রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০১:২২
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
জাতীয়

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশতম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেছেন, আদর্শ, প্রচেষ্টা, বৃত্তি, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস ছাড়া শিক্ষা মূল্যহীন। তাই একজন শিক্ষককে হতে হবে আদর্শ ও ন্যায়নীতির প্রতীক।
তিনি বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যেসব খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা দেখে আচার্য হিসেবে আমাকে মর্মাহত করে। আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকরা প্রশাসনের বিভিন্ন পদ-পদবি পাওয়ার লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ঠিকমতো অংশ না নিয়ে বিভিন্ন লবিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেকে আবার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতেও পিছপা হন না। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ভুলে গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্নিষ্ট লেনদেনে সম্পৃক্ত হন। এটি অত্যন্ত অসম্মানের ও অমর্যাদাকর।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহীতে শেখ কামাল স্টেডিয়ামে বক্তৃতাকালে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মনে রাখবেন, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাধারণ মানুষ আপনাদের সম্মান ও মর্যাদার উচ্চ আসনেই দেখতে চায়। তাই ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করবেন না। আপনাদের মর্যাদা আপনাদেরই সমুন্নত রাখতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের কাছে আদর্শ যাতে ভূলুণ্ঠিত না হয়, সে দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।
শিক্ষকদের রাজনীতি নিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, আপনারা রাজনৈতিকভাবে খুবই সচেতন ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও চিন্তা-চেতনায় একজনের সঙ্গে আরেকজনের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব যেন প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থীর ওপর না পড়ে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ও অগ্রগতি নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। তোমাদের তারুণ্য জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নে প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে একজন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সব সময় সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। নৈতিকতা ও দৃঢ়তা দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। বিবেকের কাছে কখনও পরাজিত হবে না।
২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। জাতীয় তাৎপর্যবাহী এ দুটি অনুষ্ঠান সাড়ম্ব্বরে উদযাপনে গ্র্যাজুয়েটসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার অবদান রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। যখন শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী। সরকারকে অবহিত করলে সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে তা পূরণ করবে। অন্যায়ভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে জিম্মি করা হলে তা সরকার বরদাশত করবে না। শিক্ষকদের স্বচ্ছতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী। এতে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা, চৌধুরী মো. জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাংসদ অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান, সাংসদ আয়েন উদ্দীন প্রমুখ।

অনলাইন ডেস্ক> অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনকে একটি রোগ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চুরির টাকা দিয়ে ভোগ-বিলাসে জীবন কাটানো সরকার সহ্য করবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে ভোগ-বিলাসি জীবন-যাপন করবেন, আর কেউ সৎভাবে, সাদাসিধে জীবন-যাপন করতে গিয়ে তার জীবনটাকে নিয়ে কষ্ট পাবেন, এটা হতে পারে না।’
শেখ হাসিনা শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুুপুরে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। খবর বাসসের
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে বিরানী-পোলাও খাওয়া আর ব্রান্ডের জিনিস পরার চেয়ে সাদাসিধে জীবন যাপন করা অনেক সম্মানের। অন্তত, এটা অবৈধ, চোরা টাকা এই কথাটা সারাক্ষণ মনে আসবে না। শান্তিতে ঘুমানোও যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আসলে এই টাকা বানানোটা একটা রোগ, এটাও একটা অসুস্থতা। একবার টাকা বানাতে থাকলে তার শুধু বানাতেই ইচ্ছে করে। কিন্তু, ওই টাকার ফলে তার ছেলে-মেয়ে বিপথে যাবে, পড়াশোনা নষ্ট হবে, তারা মাদকাসক্ত হবে, সেটা দেখারও সময় নাই। টাকার পেছনে ছুটছেতো ছুটছেই। আর নিজের পরিবার ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।’
‘এই ধরনের একটা সামাজিক অবস্থা আমরা চাই না,’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,‘আমরা চাই সৎ পথে কামাই করে সম্মানের সাথে চলবে। আর চোরা টাকা, দুর্নীতির টাকা, অবৈধ পথে অর্জিত টাকার বিলাসিতাকারিকে নিয়ে মানুষ মুখে যাই বলুক পেছনে একটা গালি দেবে। এই গালিটা শোনা না গেলেও গালিটা কিন্তু খেতে হয় সেকথাটা মনে রাখতে হবে।’
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শাহে আলম মুরাদ বক্তৃতা করেন।
সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল এবং গোলাম রব্বানী বাবলু শোক প্রস্তাব পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের সকল শহিদ, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার শহিদ, দেশ মাতৃকার সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মাহুতি দানকারি এবং আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের মৃত্যুবরণকারীদের স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিটি নীরবতা পালন করেন।
এরআগে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং ইউনিটের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এটা অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে, এটা অব্যাহত থাকবে। কারণ, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, কারো ভোগ বিলাসের জন্য নয়।
বঙ্গবন্ধু মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করে দল গোছানোর জন্য দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেছিলেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য সবধরণের আত্মত্যাগের জন্য তিনি সব সময় প্রস্তুত ছিলেন। কাজেই, তারই আদর্শেও সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সেই আদর্শ বুকে ধারণ করে জনগণের জন্য কতটুকু আমরা করতে পারলাম, জনগণকে কি দিতে পারলাম, কিসে জনগণের কল্যাণ হবে-সেই চিন্তা করতে হবে।’

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> প্রয়োগের প্রথম দিন থেকেই হোঁচট খেয়েছে সড়ক পরিবহন আইন। তবে আইন বাস্তবায়নে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। শনিবার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন, নিরাপদ সড়ক চাই-নিসচার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
নিসচার প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যারা অন্যায় করবেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পরিবহন মালিক বা শ্রমিক হোক, কারও চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। আইনের বাস্তবায়ন আটকে রাখা যাবে না। মানুষকে জিম্মি করে, সরকারকে বিব্রত করে যদি কেউ এই আইন বাস্তবায়ন ঠেকানোর চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
১ নভেম্বর কার্যকর করা হয় বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন। এতে সড়কে আইন ভঙ্গে জরিমানা বেড়েছে ১০ থেকে হাজার গুণ। বেড়েছে কারাদণ্ড। ১ নভেম্বর থেকে আইন কার্যকরে গত ২৩ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি হলেও দুই দফায় ১৪ দিন ছাড় দেওয়া হয় বর্ধিত জেল-জরিমানা প্রয়োগে। সেই সময় শেষ হওয়ার পরও নতুন আইনে মামলা দেওয়ার নজির নেই বললেই চলে।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে দুই দশক আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদ পাওয়া ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়কে চলমান সংকট নিরসনে আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে যে ১১১ সুপারিশ করা হয়েছে, তাতে আইন বাস্তবায়নের পথনির্দেশনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের পর নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারজনকে সম্মাননা জানায় নিসচা। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ নূর নাহার ইয়াসমীন, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দীন আহম্মেদ, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রফিক) ফয়সল মাহমুদ এবং তেজগাঁও জোনের ট্রাফিক পরিদর্শক বিপ্লব ভৌমিক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিসচার মহাসচিব সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল, যুগ্ম মহাসচিব গনি মিয়া বাবুল, লিটন এরশাদ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাদেক হোসেন বাবুল, নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন করে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। শনিবার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সড়ক-মহাসড়কের উন্নয়ন এবং বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি না হলে সড়ক পরিবহন আইনে সুফল মিলবে না।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সভার ধারণাপত্র পাঠ করেন। এতে আইন বাস্তবায়নের পথে ৯টি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।
এগুলো হলো, চালক সঙ্কট, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ফুটপাথ-সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং, চাঁদাবাজি, মহাসড়কে সার্ভিস লেন না থাকা, বিআরটিএর সক্ষমতার অভাব, আইন প্রয়োগে দুর্নীতি এবং নিবন্ধনবিহীন গাড়ি।
ধারণাপত্রে বলা হয়, দেশে ৭০ লাখ চালক রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ২১ লাখের হাতে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন চালক সৃষ্টি না করলে আইন বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ৬০ লাখ যানবাহনের মধ্যে ১৩ লাখের নিবন্ধন ও ফিটনেস নেই। সড়কে নসিমন, করিমন, ইজিবাইকের মতো অবৈধ যান রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, এগুলো রেখে সড়কে নিরাপত্তা আসবে না। মহাসড়কে ধীরগতির, দুই ও তিন চাকার যান চলাচলে পৃথক লেন নেই। লেন নির্মাণ না করে মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচলে জরিমানা করলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বৈধ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায়, অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। সড়ক মহাসড়কে দিনে প্রায় দুই কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সড়ক আইন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
সভায় বলা হয়, দেশে যানবাহনের সংখ্যা ৬০ লাখ। তা দেখভালে বিআরটিএর জনবল মাত্র ৭০০ জন। সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব এ সংস্থাটির ওপর। বিআরটিএকে শক্তিশালী না করে আইন প্রয়োগ সম্ভব নয়। আইন প্রয়োগ দুর্নীতি মুক্ত রাখাও চ্যালেঞ্জ। সিসি ক্যামরা পদ্ধতিতে প্রসিকিউশন চালু না করলে দুর্নীতি বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ সমূহ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় অংশ নেন ডিটিসিএ’র সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. সালেহ উদ্দিন, সমকালের উপ-সম্পাদক আবু সাঈদ খান, আন্তঃজেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাফর চৌধুরী, এফবিসিসিআই’র পরিচালক আবদুল হক, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> দেশের প্রতিটি জেলায় অতি দ্রুত ১০ বেডের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। একই সঙ্গে সারা দেশে স্বাস্থ্য সহকারী, টেকনিশিয়ানসহ স্বাস্থ্য খাতে অতি দ্রুত ২০ হাজার লোক নিয়োগ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়ায় শুভ্র সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন। জেলা হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জেলা হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল ওয়ারেশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভাগের উপপরিচালক রঞ্জিত কুমার সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হাফিজুর রহমান, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসরাফিল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সদর উপজেলার বেতিলা বাজার এলাকায় ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর এবং ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বেতিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্ধিত তিনতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বেতিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মীর আমিরুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাহিদ মালেক। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই গ্রাম আজ শহরের পরিণত হচ্ছে। প্রতি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগসহ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচিসহ স্বাস্থ্য খাতে নানা উন্নয়নের কারণে দেশে এখন শিশু মৃত্যুহার কমেছে।

অনলাইন ডেস্ক> প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এ পরিবর্তনে নবম শ্রেণি থেকে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ বিভাজন আর থাকছে না। আগামীতে নবম-দশম শ্রেণিতে সবাইকে একই কারিকুলামের একই পাঠ্যবই পড়তে হবে। এতে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে সব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে গিয়ে বিভাগ বিভাজন শুরু হবে। এ লক্ষ্যে কারিকুলাম উন্নয়ন সংশ্নিষ্টদের নিয়ে দফায় দফায় কর্মশালা করে সরকারি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কারিকুলাম পরিবর্তনের পাশাপাশি পাঠ্যবইও বদলে যাবে। এবারই প্রথমবারের মতো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলাম একসঙ্গে পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, নতুন কারিকুলাম অনুসারে নতুন বই ছাপানো হবে। এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে প্রথম শ্রেণি ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নতুন কারিকুলাম ও বই পাবে। যথাসময়ে বই পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়ে এ স্তরের নতুন কারিকুলাম চূড়ান্ত হবে ২০২০ সালে মাঝামাঝি সময়ে। ২০২২ সালে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং ২০২৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইও পরিবর্তন করা হবে।
পাশাপাশি ২০২২ সালে সপ্তম শ্রেণি, নবম ও একাদশ শ্রেণির পাঠ্যবই পরিবর্তন হবে। আর ২০২৩ সালে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হবে।
কারিকুলামে বড় পরিবর্তনের মধ্যে অষ্টম শ্রেণি থেকে বিভাগ তুলে দিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করা হবে। ফলে এ স্তরে বিজ্ঞান, মানবিক বা বাণিজ্য নামে কোনো বিষয় থাকবে না। সবাইকে সব বিষয় পড়তে হবে বা বিষয় পছন্দের সুযোগ থাকবে। এতে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে সব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করবে। সংশ্নিষ্টদের ধারণা, দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর সব বিষয়ে সমান ধারণা থাকা উচিত। নবম শ্রেণির বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ উঠিয়ে দেওয়া হলে ২০২৩ সাল থেকেই নতুন কারিকুলাম ও বই পাবে।
কারিকুলামে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা ও নম্বর কমিয়ে আনা। ফলে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পরিমাণ বাড়ানো হবে। শ্রেণিকক্ষে সব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নে ২০ নম্বর রাখা হবে। এতে পাবলিক পরীক্ষার নম্বর কমে যাবে। বর্তমানে গার্হস্থ্য অর্থনীতি/কৃষি পরীক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নতুন কারিকুলামে যুক্ত হবে সব বিষয়।
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান সমকালকে বলেন, ‘নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ চলছে। সে অনুযায়ী বইও পরিবর্তন করা হবে।’
জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরেও বর্তমান চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক এমন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাঠ্যবইয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থা, জঙ্গিবাদ, নিরাপত্তা বিষয়গুলো যুক্ত করা হবে। শ্রেণিকক্ষে পড়ার পাশাপাশি কাজটি করে দেখানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যুক্ত থাকবে খেলাধুলাও।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘আগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের জন্য পৃথক সময়ে কারিকুলাম পরিবর্তন হওয়ার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলামে কোনো সমন্বয় থাকত না। এবারই একসঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের কারিকুলাম পরিমার্জন করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হবে না।’
তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের কারিকুলামের ক্ষেত্রে সময়ের চাহিদাগুলো বিবেচনায় আনা হচ্ছে। বইয়ে কাগজে নৌকার ছবি থাকলে শিক্ষার্থীদের তা শ্রেণিকক্ষেই বানিয়ে দেখাতে হবে। এতে শিশু শিক্ষার্থীর কাজের দক্ষতা বাড়বে।
জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে ২০১৬ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের নিয়ে ওই বছরের ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কক্সবাজারে দু’দিনের আবাসিক কর্মশালা হয়। এতে শিক্ষাবিদরা বেশকিছু সুপারিশ করেন। সেই সুপারিশমালা বাস্তবায়নে কয়েকটি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়। শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা সাব-কমিটি ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ৮ দফা প্রস্তাব করেছিল। প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষাক্রম বিষয়বস্তুর গুরুত্ব অনুসারে তিন গুচ্ছে ভাগ করার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়। ‘ক’ গুচ্ছে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত। ‘খ’ গুচ্ছে বিজ্ঞান, সমাজ পাঠ (ইতিহাস পৌরনীতি ও ভূগোল)। ‘ক’ ও ‘খ’ গুচ্ছ বাধ্যতামূলক। আর ‘গ’ গুচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি, চারু-কারুকলা, শরীরচর্চা ও খেলাখুলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি ও গার্হস্থ্য, নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি। এ ছাড়া ‘ঘ’ গুচ্ছে প্রকৌশল প্রযুক্তি (বিদ্যুৎ, যন্ত্র, কাঠ, ধাতু ইত্যাদির ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রয়োগ) যুক্ত করার মত দেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষাবিদরা ‘গ’ গুচ্ছের বিষয়গুলোর জন্য কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নিয়ে বিদ্যালয়েই ধারাবাহিক মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন। আর শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কর্ম ও পেশা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নবম ও দশম শ্রেণিতে আগের শ্রেণির গুচ্ছের সঙ্গে ‘ঘ’ গুচ্ছ যুক্ত করার কথা বলেন। এই গুচ্ছে রয়েছে পদার্থ, রসায়ন, জৈববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, হিসাব, বিপণন, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি। ‘ঘ’ গুচ্ছ থেকে যে কোনো দুটি বিষয় শিক্ষার্থীরা পছন্দ করে নিতে পারবে। শিক্ষার্থীরা ইচ্ছা করলে ‘ঘ’ গুচ্ছ থেকে ঐচ্ছিকভাবে আরও একটি বিষয় নিতে পারবে। তবে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাবিদরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাঁচটি বিষয় বাধ্যতামূলক ও দুটি ঐচ্ছিক বিষয় রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। ধর্ম বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা না নিলে সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণি ক্ষুব্ধ হতে পারেন। সে বিবেচনায় ধর্ম ও তথ্যপ্রযুক্তি বাধ্যতামূলক বিষয় করার মত দেন তারা। এ ক্ষেত্রে ঐচ্ছিক বিষয় একটি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। নবম-দশম শ্রেণিতে পাঁচটি বাধ্যতামূলক বিষয় ছাড়া ‘গ’ গুচ্ছ থেকে দুটি ও ‘ঘ’ গুচ্ছ থেকে দুটি বা তিনটি বিষয় নিতে হবে। ফলে এসএসসি পরীক্ষায় ১৪টি থেকে চারটি বিষয় কম যাবে। অর্থাৎ ঐচ্ছিক বিষয়সহ মোট ১০টি বিষয়ের পাবলিক পরীক্ষা হবে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় দুই আবাসিক হল থেকে ৯ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আরও ১৭ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে বুয়েটের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে বুয়েট। এতে বলা হয়, বুয়েটের আহসানউল্লাহ ও সোহরাওয়ার্দী হলে সাম্প্রতিক র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুয়েটের বোর্ড অব রেসিডেন্সে ডিসিপ্লিন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান জানান, তিতুমীর হলের র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিও কাজ করছে। আগামী সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৮ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
হল থেকে আজীবন বহিষ্কৃত ৯ শিক্ষার্থী হলেন- আহসানউল্লাহ হলের সৌব্যসাচী দাস দিব্য, সৌমিত্র লাহিড়ী, প্লাবন চৌধুরী, নাহিদ আহমেদ, অর্ণব চৌধুরী, মো. ফরহাদ হোসেন এবং সোহরাওয়ার্দী হলের মোবাশ্বের হোসেন শান্ত, এ এস এম মাহাদী হাসান ও আকিব হাসান রাফিন। পাশাপাশি তাদের একাডেমিক কার্যক্রম থেকেও বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া আবাসিক হল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কৃত অপর ১৭ শিক্ষার্থী হলেন- কাজী গোলাম কিবরিয়া রিফাত, মো. সাকিব হাসান, মো. সাজ্জাদুর রহমান, সাকিব শাহরিয়া, শেখ আসিফুর রহমান আকাশ, মো. রাইয়ান তাহসিন, মেহেদী হাসান, তৈয়ব হোসেন, এ এফ এম মাহফুজুল কবির, মো. বখতিয়ার মাহবুব মুরাদ, সৈয়দ শাহরিয়ার আলম প্রত্যয়, মো. তৌফিক হাসান, মো. কুতুবুজ্জামান কাজল, মোহাম্মদ তাহমিদুল ইসলাম, ফেরদৌস হাসান ফাহিম, মো. আল-আমিন, তাহাজিবুল ইসলাম। একই সঙ্গে এসব শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে শৃঙ্খলাবর্হিভূত কাজ না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়াও আহসানউল্লাহ হলের মো. তাসনিম ফারহান ফাতিন, লোকমান হোসেন, শাফকাত বিন জাফর, তানজির রশিদ আবিরকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে, সমাধানের পথও তাদের বের করতে হবে।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব এ কথা বলেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস আয়োজিত ‘জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি ফর রোহিঙ্গা’ শীর্ষক পাবলিক বক্তৃতায় শহীদুল হক আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াতে হবে। আর সেটা হতে হবে দ্রুত। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। তবে এখন তাদের নিজ ঘরে ফেরার সময় এসেছে। এ কাজটি হতে হবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে। কয়েক যুগ ধরেই রোহিঙ্গা নিধনের কাজ করে চলেছে মিয়ানমার। এ সমস্যা গভীরতর হচ্ছে। এখনই এ সমস্যার সমাধান না করা গেলে সেটা পরের প্রজন্মকেও ভোগাবে।’
সচিব বলেন, ‘যেনতেনভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান নয়, পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়েই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপেই তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া হতে হবে।’
রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারকে দায়ী করে বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মিয়ানমার বিচার ব্যবস্থার বাইরে নয়। দেশটির ওপর চাপ বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী তাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে। এ চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তামিম এবং সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হাসান বক্তব্য দেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, জঙ্গিবাদের ঝুঁকির বিষয়টি বাংলাদেশের একার বিষয় নয়। জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বৈশ্বিকভাবে জঙ্গিরা চূড়ান্তভাবে পরাস্ত না হলে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি বিশ্বজুড়েই থাকবে।
হলি আর্টিসান হামলার মামলার রায় সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) র‌্যাব দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংস্থাটির মহাপরিচালক।
বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, হলি আর্টিসানে হামলা ছিল একটি নজিরবিহীন ঘটনা। দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা ছিল কল্পনার বাইরে। এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তিরোধে নানামুখী কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। গণসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কেউ জঙ্গিবাদে মোটিভেটেড হয়ে থাকলে তাকে ডিমোটিভেটেড করা হচ্ছে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’র নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে অনেক সফলতার গল্প রয়েছে। জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করতে পারে গোটা দুনিয়াকে এই পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। র‌্যাবের কাছে ৮ জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। এটা ছিল জঙ্গি আত্মসমর্পণের প্রথম নজির। দ্বিতীয়বার জঙ্গি আত্মসমর্পণের এমন ঘটনা ঘটল গত সোমবার আফগানিস্তানে।
বেনজীর আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের জনগণ শান্তিপ্রিয়। এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। তবু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, দক্ষিণ ঢাকাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকার মানুষ এখানে চা-কফি খেতে আসেন। ডিএসসিসি এলাকা এখন উন্নয়নের স্রোতধারায় বদলে যাওয়া নতুন নগরী। এরই ধারাবাহিকতায় ডিএসসিসি এলাকায় পার্ক, খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বাসাবো খেলার মাঠে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলাউদ্দিন পার্ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ডিএসসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, করপোরেশনের বিভিন্ন পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে শিশু-নারী-পুরুষ-বৃদ্ধা সবার ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে জল সবুজে ঢাকা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ শতাধিক প্রকৌশলীর মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ১২টি খেলার মাঠ ও ১৯টি পার্ককে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি জানায়, ৪ দশমিক ৩৬ বিঘা জমির ওপর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলাউদ্দিন পার্কে খেলোয়াড়দের চেঞ্জিং রুম, লকারসহ ফুটবল খেলা ও অনুশীলনের ব্যবস্থা, নেট প্র্যাকটিসের জন্য দুটি ক্রিকেট পিচ, গ্যালারি, রিসিপশন, টয়লেট, ওয়াকওয়ে, মাঠের ভেতরে-বাইরে ড্রেনেজ সিস্টেম, গার্ডেনিং, গ্রিন গ্যালারি, কফি শপ, সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন. সুসজ্জিত গেট ইত্যাদি সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Select Language