শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০ | ২২:৪৩
৩১ শ্রাবণ, ১৪২৭ | ২৪ জিলহজ্জ, ১৪৪১
ইউরোপ ডায়েরি

অনলাইন ডেস্ক> যুক্তরাজ্যের লন্ডন ব্রিজে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন একজন হামলাকারী নিহত হন। লন্ডনের পুলিশ একে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা দুইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ছুরি হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তারা সেতু দিয়ে সব ধরনের চলাচল বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন এক হামলাকারী নিহত হন। তাঁর শরীরের সঙ্গে বিস্ফোরক ডিভাইস ছিল বলে ধারণা পুলিশের। তবে হামলাকারী তিনি একাই নাকি আরও কেউ ছিল, তা নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান নেইল বাসু সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ওই জায়গা ঘিরে রাখে ও আশপাশের তল্লাশি শুরু করে। হামলাকারীর সহযোগী বা এ ধরনের কোনো ব্যক্তি নেই—এটা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পুলিশ ওই এলাকা কর্ডন করে রাখবে।
লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এই ঘটনাকে ‘গুরুতর’ বলে অভিহিত করেছে। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর লন্ডন ব্রিজ স্টেশন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি ঘটনা সম্পর্কে অবগত। ঘটনার পর পুলিশ ও জরুরি সেবায় কর্মরত ব্যক্তিরা ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তারা একটি সাদা রঙের লরির দিকে সতর্কভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে লন্ডন পুলিশ পথচারীদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> মালিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয় বলে বিবিসির খবরে বলা হয়।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) বুরকিনা ফাসো ও নাইজার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
১৯৮০ দশকের পর এটা ফ্রান্সের সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা।
এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই ১৩ বীর সেনার একটাই লক্ষ্য ছিল, আমাদের রক্ষা করা। তাঁদের স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি আমি মাথা নত করছি।’
ইসলামপন্থী জঙ্গিরা মালির উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জঙ্গি দমনে ২০১৩ সালে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে ফ্রান্স। এখন পর্যন্ত মালিতে দায়িত্বরত অবস্থায় ফ্রান্সের ৩৮ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে ওই অঞ্চল মালির সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জঙ্গি হামলা অব্যাহত থাকায় সেখানে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও দিন দিন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে।
ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মালি, মৌরিতানিয়া, নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও চাদে ফ্রান্সের সাড়ে চার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক> যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে এবার রেকর্ড সংখ্যক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (পিএ) প্রাথমিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাউস অব কমন্সের মোট ৬৫০টি আসনের বিপরীতে এবার বিভিন্ন দল থেকে মোট প্রার্থী হয়েছেন ৩ হাজার ৩২২ জন। এঁদের মধ্যে ১ হাজার ১২০ জন নারী। যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অতীতে এমনটি আর ঘটেনি।
আগামী ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার ছিল প্রার্থী মনোনয়নের শেষ দিন। এবার ৮টি দল এবং ২০৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
পিএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বাম ধারার লেবার পার্টি। দলটি মোট ৬৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৩ জনই নারী, যা দলটির মোট প্রার্থীর ৫২ শতাংশ। রক্ষণশীল-নীতির ধারক কনজারভেটিভ দলে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ১৯০, যা দলটির মোট ৬৩৫ প্রার্থীর ৩০ শতাংশ।
এ ছাড়া, উদারপন্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাট মোট ৬১১ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন ১৮৮ জন। গ্রিন পার্টির ৪৯৮ প্রার্থীর ২০৪ জন নারী। আর ওলেসভিত্তিক প্রাদেশিক দল প্লাইড কামরির মোট ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে নারী আছেন ৯ জন। এই তিনটি দল মোট ৬০টি আসনে ব্রেক্সিট বিরোধী একক প্রার্থী দিতে সমঝোতা করেছে। যে কারণে দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা অতীতের তুলনায় কমেছে।
তবে প্রার্থী সংখ্যায় তুমুল পতন ঘটেছে কট্টর ডানপন্থী দল ইউনাইটেড কিংডম ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টির (ইউকিপ)। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) বিরোধী ইউকিপ ২০১৭ সালে মোট ৪৬৭ আসনে নির্বাচন করে। দলটি এবার মাত্র ৪৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যার মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন ১০ জন।
অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বে নবগঠিত ব্রেক্সিট পার্টি ৬ শতাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত ২৭৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ৫৪ জন। চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ব্রেক্সিট পার্টি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
তবে নাইজেল ফারাজ প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বসিয়ে দিয়েছে কনজারভেটিভরা। আজ শনিবার লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের দুটি অভিযোগ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে নানা প্রতিশ্রুতির লড়াই। লেবার দলের বামপন্থী নেতা জেরেমি করবিন গ্যাস, বিদ্যুৎ রেলওয়েকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই ২০১৭ সালের নির্বাচনে। এবার তিনি ব্রিটিশ টেলিকম (বিটি) কোম্পানিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে ঘরে ঘরে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট এবং টেলিফোন সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং রাষ্ট্রীয় কল্যাণ সেবা আরও উদার করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরছেন তিনি। করবিনের এমন প্রতিশ্রুতির চাপে ব্রেক্সিটময় এই নির্বাচনের বিতর্ক ভিন্ন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে করবিনের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সবি খেপাটে কমিউনিস্ট বুলি’। কিন্তু লেবারের প্রতিশ্রুতির ধাক্কা সামাল দিতে তিনি ঠিকই দলীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইতিমধ্যে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতি নির্বাচনে ধনিদের জন্য কর কর্তনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কনজারভেটিভরা এবার সেটি এখন পর্যন্ত উচ্চারণও করেনি।

অনলাইন ডেস্ক> আগামী ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সরকারের তোলা আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবে বিরোধী দলগুলো সায় দিলে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের পথ সুগম হয়। নিয়ম অনুযায়ী দেশটিতে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু গত পাঁচ বছরের কম সময়ে দেশটিতে এটি তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন। আর গত ১০০ বছরের ইতিহাসে ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের দ্বিতীয় ঘটনা।
সরকার বনাম পার্লামেন্টের মুখোমুখি অবস্থানে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর করা যায়নি। সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর আলোচিত এই বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে যায়। নতুন দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি। ব্রেক্সিট নিয়ে এমন অচলাবস্থার অবসানে অবশেষে আগাম সাধারণ নির্বাচনের পথ বেছে নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকরে অবিচল প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চান। বরিস বলেন, নির্বাচনের এই লড়াই হবে বেশ কঠিন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, দেশকে ঢেলে সাজাতে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রজন্মের একমাত্র সুযোগ। দেশে প্রকৃত পরিবর্তন নিশ্চিত করার জন্য তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ইশতেহার নিয়ে তুমুল প্রচারণার ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্রেক্সিট কার্যকরে পার্লামেন্টের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইতিপূর্বে তিন দফা আগাম সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তাব তোলেন। বিরোধী দলগুলো তাতে সমর্থন দেয়নি। ফলে ফিক্সড টার্ম পার্লামেন্ট অ্যাক্টের অধীনে তোলা ওই সব প্রস্তাবে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতার সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হন তিনি। সর্বশেষ গতকাল সংক্ষিপ্ত বিল আকারে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব তোলেন বরিস। এতে কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল। তবে ঝুঁকি ছিল, বিলে সংশোধনী প্রস্তাব জুড়ে দিতে পারতেন বিরোধীরা।
এসএনপি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউর নাগরিকদের ভোটের অধিকার দেওয়ার সংশোধনী প্রস্তাব তোলা হয়। কিন্তু অধিবেশন সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার লিন্ডসে হার্ভি হোয়েল প্রস্তাব দুটি বিতর্কের জন্য বাছাই করেননি। এতে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে সরকার। কনজারভেটিভের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব সংশোধনী যুক্ত হলে তারা বিলটি প্রত্যাহার করে নেবে। নির্বাচনের দিনক্ষণ তিন দিন এগিয়ে ৯ ডিসেম্বর করতে লেবার পার্টির আনা একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। শেষ পর্যন্ত ৪৩৮ বনাম ২০ ভোটের ব্যবধানে হাউস অব কমনসে পাস হয় আগাম নির্বাচনের বিল। আজ বুধবার বিলটি উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে বিনা বাধায় পাস হয়ে আইনে পরিণত হওয়ার কথা।
কনজারভেটিভ পার্টি বলছে, দেশের জনগণ এই নির্বাচন চায়নি। সরকারও এই নির্বাচন চায়নি। কিন্তু সরকার বনাম পার্লামেন্টের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে এই নির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত এবং ব্রেক্সিট বিষয়ে ধোঁয়াশা অবস্থান নিয়ে থাকা লেবার পার্টি এই নির্বাচনে মোটেই রাজি ছিল না। অনেকটা মুখ বাঁচাতে নির্বাচনের প্রস্তাবে সমর্থন দিতে বাধ্য হয়। দলটির শতাধিক আইনপ্রণেতা আগাম নির্বাচনের বিলে ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ব্রেক্সিট কার্যকর করতে জনগণের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার আহ্বান জানাবে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং এসএনপি ব্রেক্সিট বাতিল করতে জনসমর্থন চাইবে। কিন্তু ব্রেক্সিটময় এই নির্বাচনে ব্রেক্সিট নিয়ে লেবার পার্টির সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। এ কারণেই দলটির অনেক আইনপ্রণেতার জন্য প্রচারণা কঠিন হবে।
তবে বাম ধারার রাজনীতিক করবিন ২০১৭ সালের মতো এবারও রেলওয়ে, জ্বালানি সরবরাহ (বিদ্যুৎ, গ্যাস) কোম্পানি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কল্যাণ সুবিধা উদার করার ইশতেহার যুক্ত করে প্রচারণার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন বলে ধারণা।

অনলাইন ডেস্ক> ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। ওই হামলাকারীর নাম জানা না গেলেও তিনি ওই পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মী বলে জানা গেছে। হামলার পরপরও পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। খবর বিবিসির।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফ্রান্সে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিবাদে বুধবার ধর্মঘট পালন করে সংস্থাটি। এর একদিন পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারী সোজা তার অফিসরুমে ঢুকে গিয়ে ছুরি হাতে সহকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার সময় লোকজন দৌঁড়ে পালাচ্ছিল। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছিল। এরপরই প্যারিসের কেন্দ্রে অবস্থিত ইলে দে লা সিটি নামের ওই এলাকাটি ঘিরে ফেলে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন, প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ড ফিলিপ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফ কাস্টনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্যারিসের মেয়র অ্যান হিদালগো এক টুইট বার্তায় হামলায় একাধিক ব্যক্তি নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক> বন্ধুদের দেখানোর জন্য ছোট্ট এক শিশু একটি তাজা গ্রেনেড নিয়ে স্কুলে চলে আসে। এরপর ওই স্কুলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পরে পুলিশ এসে গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডেনের একটি প্রি-স্কুলে এ ঘটনা ঘটেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক শিশু একটি গ্রেনেড হাতে নিয়ে স্কুলে চলে আসে। এরপর এক শিক্ষক তা দেখতে পান। পরে ওই শিক্ষক তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন।

ছবিটি প্রতীকী। ছবি: এএফপি

স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, সামরিক অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত স্থানীয় একটি এলাকায় ওই শিশু গ্রেনেডটি খুঁজে পায়। এরপর তা হাতে নিয়ে স্কুলে চলে আসে।
পুলিশ কর্তৃপক্ষ গ্রেনেডটিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তারা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছিল। পরে সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা উপস্থিত হন। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, যদি গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হতো, তাহলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত।

অনলাইন ডেস্ক> বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে আবারও নিয়ম শিথিল করেছে যুক্তরাজ্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী পড়াশোনা শেষে দুই বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁদের কর্মসংস্থানের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে না। অর্থাৎ যেকোনো ধরনের চাকরি বা ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবেন তাঁরা।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশটির অভিবাসন বিভাগ এই নতুন নিয়ম ঘোষণা করে। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর কোর্স সম্পন্নকারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন। ২০২০ সালের শুরু থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। দুই বছরের কাজের সুযোগ নিতে হলে অভিবাসনের নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করতে হবে।
গত বছর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে আসেন। নতুন নিয়মের পর এই সংখ্যা বেশ বাড়বে বলে ধারণা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানে কোনো সীমা (কোটা) থাকবে না।
আগেও যুক্তরাজ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন সুযোগ ছিল। ‘পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট’ (পিএসডব্লিউ) নামে পরিচিত ছিল সেটি। ২০১২ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে অভিবাসন কমানোর কৌশল হিসেবে সেটি বন্ধ করে দেন। এর ফলে সেই থেকে পড়াশোনা শেষে চার মাসের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্য ছাড়তে হচ্ছে। সরকারের নতুন ঘোষণার মধ্য দিয়ে থেরেসা মে-র বিদ্বেষমূলক অভিবাসননীতির অবসান ঘটল।
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন এবং যুক্তরাজ্যে নিজেদের কর্মজীবন শুরু করতে পারবেন। আর অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) সাজিদ জাভিদ বলেন, বহু আগেই সরকারের এই সুযোগ ফিরিয়ে আনা উচিত ছিল।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জোট ইউনিভার্সিটি ইউকের প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টেয়ার জার্ভিস সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন নিয়মের ফলে যুক্তরাজ্য আবারও বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রথম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গতিধারায় নতুন জোয়ার আনেন এবং অর্থনীতিতে বছরে ২৬ বিলিয়ন পাউন্ডের অবদান রাখেন।
তবে অভিবাসন বিষয়ে নজরদারি করা সংগঠন ‘মাইগ্রেশন ওয়াচ’ এই নিয়ম শিথিলের বিষয়টিকে পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ হিসেবে মন্তব্য করেছে। সংগঠনটি বলছে, এর ফলে অদক্ষ কাজে লিপ্ত শিক্ষার্থীরাও যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়ার সুযোগ নেবেন।

অনলাইন ডেস্ক> বরাবরের মতোই অল্প সময়ের ব্যবধানে মন্তব্য পাল্টালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেতে ফ্রেদেরিকসেনকে ‘ন্যাস্টি,’ সোজা বাংলায় ‘জঘন্য’ বলেছিলেন, দুদিন পর শুক্রবার তাঁকেই ‘চমৎকার নারী’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের চমৎকার আলাপ হয়েছে।…ডেনমার্কের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। পরে আলাপের ব্যাপারে আমরা সম্মত হয়েছি। তিনি খুব চমৎকার। তিনি কল দিয়েছিলেন। আমি এটিকে খুব ভালোভাবে নিয়েছি।’
দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্পের ডেনমার্ক সফরে যাওয়ার কথা চূড়ান্ত ছিল। এর আগ দিয়ে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছার বিষয়টি সামনে আসে। সোমবার গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নটি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী হেসে উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘এ এক অবাস্তব প্রস্তাব।’ ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য শুনে ট্রাম্প এক টুইটে ঘোষণা করলেন, এমন বক্তব্যের পর তিনি আর সে দেশ সফরে যাচ্ছেন না। বুধবার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী খুবই ‘ন্যাস্টি’।

অনলাইন ডেস্ক> ডেনমার্ক সফর বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় ডেনমার্ক সফর বাতিল করেন তিনি। ড্যানিশ রানি দ্বিতীয় মারগ্রেথের আমন্ত্রণে আগামী ২ সেপ্টেম্বর ডেনমার্ক সফরের কথা ছিল ট্রাম্পের।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক সফর বাতিল করেছেন। ট্রাম্প টুইট বার্তায় বলেছেন, তিনি ডেনমার্ক সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন কারণ ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিক্সেন ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির ব্যাপারে আলোচনার কোনো আগ্রহ দেখাননি’।
বুধবার (২১ আগস্ট) ডেনিস প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্পের এই ধরনের প্রস্তাব খুবই অদ্ভুত। তাঁর সফর বাতিলে ডেনমার্ক বিব্রত। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল, এটি বিক্রির জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব সরকার ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের নেতা কিম কেলসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই দ্বীপ বিক্রি করা হবে না।
ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁর দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি আশা করছেন, এই সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে না। ট্রাম্পকে অতিথি হিসেবে বরণ করতে তাঁর দেশ পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছিল।
এর আগে গত শুক্রবার দ্বীপ কেনার ব্যাপারে ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল ড্যানিশ কর্তৃপক্ষ ।
গ্রিনল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ
উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যবর্তী স্থানে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান। আট লাখ ৩৬ হাজার ৩৩০ বর্গমাইল আয়তনের গ্রিনল্যান্ডের ৮০ শতাংশ অঞ্চল তুষারাবৃত। এতে অধিবাসীর সংখ্যা ৫৬ হাজারের মতো। তবে কেন এমন একটি জায়গা কিনতে চান তা ট্রাম্প মুখ ফুটে বলেননি। তবে এই ক্রয়ের পেছনে বিশ্লেষকেরা কয়েকটি স্পষ্ট কারণ তুলে ধরেছেন। এগুলোর একটি হলো প্রাকৃতিক সম্পদ। গ্রিনল্যান্ড বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। লোহা, আকরিক, সিসা, দস্তা, হিরা, সোনা, ইউরেনিয়াম ও তেল—বিরল সব প্রাকৃতিক উপাদানের কী নেই সেখানে! দ্বীপটির বেশির ভাগ এলাকা তুষারাবৃতের মধ্যে থাকায় সেই স্থানগুলো কেউ এখনো ব্যবহার করতে পারেনি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে দ্বীপটির বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা গ্রিনল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুটি বরফ গলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন। দ্বীপটির বরফ গলার ফলে সেখানকার ভূমি ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের অপার সম্ভাবনাও উন্মোচিত হবে। এ কারণেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনায় ঝুঁকতে পারেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ডেনমার্কের ওই দ্বীপ কেনার পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে ইতিমধ্যে পা রেখেছে। সেখানে ঠুলে এয়ার বেস নামে একটি সেনাঘাঁটি স্থাপন করেছে মার্কিন প্রশাসন। আর্কটিক সার্কেলের সাড়ে ৭০০ মাইল উত্তরে অবস্থিত ওই সেনাঘাঁটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। সেখানে একটি রাডার স্টেশন রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রিম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কব্যবস্থার একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারফোর্স স্পেস কমান্ড ও নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডও সামরিক ঘাঁটিটি ব্যবহার করে থাকে। ইউরোপে সামরিক শক্তি বাড়াতে গ্রিনল্যান্ড কেনার চিন্তাভাবনাও করতে পারেন ট্রাম্প।
গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টার পেছনে আরেকটি কারণ হতে পারে—নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার জাহির। অন্য দেশের সম্পদ কেনাকে প্রেসিডেন্টের বাড়তি দক্ষতা হিসেবে দেখা হয় মার্কিন মুলুকে। তাই গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে নিজের পকেটে পুরতে চান। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চান ট্রাম্প—প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা, অন্যদিকে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়া।
তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি এমন আগ্রহ কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পই প্রথম দেখাচ্ছেন না। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেনরি ট্রুম্যানও গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডেনমার্ককে। ১৯৪৬ সালে দেওয়া ওই প্রস্তাবে গ্রিনল্যান্ডের বিনিময়ে ১০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
দ্বীপ কেনা-বেচা কি নতুন কিছু?
এ ধরনের অঞ্চল কেনাবেচার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ইতিহাসের পাতা উল্টালেই পাওয়া যাবে এমন তথ্য। যেমন—যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্র ১৮০৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে কিনেছিল। সে সময় ৮ লাখ ২৭ হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত এ অঞ্চল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে গুনতে হয়েছিল দেড় কোটি ডলার। ১৮৬৭ সালে রাশিয়া থেকে ৭২ লাখ ডলারের বিনিময়ে আলাস্কা কেনার চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক থেকেই ড্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিনেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার বর্তমান নাম ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ড।

ইউরোপ ডায়েরি ডেস্ক> অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্তে। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেল্লার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন কন্তে। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে বলে ইতালির রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। জোটের শরিক ডানপন্থী লীগ দলের নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভেনির সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কন্তে। পদত্যাগের আগে দেওয়া বক্তব্যে সালভেনিকে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘দেশের জন্য ক্ষতিকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২১ আগস্ট) এই বিষয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেল্লা। আলোচনা চলাকালে কন্তেকেও উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেছেন রাষ্ট্রপতি। কোনো রাজনৈতিক দল সরকার গঠনে আগ্রহী না হলে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে পারবেন। এই সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। তবে নতুন নির্বাচন ছাড়া জোট গঠনের মাধ্যমে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে তাদের নেতৃত্বে সরকার গঠনের অনুমতি দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি।
গেল বছর মার্চে ইতালির নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রথাবিরোধী দল ফাইভস্টার মুভমেন্ট ও ডানপন্থী লীগ দলের জোট সরকার গঠন করে।
Select Language