বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০ | ১১:৪৭
১৩ কার্তিক, ১৪২৭ | ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২
খেলাধুলা

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ) নিজেদের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভুটানকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ভুটানের দেওয়া ৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারের ঝড়ো ফিফটিতে মাত্র ৬.৫ ওভারেই বাংলাদেশ জয়লাভ করেছে।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) নেপালের কীর্তিপুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে ভুটান। দুই ওপেনার তেনজিন ওয়াংচুক জুনিয়র (১৫) ও জিগমে ডঙ্গি (১২) শুরুটা ভাল করলেও টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে হারিয়ে মাত্র ৬৯ রান সংগ্রহ করে।
দলীয় ২৩ রানে ওয়াংচুক বিদায় নেওয়ার পর ভুটানের হয়ে আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। কেবল জিগমে সিংগে (১৩) দুই অংকের ঘর ছুঁতে পারে।
জবাবে ৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটে নামেন জাতীয় দলের দুই তারকা সৌম্য ও নাঈম শেখ। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মারে অপরাজিত ৫০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন সৌম্য। অপরপ্রান্তে ১ ছক্কায় ১৩ বলে ১৬ রান করে সৌম্যকে সঙ্গ দেন নাঈম শেখ।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেটে নিয়েছেন মানিক খান। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান রানা, তানভীর ইসলাম, মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি ও সৌম্য।
এই নিয়ে চলতি এসএ গেমসে টানা দ্বিতীয় জয় পেলো বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে টাইগারদের পয়েন্ট ৪। আর ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।
বাংলাদেশ শনিবার তৃতীয় ম্যাচ খেলবে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> দক্ষিণ এশিয়ান গেমস (এসএ) দিয়েই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিযান শুরু করেছে মালদ্বীপের মেয়েরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের মেয়েরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা দল। দুই দলের শক্তির পার্থক্যটা তাই দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। পোখারায় বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) তা আরও প্রকটভাবেই বুঝল মালদ্বীপের মেয়েরা। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের কাছে ২৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে মালদ্বীপ।
আগে ব্যাট করে ফারজানা ও নিগারের জোড়া সেঞ্চুরিতে ২ উইকেটে ২৫৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তাড়া করতে নেমে লড়াই করা দূরে থাক দাঁড়াতেই পারেনি মালদ্বীপের মেয়েরা। অলআউট হয়েছে মাত্র ৬ রানে! তবে বাংলাদেশের মেয়েরা মালদ্বীপকে এত কম রানে অলআউট করতে বেশ সময়ই নিয়েছে। ১২.১ ওভার পর্যন্ত খেলেছে মালদ্বীপের মেয়েরা।
এসএ গেমস ক্রিকেটের ফাইনাল আগেই নিশ্চিত করা বাংলাদেশের মেয়েদের বিশাল ব্যবধানের এ জয়টা কিন্তু প্রত্যাশিতই। কেননা, মালদ্বীপ এ ইভেন্টের দুর্বলতম দল। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা দলটিকে যতটা দুর্বল ভেবেছিলেন এ ফলের পর ভাবনাটা নিশ্চিতভাবেই আরও পেছাতে পারে—মালদ্বীপ নারী ক্রিকেট দল তাহলে কতটা দুর্বল!
বাংলাদেশের বোলার রিতু মনি প্রথম ওভারেই ৩ উইকেট নেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে উইকেট পেলেও হ্যাটট্রিকের মুখ দেখেননি তিনি। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারেও আরও ২টি উইকেটের দেখা পান রিতু। পরের ওভারে অধিনায়ক সালমা খাতুন নেন আরও ২ উইকেট। ৩ রান তুলতেই মালদ্বীপ ততক্ষণে ৬ উইকেট হারিয়েছে। আর ৩ রান তুলতেই বাকি ৪ উইকেট হারায় দলটি। ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রিতু ও সালমা।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> আইপিএলের নিলাম এবার হতে যাচ্ছে কলকাতায়। ১৯ ডিসেম্বর আইপিএলের নিলামে উঠতে নিবন্ধন করেছেন ৯৭১ ক্রিকেটার। ভারতীয় ক্রিকেটার আছেন ৭১৩, ভারতের বাইরের ২৫৮। এই ২৫৮ ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের ৬ বাংলাদেশি ক্রিকেটার।
আইপিএলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, ৯৭১ ক্রিকেটারের মধ্যে ৭৩জনের দল পাওয়ার সুযোগ হবে। ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নিলামে থাকছে বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটারের নাম। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ আইপিএল খেলার লক্ষ্যে নিবন্ধন করেছেন তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ। এই ছয় ক্রিকেটারের মধ্যে মোস্তাফিজ ও তামিমেরই আইপিএল-অভিজ্ঞতা আছে। মোস্তাফিজ হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছিলেন ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। ২০১৮’তে খেলেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে। গতবার বিসিবি তাঁকে অনুমতি দেয়নি নিবন্ধনের। তামিম ২০১২ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সের স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর।
আইপিএলে বাংলাদেশের নিয়মিত মুখ যিনি—সাকিব আল হাসানের নিলামে ওঠার সুযোগ নেই, আগ থেকেই জানা। আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি এক বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকেই নিষিদ্ধ।
বিদেশি ক্যাটাগরিতে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। নিলামে উঠতে নিবন্ধন করেছেন ৫৫ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৫৪ ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কা ৩৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪, নিউজিল্যান্ড ২৪, ইংল্যান্ড ২২। এমনকি আফগানিস্তান থেকেও নিবন্ধন করেছেন ১৯ ক্রিকেটার। সে তুলনায় বাংলাদেশের সংখ্যাটা কমই।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> কখনো দশরথ স্টেডিয়াম, কখনো সাতদোবাদো ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এভাবেই সারা দিন ঘুরতে হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদকর্মীদের। না ঘুরে আর উপায় কী? দশরথে যখন মাহফুজুর রহমান হাইজাম্পে সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন, ততক্ষণে কারাতেয় আল আমিন সোনা জিতে ফেলে দিয়েছেন হইচই। এর কিছুক্ষণ পর সোনা জেতেন কারাতেকা হোমায়রা আক্তার ও মারজান আক্তার। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) কাঠমান্ডুতে সোনায় মোড়ানো দিন কেটেছে বাংলাদেশের। এ ছাড়া কারাতেয় মেয়েদের কুমিতে অনূর্ধ্ব-৬৮ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন মরিয়ম খাতুন বিপাশা। ছেলেদের কুমিতে অনূর্ধ্ব-৬৭ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ মোহাম্মদ ফেরদৌসের।
আর সব মিলিয়ে ৩টি সোনা, ৪টা রুপা ও ৪টি ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ। ৪টি রুপার ২টিই এসেছে শুটিং থেকে। শুরুতেই রুপা জেতেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দলগত ইভেন্টে রুপা জেতেন সৈয়দা আতকিয়া হাসান, উম্মে জাকিয়া সুলতানা ও শারমিন আক্তার রত্না। যদিও এই ইভেন্টে আবারও হতাশা করেছেন মেয়েরা। সেই ২০১০ সালের পর থেকে কোনো সোনার পদক নেই বাংলাদেশের। এবার ফাইনাল রাউন্ডে উঠলেও আতকিয়া পঞ্চম ও জাকিয়া সপ্তম হয়েছেন। ছেলেদের ৫০ মিটার এয়ার রাইফেলে থ্রি পজিশনে রুপা জিতেছে ইউসুফ আলী, আবদুল্লাহ হেল বাকী ও শোভন চৌধুরী। অবশ্য এককে সুবিধা করতে পারেননি ইউসুফ ও বাকি। শোভন ফাইনালেই উঠতে পারেননি। আর ইউসুফ হয়েছেন ষষ্ঠ, সপ্তম বাকি।
উশুতে ছেলেদের চ্যাং চুয়ান তাউলু ইভেন্টে রুপা জিতেছেন ওমর ফারুক। তিনি পেয়েছেন ৯.৩৪ পয়েন্ট। ৯.৪৮ পয়েন্ট নিয়ে এই ইভেন্টে সোনা জিতেছেন নেপালের বিজয় সিনজালি। আর ব্রোঞ্জ জিতেছেন শ্রীলঙ্কার সাউমা প্রভাকারা। মেয়েদের চ্যাং চুয়ান তাউলু ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাংলাদেশের নূরবাহার খানম। মেয়েদের সানদা অনূর্ধ্ব-৫২ কেজিতে ফাহমিদা তাবাসসুমের ব্রোঞ্জ।
খো খোতে ছেলেদের বিভাগে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। কাল কৃতিপুরে প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের সঙ্গে প্রথম দুই ইনিংস টাই করে বাংলাদেশ। এরপর অতিরিক্ত ইনিংসে বাংলাদেশে জিতেছে ২৪-২৩ পয়েন্টে। ফাইনালে তারা ভারতের মুখোমুখি হবে। ফাইনাল শুরু হবে ১১টায়। মেয়েদের খো খোতে এক ইনিংস ও ১ পয়েন্টে নেপালের কাছে হেরে ফাইনালের আশা শেষ বাংলাদেশের। কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে খেলবে বাংলাদেশ।
তবে বাংলাদেশের জীর্ণ অ্যাথলেটিকসের কঙ্কালসার চেহারাটা কাঠমান্ডুতেও ফুটে উঠল। দশরথ স্টেডিয়ামে এক পাশে যখন সোনার লড়াইয়ে ব্যস্ত মাহফুজুর রহমান, আরেক পাশে গেমসের সবচেয়ে আকর্ষণী ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বরাবরের মতোই হতাশা উপহার দিলেন ইসমাইল হোসেন, শিরিন আক্তাররা। অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটারে ছেলেদের বিভাগে হতাশ করেছেন ইসমাইল হোসেন। ১০.৭৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ইসমাইল হয়েছেন পঞ্চম। ১০.৯৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে অষ্টম হয়েছেন হাসান মিয়া। আর মেয়েদের বিভাগে ১০০ মিটারের হতাশা উপহার দিয়েছেন শিরিন আক্তার। ১২.৩২ সেকেন্ড সময় নিয়ে সপ্তম হয়েছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> ব্যালন ডি’অর লিওনেল মেসি পাচ্ছেন সেই খবর আগেই বের হয়েছে। ফাঁস হয়েছে ব্যালন ডি’অরের একটি তালিকাও। গেলবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ নতুন বিজয়ী মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন সেই সংবাদও দিয়েছে মার্কা। বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা।
প্যারিসে সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাতে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকীর সেরা ফুটবলার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসির নাম।
রোনালদোকে ছাড়িয়ে লিও জিতে নিলেন রেকর্ড ছয়টি ব্যালন ডি’অর। এর আগে রোনালাদো এবং মেসি সমান পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন। সেটা এখন এককভাবে নিজের করে নিলেন মেসি। উল্লেখ্য ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকী ১৯৫৬ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর দেওয়া শুরু করে।
এবারের মৌসুমে সেরা ফুটবলার পুরস্কারের জন্য ৩০ জন মনোনীত হন। এর মধ্যে বার্সেলোনার লিওনেল মেসি, লিভারপুলের ভার্জিল ভ্যান ডাইক এবং জুভেন্টাসের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ব্যালন ডি’অরের ফেবারিট হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পান।
মেসি-রোনালদো যুগ শুরু হওয়ার আগে ২০০৭ সালে ব্রাজিলের এসি মিলান ফরোয়ার্ড রিকার্ডো কাকা ব্যালন ডি’অর জেতেন। এরপর শুরু হয় রোনালদো-মেসির সাপলুডু খেলা। সঙ্গে ব্যালন ডি’অরে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা আধিপত্যও। এক দশক মেসি-রোনালদো পুরস্কারটি নিজেদের করে রাখেন। গেল মৌসুমে লুকা মডরিচ তাদের রাজত্ব নিজের দখলে নেন। কিন্তু এবার আবার রাজত্ব পুনরুদ্ধার করলেন মেসি। ২০১৫ সালের পরে জিতলেন সেরার এই পুরস্কার। তবে রিয়াল-বার্সার আধিপত্যে ছেদ পড়েনি।
মেসি গেল মৌসুমে বার্সার হয়ে ৪০ গোল করেছেন। সঙ্গে সহায়তা দিয়েছেন ১৭ গোলে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এবং লা লিগায় তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। দলকে লা লিগা এবং সুপার কোপা জিতিয়েছেন। গোলের সামনে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন তিনি। এখন ফিফার বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলারের পুরস্কারও ডাকছে তাকে। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অর জয়ীই ফিফার বর্ষসেরার পুরস্কার জেতেন।
ব্যালন ডি’অরের তালিকায় দুইয়ে থেকে শেষ করেছেন লিভারপুল ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোয় তিনি ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। রোনালদোর জায়গা হয়েছে সেরা তিনে। এছাড়া লিভারপুলের দুই ফরোয়ার্ড সাদিও মানে চারে এবং মোহামেদ সালাহ পাঁচে থেকে শেষ করেছেন।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> প্রতিবছর ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ফ্যান গ্রুপ সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে ‘ভারত আর্মি’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে থাকে। এবছরও তারা ‘ভারত আর্মি’ নামক এই পুরস্কার প্রদান করবে। তার জন্য চারজন ক্রিকেটারকে মনোনীত করেছে ফ্যান গ্রুপটি। বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও আছেন ওই তালিকায়।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে ‘ভারত আর্মি’ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন সাকিব। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ অলরাউন্ডার করেন ৬০৬ রান। সঙ্গে নেন ১১ উইকেট। বিশ্বকাপে তিনি দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি খেলেন পাঁচটি অর্ধ-শতকের ইনিংস।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দুর্দান্ত ওই ফর্ম অবশ্য বিশ্বকাপ পরবর্তী জাতীয় দলের হয়ে দেখানোর আগেই আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন সাকিব। জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েও তা আইসিসিকে না জানানোয় তাকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে ‘ভারত আর্মি’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে তা কোন বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ছাড়াও ভারত আর্মি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানো অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। দলের হয়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে নিউজিল্যান্ডকে ‘ওয়ান ম্যান আর্মির’ মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলা কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ এবং তার পরের অ্যাসেজ সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানো স্টিভ স্মিথ মনোনীত হয়েছেন।
‘ভারত আর্মি’ পুরস্কার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভক্তদের ভোট গ্রহণ করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টু্ইটারে ভোট দিতে হবে এই চার ক্রিকেটারকে। যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তিনিই পাবেন এবারের ভারত আর্মি পুরস্কার। ভোট দেওয়ার জন্য সময় আছে আর চারদিন। টুইটারের ভোটে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন সাকিব।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> ম্যাচে তিন গোলের একটি নিজেই করেছেন। বাকি দুই গোল এসেছে সুয়ারেজ ও গ্রিজমানের কাছ থেকে। ওই দুই গোলেও মেসির অবদান। গোল করেছেন, বাকি দুটি করিয়েছেন— ম্যাচের পুরো আলোটা তো লিওনেল মেসি একাই কেড়ে নিলেন! আর নেবেন নাইবা কেন? প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে বুধবার (২৭ নভেম্বর) যে তাঁর ৭০০তম ম্যাচ। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এর চেয়ে আর বেশি হয়তো করার ছিল না বার্সেলোনার এই আর্জেন্টাইন গোলমেশিনের।
আজকের ম্যাচে রেকর্ড বইয়ের পৃষ্ঠায় আরও একটি তথ্য লিখতে হবে—চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যার আলাদাভাবে ৩৪টি দলের বিপক্ষেই গোল রয়েছে।
ম্যাচের ২য় মিনিট আর ৬০তম মিনিটে টেরস্টেগানকে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপে নিশ্চিত পুড়বে ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়েরা। ক্যাম্প ন্যুতে পুরো ম্যাচে অতিথিরা খুব বেশি আক্রমণে না উঠতে পারলেও বার কয়েক সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন। বরং ৭৭ মিনিটে জেডন সানচো যে গোলটি করেছেন সেটি হাতছাড়া করা সুযোগগুলোর চেয়ে কঠিনই ছিল। সানচো মাত্র চার নম্বর ইংলিশ খেলোয়াড়, যিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে ন্যু ক্যাম্পে গোল করেছেন। অবশ্যই সেটা স্বাগতিকদের বিপক্ষে।
মেসির বাড়ানো বলে ২১তম মিনিটে সুয়ারেজের ওই গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল না হলে বার্সেলোনা প্রথম গোল তখনই পেত। অবশ্য এরপর খুব বেশি ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়নি বার্সা সমর্থকদের। ২৯ মিনিটে সেই মেসি-সুয়ারেজই বল জালে জড়ান। মেসির অসাধারণ এক পাসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের উদাহরণ তৈরি করেন বার্সেলোনার উরুগুইয়ান তারকা সুয়ারেজ। তাহলে মেসি বাদ যাবেন কেন! মিনিট চারেক পর মেসি নিজেও বল জালে জড়ান। এবার গ্রহের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে বলের জোগান দেন সুয়ারেজই। এর মিনিট দু-এক আগেই অবশ্য গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু মেসি-গ্রিজমানের বল দেওয়া নেওয়ার পর ডি বক্সে জায়গা মতো কেউ ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে ডর্টমুন্ড বলের দখল নিয়ে খেললেও বার্সেলোনার একের পর এক আক্রমণ সামাল দিতেই দিশেহারা হয়ে পড়ে তাদের রক্ষণ। পাল্টা আক্রমণে ডর্টমুন্ডও বার্সেলোনার সীমানায় ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু আজ কাতালানদের রক্ষণ ছিল দুর্ভেদ্য। উল্টো ৬৭ মিনিটে গোলহজম করে বসে অতিথিরা। এবার ডর্টমুন্ড সমর্থকদের বুকে ছুরি চালান গ্রিজমান। গ্রিজমানকে মেসি যে পাস দিয়েছেন—এক কথায় চোখে লেগে থাকার মতো। ৭৫তম মিনিটে ফের গোলের সুযোগ পান মেসি। তবে এবার ভাগ্যদেবী তার সঙ্গে ছিলেন না হয়তো! গ্রিজমানের গোলের মিনিট দশেক পর ডর্টমুন্ডের হয়ে জেডন সানচোর গোলটি সফরকারীদের জন্য সান্ত্বনা হয়েই রইল।

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> এ মৌসুমে পুরো দলবদলে সবাই তাকিয়ে ছিল বার্সেলোনার দিকে। নেইমার জুনিয়র যে তাঁর সাবেক ক্লাবে ফিরতে চান এটা সবাই জানত। কিন্তু প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাছ থেকে তাঁকে কীভাবে টেনে আনবে সেটা দেখার অপেক্ষাতেই ছিল সবাই। কিন্তু মাত্রই আঁতোয়ান গ্রিজমানকে দলে টেনে তহবিলের দিক থেকে একটু দুর্বল হয়ে পড়েছিল কাতালানরা। ফলে বহু চেষ্টার পরও পিএসজি থেকে নেইমারকে আনা হয়নি বার্সেলোনার। তবে নেইমারকে আনার চেষ্টায় মেসি তাঁর সম্ভাব্য অবসরের ঘোষণাও দিয়ে দিয়েছেন!
নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন লিওনেল মেসি-জেরার্ড পিকেরা। এমনকি দলবদলের মৌসুম শেষ হওয়ার পরও এ নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। মেসি তো বার্সেলোনা নেইমারকে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে কি না, এ নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। বার্সেলোনার চেষ্টায় কমতি ছিল কিনা, সেটা আলোচনা সাপেক্ষ। তবে মেসির চেষ্টায় যে কোনো ত্রুটি ছিল না এটা আবারও জানা গেল।
২০১৭ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার সময় একটা কারণই জানা গিয়েছিল, সেটা হলো মেসির ছায়ায় থাকতে রাজি নন নেইমার। নিজের মতো করে একটি দলের প্রধান হবেন। সে দলকে সব জিতিয়ে নিজেই হবেন সর্বেসর্বা। দুই বছরের মাথায় মোহ ভেঙেছে তাঁর। আর এ বছর তাই পুরোনো সঙ্গীদের ডেরায় ফিরতে চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে মেসিও অনুপ্রাণিত করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, আর কদিন পরই তাঁর রাজত্ব নেইমারকে বুঝিয়ে দেবেন। ফ্রান্স ফুটবলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মেসি নাকি নেইমারকে বলেছেন, ‘আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে হলে আমাদের আবার এক হতে হবে, তাহলেই শুধু পারব। দুই বছর পর আমি চলে যাব। তখন তুমি আমার জায়গা নিতে পারবে।’
‘দুই বছর পর চলে যাবেন’, তার মানে ২০২০-২১ মৌসুমেই বার্সেলোনা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন মেসি। মেসি বেশ আগেই জানিয়েছেন ইউরোপে বার্সেলোনা ছাড়া অন্য কোনো ক্লাবে খেলবেন না। তবে ছোটবেলার ক্লাব আর্জেন্টিনার নিউ ওয়েলস ওল্ড বয়েস ক্লাবে ফেরার ইচ্ছা আছে তাঁর। আর পারিবারিক কারণে সেটা সম্ভব না হলে অবসরই নেবেন মেসি। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অবসরের ঘোষণাটা কি দিয়েই দিলেন মেসি?

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। লাল বলে হোক কিংবা গোলাপি বল বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ার মিছিলেই ছিলেন। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক এই হারের জন্য কোন কিছুকে অজুহাত হিসেবে সামনে আনছেন না। তার দল ভালো খেলতে পারেনি। ম্যাচ রিড করতে পারেনি। ভারত ঠিক সেই কাজটায় করেছে বলে মনে করেন মুমিনুল।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ রোববার (২৪ নভেম্বর) ইনিংস ও ৪৬ রানে হেরেছে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেন, ‘অজুহাত দেওয়ার কিছু নেই। আমি অজুহাত দিতেও চাই না। শুধু বলবো, দল হিসেবে আমরা ভালো খেলিনি। ক্রিজে বেশি সময় কাটাতে পারেনি। খুবই হতাশ হওয়ার মতো ব্যাটিং করেছি।’
ভারতের বোলাররা বিশ্বমানের বলে উল্লেখ করেন মুমিনুল। সঙ্গে তারা অভিজ্ঞতা এবং তাদের দক্ষতা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। ভারত খুবই ভালো ম্যাচ রিড করেছে বলেও মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এই সিরিজ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। দলীয়ভাবে আমরা শেখর মধ্যে আছি। আশা করছি আগামী সিরিজে আমরা ভালো পারফরম্যান্স করবো। আমাদের এই দলের ভালো খেলার জন্য টেকনিকে উন্নতি দরকার। কৌশলগতভাবে অনেক কিছু শিখতে হবে।’
দলের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই খেলেছেন মুমিনুলরা। পারিবারিক কারণে খেলতে পারেননি তামিম। সাকিব আছেন নিষেধাজ্ঞায়। অভিজ্ঞ এই দুই ক্রিকেটারকে মিস করেছেন মুমিনুল। তবে হারার কারণ হিসেবে তাদের না থাকাকে পুঁজি করতে চান না বলে জানান মুমিনুল। তার মতে, দল হিসেবে বাংলাদেশ ভালো খেলতে পারেনি।
মুমিনুল বলেন, ‘আমরা নতুন বলে ভালো শুরু করতে পারলে সুযোগ আমাদের সামনেও আসতো। কিন্তু আমরা নতুন বলে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দল হিসেবে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। আমাদের এই দলের উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমরা টেস্ট ম্যাচ কম খেলি বলে আমাদের অভিজ্ঞতা কম। আসছে বছরে আমরা প্রায় দশটার মতো টেস্ট খেলবো। আশা করছি আমরা এখন আরও বেশি অভিজ্ঞ হবো।’

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক> কলকাতা টেস্টের প্রথম দিনে ইডেন গার্ডেনস যেন পরিণত হয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও। ২০০০ সালে অভিষেক টেস্টের দলে থাকা খেলোয়াড়েরা এসেছিলেন। বিসিবির শীর্ষ কর্তারা এসেছিলেন। সহস্রাধিক দর্শক তো ছিলই।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবারই (২২ নভেম্বর) ফিরে গেছেন দেশে। সাবেক খেলোয়াড়দের যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা শনিবারও কলকাতায় ছিলেন। তবে মাঠমুখো আর হননি। সন্ধ্যায় এলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী ও বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস। সবার মুখ শুকনো। মাঠে বাংলাদেশের যে পারফরম্যান্স, তাতে মুখে হাসি থাকার কথাও নয়।
দিনের খেলা শেষে হোটেলে ফেরার পথে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়ে গেলেন চমকে দেওয়া এক তথ্য। বাংলাদেশের নাকি কলকাতা টেস্টে টস জিতলে বোলিং নেওয়ার কথা ছিল! অথচ নেওয়া হয়েছে ব্যাটিং। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তে নাজমুল বেশ ধাক্কা খেয়েছেন, ‘ব্যাটিং নেওয়ায় সত্যিই আশ্চর্য হয়েছি। আগের দিনও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছে। কোচ-অধিনায়ক দুজনই বলেছে ফিল্ডিং নেবে। এটা নিশ্চিত ছিল। টস জিতে যখন দেখেছি ব্যাটিং নিয়েছি, তখনই ধাক্কা খেয়েছি। অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে কিনা জানি না। ভারতীয়দের যার সঙ্গেই কথা বলেছি, বলেছে তারা প্রথমে ফিল্ডিং নিত। ওরা ব্যাটিং কখনোই নিত না। সতেজ উইকেট। গোলাপি বল কেমন আচরণ করে সেটা না বুঝে ভারত আগে ব্যাটিং নিত না।’
নাজমুল হতাশ হয়েছেন দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে, ‘আমাদের যারা সিনিয়র আছে, ওরা যত ভালো বোলিং করুক তাদের কাছে যে প্রত্যাশা ছিল সেটি কিছুই পূরণ হয়নি। এ কারণে প্রথম ইনিংসে ভালো করিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও ভালো হয়নি। আমাদের সিনিয়র চারজন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-মুমিনুল-ইমরুল…। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ ভালো খেলছিল আজ (শনিবার)। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ চোটে পড়ছে। ওর চোটটা গুরুতর। ও যদি সুস্থ হয়ে যায় কাল (রবিবার) নামবে।’
Select Language