শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০ | ২২:৫৫
৩১ শ্রাবণ, ১৪২৭ | ২৪ জিলহজ্জ, ১৪৪১
জাতীয়

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা, বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বরং বন্ধুত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত এগিয়ে যাবে। উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে।
‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এসব কথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ সংগ্রামে ভারতের বহুমাত্রিক অবদানের বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ।
বীরাঙ্গনাদের ত্যাগের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। তিনি বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ একটি মাস। এই মাসে তাঁরা দুর্দশা ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। ভারত তার নিজস্ব সম্পদের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে প্রায় এক কোটি নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছিল এবং ভারতের সেনারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। বন্ধুরা একে অপরের জন্য এটাই করে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচ বছরের ভিসা, আর্মড ফোর্সেস হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। সরকারি হিসাবে দুই লাখ এবং বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তিন কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বরাত দিয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে তা এই অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করবে। আশা করছি, ভারত প্রাণপণ চেষ্টা করবে যাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননা দেওয়া হয় ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিসকে। তিনি বলেন, ২৫ মার্চের পরে বাংলাদেশ থেকে মানুষ ভারতে আশ্রয় নেওয়া শুরু করে। এমনকি দিনে ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনাও আছে। ওই সময় ভারত শরণার্থীদের দারুণভাবে সহযোগিতা করেছে।
দেশ স্বাধীন করতে কোনো রাষ্ট্রকে এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি বলে মন্তব্য করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় ’৭৫ এর পরে বেশির ভাগ সময় দেশ শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, যারা বাংলাদেশকে বারবার ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কানাকে কানা আর খোঁড়াকে খোঁড়া বোলো না—শৈশব থেকে আমরা এই শিক্ষা পেয়েছি। শিশুদের শৈশব থেকে এই শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তারা মানবিক হয় এবং যাতে তারা আমাদের সঙ্গে একত্রে চলতে পারে—এটিই সবচেয়ে বড় কথা।’
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস–২০১৯–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাসস, ঢাকা
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমপ্লেক্স ‘সুবর্ণ ভবন’ উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য সব মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাঁর সরকার বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য স্বাধীনতা নিয়ে এসেছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো এই স্বাধীন দেশের সকল জনগণ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে এবং আমরা এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি।’
অটিজম অথবা প্রতিবন্ধিতা কোনো রোগ অথবা অসুস্থতা নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে অটিজম অথবা প্রতিবন্ধিতায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা সমাজের মূলধারার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি যে এ ধরনের প্রতিবন্ধিতায় যেসব শিশু ভুগছে, তাদের পিতা–মাতার জন্য এটি খুবই বেদনাদায়ক। আমরা তাদের এই দুর্দশা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’
দেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার এই উন্নয়নে প্রতিবন্ধীদের ওপর জোর গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দেশের উন্নয়ন এবং আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে তারা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে না থাকে।’

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আমরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে। এজলাসে বসে আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।’
খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল ও জামিনবিষয়ক শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেওয়ার পরও আদালতকক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অবস্থান-হইচইয়ের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানিয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগে দাখিল হয়নি। এটিসহ দুটি প্রতিবেদন কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে সকালে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসবে।
এই শুনানি চলাকালেই রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে হইচই হয়। হইচইয়ের মধ্যেই আদালত আদেশ দেন।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষে অবস্থান নেন। তাঁরা হইচই করতে থাকেন।
সকাল ১০টার দিকে দিকে বিচারপতিরা আদালতকক্ষ ত্যাগ করেন।
বিচারপতিরা চলে যাওয়ার পরও বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা আদালতকক্ষে বসে থাকেন।
বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারপতিরা এজলাসে আসেন। অন্য মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। তখনো বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা আদালতকক্ষে বসে ছিলেন। তাঁরা হইচই করেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ডায়াসে দাঁড়ান। এ সময় আদালত বলেন, তাঁরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখেননি।
খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমি শেষবারের মতো কথা বলতে চাই।’
আদালত বলেন, ‘আমরা আদেশ দিয়েছি। আর কোনো কথা শুনব না।’
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আরজি জানান।
আদালত বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃহস্পতিবার শুনব।’
এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তুমুল হইচই করেন।
হইচইয়ের মধ্যে আদালতের ক্রম অনুসারে মামলা ডাকা হয়। ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শুনানির জন্য দাঁড়ান আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা টেবিল চাপড়ান। শুনানি করার চেষ্টা করেন আজমালুল হোসেন কিউসি।
এ সময় বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ছাড়া আর কোনো শুনানি হবে না।
একপর্যায়ে সরকার-সমর্থক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী স্লোগান দেন, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। তাঁরা ‘খালেদা জিয়া’, ‘খালেদা জিয়া’ বলেন স্লোগান দেন।
আজমালুল হোসেন কিউসি যে মামলা শুনানির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন, সেটির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন আদালত।
পরে বিচারপতিরা আদালতের এজলাস ত্যাগ করেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বর্তমানে নির্ধারিত নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞার বাইরে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত কোনো ব্যক্তি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার (আবেগী দাতা) হিসেবে কাউকে কিডনি দিতে পারবেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশোধিত মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের এ সংক্রান্ত ধারা ও বিধান ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করতে পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) এই রায় দেন।
একবার কিডনি প্রতিস্থাপনের পর দ্বিতীয় দফায় সন্তানের কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে আইনি জটিলতা সূত্রে ঢাকার বাসিন্দা ফাতেমা জোহরা ১৯৯৯ সালের আইনের তিনটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০১৭ সালে ওই রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৪ আগস্ট আদালত রুল দেন। ১৯৯৯ সালের আইন ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে রিট আবেদনকারীর করা সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূরক রুল হয়। এই রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাশনা ইমাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। রিটে ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে পক্ষভুক্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহীনুজ্জামান শাহীন।
রায়ের বিষয়ে আইনজীবী রাশনা ইমাম বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত এবং সম্পর্ক আছে-এমন ব্যক্তি চাইলে প্রত্যয়ন বোর্ডের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার হিসেবে কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন বলে রায়ে এসেছে। ছয় মাসের মধ্যে আইন ও বিধিমালা সংশোধন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নিকট আত্মীয়ের বাইরে কিডনি দানের সুযোগ তৈরি হলো। তবে অপরিচিত বা সম্পর্ক নেই এমন ব্যক্তি কিডনি দিতে পারবে না।
আইন অনুসারে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনা-বেচা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে রাশনা ইমাম বলেন, কিডনি দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রত্যয়ন বোর্ডের জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ইমোশনাল ডোনেশন হচ্ছে কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে একটি প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। প্রত্যয়ন বোর্ড দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক, পরিচয় যাচাই করবে। কোন পরিস্থিতিতে কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা থাকতে হবে। দাতা স্বেচ্ছায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করছেন কি না, অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, দাতা মানসিকভাবে সুস্থ বা মাদকাসক্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দাতা-গ্রহীতার দেওয়া তথ্যে বৈপরীত্য আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে বলে নীতিমালায় এসেছে।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, নিকট আত্মীয় পাওয়া না গেলে ইমোশনাল ডোনারের সঙ্গে গ্রহীতার পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সম্পর্ক প্রত্যয়ন বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করতে হবে বলে রায়ে এসেছে। দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের সপক্ষে দালিলিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করে তা নথিভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, অর্থ লেনদেনের কোনো প্রতিশ্রুতি আছে কি না এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী আছে কি না এবং দাতা-গ্রহীতার তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদনও প্রত্যয়ন বোর্ডকে বিচার বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাকে ‘সন্ত্রাসের গডমাদার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এরপরও বলব খালেদা জিয়া যে জেলে আছেন, সেখানে অনেক ভালো আছেন। রাজার হালে আছেন।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই সন্ত্রাসের গডমাদার হচ্ছেন খালেদা জিয়া। যিনি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে মানুষ খুন করেন, ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতে পারেন- তার চেয়ে বড় সন্ত্রাসী আর কে হতে পারে?
তিনি বলেন, আর যেন কোনো সুদখোর, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গীবাদী, অগ্নিসন্ত্রাসী, মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী ও এতিমের টাকা আত্মসাতকারী দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, দেশকে ধ্বংসের দিকে নিতে না পারে- দেশবাসীর প্রতি সেই আহ্বানই থাকবে।
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে যিনি কারাগারে গেছেন, তার এত মায়াকান্না কেন? খালেদা জিয়া মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন, পুড়িয়ে হত্যা করেছেন- সেটা তো সত্য।
তিনি বলেন, এই দরদ যারা দেখান, তারা খালেদা জিয়া ও বিএনপি-জামায়াত জোটের হাতে অগ্নিদগ্ধ মানুষগুলোর কষ্টের চেহারা দেখে আসা উচিত! এরপরও বলবো খালেদা জিয়া যে জেলে আছেন, সেখানে অনেক ভালো আছেন। রাজার হালে আছেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বুকের রক্ত দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবেই আমরা মাথা উঁচু করে থাকব। কারো কাছে মাথানত করবো না। বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে ধরে রাখতে হবে।
জিয়া পরিবারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান খুনি, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও খুনি। আর তার ছেলে আরেকটা খুনি। এরা খুনির পরিবার। সন্ত্রাস-দুর্নীতি আর মানুষ খুন করা ছাড়া এরা আর কিছুই বোঝে না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি অনেক কথাই বলে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ২০০৮ এর নির্বাচনে তারা মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল। আর এবারের নির্বাচনে তারা জিততে পারবে না জেনেই মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে।
তিনি বলেন, একটি আসনের জন্য তিনজন করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আর এই মনোনয়নের জন্য প্রার্থীদের তিন জায়গায় টাকার ভাগ দিতে হয়েছে। এক ভাগ দিতে হয়েছে লন্ডনে আর দুই ভাগ দিতে হয়েছে বাংলাদেশে। একজনকে লন্ডন ছাড়াও গুলশান আর নয়াপল্টন অফিসে ভাগ দিতে হয়েছে। যিনি দিতে পারেননি- তিনি মনোনয়ন পাননি। এমনও হয়েছে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, পরে আরেকজন বেশি টাকা দেওয়ায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে করা জরিপগুলোতে বিএনপি দেখেছে, তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তারা নির্বাচনকে বাণিজ্য হিসেবে নেয়। তারপরও তাদের যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সংসদেও গেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।
পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসন ও অত্যাচার-নির্যাতনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তি এদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি। তাই স্বাধীনতার পর দেশটা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল- তখনই ১৫ আগষ্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হলো। ১৫ আগষ্টের হত্যাকাণ্ডে যে জিয়াউর রহমান একেবারেই জড়িত- সেটা তো খুনি ফারুক-রশিদের স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর এত অত্যাচার- নির্যাতন হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগকে ধরে রেখেছেন। তারা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্তই নেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান যেভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন, একই কাজ খালেদা জিয়াও করেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ঠিক একইভাবে মানুষকে হত্যা করেছেন। অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন। অপারেশন ক্লিনহাটের নামে মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, আবার তার যাতে বিচার না হয় সেজন্য সংসদে দায়মুক্তির আইনও পাস করিয়েছেন। অর্থাৎ খালেদা জিয়া হত্যার রাজনীতিকে বৈধতা দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা ও সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তার কারাগারে যাওয়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে জেলে গেছেন। এই মামলা তো করেছিল তার পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখানে আওয়ামী লীগ কী করেছে? আওয়ামী লীগ তো এই মামলা করেনি। বরং খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতেই আমার বিরুদ্ধে ১২টা মামলা দিয়েছিলেন। একটা মামলায়ও দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধ দিয়ে খালেদা জিয়া মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। সেই অবরোধ-হরতাল এখনও তোলেননি। তার হুকুমে কত মায়ের কোল খালি হয়েছে, কত বোন বিধবা হয়েছে! তার জন্য আবার কারও কারও মায়াকান্নাও দেখি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া তো জেলে আছেন, এখন জেল থেকে হাসপাতালে। তিনি তো রাজার হালেই আছেন। জেলে তার জন্য মেইড সার্ভেন্টও দেওয়া হয়েছে। কোথাও কিন্তু এটি নেই যে, একজন জেল খাটছেন আর তার দেখাশোনার জন্য আরেকজন কাজের লোক রয়েছেন- বিনা অপরাধে যে নিজেও জেল খাটছে। পৃথিবীর কোনো দেশে এই দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবে না জেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামির সেবার জন্য কোনো কাজের বুয়া যায়। তারপরও খালেদা জিয়াকে এই সুবিধাটা দেওয়া হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো প্রতিহিংসার মনোভাব নেই।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার এই অসুস্থতা তো পুরনো। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পরই আমেরিকায় তার হাঁটু রিপ্লেস করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সৌদি আরবেও তার হাঁটুর অপারেশন হয়েছিল। আর বিদেশে যাওয়ার পরে খালেদা জিয়া যখন শপিং করেন, তখনও হুইল চেয়ারে শপিং করতেন। ফালু হুইল চেয়ার ঠেলতেন, আর তিনি গিয়ে শপিং করতেন। তিনি যখন হজ করেন, সেখানেও ফালু হুইল চেয়ার ঠেলতেন। তার হুইল চেয়ারে বসা, সেটা নতুন কিছু হয়। এটা তো বহু যুগ ধরেই দেখে আসছি।
তিনি বলেন, আর খালেদা জিয়ার এই জেলে থাকা আর অসুস্থতার কথা বলেই কিছু লোকের এত হাহাকার কেন? এত দরদ, এত মায়াকান্না কেন? এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেই তো তিনি জেলে গেছেন। আল্লাহ তায়ালাই তো বলে দিয়েছেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করলে তিনিই তার ব্যবস্থা নেবেন।
সরকারের সমালোচনা করে এক শ্রেণির সুশীল সমাজ ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই এতগুলো টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে। খালেদা জিয়া তো দেননি। আর সেই টিভি চ্যানেলের টকশোগুলোতে টক ঝাল কত কথাই তারা বলে যাচ্ছেন! এত কথা বলার পরও আবার বলছেন, এই সরকারের আমলে কথা বলার পরিবেশ নেই। সেটি বড় কথা নয়। আওয়ামী লীগ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে নেবে।
টানা ১০ বছরে দেশ ও জাতির কল্যাণে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানেই মানুষের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশকে ধ্বংস করেছে, বিশ্বে দেশের সম্মান নষ্ট করেছে, মর্যাদা ধূলিস্মাৎ করেছে। আওয়ামী লীগ আজ সেই পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলছে, মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। সেজন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কোথায় যাবে- সেই পরিকল্পনাও আগে থেকেই করা হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ হবে। ২১০০ সালের মধ্যে প্রতিটি মানুষকে উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন দিতে শতবর্ষের ডেল্টা প্লান করা হয়েছে। এদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে জাতীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিচালনায় সভায় শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
রুদ্বদ্বার বৈঠকে দলের বার্ষিক আয়-ব্যয় ও আগামী বাজেট অনুমোদন ছাড়াও আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> ‘কেউ কেউ আমার পদত্যাগ দাবি করছেন। পদত্যাগ করা এক সেকেন্ডের বিষয়, তাতে যদি পেঁয়াজের দাম কমে। এই মন্ত্রিত্ব কাজ করার জন্য।’
বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি এবং চড়া দামের মধ্যে কথাগুলো বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে ব্যবসায়ীদের করণীয় নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটি রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) এই সভার আয়োজন করে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদ, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব আবদুছ সাত্তারসহ এফবিসিসিআইয়ের কয়েকজন পরিচালক, বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ী ও দোকানমালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে অল্প সময়ের মধ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বছরের শেষ দিকে প্রতি মাসে ১ লাখ টন পেঁয়াজ আসে। ভারত বন্ধ করে দেওয়ায় এসেছে ২৫ হাজার টন করে। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসত। সেখানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। এই অঞ্চলের সব দেশেই পেঁয়াজের দাম চড়া।
পেঁয়াজের বাজার সামাল দিতে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করার পর তারা উদ্যোগী হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এস আলমের প্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।’
কোনো মুনাফা ছাড়া পেঁয়াজ আমদানি করে দেওয়ায় সিটি, মেঘনা ও এস আলমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের পেঁয়াজের খরচ পড়েছে কেজিপ্রতি সাড়ে ৪২ টাকা। এ পেঁয়াজ টিসিবিকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর বাইরে অনেকে আমদানি করছে, সেটা তো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এই মুনাফালোভীদের মূল্যবোধ সংকটের সময়ও জাগ্রত হয় না।
বক্তব্য দেওয়ার সময় ১৯৬৬ সাল থেকে রাজনীতি ও ১৯৭২ সাল থেকে ব্যবসা করার কথা উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আগামী তিন বছরে পেঁয়াজে স্বাবলম্বী হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এবার নতুন পেঁয়াজ উঠলে ভারতীয় পেঁয়াজ আমি বন্ধ করে দেব।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দোকানমালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি কমে গেছে। মানুষের মধ্যে ঝোঁক নেই। কারণ সবাই দেশকে ভালোবাসে। তিনি বলেন, ৩০-৩৫ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ টাকা হয়েছে। আশপাশের দেশেও দাম ১২০ টাকার কাছাকাছি। তবে দেশে ২৫০ টাকা হওয়ার কারণ নেই।
আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব আবদুছ সাত্তার বলেন, এক শ্রেণির মুনাফাখোরের উন্নয়ন দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাদের লক্ষ্য কীভাবে সরকারকে ঠেকানো যায়। বাজার খারাপ করে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেন। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা বলেন, ‘কেউ যদি সরকারকে বিপাকে ফেলতে দামায় বাড়ায়, তাহলে ব্যবস্থা নিন। আমরা আন্দোলন করব না। তবে যৌক্তিক হতে হবে।’
শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, এবার মৌসুমের শেষ দিকে বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছিল। ফলে কৃষকেরা ঘরে মাচা করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, গুদামে পেঁয়াজ রাখা যায় না। তিন দিন পরই পচন ধরে।

অনলাইন ডেস্ক> গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি রাকিবুল হাসান (রিগ্যান) আদালতের কাছে দাবি করেছেন, রায় ঘোষণার দিন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁকে আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপিটি দিয়েছিলেন। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আজ মঙ্গলবার এ দাবি করেন রাকিবুল হাসান।
ওই ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান বলেন, ২০১৬ সালে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার রাকিবুলসহ অন্য আসামিদের আজ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় আদালত রাকিবুলের কাছে জানতে চান, রায় ঘোষণার দিন পরা টুপি তিনি (রাকিবুল) কোথায় পেয়েছিলেন? জবাবে রাকিবুল আদালতে বলেন, ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাত এক লোক তাঁকে টুপিটি দিয়েছিল। যে লোক টুপি দিয়েছে, তাকে তিনি চেনেন না।
হোলি আর্টিজান হামলা মামলায় গত বুধবার রাকিবুল, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান। তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে অভিজাত রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজান বেকারিতে আইএস মতাদর্শ অনুসরণকারী পাঁচ জঙ্গি হামলা চালান। তাঁরা বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জনকে হত্যা করেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানের, তিনজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া দুজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন জঙ্গিদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড ও গুলিতে।
বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণার পরই রাকিবুল আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপি পরে এজলাস থেকে বের হন। এরপর প্রিজন ভ্যানে আরেক জঙ্গি জাহাঙ্গীর হোসেনের মাথায়ও একই ধরনের টুপি দেখা যায়। যদিও হোলি আর্টিজানে হামলার পর থেকেই পুলিশ দাবি করে আসছে, জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
আবার কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, হোলি আর্টিজান বেকারি হামলা মামলায় রায়ের পর দুই আসামি আইএসের যে টুপি পরেছিলেন, তা কারাগার থেকে আনা হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রিজন) কর্নেল আবরার হোসেন বলেন, তাঁরা কারাগারের সংশ্লিষ্ট স্থানের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন। কারাগারে কর্তব্যরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই দিন জঙ্গিরা কারাগার থেকে কোনো টুপি নিয়ে বের হননি। সেদিন আদালতে আনার সময় প্রিজন ভ্যানে তোলার আগে তল্লাশি করা হয়েছিল। তখনো কোনো টুপি পাওয়া যায়নি। এমনকি আদালত থেকে এই আসামিদের কারাগারে ফেরত আনার পরও তল্লাশি করা হয়। সে সময়ও এমন কোনো টুপি তাঁদের কাছে পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ বলে পরিচিত বাড়িতে জঙ্গিদের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্ট্রম-২৬’ নামের ওই অভিযানে নয়জন নিহত হন। আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান নামের একজনকে।
এই মামলা তদন্ত করে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট রাকিবুল হাসানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। গত ৯ মে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
সরকারি কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান বলেন, এই মামলার পলাতক এক আসামির সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরবর্তী শুনানির জন্য ১৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার আসামিরা হলেন আসলাম হোসেন র‌্যাশ, শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ, মামুনুর রশিদ রিপন, আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট, আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর, সালাহ উদ্দিন কামরান, আবদুর রউফ প্রধান, আবদুস সবুর খান, হাদিসুর রহমান সাগর ও রাকিবুল হাসান রিগ্যান।
পলাতক আছেন আসামি আজাদুল। জামিনে আছেন কাশেম ও রউফ।

অনলাইন ডেস্ক> প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতি পরিবেশগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কক্সবাজারে একটি পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতির অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জীবন-জীবিকার ক্ষতি করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদে সম্প্রতি বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অন্যান্য পার্লামেন্টে উদ্যোগ গ্রহণের বৈশ্বিক জরুরি আহ্বান জানিয়ে জলবায়ু ঝুঁকির বর্তমান অবস্থা ঘোষণার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতির তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ২০১৬ সাল ছিল তিনগুণ। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বাংলাদেশে অনুরূপ পরিস্তিতি সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) স্পেনের ফেরিয়া দি মাদ্রিদে (আইএফইএমএ) হলে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের (কপ২৫) সাধারণ সাধারণ গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর: বাসস
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন কি ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, তার একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। কিন্তু আমি সতর্ক করে দিতে চাই যে, সহিষ্ণুতা ও অভিযোজনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের উচিত হবে শিল্প পূর্ব পর্যায়ের পূর্বের অবস্থায় অর্থাৎ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের কোন ভুল না থাকা সত্ত্বেও আমাদের লোকজন বাস্তুচ্যুত হবে, তাই আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের আবাসনের দায়িত্ব নিবে এবং তাদের জীবিকার সুযোগ দিবে। তিনি বলেন, অনেকের মধ্যে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আগ্রহের অভাব সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত প্রয়াসের ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং জাতিসংঘ হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত প্লাটফরম। ১০০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক অবদানসহ আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার সকল ‘তহবিল’ নিয়োজিত করতে হবে।
পরিবেশের আরো অবনতি রোধকল্পে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্যারিস চুক্তির সকল ধারাসহ প্রাসঙ্গিক সকল বৈশ্বিক চুক্তি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যর্থতার ফলাফল সকল দেশের ওপর সমানভাগে, বিশেষ করে যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী তাদের ওপর বর্তাবে এবং আমাদের নিষ্ক্রিয়তা প্রত্যেক জীবিত মানুষের জন্য হবে মারাত্মক।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশের আরো অবনতি রোধকল্পে আমাদের প্যারিস চুক্তির সকল ধারাসহ প্রাসঙ্গিক সকল বৈশ্বিক চুক্তি ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে।
মারাত্মক পরিস্থিতি এবং মারাত্মক পরিস্থিতে রূপ নেয়া ঠেকাতে এই জন্য পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিকদের দায়িত্ব উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সিদ্ধান্তহীনতা কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে সকল আলোচনায় ‘লস এন্ড ডেমেজ’ নীতিকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে লস এন্ড ডেমেজ অর্থায়ন বিবেচনায় ‘ওয়ারস’ ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম’কে আরো জোরালো সমর্থন দিতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের বৈশ্বিক চিত্রপট খুবই সমন্বয়হীন, জটিলতাপূর্ণ ও অত্যন্ত অপ্রতুল। প্যারিস চুক্তিতে ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথকীকৃত দায়িত্ব’-এর নীতির ভিত্তিতে বিশেষ পরিস্থিতি এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহ ও ‘বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহ’-এর প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। জলবায়ু অর্থায়নের প্রত্যেক সরবরাহ প্রক্রিয়ায় এই স্বীকৃতি মেনে চলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তির কাঠামো ও বাস্তবায়নের আলোকে সমতা অথবা স্বচ্ছতার ধারণা একটি মৌলিক ইস্যু, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সহযোগিতায় এই চুক্তির সুফল অর্জিত হতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সভ্যতার ক্ষতি করছে এবং পৃথিবীকে ধ্বংস করছে। এটি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের অস্তিত্বের জন্য এখন হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সময়ের সবচেয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছি।

অনলাইন ডেস্ক> ফলের সঙ্গে ফরমালিন ও খাবারে ভেজাল মেশানো অসাধু ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ ডিসেম্বর) রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্যের বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বাসস, ঢাকা
রাষ্ট্রপতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে খাদ্য ভেজালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আজ অবধি ৮০ থেকে ৮৫টি দেশ ঘুরেছি। অন্য দেশগুলোতে, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপালেও খাবারে এই জাতীয় ভেজাল ও ফরমালিনের ব্যবহার দেখিনি।’
রাষ্ট্রপতি ফলের সঙ্গে ফরমালিন মিশ্রণের বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জোরালো প্রচার চালানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অন্যথায় একটি জাতি হিসেবে ‘আমরা পঙ্গু হয়ে যাব এবং ধ্বংসও হব।’
বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আবদুল হামিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের ফরমালিনের খারাপ প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে। আর এ জাতীয় ক্ষতিকারক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে জাগ্রত করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদেরও উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রোগীদের সঙ্গে কিছু বাংলাদেশি চিকিৎসকের খারাপ ব্যবহারের সমালোচনা করেন, বিশেষত যারা রোগীদের ভারতে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধ্য করছেন। তিনি বলেন, ‘যদি রাজশাহী, খুলনা, যশোর এবং অন্যান্য কিছু অঞ্চলের বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তারা কলকাতার হাসপাতালে চলে যান। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কেন এটি প্রায়ই ঘটে চলেছে? এটি কেবল আমাদের চিকিৎসক, তাদের সহায়তাকারী এবং নার্সদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মনোভাবের অভাবের কারণে। কলকাতা হাসপাতালে প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী বাংলাদেশ থেকে যায়। মনে হয় আপনি যেন সেখানে বাংলাদেশেই আছেন। আমাদের এ থেকে মুক্তি পেতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ দেশের মানুষকে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
আবদুল হামিদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের শিক্ষা ও দেশ এবং মানবজাতির কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উপযুক্ত ও সঠিক প্রযুক্তির উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করার দিকেও জোর দিতে বলেন, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষাকে এমন একপর্যায়ে নিয়ে যান, যাতে অন্যরা আমাদের অনুসরণ করতে পারে।’
রাষ্ট্রপতি স্নাতক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের প্রতি ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে দেশের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ২,৫৮৬ জন প্রকৌশল শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক সাইফুর রহমান বক্তব্য দেন এবং রুয়েটের উপাচার্য রফিকুল ইসলাম শেখ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> একাত্তরে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনে যে সব বাঙালি বেতনভোগী হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে তাদের তালিকা আগমী বিজয় দিবস অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর থেকে প্রকাশ করা হবে। রোববার (১ ডিসেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারের হাতে তালিকা আসতে শুরু করেছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে যতটুকু আসবে পর্যায়ক্রমে তা প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিকে জানান হয়েছে। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম এবং এ বি তাজুল ইসলাম অংশ নেন।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু হওয়ার কথা জানায় মন্ত্রণালয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কাজ শুরু করে।
রোববার সংসদীয় কমিটি জানায় গত ২১ মে ১৯৭১ সালের বেতনভোগী রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়। ডিসিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, মাগুরা, শেরপুর, গাইবান্ধা ও যশোরের শার্শা উপজেলায় কোনো বেতনভোগী রাজাকারের নাম পাওয়া যায়নি। তবে চাঁদপুরে ৯ জন, মেহেরপুরে ১৬৯, শরিয়তপুরে ৪৪, বাগেরহাটে ১ জন ও নড়াইলে ৫০ জন রাজাকারের নাম পাওয়া গেছে।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ১৪ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য গৃহনির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ২০ কোটি টাকা। এক একটি বাড়ি নির্মাণ করতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার হিসেবে এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন।
Select Language