রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০১:৫৫
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
জাতীয়

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, ঢাকা শহরে বায়ু দূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। মূলত তিন কারণে ঢাকাসহ সারাদেশে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে। সেগুলো হলো- ইটভাটা, মোটরযানের কালো ধোঁয়া এবং যথেচ্ছ নির্মাণকাজ। গত আট বছর ধরে এই তিন উৎস ক্রমেই বাড়ছে।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার বায়ু ও শব্দ দূষণ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বায়ু দূষণ মোকাবিলায় দূষণের উৎস বন্ধ করে শহরের বিভিন্ন স্থানে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের জলাশয়গুলোকে রক্ষা করতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অবকাঠমো ও বিভিন্ন কাজে সমন্বয় করা প্রয়োজন। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ইটভাটায় যাতে পরিবেশ দূষণকারী পদার্থের নির্গমন বন্ধ হয় তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে প্রতিদিন সকাল ও দুপুর দুই বার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় উপর থেকে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিআরটি এবং মেট্রোরেল প্রকল্পকেও নিজস্ব উদ্যোগে পানি ছিটানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ইট, বালু, মাটিসহ নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনকারী ট্রাক বা গাড়িগুলো যাতে অবশ্যই মালামাল ঢেকে পরিবহন করে তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে পরিত্যক্ত বর্জ্য না পোড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা নেবে, যেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বাস্তবায়ন করবে। সবার সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই আমরা ঢাকা শহরকে বায়ু ও শব্দ দূষণ মুক্ত করতে পারব।
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে হাইড্রোলিক হর্ন পুরোপুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় শব্দের উৎস সন্ধান করে তা বন্ধ করা হবে।
তিনি জানান, আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে সচিবালয়ের চারপাশ অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, কদম ফোয়ারা, শিক্ষাভবন এলাকাকে নিরব জোন বা ‘শব্দবিহীন’ এলাকা ঘোষণা করবে সরকার। এ এলাকায় কোনো পরিবহনকে হর্ন বাজাতে বা শব্দ সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। ঢাকা শহরে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাইলট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এটা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়ে গেছে, সাজা কমানোর প্রশ্নই আসে না। আইনের সব কিছু প্রয়োগ হয়ে গেছে, শুধু দুই থেকে তিন জায়গায় আগামী জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়সীমা বর্ধিত করা হয়েছে। আইন স্থগিত করা হয়নি, কোনো কিছু স্থগিত করা হয়নি, সবই চলবে।
রোববার (২৪ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টাস্কফোর্স কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি বিষয়ে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন ও ফিটনেস হালনাগাদে বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি আছে। এ কারণে ৩০ জুন পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। ট্যাক্স টোকেনের টাকা বকেয়া জরিমানা মওকুফ করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। ট্যাক্স-টোকেনের বিষয়ে আবেদন জমা দিলে আশা করি জরিমানা এবারের মতো মাফ করা হবে।
তিনি বলেন, এর আগে সড়কে দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সরকারের নিকট ১১১ দফা সুপারিশ পেশ করে। সেই ১১১ দফা বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স গঠন হয়েছে। এই ফোর্সের কাজ পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য বন্ধ করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সেই লক্ষে আমরা কাজ করতে প্রথম সভা করলাম। সভায় ১১১ সুপারিশ বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনার জন্য যোগাগাযোগ সচিব, জননিরাপত্তা সচিব, তথ্য সচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে চারটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদের পরিকল্পনা ও সুপারিশ আমাদের জানাবেন। তারপর আবার আমাদের (টাস্কফোর্সের) বৈঠক হবে।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
শাজাহান খান বলেন, শ্রমিকরা আইন শিথিল চায় না, জরিমানা কমাতে চায়। মাসে সারাদেশে ৩-৪ হাজার দুর্ঘটনা ঘটে। চালকদের ধরে জেলে রাখলে গাড়ি চালাবে কে? এত চালক তৈরির সক্ষমতা তো আমাদের নেই।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চালকরা বলছেন নতুন আইনের জরিমানা দেওয়া সম্ভব না, আইনে মৃত্যুদণ্ডের কথা লেখা নেই। অপরাধ করলে কত বছর সাজা হবে এবং জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ তা লেখা আছে। তা কমার কোনো প্রশ্ন আসে না, সর্বোচ্চ লিমিট বিচারক ব্যবস্থা নেবেন, আমরা সিলিং দিয়েছি সর্বোচ্চ, তিনি ইচ্ছা করলে কোন জায়গায় যেতে পারেন সেটা তার এখতিয়ার। জামিন অযোগ্যর বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, এটি বৃহৎ আকারে আলোচনা হবে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়নে যুব সমাজের মেধা ও শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।
যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম সেই চিন্তা করতে হবে। দুর্নীতি করে হয়তো সম্পদ অর্জন করা যায়, কিন্তু মানুষের সম্মান পাওয়া যায় না, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
যুবলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, চাঁদার হিসাব না করে জনকল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে। এ সময় তিনি বদনাম দূরে সরিয়ে আদর্শ ও সম্মান নিয়ে চলতে যুবলীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্র বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। এটা আমাদের কথা নয়, বিশ্বই এই স্বীকৃতি দিচ্ছে।
এর আগে শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধন করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যুবলীগের এই কংগ্রেসেই ঘোষণা করা হবে সংগঠনের নতুন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের নাম।
যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের নীতিনির্ধারক নেতারা আগেই স্পষ্ট করে বলেছেন, দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিতদের আর ঠাঁই হবে না যুবলীগে। সৎ, যোগ্য, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয়রাই আসবেন এই সংগঠনের নেতৃত্বে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ খুঁজে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনলাইন ডেস্ক> রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ অসাধু ব্যবসায়ী, লুটেরা, মুনাফাখোর ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এরা গুজব ছড়িয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে।
রাষ্ট্রপতি শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এ কথা বলেন। খবর বাসসের
তিনি বলেন, ‘পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ী, মুনাফাখোর, লুটেরা ও মজুতদারদের মধ্যেও ঐক্য রয়েছে। এখন এই সব দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
সম্প্রতি পেঁয়াজ, লবণ ও চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, এতে সাধারণ জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ, লবণ ও চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদের ব্যাপারে গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদেরও এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।’
পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হ্রাস পায়। এমনকি রমজান মাসে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষও পণ্যের মূল্যহ্রাস করে। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। এদেশে রমজান মাস এলেই ইফতারি তৈরিতে ব্যবহৃত বেগুন, শশা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘জনগণকে অবশ্যই এই দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি উচ্চশিক্ষা যাতে কোনক্রমেই সনদসর্বস্ব না হয় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানসম্মত না হলে শিক্ষা মূল্যহীন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল হামিদ আরো বলেন, জাতির উন্নয়ন, উন্নত সমাজ গঠন ও বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট তৈরির লক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তাক অধ্যয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পাঠ্যবিষয়ের সাথে সাথে বহির্জগতের জ্ঞানভাণ্ডার থেকেও জ্ঞান আহরণ করতে হবে। পাশাপাশি তাদেরকে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কেও জানতে হবে। নিজেদের কর্মী ও জ্ঞানী করে তোলাই শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য।’
শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা মাথায় রেখে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য গ্রাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান।
গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিক্ষিত হয়ে তোমরা কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। মনে রেখ, জ্ঞান, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের কোন শেষ নেই।’তিনি দেশের কল্যাণে নিজেদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা কাজে লাগাতে গ্রাজুয়েটদের পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তোমাদের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা। তোমরা তোমাদের প্রতিভা ও কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে।
মোট ৩ হাজার ২৫০ শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে গ্রাজুয়েট লাভ করেছে। এদের মধ্যে চারজনকে চমৎকার ফলাফলের স্বীকৃতি স্বরূপ স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপুমনি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপার্সন তামারা হাসান আবেদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং ও কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী অরিত্র রায় আর্চ।

কূটনৈতিক ডেস্ক> তরুণদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) ঢাকায় আর্মি স্টেডিয়ামে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানান।
বান কি মুন বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে দ্বন্দ্ব, সংঘাত এবং সংকট তা একক কোনও দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একটা দেশের, একটা অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ এখন বিশ্বজুড়েই প্রভাব ফেলে। এ কারণে আজকের তরুণদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
এ সময় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে অনুকরণীয় হিসেবেও উল্লেখ করেন জাতিসংঘের এই সাবেক মহাসচিব। প্রায় ১৪ মিনিট ধরে বক্তব্য দেন তিনি।
বান কি মুন আরও বলেন, বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে। তাদের অধিকার এ বিশ্বকেই ফেরত দিতে হবে। তারা উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের অধিকার পাওয়ার জন্য, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম সম্মেলন উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো.আব্দুল হামিদ। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার পরই সমাবর্তন বক্তৃতার পর্ব শুরু হয়। বান কি মুন বক্তৃতা শুরু করলে পুরো সমবার্তন স্থল তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়।
বান কি মুন বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, সমাবর্তন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় আয়োজন। এ ধরনের একটি মহৎ আয়োজনে তাকে আমন্ত্রণ জানানোয় তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। বিশেষ করে সামনে এত উজ্জ্বল তরুণের মাঝে তিনি নতুন আশার স্পন্দনে স্পন্দিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, আজকের বিশ্ব নানাভাবে সংঘাতপূর্ণ এবং বিভাজিত। কিন্তু আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশ্বকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন মানুষ সহজেই বিশ্ব সমাজের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।
বান কি মুন বলেন, এ অবস্থায় আজকের বিশ্ব নেতৃত্বকে বুঝতে হবে, বিশ্বকে নানা ইস্যুতে বিভাজিত রেখে, দ্বন্দ সংঘাতের ভেতরে রেখে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে যাওয়া যাবে না। আজকের দুনিয়ায় যে কোনও দেশের কিংবা অঞ্চলের জন্য চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র সে দেশ কিংবা অঞ্চলের থাকে না। পুরো বিশ্বের ওপরই তা কোন না কোনভাবে প্রভাব ফেলে। অতএব বর্তমান বিশ্বের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যরে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আজকের তরুণদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা, পরিকল্পনা এবং ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বান কি মুন বলেন, তিনি ২০১১ সালে ঢাকায় এসেছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিতে। এ ছাড়া তিনি গত জুন মাসে গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন সম্মেলনে অংশ নিতেও ঢাকায় আসেন। সে সময় তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা এবং পরিকল্পনা তাকে অভিভূত করে।
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এখনকার সময়টি তথ্য প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের সময় শুধু নয়, বরং সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে প্রতি মুহূর্তে বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখার অপূর্ব সুযোগের সময়। এ সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব মুন বলেন, বিশ্বের কোথায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ঘটছে, তা নতুন কোন চ্যালেঞ্জ, সংকট কিংবা সম্ভাবনার সৃস্টি করছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেই সম্ভাবনাকে নিজের দেশ এবং সমাজের কল্যাণে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে দিকে গভীর মনযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি নিজের ভেতরের সৃস্টি, সম্ভাবনাকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দিয়ে একজন সফল বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

অনলাইন ডেস্ক> দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে তিনি দেশ গঠনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের ভূমিকা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর ইউএনবির
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যদি শান্তি ও শৃঙ্খলা থাকে তাহলে অগ্রগতি অবশ্যম্ভাবী। তাই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপদে থাকা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’
সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৯ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার  ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনায় উপস্থিত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এছাড়া, শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা বজায়ের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে অবদান রাখার তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সর্ব অবস্থায় চেইন অব কমান্ড মেনে ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দেশ গঠনে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।’
বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি ও দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের এ স্বীকৃতি ধরে রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ৮.১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং চলতি অর্থবছরের জন্য এ লক্ষ্যমাত্রা হলো ৮.২০ শতাংশ।
২০০৬ সালে থাকা দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে এখন ২১ শতাংশ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দারিদ্র্যের হার আরও কমাতে চায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দারিদ্র্যের হার ১৫-১৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারি তাহলে অবশ্যই দারিদ্র্যমুক্ত দেশের স্বীকৃতি পাব।’
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। নিজেরা নিজেরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমি চাই আপনারা সবাই যার যার অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে আপনাদের নিজের দেশকে গড়ে তুলবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন তার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, সম্পাদক, সিনিয়র সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি ও তাদের জীবনসঙ্গীরা সংবর্ধনায় যোগ দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নতুন করে সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা সেনাকুঞ্জের উদ্বোধন করেন।
আজকের এ দিনে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী নিয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আত্মপ্রকাশ হয় এবং তারা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ চালায়। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ত্বরান্বিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ ঐতিহাসিক দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ জনকে আজীবন বা স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে৷ আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েটের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক ও বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের সদস্যসচিব অধ্যাপক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে৷ অধ্যাপক মিজান নিজেও গণমাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন৷
গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী৷ এই ঘটনার পর থেকে প্রথমে ক্যাম্পাসে আন্দোলন ও পরে একাডেমিক অসহযোগে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। যার ফলে বুয়েট কার্যত অচল রয়েছে এখনো ওই ঘটনায় আবরারের বাবার করা মামলায় গত ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ৷ অভিযোগপত্র জমার প্রতিক্রিয়ায় ১৪ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, তিনটি দাবি বাস্তবায়ন হলে তাঁরা একাডেমিক অসহযোগ থেকে সরে গিয়ে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন৷ সেই দাবিগুলোর একটি ছিল অভিযোগপত্রে নাম আসা ছাত্রদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার৷
যেসব শিক্ষার্থীকে বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে, তাঁরা হলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, সাবেক সহসভাপতি এস এম মাহমুদ সেতু এবং সদস্য ও কর্মী মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহ, মাজেদুর রহমান, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান জিসান, মোয়াজ আবু হোরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত ও মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম৷ এদের মধ্যে আশিকুল ইসলাম বিটু ছাড়া বাকি সবার নাম পুলিশের অভিযোগপত্রে রয়েছে৷
বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ছয়জন হলেন বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ছাত্র আবু নওশাদ সাকিব, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ গালিব, মো. শাওন মিয়া, সাখাওয়াত ইকবাল অভি ও মো. ইসমাইল৷ আবরার হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থাকাসহ কয়েকটি অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে৷
এদিকে আবরার হত্যায় অভিযুক্তদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, অভিযুক্তদের বহিষ্কারের বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন৷ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাঁরা পরে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাবেন৷

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> টেলিভিশন যেন ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়ী স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘মনে রাখা প্রয়োজন, আমার প্রতিষ্ঠান যেন আমার স্বার্থরক্ষার কাজে ব্যবহার না হয়, এই দৃষ্টিকোণ থাকা প্রয়োজন। আমি একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি বা এর সঙ্গে যুক্ত আছি বলেই আমার ব্যবসায়ী স্বার্থ, ব্যক্তিগত স্বার্থে যেন ব্যবহার না হয়, সেটি দেখার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’
বিশ্ব টেলিভিশন দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে আরটিভির সহায়তায় ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘কেমন আছে দেশের টেলিভিশন?’ শীর্ষক আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, ‘শিশু-কিশোরসহ আমাদের পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর টেলিভিশনের প্রভাব ব্যাপক। যে মাধ্যমের এত বড় প্রভাব, সেটিকে আমরা জাতিগঠনের বিশাল কাজে লাগাতে পারি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে আমাদের টেলিভিশন অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম। নতুন প্রজন্মের মনন তৈরি ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের ঠিকানায় দেশকে পৌঁছানোর জন্য যেমন মেধা, মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী দরকার, তা তৈরির সক্ষমতা আমাদের টেলিভিশনের আছে।
‘নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মধ্যে আত্মপ্রত্যয়, দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধ ও মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়া তোলার দায়িত্ব আমাদের’ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অনুষ্ঠান তৈরি ও সাজানোর ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো যদি আমরা মাথায় রাখি, তাহলে যে অনুষ্ঠানই আমরা করি, সেটার মাধ্যমেই এ দায়িত্ব পালন সম্ভব।’
সমাজের কল্যাণের দিকে দৃষ্টি রাখাকে টেলিভিশনের দায়িত্ববোধের অংশ বলে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, কিছু বিদেশি চ্যানেলে কীভাবে সংসার ভেঙে যাচ্ছে, পরকীয়া হচ্ছে বা একে অপরের বিরুদ্ধে কূটচাল দিচ্ছে, সেটি দেখাতে পারে। মানুষও এগুলো দেখতে আগ্রহী হতে পারে। কিন্তু দর্শকপ্রিয়তার জন্য এসব বিষয় দেশে দেখানো উচিত নয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি সিরিয়াল যেগুলো চলছে, সেগুলোর অনুমতি লাগবে। কোনো কোনোটি অনুমতি নিয়েছে। যারা অনুমতি চেয়েছে, সেগুলোর প্রক্রিয়াধীন। একটি সিনেমা মুক্তি পেতে হলে তাকে সেন্সর বোর্ড হয়ে অনুমতি নিতে হয়। সে জন্য খুব শিগগির আমরা একটি কমিটি গঠন করে দেব। এটি সেন্সর বোর্ড হবে না, কমিটি হবে। সেই কমিটি দেশের আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং আমাদের জনগোষ্ঠীর কল্যাণের বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণ করে সিরিয়ালের অনুমতি দেবে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘টেলিভিশনে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের চাকরির পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা নেই। সেটি করার জন্য আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সুরক্ষার ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যমান সম্প্রচার নীতিমালার আলোকে সেটি করা সম্ভব। এ বিষয়ে মালিকদের বিশেষ দায়িত্ব আছে বলে আমি মনে করি।’
আলোচনায় অংশ নেন ডিবিসি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, আরটিভির প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশিকুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান রেজওয়ানুল হক, একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ, সারাবাংলাডটনেট সম্পাদক সৈয়দ ইসতিয়াক রেজা, চ্যানেল ২৪-এর বার্তাপ্রধান রাহুল রাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষক এ জেড এম শফিউল আলম ভূঁইয়া প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> রাজধানী ঢাকার টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটের আগুন লাগে মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি কাপড়ের দোকান থেকে। মুহূর্তের মধ্যে অন্য দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। ছিল না মার্কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। সৌভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যা পাঁচটার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
আগুন লাগার খবর পেয়ে উৎসুক মার্কেটের দুই পাশে ভিড় করেন। এ সময় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশ, আনসার বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মার্কেটের একটি দোকানের মালিক রাজীব হোসেন বলেন, মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটা কাপড়ের দোকান থেকে সন্ধ্যা ৫ টা ৫ মিনিটে আগুন লাগে। ওই আগুন মুহূর্তের মধ্যে অন্য দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। তখনই তাঁরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চলে আসেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ভাষ্য, সন্ধ্যা ৫টা ১৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান। আট মিনিটের মধ্যেই তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের ২৫ টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মার্কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এটি কোনো পরিকল্পিত শপিং মল নয়। ছোট খাটো টিন শেডের দোকান।
সন্ধ্যা ৭টার পর রাজধানীর সুপার মার্কেট পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়েন। খুব দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আগুন লাগার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগুন নিভে গেছে। কেন আগুন লেগেছে তা বলা যাবে তদন্ত হওয়ার পর। এই মার্কেটে কয়েকশ দোকান আছে। এর মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে শাহজাদা নামের এক ব্যক্তি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, আগুনে রাজধানী সুপার মার্কেটের বহু দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর মধ্যে তাঁর ভাইয়েরও একটা দোকান রয়েছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পদক্ষেপের কারণে গত সাড়ে তিন বছরে ব্যাংক খাতে লোপাট হওয়া প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ফেরত এসেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এ সময়ে জনআকাঙ্খা অনুযায়ী এগোতে না পারলেও ‘নখদন্তহীন বাঘের’ অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বুধবার (২০ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিজ দপ্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার সংস্থাটির পঞ্চদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন অনেক প্রভাবশালীকে দুদকের কার্যালয়ে নিয়ে এসেছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এর মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পূরণ করেছে। তবে বিশাল বিশাল দুর্নীতিগুলো খুঁড়ে বের করতে না পারাকে ব্যর্থতা হিসেবে মানছেন তিনি।
এ সময় সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গেও কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি জানান, এ পর্যন্ত দুদকের তালিকায় ১৬৭ জনের নাম এসেছে। তবে তিনি বলেন, তালিকায় নাম আসা মানেই অনুসন্ধান নয়। তাদের সম্পর্কে সবকিছুই প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখার পরই আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হবে।
দুদকের সূত্র জানিয়েছে, তালিকা ১৬৭ জনের হলেও আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে ১১৮ জনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক বরাবর দুদকের পরিচালক ইকবাল হোসেনের পাঠানো চিঠিতে ১১৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানানো হয়। তাঁদের ব্যক্তিগত ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের বিশদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর বাইরেও শুদ্ধি অভিযানে যেসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলব করা হয়েছে সবার তথ্যও চেয়েছে সংস্থাটি।
অভিযান প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘সরকার নিজেদের অভিযান চালাচ্ছে। আর দুদক নিজেদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করছে। তবে সরকারের অভিযানের মাধ্যমে সরকার তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাচ্ছে। এটা দুদকের কাজকে উৎসাহিত করেছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা শুধু সরকারকে দিয়ে হয় না। সব রাজনৈতিক দলের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারকেই আমি রাজনৈতিক সদিচ্ছা বলব।’
চলমান শুদ্ধি অভিযানে একটি বড় তালিকা ধরে কমিশন যে অনুসন্ধান করছে সেটা একটি বড় কর্মযজ্ঞ। দুদকের সে সক্ষমতা কতটা—এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকারের যে উদ্যোগ সেটাকে জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে চাই। সে সক্ষমতা দুদকের আছে। সরকারের যে উদ্যোগ সেটা জনগণের চাপের কারণেই হচ্ছে। আমাদের ওপরও জনগণের প্রত্যাশার চাপ আছে। আমরা এটাকে সফল পরিণতি দিতে পারব।’
Select Language