শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০ | ০৭:১৫
২০ আষাঢ়, ১৪২৭ | ১২ জিলক্বদ, ১৪৪১
কক্সবাজার

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে সাগরে মাছ ধরার সময় দুটি ট্রলারসহ মিয়ানমারের ১৬ জেলেকে আটক করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের আটক করা হয়।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড বাহিনীর পূর্ব জোনের স্টাফ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম সাইফুল ইসলাম।
আটক জেলেরা হলেন মোহাম্মদ কাশেম (৩৫), নুর হাসমি (১৯), মোহাম্মদ জলিল (২২), আবু শহীদ (২০), নবী হোসেন (২০), হাবিবুর রহমান (৪১), মোহাম্মদ হোসেন (২০), মোহাম্মদ রবি (২০), মোহাম্মদ রফিক (২৫), মোহাম্মদ ধলা (১৭), মোহাম্মদ শাকের (২৭), মোহাম্মদ তাহের (১৮), ইসা আলম (২০), আবু হাবেদ (২৩), মোহাম্মদ কওসির (২০) ও মোহাম্মদ রফিক (৩০)। তাঁরা সবাই মিয়ানমারের আরাকানের চান্দামা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ বিসিজিএস মনসুর আলীর সদস্যরা প্রতিদিনের মতো সাগরে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের জলসীমার ১৬ নটিক্যাল মাইল ভেতরে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের জেলেদের আটক করা হয়। পরে ট্রলার দুটিসহ আটক জেলেদের সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ট্রলার দুটি থেকে ১ হাজার মিটার জাল, ৩০০ কেজি মাছ, ২০ কেজি শুঁটকিসহ আরও অনেক কিছু উদ্ধার করা হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সাদ মোহাম্মদ তাইম বলেন, আটক জেলেদের টেকনাফ থানার পুলিশে সোপর্দ করে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহা বলেন, জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। শনিবার তাঁদের কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> একদিনে লাখপতি হলেন কক্সবাজারের মহেশখালীর উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের দরিদ্র জেলে জামাল উদ্দিন। বুধবার (৬ নভেম্বর) ভোরে তাঁর জালে আটকা পড়েছে ৮১টি লাল পোপা। প্রতিটির ওজন ১৭ থেকে ২৫ কেজি। মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৪০ লাখ টাকায়। কক্সবাজার ফিসারিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসহাকসহ কয়েকজন পোপা মাছগুলো কিনে নেন।
মাতারবাড়ির শাইরারডেইল গ্রামের জেলে জামাল উদ্দিন (৪৫) বলেন, মঙ্গলবার রাতে মাতারবাড়ির পশ্চিম পাশে কুতু্বদিয়া চ্যানেলে তিনি জাল বসান। বুধবার সকালে জাল তুলতে গিয়ে দেখেন, জাল টেনে কূলে আনা যাচ্ছে না। পরে আরও লোকজনের সহায়তায় জাল তোলা হয়। দেখা যায় বড় আকৃতির অসংখ্য লাল পোপা লাফালাফি করছে। গণনা করে ৮১টি পোপা পাওয়া গেছে। প্রতিটি মাছের ওজন ১৭ থেকে ২৫ কেজি ।
জামাল উদ্দিন বলেন, প্রথমে মাছগুলো ৩৯ লাখ টাকা পর্যন্ত দর উঠে। অনেক দরদামের পর কক্সবাজার ফিশারিঘাটের ইসহাক সওদাগরসহ কয়েকজন ৪০ লাখ টাকা দিয়ে মাছগুলো কিনে নেন। পোপা মাছের পটকা খুবই মূল্যবান। প্রতিকেজি শুকনো পটকার দাম ৮০-৯০ হাজার টাকা। পটকা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু স্যুপ। হংকং, থাইল্যান্ড, চীন, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোপা মাছের পটকা রপ্তানি হয়।
কুতুবদিয়া ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, লাল পোপা গভীর সমুদ্রের মাছ। কুতুবদিয়া চ্যানেলে এই পোপা মাছ ধরা পড়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। অন্য জেলেরাও পোপা মাছ ধরতে কুতুবদিয়া চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> হঠাৎই কার্যালয়ের আঙিনার বড় গাছগুলো নাই হয়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া শতাধিক গাছ কাটায় কক্সবাজারের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তাদের দাবি, নতুন যোগদান করা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোটি টাকা মূল্যের এসব গাছ কেটে ফেলেছেন। অথচ কদিন আগেও বড় বড় গাছের সুশীতল ছায়ায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়টির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত মনোরম। সুন্দর এ সরকারি কার্যালয়টির সুনামও ছিল চারদিকে।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দেখা গেছে, কার্যালয়ের আঙিনায় শতাধিক গাছ কেটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর বেশিরভাগই মেহগনি জাতের মাতৃগাছ। আরও গাছ কাটার জন্য শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই গাছ কাটার জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা স্থানীয় বন বিভাগকেও জানানো হয়নি।
গাছ কাটার বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘অফিস ভবনের সংস্কার কাজ চলছে। অফিস আঙিনায় এত বেশি গাছ হয়েছে যে, ভবনের ওপর সূর্যের আলো পড়ে না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে।’
গাছগুলো কাটা ও বিক্রির জন্য কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হয়েছে। তবে বন বিভাগ ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে তিনি স্ব্বীকার করেন।
কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বন বিভাগের কর্মীরা সরেজমিন গাছের পরিমাপ করে মূল্য নির্ধারণ করেন। সরকারি একটি ফি নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের আঙিনায় গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়নি।
এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় প্রাঙ্গণের শতাধিক গাছ কাটার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ওই স্থানে নতুন কোনো ভবন না হলেও শতাধিক মাতৃগাছ এভাবে কেটে ফেলার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বড় বড় গাছের ছায়ায় অফিসটি দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণ ছিল। এখানে অনেক পাখির আবাসস্থ্থলও ছিল। একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনায় শতাধিক মাতৃগাছের প্রাণ গেল। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ খালাসের অভাবে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে পচে যাচ্ছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে ব্যবসায়ীরা কৌশল অবলম্বন করছেন। গত এক সপ্তাহে প্রায় তিন হাজারের বেশি পেঁয়াজের বস্তা পচে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মিয়ানমার থেকে গত দুই দিন পেঁয়াজ আমদানি করেননি ব্যবসায়ীরা।
এদিকে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনসহ একটি প্রতিনিধি দল টেকনাফ স্থল বন্দর ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান।
ইউএনও রবিউল হাসান বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কিছু সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজের ট্রলার দ্রুত খালাস করে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। কেন ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেখা যায়, টেকনাফ স্থল বন্দরে পচে যাওয়া পেঁয়াজ খোলা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিক ভাল পেঁয়াজগুলো সংগ্রহ করছেন। এমনকি নাফ নদীর তীরে পচা পেঁয়াজের বস্তা পরে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া দুইদিন আগে আসা বন্দরে পেঁয়াজ ভর্তি ছোট-বড় ৭টি ট্রলার ঘাটে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
নুর আলম নামে এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, অন্যজনের ট্রলারে করে তার কিছু পেঁয়াজ এসেছিল। খালাসে দেরি হওয়ায় পেঁয়াজগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের গাফলতির কারণে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে।
টেকনাফ শুল্ক স্টেশন ও স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে (১৫ অক্টোবর পর্যন্ত) মিয়ানমার থেকে আসা টেকনাফ স্থলবন্দরে ৮ হাজার ৪৯৭ দশমিক ১১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ খালাস করা হয়ছে। এই মাসে সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর ৫৩ হাজার বস্তা (২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন) পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে এসেছিল। তার মধ্যে মোহাম্মদ হাসেমের ৬৪০ ও মোহাম্মদ জব্বারের কাছে ৩২০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আসে। বাকিগুলো অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে এসেছিল। তবে গত দুই দিন ধরে মিয়ানমার থেকে কোন পেঁয়াজের ট্রলার টেকনাফে বন্দরে আসেনি।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে আমদানিকৃত তিন হাজারের বেশি পেঁয়াজের বস্তা খালাসে দেরি হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বন্দর কৃতপক্ষের জনবলের অভাবে প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসা কমে গেছে।
তিনি বলেন, চার্জ নিতে রাতে বন্দর কৃতপক্ষ পেঁয়াজের ট্রাকের ছাড়পত্র দিচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের লোকসান কমাতে সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়ানো দরকার বন্দরে।
মোহাম্মদ সোহেল নামে এক পেঁয়াজ আমদানিকারক বলেন, খালাসে দেরি হওয়ায় তার কাছে আসা বেশ কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বন্দরে অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। এইভাবে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হলে, এক সময় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে নিম্ন মানের পেঁয়াজ আমদানি করায়, সেগুলো পঁচে যাচ্ছে। সেদেশে যে ঘাটে পেঁয়াজের ট্রলার লোডিং হয়, সেটি এখানে পৌঁছাতে ১০ দিন সময় লাগে। মূলত বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে এসব তালবাহানা করছে ব্যবসায়ীরা। বন্দর কৃর্তপক্ষ ব্যবসায়ীদের সাধ্যমত সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তার।
টেকনাফ স্থল বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা আবছার উদ্দিন বলেন, গত দুই দিন ধরে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজের কোন ট্রলার আসেনি। চলতি মাসে ৮ হাজার ৪৯৭ দশমিক ১১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছিল। তবে দেশে পেয়াঁজের সংকট মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের আরো আমদানী বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে গভীর সমুদ্রে ২ লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ৮ নাগরিককে আটক করেছেন কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্রে ফিশিং ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়।
আটক হলেন- মিয়ানমার আকিয়াব জেলার মো. দইলা (২০), মো. রবি আলম(১৭), মো. আলম ( ২৫), মো. শফিকুল (১৮), মো. নুর (১৮), মো. নুর আলম (৩০), আলী আজমদ (২০) ও নুরুল আমীন(৩৫)।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেঃ কমান্ডার সাইফুল ইসলাম জানান, মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে মাছ ধরার ট্রলারে করে ইয়াবা একটি বড় চালান বাংলাদেশে ঢুকছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লেঃ সোহেল রানার নেতৃত্বে কোস্ট গার্ডের একটি দল সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্বে গভীর সমুদ্রে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন তারা। ট্রলারটি থেকে মিয়ানমারের ৮ নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী লেঃ সোহেল রানা জানান, সাগরে অভিযান চালিয়ে ৮ মিয়ানমার নাগরিকসহ একটি ট্রলার আটক করা হয়। ইয়াবার চালানটি কার কাছে নেওয়া হচ্ছিল- সেটি জানতে আটক ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্তক অবস্থানের কারনে, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সাগর পথকে নিরাপদ রুট হিসবে বেছে নিচ্ছে। ইয়াবাসহ আটক মিয়ানমার নাগরিকদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> নাগরিকত্ব দিলে মিয়ানমারে ফিরে যাবেন বলে চীনের প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।
রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়া নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশে পরিদর্শনে আসা চীনের প্রতিনিধি দল।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের নেতৃত্ব প্রতিনিধি দলটি শূন্য রেখায় পৌঁছে সেখানকার রোহিঙ্গা শিশু, নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেন।
মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে সেখানকার রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমার সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না। এর আগেও তারা অনেকবার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাই সরাসরি নাগরিকত্ব ও সহায় সম্বল ফেরত দিলেই আমরা ফিরতে পারি।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের প্রতি অবিশ্বাস ও অনাস্থা রোহিঙ্গাদের মধ্যে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে নিজ জন্মভূমি রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে বাস করতে বাধ্য করা হয়েছে রোহিঙ্গা জনগণকে।
‘আরসা’ বা অন্য এনজিও সংস্থার লোকজন তাদের মিয়ানমারে ফিরতে বাধা দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে দিল মোহাম্মদ বলেন, প্রত্যাবাসনে বাধা সৃষ্টি করতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মিয়ানমারে ফেরত যেতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। তাদের দাবিগুলো মেনে নিলে এখন চলে যেতে প্রস্তুত সবাই।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বান্দরবানের তুমব্রু খালের কাছে শূন্য রেখায় প্রায় এক হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের অন্য ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নাগরিক সুবিধা থাকলেও এখানে কিছুই নেই। রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেড়শ’র মতো এনজিও কাজ করলেও এদিকে কারও নজর নেই। তবে জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আওতায় ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রস (আইসিআরসি) প্রতি মাসে দু’বার করে নো-ম্যানস ল্যান্ডে ত্রাণ দিচ্ছে।
বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, পরির্দশনে আসা চীনের একটি প্রতিনিধি দল নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসময় রোহিঙ্গারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় প্রতিনিধি দলটি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের নেতৃত্ব প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে রোহিঙ্গা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করে। পরে দুই দেশ ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামে চুক্তি করে। ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো একজনও রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যায়নি।
রোহিঙ্গাদের প্রথম দলের ফেরার কথা ছিল গত বছরের ১৫ নভেম্বর। কিন্তু রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এরপর চলতি বছরের ২২ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সেদিনও শেষ মুহূর্তে রোহিঙ্গারা আবারও প্রত্যাবাসনের নানা শর্ত জুড়ে দেওয়ায় প্রত্যাবাসন হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এখন উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> কক্সবাজারের টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এতে রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই মোহাম্মদ মনির বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। গুলিতে কেউ আহত হয়েছে কী না খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’
টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি সৈয়দুল আমিন বলেন, রাতে ক্যাম্পের পশ্চিমে পাহাড়ে খুব বেশি গুলির শব্দ শুনেছি। বিষয়টি ক্যাম্প কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা নেতা বদলুল ইসলাম বলেন,‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। তবে কাদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়েছে তা জানতে পারিনি। সশস্ত্র গ্রুপের কারণে আমরা সাধারণ রোহিঙ্গারা আতঙ্কে আছি।’
একাধিক রোহিঙ্গা জানান, রঙ্গিখালী, আলীখালী, লেদা-মোচনী ও জাদিমোরা এলাকার চিহ্নিত কিছু ইয়াবা চোরাকারবারী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ রোহিঙ্গা অপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে ইয়াবা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই, অবৈধ অস্ত্রের মজুদ, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বড় আকৃতির একটি ইলিশ মাছ হাতে নিয়ে টেকনাফ বাসস্টেশন বাজারে বসে আছেন বিক্রেতা। মাছটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারাও। আড়াই কেজি ওজনের ইলিশ মাছ তো আর রোজ রোজ দেখতে পাওয়া যায় না!
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় এক জেলের জালে ধরা পড়েছে আড়াই কেজির বেশি ওজনের এই ইলিশটি। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে নাফ নদীতে জাল ফেললে মাছটি ধরা পড়ে।
উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা গ্রামের বাসিন্দা নবী হোসেনের ছেলে জেলে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের (৩৮) জালে মাছটি ধরা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী জেলে আবদুল খালেক বলেন, জাহাঙ্গীর পাঁচ-ছয় বছর ধরে নাফ নদীতে মাছ ধরছেন। শুক্রবার রাতে ছোট একটি নৌকায় করে ইলিশ ধরার জন্য নদীতে জাল ফেলে আসেন তিনি। শনিবার সকালে জাল তুলে দেখেন, জালে ৪৮টি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে একটি মাছ দেখতে বিশাল। ওজন করে দেখা যায়, ২ কেজি ৬০০ গ্রাম। বাকি মাছগুলোর ওজন ৩৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের মতো।
যাঁর জালে মাছটি ধরা পড়েছে, সেই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতি কেজি দেড় হাজার টাকা দরে আড়াই কেজি ওজনের এই মাছটির দাম চাইছি ৩ হাজার ৯০০ টাকা। আর বাকি মাছগুলো ৬০০ টাকা কেজি দাম চাইছি।’
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শফিক বলেন, চলতি বছর বাজারে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশগুলো ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এত বড় ইলিশ খুব কমই ধরা পড়ে।
টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘চলতি বছর এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। বড় একটি ইলিশ ধরা পড়ার খবরটি পেয়েছি। সাধারণত এত বড় ইলিশের সহজে দেখা মেলে না।’

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> কক্সবাজারের টেকনাফে অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১০ নারীসহ ১৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাবিরছড়ার এলাকায় সমুদ্র সৈকতের তীর থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ডি-৪ এর তসলিমা (১৮), ছেনোয়ারা (২৮), শেহেলা (৭), শাহা নুর (৪০), ছমুকা বিবি(৮), সাজিদা (৩৩), নজির আহমদ (২৮ ), মো আতিক (২৩), বালুখালিরর জোহুরা (১৮), ইমরান (২২), নুর আয়েশা (১৮), ফারবিন (১৮), জাহেদা (৪০), ওম্মে জমিলা (১৬) ও ফাতেমা (১৮)। তারা সবাই গত দুই বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানা জানান, শনিবার রাতে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে টেকনাফ হাবিবছড়া এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের একটি দল সমুদ্রে পথে মালেয়শিয়া যাবার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের বাঁধা দেন। পরে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করা হয়।
তিনি জানান, আটকদের মধ্যে দুই শিশু ও ১০ নারী ছিল। আটক যাত্রীরা ওই এলাকার দালালের মাধ্যমে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল বলে স্বীকার করেছে। তাদেরকে টেকনাফ থানায় হন্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালংয়ের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে আনসার বাহিনীর পোশাক, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে নয়টার দিকে উখিয়ার হলদিয়াপালংয়ের উত্তর বড়বিলের পাহাড়ি এলাকা থেকে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, পাহাড়ি এলাকা থেকে পরিতাক্ত অবস্থায় অস্ত্রসহ আনসার বাহিনীর পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। হয়তো মাস খানেক আগে মাটির নিচে এসব রাখা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ৪টি অস্ত্র ও রাইফেল, দুই জোড়া আনসার বাহিনীর পোশাকসহ ক্যাপ, মোজা ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
Select Language