রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০১:২৯
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
ইউরোপ

অনলাইন ডেস্ক> মালিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয় বলে বিবিসির খবরে বলা হয়।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) বুরকিনা ফাসো ও নাইজার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
১৯৮০ দশকের পর এটা ফ্রান্সের সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা।
এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই ১৩ বীর সেনার একটাই লক্ষ্য ছিল, আমাদের রক্ষা করা। তাঁদের স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি আমি মাথা নত করছি।’
ইসলামপন্থী জঙ্গিরা মালির উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জঙ্গি দমনে ২০১৩ সালে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে ফ্রান্স। এখন পর্যন্ত মালিতে দায়িত্বরত অবস্থায় ফ্রান্সের ৩৮ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে ওই অঞ্চল মালির সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জঙ্গি হামলা অব্যাহত থাকায় সেখানে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও দিন দিন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে।
ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মালি, মৌরিতানিয়া, নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও চাদে ফ্রান্সের সাড়ে চার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

২৪ নিউজভিশন.কম> পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনালগ্রিন এলাকায় ‘অ্যাসিড হামলার’ শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই তরুণ। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আক্রান্ত তরুণদের একজন ২৪ বছর বয়সী শাখাওয়াত হোসেন। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ বলছে, অ্যাসিড দিয়ে হামলা হয়েছে কি না, তারা নিশ্চিত নয়। তবে অ্যাসিডের মতো মারাত্মক দাহ্য পদার্থ দিয়ে হামলা হয়েছে। যাতে দুই তরুণের মুখ ও ঘাড়ের চামড়া বিকৃত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে একের পর এক অ্যাসিড হামলা নিয়ে সৃষ্ট আতঙ্কের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। গত দুই সপ্তাহে লন্ডনে অ্যাসিড-জাতীয় পদার্থ দিয়ে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা।
বেথনালগ্রিন পুলিশ স্টেশনের খুব কাছে রোমান রোডে মঙ্গলবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আক্রান্ত হওয়ার পর দুই তরুণ বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি দোকানে গিয়ে সাহায্য চান। তাঁরা বলেন, তাঁদের ওপর অ্যাসিড হামলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ও হাসপাতালকর্মীরা দুই তরুণের আক্রান্ত স্থানে পানি ঢালছে। পরে তাঁদের হাসপাতালের ‘বার্ন ইউনিটে’ চিকিৎসা দেওয়া হয়।
১৩ জুলাই লন্ডনে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচটি ভিন্ন স্থানে অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটে। এর তিন দিন পর বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার মাইল এন্ড এলাকায় দুজনের ওপর অ্যাসিড-জাতীয় তরল দিয়ে হামলা হয়।
কদিন আগে এই আতঙ্কে ইংল্যান্ডের ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্ট ব্লাস্ট টুর্নামেন্ট ছেড়ে দেশ ফিরে এসেছেন তামিম ইকবাল। যদিও দেশা ফেরা নিয়ে বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার পরিষ্কার কিছু বলেননি।

২৪ নিউজভিশন.কম>
সুইজারল্যান্ডে ৭৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক দম্পতির লাশ পাওয়া গেছে। আল্পস পর্বতমালায় ক্রমে ছোট হতে থাকা একটি হিমবাহের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় পাওয়া তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দুটি অবিকল বা অক্ষত ছিল। তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি।
মার্সেলিন-ফ্রান্সিন দুমোলিন দম্পতি ১৯৪২ সালের আগস্টে আল্পসের আড়াই হাজার মিটারেরও বেশি উঁচুতে গিয়ে নিখোঁজ হন। হিমবাহের বরফ গলতে শুরু করায় এতগুলো বছর পর খোঁজ মিলল তাঁদের।

এই দম্পতির সাত সন্তান ছিল, যাঁরা কখনোই মা-বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়েননি। এখন মৃতদেহ পেয়ে তাঁদের সবচেয়ে ছোট মেয়ে ৭৯ বছর বয়সী মার্সেলিন উড্রি দুমোলিন বলেন, ‘সারা জীবন ধরে তাঁদের খুঁজেছি। ৭৫ বছর পর তাঁদের খুঁজে পেয়েছি।’
মার্সেলিন উড্রি দুমোলিন মা-বাবার শেষকৃত্য করার পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, গত সপ্তাহে স্কি লিফট কোম্পানির এক কর্মী লাশ দুটি দেখতে পান। বরফের নিচে ব্যাগ, টিন ও কাচের বোতলও পাওয়া যায়। কয়েক দিনের মধ্যে মৃতদেহ দুটির ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উড্রি দুমোলিন জানান, তাঁর মা পেশায় শিক্ষক ছিলেন, বাবা জুতা তৈরি করতেন। মা-বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁদের সাত ভাইবোনকে বিভিন্ন পরিবারে লালনপালনের জন্য দিয়ে দেওয়া হয়।
সূত্র: বিবিসি

২৪ নিউজভিশন.কম>
অস্ট্রেলিয়ায় পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালে দুই মাস বয়সী সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়ে ইতিহাস গড়া কুইন্সল্যান্ডের সেই সিনেটর লেরিসা ওয়াটার্স পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেরিসা ওয়াটার্স তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি এত দিন জানতেন না। এই দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে জানার পর অস্ট্রেলিয়ার মাইনর গ্রিনস পার্টি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে লেরিসা এ ঘোষণা দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রিনস পার্টি সহ-উপনেতা লেরিসার জন্ম কানাডায়। অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, কারও দুই বা ততোধিক নাগরিকত্ব থাকলে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ কারণেই পদত্যাগ করেছেন লেরিসা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় গত শুক্রবার গ্রিনস পার্টির আরেক সহ-উপনেতা ও সিনেটর স্টক লুডলামও পদত্যাগ করেছেন।
লেরিসা বলেন, সিনেটর লুডলামের পদত্যাগের ঘটনার পর তিনি নিজের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি জানতে পারেন। এটা জেনে তিনি খুব হতাশ হয়েছেন। লুডলাম সম্প্রতি জেনেছেন, তিনি নিউজিল্যান্ডেরও নাগরিক।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লেরিসা বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি জেনে আমি খুব মর্মাহত। জন্মসূত্রে আমি এখনো কানাডার নাগরিক।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেরিসাকে তাঁর অস্ট্রেলীয় মা-বাবা ১১ মাস বয়সে কানাডা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসেন। প্রথম কোনো শব্দ শেখার আগেই তাঁর জীবনে এ ঘটনা ঘটে। এ কারণেই বিষয়টি তিনি জানতেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেরিসা ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হন। লেরিসা ও লুডলাম সিনেটর পদে থাকা অবস্থায় নেওয়া ভাতা ফেরত দেবেন কি না, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে লেরিসা বলেন, ‘যদি এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে তা মোকাবিলা করব।’গ্রিনস পার্টির নেতা রিচার্ড ডি নাটালে বলেন, লেরিসার পদত্যাগে তিনি খুব মর্মাহত হয়েছেন। কারণ, অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর অপরিসীম অবদান রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো রাজনীতিককে নির্বাচনের আগেই বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়।

বাবা জেরেমি গেটসের কোলে ছোট্ট আলিয়া। পাশে মা সিনেটর লেরিসা। ছবিটি মঙ্গলবার ব্রিসবেন থেকে তোলা।


গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়ায় পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালে দুই মাস বয়সী সন্তান আলিয়া জয়কে বুকের দুধ খাইয়ে ইতিহাস গড়েন ৪০ বছর বয়সী লেরিসা ওয়াটার্স। দেশটিতে ছোট্ট আলিয়াই প্রথম শিশু, যে পার্লামেন্ট অধিবেশনে মায়ের কোলে চড়ে দুধ খেয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের নিয়ে পার্লামেন্টে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। গত বছরই এটি বাতিল করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের নিয়ে নারী আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্টে আসার পথ সুগম হয়। নিষেধাজ্ঞার বিধান বাতিলের ব্যাপারে সোচ্চার আইনপ্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন লেরিসা। গত নভেম্বরে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আরও অধিকসংখ্যক কম বয়সী নারীকে আইনপ্রণেতা হিসেবে পার্লামেন্টে চাই, তবে পরিবারবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। নতুন মা ও বাবারা যাতে পার্লামেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সন্তানের দেখভালও করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

২৪ নিউজভিশন.কম>
লন্ডনে মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) ‘বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও আইনের শাসন’ শীর্ষক এক সংলাপে মুখোমুখি হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত এ আলোচনা চলবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের স্বতন্ত্র সদস্য আলেক্সান্ডার চার্লস কারলাইল এ সংলাপের আয়োজক।

আলেক্সান্ডার চার্লস কারলাইলের মুখপাত্র সুজিত সেন সাংবাদিকদের বলেন, এ সংলাপে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী তারানা হালিম। আর বিএনপির পক্ষে অংশ নেবেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুমি ফারহানা ও হুমায়ুন কবির। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ এমপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় সময় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচনায় অংশ নেয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। হাউস অব লর্ডসের প্রয়াত সদস্য অ্যারিক অ্যাভবেরি এই সংলাপ আয়োজন শুরু করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে চার্লস কারলাইল সেই দায়িত্ব পালন করছেন।
সংলাপের আগে দুপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিনিধিদের সম্মানে এক ভোজসভার আয়োজন করেছেন কারলাইল।

২৪ নিউজভিশন.কম>
যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো ২১ বছর বয়সী একজন অন্তঃসত্ত্বা পুরুষ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর নাম হেইডেন ক্রস। চলতি বছরের প্রথম দিকে হেইডেন ঘোষণা দিয়েছিলেন, একজনের দান করা শুক্রাণুর মাধ্যমে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। ওই খবর পুরো বিশ্বে বেশ আলোচিত হয়েছিল।

এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্লস্টারশায়ারের রয়্যাল হসপিটালে গত ১৬ জুন হেইডেন একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সন্তানের জন্মের পর হেইডেন বলেন, ‘আমার মেয়ে ঠিক দেবদূতের মতো হয়েছে। সবদিক দিয়েই নিখুঁত সে। আমি খুবই ভাগ্যবান।’
২১ বছর আগে নারী হিসেবে জন্ম নিয়েছিলেন আজকের হেইডেন। তখন তাঁর নাম ছিল পেইজ। এরপর তিনি হরমোন থেরাপির মাধ্যমে নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছেন। তবে লিঙ্গান্তরের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করতে শল্যচিকিৎসা করতে হবে। গত তিন বছর ধরে তিনি পুরুষ পরিচয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। কিছুদিন আগে শল্যচিকিৎসার দিনক্ষণও নির্দিষ্ট হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) হেইডেনের ডিম্বাণু সংরক্ষণের জন্য অর্থ খরচ করতে রাজি হয়নি। এতেই বেঁকে বসেন হেইডেন। কারণ, ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা না হলে ভবিষ্যতে সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন না তিনি। আর এনএইচএস এর জন্য প্রয়োজনীয় চার হাজার পাউন্ড খরচ করতে রাজি নয়।

গ্লস্টারশায়ারের বাসিন্দা হেইডেন ক্রস একটি সুপারশপের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এখন অবশ্য কোনো কাজ করছেন না। মেয়ের বয়স এক বছর হলেই আবার চাকরির খোঁজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

হেইডেন বলেন, সম্পূর্ণ লিঙ্গান্তরের আগেই সন্তানের জন্ম দিতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে একজন ব্যক্তির দান করা শুক্রাণুর মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা হই আমি। ওই ব্যক্তিকে ফেসবুকে খুঁজে পেয়েছিলাম আমি। তবে ওই ফেসবুক গ্রুপটি এখন বন্ধ। শুক্রাণুর জন্য আমাকে কোনো অর্থ খরচ করতে হয়নি।’

এখন নিজের লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চান হেইডেন। যত দ্রুত সম্ভব শল্যচিকিৎসা করতে চান তিনি। এনএইচএসে লিঙ্গান্তরের শল্যচিকিৎসায় রোগীপ্রতি খরচ হয় গড়ে ২৯ হাজার পাউন্ড।

অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, যুক্তরাজ্যে আরও একজন অন্তঃসত্ত্বা পুরুষ সম্প্রতি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম স্কট পার্কার (২৩)।
তবে পুরুষের সন্তান প্রসবের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে থমাস বিটি নামের এক পুরুষ প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। থমাসও জন্মসূত্রে নারী ছিলেন। আংশিকভাবে লিঙ্গান্তর করলেও নিজের গর্ভ রাখায় অন্তঃসত্ত্বা হতে পেরেছিলেন তিনি।

২৪ নিউজভিশন.কম>
তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে বুধবার (১৪ জুন) রাতে সুইডেনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সুইডেনের রাজধানীর আরলান্ডা বিমানবন্দরে অবতরণ করে।সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল অ্যাম্বাসেডর ককাস মোলিন, স্টকহোমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার এবং ঢাকায় নিযুক্ত সুইডিশ রাষ্ট্রদূত যোহান ফ্রিসেল বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

পরে সুইডিশ সশস্ত্রবাহিনী প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বাংলাদেশের কোনো সরকার অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সুইডেন সফর।
সুইডেন সফরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। ঢাকা থেকে স্টকহোম যাওয়ার পথে শেখ হাসিনা লন্ডনে প্রায় ২৪ ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করেন।
স্টকহোমের আরলান্ডা বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রান্ড হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সুইডেন সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। শেখ হাসিনা হোটেলে পৌঁছালে সেখানে অল-ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান।

শেখ হাসিনা ৪৭ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলসহ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজ সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার আগে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সুইডিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তোরিয়াস বিলসস্ট্রোমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি রয়্যাল ক্যাসলে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্লের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীর ভোজসভায় যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনায় এবং পরদিন শুক্রবার বাংলাদেশ-সুইডেন বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের বৈঠকে যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এইচ অ্যান্ড এম-এর সিইও কার্ল যোহান পারসন এবং ইনভেস্টরের প্রেসিডেন্ট জ্যাকব ওয়ালেমবার্গ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মারকাস ওয়ালেমবার্গ এবং এবিবি সুইডেনের জন সোডারস্টর্মের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দিনের সুইডেন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৭ জুন লন্ডন হয়ে দেশে ফিরবেন।

২৪ নিউজভিশন.কম>
সুইডেন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টকহোমে বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ব্যস্ত দিন কাটালেন। তিনি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনাসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, বিকেলে শেখ হাসিনা স্টকহোমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেন। শেখ হাসিনা পরে তাঁর সম্মানে আয়োজিত সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়্যাল ক্যাসলে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্লের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী সুইডেনের পার্লামেন্ট পরিদর্শন করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তোবিয়াস বিলসট্রোমের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সুইডেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসাবেল্লা লাভিন এবং বিচার ও অভিবাসনমন্ত্রী মরগান জোহানসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত রাতে লন্ডন থেকে সুইডেনে পৌঁছান। এই সফরে তিনি ৪৭ সদস্যের ব্যবসায়ীসহ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সুইডেনে বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধানের এটি প্রথম সফর। এ সফরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ-সুইডেন বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের বৈঠকে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এইচএন্ড এমএর সিইও কার্ল-জোহান পারসন এবং ইনভেস্টরের প্রেসিডেন্ট জ্যাকোব ওয়ালেমবার্গ, ইনভেস্টরের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারকাস ওয়ালেনবার্গ এবং এবিবি সুইডেনের জন সোডারস্টর্মের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দিনের সুইডেন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৭ জুন লন্ডন হয়ে দেশে ফিরবেন।

২৪ নিউজভিশন.কম>
যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবার জয়ের মুকুট তিন বাঙালি কন্যার মাথায়। গতবারের চেয়ে আরও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তাঁরা। নির্বাচিত তিনজনই বিরোধী লেবার দলের মনোনয়নে নিজ নিজ আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নামেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে ও রূপা হক ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে জয়ী হন।
এবার পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোট ১৪ প্রার্থী নির্বাচন করেন। এর মধ্যে জয় পেলেন আগের মেয়াদে এমপি থাকা ওই তিনজন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জুন) যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনে ভোট নেওয়া হয়। রাতভর ভোট গণনা শেষে আজ শুক্রবার ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
যুক্তরাজ্যে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে নিজের ক্ষমতা আরও নিরঙ্কুশ করতে হুট করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডাক দেন। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে হয় এমপিদের।

টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক:
লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে লেবার দলের প্রার্থী টিউলিপ পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ড পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৪ ভোট। বড় ব্যবধানের জয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হলেন টিউলিপ।

টিউলিপ সিদ্দিক


২০১৫ সালে মাত্র ১ হাজার ১৩৮ ভোটের ব্যবধানে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন টিউলিপ। সেই ব্যবধান বেড়ে হলো ১৫ হাজার ৫৬০। ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে হুট করে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘোষণা করেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার দুই বছরের মাথায় আসনটি ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে হয় টিউলিপকে।
টিউলিপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে। একদিকে পারিবারিক পরিচয়, অন্যদিকে লন্ডনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রার্থী হওয়ায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।
হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির দখলে। এটি সব সময় তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এবার কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ডকে সমর্থন দিয়ে ডানপন্থী ইউকে ইনডিপেনডেন্ট পার্টি এই আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।

রুশনারা আলী:
৩৫ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী। এ নিয়ে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে তৃতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হলেন তিনি।

রুশনারা আলী


রুশনারা ৪২ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির চার্লট চিরিকো পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৭৬ ভোট।
২০১০ সালের নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী হিসেবে রুশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হন। সেবার তিনি প্রায় ১২ হাজার ভোটে জয়ী হন। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনে ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তাক লাগানো জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হন।
পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনটি লেবার দলের নিরাপদ আসন।
অক্সফোর্ড-পড়ুয়া রুশনারার জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। সাত বছর বয়সে তিনি মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান।

রূপা হক:
লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রূপা হক। লেবার দলীয় প্রার্থী রূপা হকের প্রাপ্ত ভোট ৩৩ হাজার ৩৭। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩০ ভোট।

রুপা হক


গতবার মাত্র ২৭৪ ভোটে জয় পাওয়া রূপা এবার জিতেছেন ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে।
২০১৫ সালে রূপা হক প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। রূপার আসনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এ আসনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসের বিজয় ঠেকাতে এবার পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তাঁরা লেবার প্রার্থী রূপাকেই সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে ডানপন্থী ইউকে ইনডিপেনডেন্ট পার্টি (ইউকিপ) কনজারভেটিভ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে এই আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। মাত্র তিনজন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অপর প্রার্থী হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের জন বল।
কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রূপা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে তাঁর আদি বাড়ি পাবনায়।

২৪ নিউজভিশন.কম>
নিজের বাগদত্তার সঙ্গে এক রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন গ্যারেথ (ছদ্মনাম)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর কয়েকজন বন্ধু ও বন্ধুর স্ত্রী। হঠাৎ করেই হইচই আর কাচ ভাঙার শব্দে সচকিত হয়ে ওঠেন তাঁরা। সবার আতঙ্কিত ছোটাছুটিতে বুঝতে পারলেন ভয়ংকর কিছুই হয়েছে। প্রাণের ভয়ে শেষে তাঁরা লুকালেন রেস্তোরাঁর টয়লেটে। সেখানেই কেটে গেল রাতের অনেকটা। ওই সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড গ্যারেথের কাছে মনে হচ্ছিল অনন্তকাল।

ভয়াবহ এ অভিজ্ঞতা নিয়ে রোববার (৪ জুন) সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেছেন গ্যারেথ। তিনি জানান, ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু রেস্তোরাঁয় বাগদত্তা ও বন্ধুদের সঙ্গে খাচ্ছিলেন। হট্টগোলের মধ্যে পড়ে সবাই মিলে সিঁড়ি বেয়ে উঠছিলেন ওপরের তলায়। পালানোর সময় দেখতে পান, বাদামি রঙের কোট পরা এক ব্যক্তি ঢুকছেন রেস্তোরাঁয়। তাঁর হাতে বিশাল এক চাপাতি।

গ্যারেথের বন্ধুদের মধ্যে একজন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। যে টয়লেটে একজনের বেশি থাকার জায়গা নেই, সেখানেই ঢুকে পড়েন চারজন। ছোট্ট সেই জায়গার বাতাস তখন চারজনের নিশ্বাসে ভারী হয়ে এসেছে। এর মধ্যে আবার আছে প্রাণনাশের আশঙ্কা। জীবনে প্রথমবারের মতো গ্যারেথের তখন মনে হচ্ছিল, ‘শিগগিরই বোধ হয় মারা যাব।’

লন্ডন থেকে ২০০ মাইল দূরে চেস্টারের অধিবাসী গ্যারেথ জানান, একটি বিকট শব্দের পরই শুরু হয় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। তিনি বলেন, রেস্তোরাঁয় থাকা মানুষদের মধ্যে ছিল এক অজানা ভয়। কারণ, কেউই জানতেন না কী ঘটছে।
গ্যারেথ বলেন, ‘ওই সময়ে আমার বন্ধুদের চোখে যে ভয় আমি দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম আমি। কথা বলতে হচ্ছিল ফিসফিসিয়ে। শব্দ একটু জোরে হলেই মনে হচ্ছিল, এই বুঝি কেউ খুঁজে পেল আমাদের। কারণ, তখনো দরজার ওপাশে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল। গুলির শব্দ আসছিল। মনে হচ্ছিল, আমাদের হয়তো দরজার ওপাশ থেকে গুলি করেই মেরে ফেলবে। ভয় ছিল মারাত্মক।’

শনিবার (৩ জুন) রাতে লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলা হয়। লন্ডন ব্রিজে পথচারীদের ওপর দ্রুতগতির একটি ভ্যান তুলে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরে গাড়ি থেকে নেমে তারা পার্শ্ববর্তী বারা মার্কেট এলাকায় সাধারণ লোকজনের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। এ হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৮ জন। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে সন্দেহভাজন তিন সন্ত্রাসী। আর হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে ১২ জনকে।

তবে, গ্যারেথের সন্ত্রাসী হামলায় পড়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চ মাসে ওয়েস্টমিনস্টারে সন্ত্রাসীদের হামলার সময়ও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন তিনি। তবে এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর মেরুদণ্ডে বইয়ে দিয়েছে শীতল স্রোত।

Select Language