সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০ | ১২:৪৪
১০ কার্তিক, ১৪২৭ | ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২
দেশের খবর

অনলাইন ডেস্ক> তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে, বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত দেশ গঠনের পাশাপাশি একটি উন্নত জাতিও গঠন করা। আর উন্নত জাতি গঠন করার জন্য মেধা-মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধের সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নত জাতি গঠনে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন। এটি ছাড়া শুধু বস্তুগত উন্নয়ন দিয়ে খুব বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া যাবে না।
মন্ত্রী শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চুয়েটের উপাচার্য মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগেরে সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। বাসস, চট্টগ্রাম
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দুটি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। একটি হচ্ছে দিনবদল, আরেকটি হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে দিনবদল হয়েছে, এখন দেশের কোনো শহরের অলিগলিতে কিংবা গ্রামের মেঠোপথে ‘মা, আমাকে একটু বাসি ভাত দেন’—এই ডাক শোনা যায় না। তিনি বলেন, এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে, বাস্তবে কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। আকাশ থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহর চেনা যায় না। একই সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৫ কোটি মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহারকারী রয়েছে।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার স্বপ্নের কথা বলেছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হবে দেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানো শুধু নয়, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নত জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও স্বপ্নের ঠিকানাকে অতিক্রম করতে চাওয়া।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা শুধু দেশে মেধার স্বাক্ষর রাখছেন তা নয়, তাঁরা বিশ্বব্যাপী মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ৫১ বছর ধরে চুয়েট যাঁদের প্রকৌশলী হিসেবে তৈরি করেছে, তাঁরা আজকে পৃথিবীব্যাপী অবদান রাখছেন।’

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগে এখন নেতার অভাব নেই। এখন কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। বড় নেতা, আধুলি নেতা, সিকি নেতা, আরও কত নেতা!
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কাউকে বাদ দেওয়া হয় না। আওয়ামী লীগে দায়িত্বের পরিবর্তন হয়। দায়িত্বের পরিবর্তন মানে বাদ দেওয়া নয়। নবীনের সঙ্গে প্রবীণের মিলন। প্রবীণের সঙ্গে নবীনের মিলন। শক্তির সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিলন। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। আওয়ামী লীগকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ঢেলে সাজাতে হবে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি করতে গিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে নেতার অভাব নেই। এখন কর্মীদের চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। বড় নেতা, আধুলি নেতা, সিকি নেতা, আরও কত নেতা! নেতার শেষ নেই। নেতা আছে, কর্মী পাওয়া যায় না। নেতাদের পোস্টার লাগানোর মানুষ থাকে না। ভাড়া করে পোস্টার লাগাতে হয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি বিশ্বের তিনজন সৎ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একজন। বিশ্বের পরিশ্রমী চারজন রাষ্ট্রনায়কের একজন, বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নেতার একজন। গত ৪৪ বছরে দেশের সবচেয়ে সৎ রাজনীতিবিদের নাম শেখ হাসিনা। বিশ্বের দক্ষ এক প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সুশৃঙ্খল হতে হবে। নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এখন টাকার বিনিময়ে নেতা হওয়ার সুযোগ শেষ। মনোনয়ন বাণিজ্যের দিন শেষ। সুসময়ের সুবিধাবাদীদের দিন শেষ। এসব চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। নেত্রী টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। এখন থেকেই সাবধান হয়ে যান।’
সম্মেলনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, ত্রাণ ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জনগণের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে জনস্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে রাষ্ট্রের সব ব্যয় নির্বাহ এবং উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হয়। তাই সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) যশোর সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের ষষ্ঠ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সেনানিবাসে সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে কোর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।
পুনর্মিলনী প্যারেডে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সিগন্যাল কোর সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশীদার। দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সিগন্যাল কোর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসা অর্জন করেছে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একইভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে সশস্ত্র বাহিনীকে অবদান রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদদের পাশাপাশি সিগন্যাল কোরের সদস্যদের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন।
সেনাবাহিনীর সার্বিক ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্প্রতি সারাদেশের দুটি সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, বরিশাল, সিলেট ও রামুতে তিনটি স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানি ও চারটি ব্রিগেট সিগন্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আওতায় সেনাবাহিনীতে সাইবার ওয়ারফেয়ার গ্রুপ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট, স্যাকটম ইউনিট ও স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সমিশন ইউনিট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনীর সমরশক্তি ও যোগাযোগ সক্ষমতা সুসংহত করবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আশা করি দায়িত্ব পালনকালে আপনারা শুদ্ধাচার কৌশল যথাযথভাবে প্রতিপালন করবেন। নিজের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবেন। সেনাসদস্যরা বিশেষত সিগন্যাল কোর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ অর্পিত দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণদানকারী শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ ‘অমর প্রাণ’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে যুদ্ধবিমান থেকে দুটি তেলের ট্যাংক পৃথক স্থানে খসে পড়েছে। রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার গয়েশপুর বটতলা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিনের মাজারের সামনে ও বড় বড়াই গোলাপ সরকারের বাড়ির সামনে ট্যাংক দুটি খসে পড়ে। তবে এতে কেউ হাতাহত হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাগলা থানাধীন পাইথল ইউনিয়নের ওপর দিয়ে একটি যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে আরটি-৯৪৫ নম্বরের একটি তেলের ট্যাংক মাজারটির সামনে এবং এর অল্প দূরে বড় বড়াই গ্রামের গোলাপ সরকারের বাড়ির সামনে এলটি-৯৪৫ নম্বরের আরেকটি ট্যাংক পড়ে ধুমড়েমুচড়ে যায়; ভেতরের তেল ছড়িয়ে পড়ে। এতে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কৌতূহলী লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করে। খবর পেয়ে পাগলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এদিকে রোববার আইএসপিআর জানায়, নিয়মিত মহড়ার সময় রোববার বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি তেলের ট্যাংক খুলে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের একটি জনশূন্য স্থানে পড়ে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> দেশবরেণ্য ১০০ চিত্রশিল্পী মিলে ১০০ ফুট ক্যানভাসে এঁকেছেন বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে ছবি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (১ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে তারা এ ছবি আঁকেন। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের পাবলিক প্লাজায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই থেকে এসব ছবি আঁকা হয়। তাদের রংতুলির আঁচড়ে উঠে আসে ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭১ ও ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবনী।
এর আগে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর নেতৃত্বে চিত্রশিল্পীরা টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তারা বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেন। এ সময় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, জেলা কালচারাল অফিসার আল মামুন বিন সালেহ উপস্থিত ছিলেন।
চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর রচিত দুটি বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা থেকে ছবি এঁকেছি। এ ছবি আগামী বছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশে প্রদর্শন করা হবে। এ ছবি দেখেই দর্শনার্থীরা বঙ্গবন্ধুর বই দুটি পড়তে আগ্রহী হবেন। এ দুটি বই তিনি শেষ করেননি। কিন্তু আমরা ছবি এঁকে ওই দুটি বইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটাতে চেষ্টা করেছি।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমি বঙ্গবন্ধুর ওপর বৃহৎ চিত্রকর্ম করছে। চিত্রশিল্পীরা বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, আদর্শ, দর্শন ও ত্যাগ রংতুলির মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। এটি আমরা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাই। নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানাতে এ চিত্রকর্ম অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে শতকোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেতনা নিয়েই আমরা কাজ করছি। ২০৪১ সালে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ ও বঙ্গবন্ধুকে আরও বেশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
শতাব্দীর মহানায়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান :শনিবার রাতে গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্মৃতি অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘শতাব্দীর মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা।
চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মান্নান, জাহিদ মোস্তফা, আফরোজা জামিল কংকা, কীরিটী রঞ্জন বিশ্বাস, দুলাল চন্দ্র গাইন, নাসিম আহমেদ নাদভী, সন্‌জিব দাস অপু, শহীদ কবির, নাজমা আক্তার, কামাল পাশা, আলম আনসারীসহ দেশের খ্যাতনামা ১০০ জন চিত্রশিল্পী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রংতুলি আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকায় অংশ নেন। ক্যানভাসে যেন তারা আবার জীবন্ত করে তোলেন প্রিয় নেতাকে।

 

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে সাগরে মাছ ধরার সময় দুটি ট্রলারসহ মিয়ানমারের ১৬ জেলেকে আটক করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের আটক করা হয়।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড বাহিনীর পূর্ব জোনের স্টাফ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম সাইফুল ইসলাম।
আটক জেলেরা হলেন মোহাম্মদ কাশেম (৩৫), নুর হাসমি (১৯), মোহাম্মদ জলিল (২২), আবু শহীদ (২০), নবী হোসেন (২০), হাবিবুর রহমান (৪১), মোহাম্মদ হোসেন (২০), মোহাম্মদ রবি (২০), মোহাম্মদ রফিক (২৫), মোহাম্মদ ধলা (১৭), মোহাম্মদ শাকের (২৭), মোহাম্মদ তাহের (১৮), ইসা আলম (২০), আবু হাবেদ (২৩), মোহাম্মদ কওসির (২০) ও মোহাম্মদ রফিক (৩০)। তাঁরা সবাই মিয়ানমারের আরাকানের চান্দামা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ বিসিজিএস মনসুর আলীর সদস্যরা প্রতিদিনের মতো সাগরে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের জলসীমার ১৬ নটিক্যাল মাইল ভেতরে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের জেলেদের আটক করা হয়। পরে ট্রলার দুটিসহ আটক জেলেদের সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ট্রলার দুটি থেকে ১ হাজার মিটার জাল, ৩০০ কেজি মাছ, ২০ কেজি শুঁটকিসহ আরও অনেক কিছু উদ্ধার করা হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সাদ মোহাম্মদ তাইম বলেন, আটক জেলেদের টেকনাফ থানার পুলিশে সোপর্দ করে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহা বলেন, জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। শনিবার তাঁদের কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বাগেরহাটের শরণখোলা সাউথখালী ইউনিয়নের মধ্যসোনাতলা গ্রামের কবির মুন্সির বাড়ি থেকে ১৮ ফুট লম্বা ৮০ কেজি ওজনের একটি অজগর উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেছে বনবিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে এই ঘটনা ঘটে।
ওয়াইল্ড টিমের মাঠ কর্মকর্তা আলম হাওলাদার জানান, কবির মুন্সির বাড়ির লোকজন অজগর সাপটি দেখে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে সুন্দরবন সুরক্ষায় নিয়োজিত তিন গ্রুপের সদস্যরা মিলে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে অজগরটি ধরতে সক্ষম হয়।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে অজরগরটি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে পানির স্রোতে সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে যায়। বনবিভাগের সহায়ক উদ্ধাকারী দলের সদস্যরা অজগরটি রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসেন। সাপটি সুন্দরবনের ভোলা টহল ফাড়িঁসংলগ্ন ধাবড়ি এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ১২ ফুট লম্বা ও ৩০ কেজি ওজনের একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাতে উপজেলার চর কাশেম গ্রাম থেকে অজগরটি উদ্ধারের পর গহিনখালী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।
এলাকাবাসী ও বন বিভাগ সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার চর কাশেমের একটি গাছে অজগরটি দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী বনকর্মীদের খবর দেন। পরে বনকর্মীরা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অজগরটি উদ্ধার করে রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করে। এরপর রাতেই উপজেলার মাদারবুনিয়া ক্যাম্পের আওতায় গহিনখালী সংরক্ষিত বনে অজগরটি অবমুক্ত করা হয়।
বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অজগরটি উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা থেকে মাদারীপুরগামী চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গার পূর্ব শদরদী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পর অপর একজন মারা যায়। লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ২০-২২ বছর বয়সী এক যুবক শূন্যে গুলি ছুড়ছে। এ ধরনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কে এই যুবক, শুরু হয় তার খোঁজ। জানা গেছে, এই যুবকের নাম সোহান। সে ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। সে কুতুবপুরের ত্রাস মীর হোসেন মীরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। এলাকায় সোহান উঠতি সন্ত্রাসী হিসেবেও পরিচিত।
পাঁচ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ফুলহাতা পোলো-শার্ট পরা সোহান পিস্তল হাতে পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নেপথ্য থেকে কেউ তাকে নির্দেশ দিচ্ছে- ‘রেডি, ফায়ার’। আর সোহানও কমান্ড শুনে শূন্যে পিস্তল তুলে ধরে গুলি ছুড়ছে।
মীরুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অস্ত্র, মাদক, হত্যাসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। তবে আদতে এ সংখ্যা দুই ডজন বলে জানা গেছে। চলতি মাসের প্রথম দিকে একটি মামলার পর মীরু আত্মগোপনে চলে যায়।
অতীতে কুতুবপুরের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করত শফিকুর রহমান মেছের। ১৯৯৬ সালে ঢাকার মালিবাগ কাঁচাবাজারের সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয় মেছের। এর পর তার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে নেয় তার ছোট ভাই আশিকুর রহমান তোফাজ্জল। ২০০৯ সালের অক্টোবরে তোফাজ্জলের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এর পর কুতুবপুরের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ আসে মীরুর হাতে। অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিদিনই মীরু এলাকার তরুণ ও যুবকদের নানা প্রলোভনে নিজের দলে ভেড়ায়। হাতে তুলে দেয় অত্যাধুনিক অস্ত্র। সোহানের শূন্যে গুলি ছুড়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ভিডিও এরই প্রমাণ বহন করে।
অস্ত্র প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত রোববার (২৪ নভেম্বর) রাতেই সোহানের বাড়িতে তার নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে সোহানকে না পেয়ে তার বাবা জাহাঙ্গীর মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সে সঙ্গে সোহান সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় নেই।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সরকারদলীয় একটি পক্ষ মীরুর কোমরে গুলি করলে সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। এর পর হুইল চেয়ারে বসে সে বৃহত্তর কুতুবপুরের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। মীরু তার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে তার ভাই ও ভাগ্নেদের সমন্বয়ে একটি বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। বাহিনীর অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছে তার বড় ভাই আলমগীর হোসেন ও ভাগ্নে শাকিল।
পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় মীরু বরাবরই আদালত থেকে অনুকম্পা পেয়ে থাকে। কোনো বড় ধরনের ঘটনার পর মীরু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা হলেই সর্বপ্রথম আদালতে আত্মসমর্পণ করে মীরু। হুইল চেয়ারে বসে আত্মসমর্পণের কারণে আদালত বিশ্বাসই করতে চান না যে, মীরু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, মীরুই ওই এলাকার সন্ত্রাসের একক অধিপতি।
কুতুবপুর এলাকাবাসীর অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মীরু ও তার বাহিনী ফতুল্লার বিশাল এলাকায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। মীরু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে খুনের মামলাসহ দুই ডজন মামলা থাকার পরও এলাকায় তাদের দাপট কমেনি। সর্বশেষ মীরু বাহিনীর সঙ্গে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাঁদ সেলিম নামে তারই বাহিনীর এক সদস্যের বিরোধ বাধে। মীরু বাহিনীর কয়েকজন চাঁদের গ্রুপে যোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে মীরুর ব্যবহূত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
Select Language