’জন। মাঝেমধ্যেই বিশাল জোরে ডাক দিচ্ছে রয়েল বিদ্যুৎ।
এক কর্মচারি জানান, রয়েল বিদ্যুৎ অনেক শান্ত প্রকৃতির গরু। তিনি কয়েক বছর ধরে এর পরিচর্যা করছেন। গরুটিকে নিয়মিত গোসল করাতে হয়। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে হয়। ভালো খাবার না হলে সে মুখে দেয় না।
শহরতলির কুরবানটিলা এলাকায় ২০০২ সালে গরুর খামারটি গড়ে তোলেন আইনজীবী আবু নোমান। এবারের ঈদে তার খামারে রয়েল বিদ্যুৎ ছাড়াও বৃহদাকৃতির বেশ কয়েকটি গরু রয়েছে; ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি।
আবু নোমান জানান, অর্গানিক উপায়ে স্বাভাবিক দানাদার খাবার দিয়েই তিনি গরু মোটাতাজাকরণ করে থাকেন। এ জন্য তিনি খামারের পাশের জায়গা লিজ নিয়ে ঘাসের চাষও করছেন। পাশাপাশি খড়েরও বিশাল সংগ্রহ রয়েছে তার।
Select Language