শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০ | ০৯:২৯
২০ আষাঢ়, ১৪২৭ | ১২ জিলক্বদ, ১৪৪১
জনসচেতনতা

২৪ নিউজভিশন.কম> সরকারের টোল ফ্রি ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে তথ্য দেওয়ায় একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ ও ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও গাজীপুরের জয়দেবপুরে পৃথক এই দুটি ঘটনা ঘটেছে। ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ‘৯৯৯’ এ জরুরি সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এরপরই বিভিন্ন স্থানে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ নিশ্চিন্তপুর গ্রামে একটি বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছিল। খাওয়ার পর ওই কিশোরীর হাতে মেহেদি লাগানো হচ্ছিল। এমন সময় সেখানে হাজির হয় পুলিশ। ‘৯৯৯’ এ ফোন কল পেয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পায় ১৩ বছরের কিশোরী।  বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে ‘৯৯৯ এর একটি ফোন কল, অতঃপর বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ’ শিরোনামে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভূঞা বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি তাঁর স্ট্যাটাসে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ লিখে বাংলাদেশ পুলিশের ‘৯৯৯’ সার্ভিসের কল্যাণে কিশোরীর বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা ও সবাইকে টোল ফ্রি সার্ভিসটির সেবা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
ওসি ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের বলেন, রাতে ‘৯৯৯’ থেকে সংবাদদাতা তাঁর পরিচয় গোপন রেখে বাল্যবিয়ের খবরটি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় পাঠিয়ে বিয়েটি বন্ধ করে দেন। একই এলাকার প্রতিবেশী একজনের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই কিশোরী বিয়েতে রাজি ছিল না।
এদিকে, গাজীপুরে এক শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী তরুণীকে (৩০) ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় একজন ‘৯৯৯’ এ ফোন করে ঘটনাটি জানায়। পরে গাজীপুর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায়।
গ্রেপ্তারকৃত হলেন ভোলার তজুমদ্দিন থানার লামসি শ্যামপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪০)। পুলিশ জানায়, গাজীপুরে ওই তরুণীর পরিবারে একটি বিয়ের আয়োজন চলছিল। এ উপলক্ষে সেখানে আত্মীয়-স্বজনেরা আসে। রাতে এক সময় আলাউদ্দিন ওই তরুণীর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তাঁর কান্নার শব্দ শুনে পাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে। বিষয়টি পরিবারের লোকজন গোপন রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় একজন ‘৯৯৯’ এ ফোন করে ধর্ষণের ঘটনাটি জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে জয়দেবপুর থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠায়। সেই সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগে আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার তরুণীর মা বাদী হয়ে আলাউদ্দিনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গাজীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত ১২ ডিসেম্বর ‘৯৯৯’ জরুরি সেবা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। কিন্তু এর আগে থেকেই আমরা গাজীপুরে এর প্রচারণা চালিয়েছি। এ ছাড়া জেলার পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। যাতে জরুরি সেবার ফোন এলে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ওই ফোনটি ছিল উদ্বোধনের পর গাজীপুরে প্রথম কল। কলটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবা পেতে জাতীয় হেল্প ডেস্ক হিসেবে জরুরি সেবায় ৯৯৯ নম্বর চালু করা হয়।
টোল ফ্রি হিসেবে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে নাগরিকেরা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স-সেবা নিতে পারবেন। এ জন্য গ্রাহকের কোনো রকম খরচ লাগবে না। কোনো অপরাধ ঘটতে দেখলে, প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে, দুর্ঘটনায় পড়লে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে, জরুরিভাবে অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়া যাবে। মোবাইল ফোন ও টেলিফোন উভয় মাধ্যমে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যাবে।

২৪ নিউজভিশন.কম> অনলাইনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার সম্পর্কে তরুণদের সতর্ক করেছেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। বিদ্যালয়গামী তরুণদের ফেসবুক আসক্তিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, তোমরা ফেসবুক ব্যবহার করো। প্রযুক্তি ব্যবহার করো, তবে ফেসবুক যেন তোমাদের ব্যবহার না করে। ফেসবুকে অযথা সময় না দিয়ে তা পড়াশোনার কাজে ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এর তৃতীয় দিনে ‘চিলড্রেনস ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের এক সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বুধবার  এই প্রদর্শনী শুরু হয়। শুক্রবার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ১২টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) তথ্যপ্রযুক্তির এই উৎসবের পর্দা নামবে।
শুক্রবার ওই সেশনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, জিপিএ ৫-এর বিড়ম্বনায় তারা প্রোগ্রামে মনোযোগী হতে পারছে না। আবার প্রোগ্রামে মনোযোগী হলে তাদের সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তখন মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, প্রোগ্রামিং মেধাকে শাণিত করে। কারণ, প্রোগ্রামিং করতে গেলে গণিত জানতে হয়। এতে ব্রেইন তাজা থাকে। পড়াশোনাও ভালোভাবে হয়, ফলও ভালো হবে। আর ফল ভালো হলে বাবা-মাও খুশি হবে। শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টার, গাইড বইনির্ভরতা কমিয়ে পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়ার পরামর্শ দেন জনপ্রিয় এই লেখক।
শুক্রবার প্রদর্শনীর ‘ই-গর্ভমেন্ট মাস্টারপ্ল্যান ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ’ সেশনে ভবিষ্যত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চার হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, একটি সেন্টার অব এপিলেন্স স্থাপন করবে সরকার। যেখানে চারটি বিশেষ ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। সেগুলো হল- সাইবার সিকিউরিটি, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস ও ইন্টারনেট অব থিংস। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত অন সিওং ডু এ পর্বে বক্তব্য দেন। অন্য একটি সেমিনারে সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের নিজস্ব অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে আয়োজিত ‘সাইবার সিকিউরিট ফর পাবলিক সার্ভিস’ শীর্ষক এ সেমিনারে অংশ নেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ আজাদুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহা-ব্যবস্থাপক দেব দুলাল রায়, সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি তপন কান্তি সরকার প্রমুখ।
মেলাজুড়ে তারুণ্যের জোয়ার
প্রযুক্তি ও তারুণ্য দুটোই একে অন্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই প্রযুক্তি মেলা ঘুরে এ কথার সত্যতা মিলেছে। সম্মেলনকেন্দ্রজুড়ে তরুণ-কিশোরদের আনাগোনা ছিল বেশি। তাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থীরা। তারা ঘুরে ঘুরে জিজ্ঞাসা করছে, জানছে। প্রয়োজনীয় পণ্যটির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। সেমিনারে অংশ নিয়ে নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছে।
শুধু তরুণ-তরুণীরাই নয়, শিশু থেকে প্রবীণ প্রযুক্তি প্রেমীদেরও পদচারণা ছিল মেলার প্রাঙ্গণে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ভিড়ও ছিল বেশ। কেউ কেউ পুরো পরিবার নিয়ে চলে এসেছেন প্রদর্শনীতে। মেলা জুড়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবা ও কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্যের পসরা সাজিয়েছে। উদ্ভাবকেরা তাদের অভিনবও চমকপ্রদ উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছেন। স্টলগুলোর উদ্যমী কর্মীরা মেলায় আসা দর্শনার্থীদের জানার তৃষ্ণা মিটাচ্ছেন। অনুষ্ঠিত প্রযুক্তির নানা দিক নিয়ে দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপি হরেক সেমিনারেও অংশ নিচ্ছেন আগ্রহীরা।
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশলের ওপর পড়াশুনা করছেন নাজমুল আহসান। দুপরে মেলা প্রাঙ্গণে তিনি জানালেন, নিজের প্রয়োজনেই প্রদর্শনীতে এসেছেন। এখানে যেমন সর্বশেষ প্রযুক্তির পণ্যটির দেখা মিলছে, একই সঙ্গে শিক্ষামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী এই তরুণ জানালেন তিনি ‘সাইবার সিকিউরিটি ফর পাবলিক সার্ভিস’ নামক একটি সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।
নানা আয়োজন
সম্মেলন কেন্দ্রে আঙ্গিনায় দর্শনার্থীদের জন্য বড় এক ডিসপ্লেতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার হচ্ছে। মেলায় রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের স্টল। প্রযুক্তির ব্যবহারে কীভাবে অপরাধী শনাক্ত করা হয় সে সম্পর্কে দর্শণাথীদের জানানো হচ্ছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের একটি বাড়ি একটি খাবার প্রকল্প, তথ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নভোথিয়েটার, ঢাকা ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় তাদের তথ্য সম্ভার ও ডিজিটাল সেবা নিয়ে হাজির হয়েছে মেলায়। রয়েছে বেসরকারি শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্টল। ড্যাফোডিল কম্পিউটার, ওয়ালটনের মতো দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বেশেষ প্রযুক্তি পণ্য মেলায় এনেছে।
বর্তমান সময়ে আলোচিত বিষয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। এই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের একটি সফওয়্যার নিয়ে মেলায় এসেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়নে ওই শিক্ষার্থী বছর খানেক ‘কোয়েশ্চেন সেন্টার’ নামে একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছেন। তার মতে, এই সফটওয়্যার দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করা সম্ভব হবে।

 

২৪ নিউজভিশন.কম> স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষের দরজার ওপরে লেখা ‘মাসিক ঈশ্বরের উপহার’। কক্ষে ছেলেমেয়ে একসঙ্গে থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছে এটি মেয়েদের ক্লাব নামে পরিচিত। সেখানে তাদের শেখানো হয় মাসিক কী।
ইথিওপিয়ার সমাজে যেখানে প্রকাশ্যে মেয়েদের ঋতুচক্র নিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ, সেখানে শ্রেণিকক্ষে এ নিয়ে পাঠদান! হ্যাঁ, সমাজের এই ট্যাবু ভেঙে দিয়েছে ইথিওপিয়ার মধ্যাঞ্চলের শেনো শহরে এই স্কুল। অন্য সব স্কুল থেকে এটি আলাদা।
মাসিক কী, মাসিক হলে কী করতে হবে, তা না বোঝার কারণে বয়ঃসন্ধিকালে অনেক কিশোরী স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। আর তা ঠেকাতেই এ উদ্যোগ।
জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) তথ্যমতে, মাত্র ৫৪ শতাংশ মেয়েশিশু তাদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে। অনেকে মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথার কারণে বা লজ্জায় স্কুল ছেড়ে দেয়।

শ্রেণিকক্ষে মাসিকের সময় কীভাবে নিজেকে সামলে নিতে হবে, সেই শিক্ষা দেন শিক্ষক।

১৪ বছরের ইয়োরদানোস তেসফায়ের প্রথম যখন মাসিক হলো, তখন সে অনেক হতাশ ও ভয় পেয়েছিল। এএফপিকে সে বলে, ‘আমি বাড়িতে গিয়ে বাবাকে বিষয়টি বললাম। কিন্তু বাবার প্যাড কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তারপর আমি আমার এক বান্ধবীকে বলি, সে আমাকে ন্যাকড়া ব্যবহার করতে বলে। কিন্তু আমি জানতাম না যে এটা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। একদিন রাস্তাতেই ন্যাকড়াটা খুলে পড়ল। আমি খুব লজ্জা পেয়েছিলাম।’
তেসফায়ের মতো অনেক কিশোরী এই কারণে স্কুল ছাড়তে চেয়েছিল। কিন্তু মেয়েদের ক্লাব তাদের তা করতে দেয়নি।
এই ক্লাবের নাম কাগজে-কলমে ‘মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা’। ইউনিসেফ ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় এই ক্লাবে ১১ বছর থেকে শুরু করে বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। ৬৫টি স্কুলে এ কর্মসূচি পালন করছে সংস্থাটি।
ইথিওপিয়ার ইউনিসেফের স্যানিটেশন-প্রধান স্যামুয়েল গডফ্রে বলেন, ওই সময়ে মেয়েরা খুব জটিল অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। ওই অবস্থায় নিজেকে সামলে নিয়ে ভালো করে পড়াশোনা চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
ইথিওপিয়ায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বয়স সাধারণত ৭ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কেউ দেরিতে ভর্তি হলে বা একই ক্লাসে কয়েকবার থাকলে তাদের বয়সটা বেড়ে যায়।
রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে ৫০ মাইল দূরে শেনোর এই স্কুলে ৭৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। সেখানে এখন স্যানিটারি প্যাড বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। মাসিক বিষয়টিকে সহজ করে তুলতে মেয়ে-ছেলে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
ছেলেদেরও এই ক্লাবে নেওয়ার কারণ হলো মাসিক নিয়ে ছেলেরা মেয়েদের খ্যাপাত। যেমন বলত, ‘দেখ, তোর জামার পেছনে রক্তের দাগ।’ আর এটা শোনার পর মেয়েরা বারবার তার জামা দেখত। এসব থেকে বাঁচাতে ছেলেদেরও বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। ১৪ বছরের ইউনুস নেগোসি জানায়, এই ক্লাবের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর সে তার বোনকে প্যাড কিনে দিয়েছে।
এই ক্লাব খোলার পর তিন বছরে স্কুলটিতে মাসিকের কারণে ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। অথচ এর আগের বছরও ২০ জন ছাত্রী স্কুল ছেড়েছিল এই কারণে।

মেয়ে-ছেলে সবাইকে শেখানো হয় মাসিক কী।

স্কুলের বায়োলজি বিষয়ের শিক্ষক টেফসেচ বেলেমি মেয়েদের মধ্যে যাদের প্যাড কেনার ক্ষমতা নেই, তাদের মধ্যে পুনরায় ব্যবহার করা যায়—এমন প্যাড বিতরণ করেন। এমনকি শরীর খারাপ লাগলে তাদের গোসলের ও শোয়ার ব্যবস্থা করেন। এই শিক্ষক বলেন, ‘আমরা এই ক্লাবে শিক্ষার্থীদের বোঝাই, মাসিক হলো ঈশ্বরের দেওয়া এক উপহার। এটা কোনো অসুখ নয়। এটা স্বাভাবিক ও জৈবিক একটি বিষয়।’
টেফসেচ যদি মনে করেন কোনো মেয়ে মাসিকের কারণে স্কুলে আসছে না, তাহলে তিনি তাদের খোঁজে বের করেন। এরপর তিনি ওই মেয়ের পরিবারকে বিষয়টি বোঝান।
ওই এলাকার আরেকটি স্কুলের ১৪ বছরের শিক্ষার্থী হিওত ওয়েরকার ভাষ্য, ক্লাস চলাকালে তার মাসিক হয়েছিল। স্কুলের জামায় রক্তের দাগ লেগে যায়। পাছে কেউ দেখে ফেলে, সে চিন্তায় সারা দিন সে সবার কাছ থেকে দূরে সরে ছিল। এমনকি বিষয়টি জানার পর তার মা বলেছিল, সে যৌন সংসর্গ করেছে। তাই তাকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেন। এরপরও সে স্কুলে যেতে চাওয়ায় তাকে মারধর করেন।
এরপর স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বিষয়টি জানার পর তাঁরা তার মাকে বিষয়টি বোঝান। বলেন, এটি স্বাভাবিক এবং এর সঙ্গে যৌনতার কোনো সম্পর্ক নেই। একসময় হিওতের মা বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং মেয়েকে স্কুলে পাঠান।
মাসিকের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে আফ্রিকার অনেক দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। ২০১৫ সালে জাম্বিয়া এ-সংক্রান্ত এক আইন পাস করে। সেখানে বলা হয়, মাসিকের সময় ব্যথার কারণে কোনো নারী চাইলে বিনা নোটিশে কাজে অনুপস্থিত থাকতে পারেন। এমনকি এ বছরের শুরুর দিকে কেনিয়া সব স্কুলে বিনা মূল্যে মেয়েদের স্যানিটারি প্যাড দেওয়া বাধ্যতামূলক করে।

২৪ নিউজভিশন.কম> বাজারে এখন অন্যান্য ফলের সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে পানিফল। অনেকেই হয়তো জানেন না, স্বাদ যেমনই হোক না কেন সাধারণ ফলটির রয়েছে দারুণ সব ঔষধি গুণ। এটি মূলত জলজ উদ্ভিদ। কাঁচা কিংবা সিদ্ধ দুই ভাবেই খাওয়া যায় এটি।
পানিফল শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। একারণে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী পানিফল। হার্ট সুস্থ রাখতেও সহায়তা করে এটি। দিনে পাঁচটি পানিফল খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়।
পানিফলের জুস জন্ডিসের জন্যও বেশ উপকারী। এটি শরীরের কোলেস্টরেলের মাত্রা কমায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পানিফলে অন্তত ২ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাছাড়া এতে ভিটামিন বি-৬ থাকায় এটি ঘুমের জন্যও উপকারী। পুষ্টিবিদরা বলেন, মন ভালো রাখে পানিফল। প্রচুর আয়োডিন থাকায় এটি থাইরয়েড গ্লান্ডের জন্যও বেশ কার্যকর।
পানিফলে যেমন প্রচুর পটাশিয়াম আছে তেমনি ভিটামিন -বি এবং ই আছে। আর তাই চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে পানিফল। এই ফল মার্তৃগর্ভে থাকা শিশুর বৃদ্ধির জন্যও খুব উপকারী।
শরীর ঠাণ্ডা করতে পানিফলের জুড়ি নেই। শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে দারুণ কাজ দেয় এই ফল। এটি ত্বকে উজ্জ্বলতাও বাড়ায় । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসার প্রতিরোধক হিসাবেও কাজ করে পানিফল। এটি শরীরে বদ হজমের সমস্যা দূর করে। হামের মতো রোগ সারাতেও এই ফলের জুড়ি নেই।

২৪ নিউজভিশন.কম> পাবনার ঈশ্বরদীর প্রায় শতাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের (পিপিএম) কাছে ‘আত্মসমর্পন’ করেছেন।
ওই মাদক ব্যবসায়ীরা মুচলেকা দিয়ে অঙ্গীকার করেন, আর কোনোদিন তারা মাদক ব্যবসা করবে না এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও কমিউিনিটি পুলিশিং কমিটি ঈশ্বরদীকে মাদকমুক্ত করার লক্ষে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মাদক বিক্রেতাদের ওই আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পাবনা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির মঞ্চের সামনে আত্মসমর্পন করতে আসা মাদক ব্যবসায়ীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু, ইউএনও নাছরিন আক্তার, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক, সাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক রানা সরদার, প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম, সাংবাদিক মাহাবুবুল হক দুদু ও পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি।
‘আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার বক্তব্যে বলেন, সবচেয়ে মাদকপ্রবণ এলাকা ঈশ্বরদী উপজেলা। গত জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এ নিয়ে মোট সংখ্যা ১৭০ জন আত্মসমর্পন করেছে। মামলা সংক্রান্তে পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করেছে তাদের পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার জিহাদুল হক বক্তব্যে বলেন, গত ১০ মাসে ঈশ্বরদীতে পুলিশী অভিযানে ৬২৪টি মাদকের মামলা এবং ৭৪৩ জনকে মাদকের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

২৪ নিউজভিশন.কম> গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে রফিকুল ইসলাম পার্থ (১৫) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে ‘ ‘ব্লু হোয়েল’ গেমে আসক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
সোমবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামদিয়া কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন পাঁচতলা একটি ভবনের তৃতীয় তলা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পার্থ উপজেলার চাপ্তা গ্রামের আবুল হোসেন তালুকদারের ছেলে ও রাতইল নায়েবুন্নেছা ইনস্টিটিউশনের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
ওই কিশোর রামদিয়া এলাকায় তার ভাই স্কুল শিক্ষক সৌরভ তালুকদারের বাসায় থেকে লেখাপড়া করত।
রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় একটি বন্ধ কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ‘তিমি মাছ’ ও ‘এফ-৫৭’ আঁকা রয়েছে। তার ডায়েরিতে রক্ত দিয়ে ‘এফডব্লিউ’ লেখাসহ ‘ব্লু হোয়েল’ গেম সম্পর্কে অনেক কিছু লেখা রয়েছে। এসব কারণে ধারণা করা হচ্ছে সে ‘ব্লু হোয়েল’ গেমে আসক্ত হয়েই আত্মহত্যা করেছে।
তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পার্থের ভাই রামদিয়া শ্রীকৃষ্ণ শশী কমল বিদ্যাপীঠের শিক্ষক সৌরভ তালুকদার বলেন, “এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় চার বিষয়ে ফেল করে রফিকুল ইসলাম হতাশ হয়ে পড়ে। নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে খারাপ করার হতাশায় সে ‘ব্লু হোয়েল’ গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে বলে ধারণা করছি। আর সে কারণেই সে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এভাবে যেন আর কারো সন্তানের জীবন না চলে যায়।”

২৪ নিউজভিশন.কম> এটিএম বুথের মাধ্যমে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার জন্য শনিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে বের হন মারলিন। সিলেট শহরে খুব সহজেই পেয়ে গেলেন অটোরিকশা। তাড়া থাকায় গন্তব্যে পৌঁছে ঝটপট নেমে গেলেন তিনি। ভাড়া বুঝে পেয়ে অটোরিকশাচালক ছুটলেন তাঁর পরের গন্তব্যে। টাকা জমা দেওয়ার সময় মারলিন বুঝলেন কি ভুল করেছেন তিনি। সঙ্গে থাকা ব্যাগ অটোরিকশায় ফেলে এসেছেন তিনি। তাঁর মাথা যেন আর কাজ করছিল না!
মারলিন বলেন, ‘প্যান্টের পকেট হাতড়ালাম মোবাইলটা আছে আর কিছু নেই। ব্যাগে ৩৫ হাজার টাকা, যা ব্যাংকে রাখতে এসেছিলাম। ভীষণ জরুরি কিছু কাগজপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, দুই ব্যাংকের দুটি ডেবিট কার্ড, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক আরও যে কত কি! ব্যাগ তো না, ওটা যেন আমার সংসার।’

মারলিন এখানে-সেখানে ফোন করলেন, ব্যাগ হারানোর খবর এখানে-সেখানে দিলেন। কিছুই কূলকিনারা করতে পারলেন না। মারলিন বলেন, ‘আমার সিলেটের বন্ধুরা সিএনজি মালিক সমিতিকে জানাল, সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোতেও জানানো হলো, কিছু হলো না। রাতে মন খারাপ করে হোটেল ফিরলাম। ঘুম আসছিল না। শুয়ে শুয়ে ল্যাপটপ ঘাঁটছি, এমন সময় একটি ফোন এল রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে। আমার এক বন্ধু ফোন করেছেন। বন্ধু জিজ্ঞেস করলেন, মারলিন, আপনার কি ব্যাগ হারিয়েছে? মারলিন অবাক হলেন। তাঁর ব্যাগ হারানোর কথা ওই বন্ধুর জানার কথা নয়। মারলিন বললেন, আপনি জানলেন কীভাবে? বন্ধুটি বললেন, চালক তাঁকে ফোন করেছে। ওই ব্যাগে মারলিনের ওই বন্ধুর কার্ড ছিল। কার্ডে নম্বর পেয়েই অটোরিকশাচালক বাদশা সেলিম ফোন করেছেন।
মারলিন বলেন, বন্ধুর কাছে চালকের নম্বরটি নিয়ে আমি ফোন করলাম নম্বরটিতে। অপর প্রান্ত থেকে চালক বললেন, ‘আফা আফনের ব্যাগ আমার কাছ, আসিয়া নিবা তুমি? আমি সেলিম।’ কিছুটা বিস্মিত আমি নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বললাম, ‘না এখন তো অনেক রাত। আপনি কাল বেলা ১১টার দিকে আসেন। ঠিকানাটা বললাম।’ পরদিন সেলিম এলেন। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন তিনিই বিরাট অপরাধী। তাঁকে ডেকে নিয়ে চা-মিষ্টি খাওয়ালেন মারলিন। ব্যাগ মারলিনের হাতে তুলে দিয়ে বারবার সেলিম জানতে চাইলেন সব ঠিক আছে কি না, ‘আফা, সব ঠিক আছে তো? নাম-ঠিকানা বাইর করন লাগি হামার বউ আমি ব্যাগও হাতাইছি। যেমন যা ছিল সব তেমনই আছে।’ পরে মারলিন জোর করে ৫০০ টাকা দিতে চাইলেন সেলিমকে। কিন্তু তিনি কিছুতেই টাকা নেবেন না। একটু পর বের হয়ে গেলেন সেলিম। মারলিনের মনে হলো, হ্যাঁ, সেলিমের মতো মানুষদের চরিত্র তো এমনই হওয়ার কথা! তাঁকে টাকা দিলে নেবেন না, এটাই তো স্বাভাবিক।

২৪ নিউজভিশন.কম> ফেসবুক সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজ নিজ বন্ধুদের বিশেষ বার্তা পাঠাচ্ছেন: সাবধান, বাংলাদেশেও পৌঁছে গেছে ব্লু হোয়েল গেম! এ নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে কৌতূহল থেকে জানতে চাইছেন পুরো ব্যাপারটা। কেউ কেউ আতঙ্কও ছড়াচ্ছেন।
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সতর্ক অবশ্যই থাকা উচিত। বিশেষ করে উঠতি বয়সীদের দিকে খেয়াল রাখা, ‘দেখি কী হয়’-এর কৌতূহল অনেক সময়ই যাদের নিয়ে যায় ভুল পথে। এ কারণে সচেতনতা বেশি জরুরি। ভুল তথ্য প্রচার বা গুজব রটানো উল্টো এই গেমটির প্রচারণায় বেশি সাহায্য করবে। ফলে, সঠিক তথ্য জেনে রাখাটাই বেশি দরকার।
ব্লু হোয়েল গেম খেলে হলিক্রসের একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে—এমন একটি গুঞ্জনের কারণে ফেসবুক বেশ সরগরম। বাংলাদেশের কয়েকটি পত্রিকাও এমন খবর দিয়েছে। যদিও এক সাংবাদিক তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‌‘ব্লু হোয়েল গেমস খেলে হলিক্রসের মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে যে খবর চাউর হয়েছে, তার এখন পর্যন্ত কোনো ভিত্তি নেই। মেয়েটার শরীরে ব্লু হোয়েলের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার আত্মহত্যার ধরনটিও আরও আট-দশটা আত্মহত্যার ঘটনার মতোই। মেয়েটির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তাঁরা তাকে ভয়ানক রকম নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন। অহেতুক সন্দেহ করতেন। বাবা-মায়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিত্বের বড় ধরনের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় হয়তো ঘটনাটি ঘটেছে। কে জানে, বাবা-মাও হয়তো বিষয়টি বুঝতে পারছেন। কিন্তু এখন ব্লু হোয়েল গেমে সান্ত্বনা খুঁজছেন!’
ঘাতক এই গেমের কারণে অবশ্য বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই একটি আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। ভারতীয় প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে গড়া বেঞ্চ সেই মামলা পরিচালনা করছেন। আইনজীবী সি আর জয় সুকিন আরজি জানান, অনলাইনে যেন এই গেম পাওয়া না যায় এবং এই গেমের খেলার ওপর সরকার যেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কারণ, এই গেমটি মানুষকে আত্মহত্যা করতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি এমন কিছু ডেয়ার বা চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে, যা পরে খেলোয়াড়ের আত্মহত্যায় পরিণতি নেয়।
বাংলাদেশেও পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই। এ রকম ঘৃণ্য একটি গেমের নেশায় যেন কিছুতেই না পড়ে এ দেশের শিশু-কিশোর কিংবা তরুণেরা। পারিবারিক ও বন্ধু মহলে সচেতনতা তৈরি জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি তরফেও উদ্যোগ জরুরি। এ গেম যেন কিছুতেই পাওয়া না যায় বাংলাদেশে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। কৌতূহলে কোনো ধরনের নেশার ফাঁদে পা দেওয়া মস্ত বড় ভুল। সেটা গেমের নেশাও হতে পারে।

২৪ নিউজভিশন.কম> ঘরে-বাইরে এখন দেদার ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিকের বোতল। এক বোতল পানি কিনে খেলেন তো বোতলটা হয়ে গেল বারবার পানি খাওয়ার আধার। যত দিন যায় আর কি। শিশু সন্তানের স্কুলে পানি দেবেন? সেখানও ওই প্লাস্টিকের বোতল বা কনটেইনার দেওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত বা শরীরের জন্য নিরাপদ?
এ প্রশ্নর উত্তর খুঁজতে গেলে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের মানের বিষয়টি প্রথমে এসে যায়। কোন ধরনের প্লাস্টিক স্বাস্থ্যসম্মত?
এই নগরসভ্যতার কল্যাণে বলা চলে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস ছাড়া জীবন চালানো একটু কঠিনই। ঘরকন্নার কাজে প্লাস্টিকের সামগ্রী যে কত ব্যবহার করা হচ্ছে, এর কোনো হিসাব নেই।
আপনি জানেন কি, এই প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রের ঠিক তলায়ই আছে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা? না দেখে বাড়ি বা কর্মস্থলে আপনার নাগালে থাকা প্লাস্টিক পণ্যের নিচে একপলক চোখ বুলিয়ে নিন।
সেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে তিনকোনা রিসাইক্লিং চিহ্নের মধ্যেই দেওয়া আছে সতর্ক নম্বর। কোন বোতল বা পাত্র কতবার ব্যবহার করা যাবে, ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ হবে—এই নম্বরই তার আভাস দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাননিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান এএসটিএম ইন্টারন্যাশনাল প্রথম এই কোড প্রচলন করে। কানাডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অ্যাসোসিয়েশনসহ সারা বিশ্বে তা এখন প্রচলিত। আমাদের দেশের প্লাস্টিকে সামগ্রীর বেলায়ও তা দেখা যায়।
এসব নম্বর ১ থেকে ৭ পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাশে থাকে সাংকেতিক কোড। এর মধ্যে ২, ৪ ও ৫—এই তিনটি নম্বরযুক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। ১ ও ৭ নম্বরযুক্ত প্লাস্টিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। আবার ৩ ও ৬ নম্বরযুক্ত প্লাস্টিক স্বাস্থ্যের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ।
সতর্কতা নম্বর ১: এএসটিএম ইন্টারন্যাশনালের মতে, এই শ্রেণির প্লাস্টিককে পলিথিলিন প্যারেসথালেট বলে। এর সাংকেতিক কোড পিইটি বা পিইটিই নামে পরিচিত। এ ধরনের প্লাস্টিক প্রসাধনসামগ্রীর বাক্স, বাসায় ব্যবহারযোগ্য জিনিস, পানি বা জুসের বোতল তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। কোমল পানীয় ও তেল রাখার জন্যও এ জাতীয় প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্র অনেক দিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় গরম স্থানে রাখলে তা থেকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ নির্গত করে। এ জন্য এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিক একাধিকবার ব্যবহার করা ক্ষতিকর।
সতর্কতা নম্বর ২: এ ধরনের প্লাস্টিক উচ্চ ঘনত্বের পলিথিলিন; যা সংক্ষেপে এইচডিপিই নামে পরিচিত। এই প্লাস্টিক শক্ত ও স্বচ্ছ; যা কিছুটা উচ্চ তাপমাত্রায় রাখা যেতে পারে। এ নম্বরযুক্ত প্লাস্টিকের সামগ্রী সবচেয়ে নিরাপদ। এ ধরনের প্লাস্টিক সাধারণত বাচ্চাদের খেলনা ও খাবার প্যাকেজিংয়ে ব্যবহার করা হয়। বাজারে দুধ রাখার যে পাত্রগুলো পাওয়া যায়, তা-ও এই প্লাস্টিক থেকে তৈরি। এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিকের জিনিস একাধিকবার ব্যবহার করা যায়।

সেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে তিনকোনা রিসাইক্লিং চিহ্নের মধ্যেই দেওয়া আছে সতর্ক নম্বর।

সতর্কতা নম্বর ৩: এটাকে পলিভিনাইল ক্লোরাইড প্লাস্টিক বলে; যা সংক্ষেপে পিভিসি নামে পরিচিত। নিত্য ব্যবহারের জন্য এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিক বোতল বা পাত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাধারণত, এ ধরনের প্লাস্টিক থেকে গোসলখানার পর্দা, পুলে ব্যবহারের জন্য নিরাপত্তাসামগ্রী, বিভিন্ন ইনফ্লাটেবল জিনিস ও পোশাক তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়।
এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সে ক্ষেত্রে অরগানিক হিসেবে তৈরি গোসলখানার পর্দা ব্যবহার করতে পারেন।
সতর্কতা নম্বর ৪: এ ধরনের প্লাস্টিক কম ঘনত্বের পলিথিলিন, যা সংক্ষেপে এলডিপিই নামে পরিচিত। এ ধরনের প্লাস্টিক স্বচ্ছ ও বাঁকানো যায়। এটি জুস ও দুধের পাত্রে ব্যবহার করা হয়। বেশির ভাগ বাজারের ব্যাগ এই প্লাস্টিক থেকে তৈরি। এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিক নিরাপদ।
সতর্কতা নম্বর ৫: এই শ্রেণির প্লাস্টিককে পলিপ্রোপাইলিন বলে; যা সংক্ষেপে পিপি নামে পরিচিত। বাচ্চাদের বোতল, কাপ ইত্যাদি এই প্লাস্টিক থেকে তৈরি হয়ে থাকে। রান্নাঘরে জিনিস ও মাইক্রোওয়েভে এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। তবে, এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিকের জিনিস একাধিকবার ব্যবহার করা যায়।
রান্নাঘরে গরম পাত্র রাখার জন্য কাচের জিনিস উত্তম। আর মাইক্রোওয়েভ কিনলে অভ্যন্তরে কাচের গাত্র দেখে কেনা ভালো।
সতর্কতা নম্বর ৬: এটাকে পলিস্টাইরিন প্লাস্টিক বলে, সংক্ষেপে যা পিএস নামে পরিচিত। এটি পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি। এই শক্ত বা নরম উভয় ধরনের হয়ে থাকে। এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিক খুব ক্ষতিকর। সিডি, ডিভিডি বা ডিম বহনের কার্টুন তৈরিতে এই প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমরা হোটেল থেকে ফোমের যে পাত্রে খাবার এনে থাকি, তা-ও এ ধরনের প্লাস্টিক থেকে তৈরি হয়। এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিকের জিনিস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সতর্কতা নম্বর ৭: এই প্লাস্টিককে পলিকার্বোনেট বলে; যার সাংকেতিক কোড পিসি। এটি মোটামুটি নিরাপদ। বৈদ্যুতিক তার, সিডি ও ডিভিডি এখান থেকে তৈরি হয়। এই নম্বরযুক্ত প্লাস্টিকের জিনিস একাধিকবার ব্যবহার করা যায়। বাচ্চাদের বোতল ও অন্যান্য পানির বোতল এ ধরনের প্লাস্টিক থেকে তৈরি করা হয়ে থাকে।
এ সম্পর্কে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সার্টিফিকেট মার্কস) এস এম ইশাক আলী বলেন, বোতলের পেছনে দেওয়া ১ থেকে ৭—এই নম্বরগুলো আন্তর্জাতিক গ্রেডিং পদ্ধতি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো এমন নীতিমালা করতে পারিনি। তবে, একটি প্লাস্টিকের জার কত দিন ব্যবহার করা উচিত, সে সম্পর্কে একটি নীতিমালা তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।’
আমরা যে পানির বোতলগুলো ব্যবহার করছি, সেটা কি একাধিকবার ব্যবহার করার জন্য উপযোগী?
এ প্রশ্নের জবাবে এস এম ইশাক আলী বলেন, বোতলের তো কোনো দোষ নেই। সেটির ফুড গ্রেড ঠিক আছে কি না, সেটাই আসল ব্যাপার। তবে, এ ধরনের বোতল অতিমাত্রায় ব্যবহার করা ঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘এটা বলতে পারি, আমরা যে বোতলগুলো সার্টিফাই করি, তা মানসম্মত।

২৪ নিউজভিশন.কম>
শনিবার (৫ আগস্ট) দেশের ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে। এ জন্য শিশুদের ভরা পেটে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। অসুস্থ শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে না।

দেশের ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী টিকাকেন্দ্র ছাড়াও বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, ব্রিজের টোল প্লাজা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে আরও ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে। ৬-১১ মাস বয়সী সব শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দেশব্যাপী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, কুচক্রী মহলের নেতিবাচক প্রচারণায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ক্যাপসুলই শিশুদের খাওয়ানো হবে। রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পেতে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই ক্যাপসুল খাওয়া জরুরি।

Select Language