রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০২:১১
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
আলোচিত

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, জঙ্গিবাদের ঝুঁকির বিষয়টি বাংলাদেশের একার বিষয় নয়। জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বৈশ্বিকভাবে জঙ্গিরা চূড়ান্তভাবে পরাস্ত না হলে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি বিশ্বজুড়েই থাকবে।
হলি আর্টিসান হামলার মামলার রায় সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) র‌্যাব দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংস্থাটির মহাপরিচালক।
বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, হলি আর্টিসানে হামলা ছিল একটি নজিরবিহীন ঘটনা। দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা ছিল কল্পনার বাইরে। এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তিরোধে নানামুখী কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। গণসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কেউ জঙ্গিবাদে মোটিভেটেড হয়ে থাকলে তাকে ডিমোটিভেটেড করা হচ্ছে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’র নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে অনেক সফলতার গল্প রয়েছে। জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করতে পারে গোটা দুনিয়াকে এই পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। র‌্যাবের কাছে ৮ জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। এটা ছিল জঙ্গি আত্মসমর্পণের প্রথম নজির। দ্বিতীয়বার জঙ্গি আত্মসমর্পণের এমন ঘটনা ঘটল গত সোমবার আফগানিস্তানে।
বেনজীর আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের জনগণ শান্তিপ্রিয়। এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। তবু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

অনলাইন ডেস্ক> মালিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয় বলে বিবিসির খবরে বলা হয়।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) বুরকিনা ফাসো ও নাইজার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
১৯৮০ দশকের পর এটা ফ্রান্সের সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা।
এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই ১৩ বীর সেনার একটাই লক্ষ্য ছিল, আমাদের রক্ষা করা। তাঁদের স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি আমি মাথা নত করছি।’
ইসলামপন্থী জঙ্গিরা মালির উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জঙ্গি দমনে ২০১৩ সালে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে ফ্রান্স। এখন পর্যন্ত মালিতে দায়িত্বরত অবস্থায় ফ্রান্সের ৩৮ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে ওই অঞ্চল মালির সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জঙ্গি হামলা অব্যাহত থাকায় সেখানে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও দিন দিন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে।
ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মালি, মৌরিতানিয়া, নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও চাদে ফ্রান্সের সাড়ে চার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> পিচঢালাই উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। সড়ক বিভাজকের দুই পাশে জমেছে বালুর স্তূপ। কোনো যানবাহন এলে বা আচমকা বাতাসে বালু ও ধুলা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ধুলাবালি উড়ে গিয়ে পড়ে আশপাশের দোকানে। হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয় পথচারী ও স্থানীয় লোকজনের।
এ চিত্র ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী সেতু থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত। এই ১২ কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দে ভরা। গাড়ি চলে হেলেদুলে। তার ওপর সম্প্রতি নতুন করে যোগ হয়েছে ধুলার যন্ত্রণা।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এ কারণে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। যত্রতত্র পড়ে আছে মাটি ও বালু। যান চলাচলের সময় জমে থাকা এসব বালু ও মাটি বাতাসে ওড়ে। কিন্তু এসব ধুলাবালি কমাতে কোনো ব্যবস্থা নেয় না কর্তৃপক্ষ। দু-এক দিন হঠাৎ পানি ছিটিয়ে দেয়, তা–ও নামমাত্র। এ কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে না।
গত বৃহস্পতিবার সকালে সড়কটির টঙ্গী সেতু থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এসব গর্তে জমে আছে বালু। এ ছাড়া সড়ক বিভাজকের দুই পাশে জমেছে বালুর স্তূপ। সড়কের ধারে পড়ে আছে ছোট ছোট ইটের খোয়া, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। সড়কটিতে চলাচল করছে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন। যানগুলো চলার সময় ধুলা ছড়িয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা। একসঙ্গে একাধিক যান চলাচল করলে সেখানে টেকা দায় হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা টঙ্গী বাজার এলাকা থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত। সড়কের ৬০০-৭০০ মিটারের পুরোটাতেই জমে আছে বালুর আস্তরণ। যানবাহন চলাচল করলেই ধুলায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। আশপাশের দোকান, মার্কেটসহ অন্য স্থাপনাগুলোর লোকজনও টিকতে পারছে না ধুলার যন্ত্রণায়।
সড়কটির আনারকলি রোড এলাকায় মুখে মাস্ক পরে ঢাকাগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন টঙ্গীর ভরান এলাকার মেহেদি হাসান। তিনি বলেন, সড়কের ধুলার কারণে কোনো কাপড় এক দিনের বেশি পরা যায় না। অফিস থেকে বাসায় ফিরে প্রতিদিনই কাপড় ধুতে হয়।
সড়কের পূর্ব পাশে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি করেন আলমগীর হোসেন। ধুলা নিয়ে কথা উঠতেই তিনি বলেন, ‘আর বইলেন না ভাই, ২৪টা ঘণ্টা ধুলার মাঝে ডিউটি করতে হয়। মাঝেমধ্যে নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। গলা ব্যথা করে, বুক জ্বলে। অনেক সময় ধুলায় টিকতে না পেরে বুথের ভেতর অবস্থান করতে হয়।’
ধুলা থেকে বাঁচতে অনেক দোকানি তাঁদের দোকানের সামনে আলাদা করে একধরনের পর্দা লাগিয়েছেন। আবার রাস্তায় চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালকেরাও ধুলা থেকে বাঁচতে পরেন ধুলা প্রতিরোধক জ্যাকেট। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জামান হোসেন নামের এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, জ্যাকেট ছাড়া একমুহূর্ত গাড়ি চালানো যায় না। ধুলায় কাপড় সাদা হয়ে যায়।
একই চিত্র দেখা যায় চেরাগআলী, মিলগেট, কলেজগেট, সাইনবোর্ড, বোর্ডবাজার, কুনিয়া, বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায়।
নাম না প্রকাশের শর্তে সড়কে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘যেদিন পানি ছিটায়, সেদিন রাস্তা মোটামুটি ভালো থাকে। শান্তিতে ডিউটি করা যায়। কিন্তু এরা ঠিকমতো পানি দেয় না। এক দিন আসে তো তিন দিন কোনো খবর থাকে না। এ কারণে রাস্তায় এত দুর্ভোগ।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাসড়কের ওই অংশে বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছে। আগে সড়কটি ছিল গাজীপুর সড়ক বিভাগের অধীনে। তখন তারাই এর দেখভাল করত। কিন্তু বিআরটি প্রকল্পের কাছে হস্তান্তর করার কারণে এখন তাদের ওপরই এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক চন্দন কুমার বসাক বলেন, ‘নিয়মিতই সকাল-বিকেল পানি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু অনেক সময় পানি দিতে গেলে রাস্তা ব্লক হয়ে যায়। এ কারণে পুরো রাস্তায় পানি ছিটাতে পারি না। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ রাস্তা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তা পরিষ্কার করি। কিন্তু কাজ চলমান থাকায় তা খুব একটা কার্যকর হয় না।’

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ২০-২২ বছর বয়সী এক যুবক শূন্যে গুলি ছুড়ছে। এ ধরনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কে এই যুবক, শুরু হয় তার খোঁজ। জানা গেছে, এই যুবকের নাম সোহান। সে ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। সে কুতুবপুরের ত্রাস মীর হোসেন মীরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। এলাকায় সোহান উঠতি সন্ত্রাসী হিসেবেও পরিচিত।
পাঁচ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ফুলহাতা পোলো-শার্ট পরা সোহান পিস্তল হাতে পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নেপথ্য থেকে কেউ তাকে নির্দেশ দিচ্ছে- ‘রেডি, ফায়ার’। আর সোহানও কমান্ড শুনে শূন্যে পিস্তল তুলে ধরে গুলি ছুড়ছে।
মীরুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অস্ত্র, মাদক, হত্যাসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। তবে আদতে এ সংখ্যা দুই ডজন বলে জানা গেছে। চলতি মাসের প্রথম দিকে একটি মামলার পর মীরু আত্মগোপনে চলে যায়।
অতীতে কুতুবপুরের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করত শফিকুর রহমান মেছের। ১৯৯৬ সালে ঢাকার মালিবাগ কাঁচাবাজারের সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয় মেছের। এর পর তার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে নেয় তার ছোট ভাই আশিকুর রহমান তোফাজ্জল। ২০০৯ সালের অক্টোবরে তোফাজ্জলের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এর পর কুতুবপুরের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ আসে মীরুর হাতে। অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিদিনই মীরু এলাকার তরুণ ও যুবকদের নানা প্রলোভনে নিজের দলে ভেড়ায়। হাতে তুলে দেয় অত্যাধুনিক অস্ত্র। সোহানের শূন্যে গুলি ছুড়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ভিডিও এরই প্রমাণ বহন করে।
অস্ত্র প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত রোববার (২৪ নভেম্বর) রাতেই সোহানের বাড়িতে তার নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে সোহানকে না পেয়ে তার বাবা জাহাঙ্গীর মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সে সঙ্গে সোহান সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় নেই।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সরকারদলীয় একটি পক্ষ মীরুর কোমরে গুলি করলে সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। এর পর হুইল চেয়ারে বসে সে বৃহত্তর কুতুবপুরের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। মীরু তার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে তার ভাই ও ভাগ্নেদের সমন্বয়ে একটি বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে। বাহিনীর অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছে তার বড় ভাই আলমগীর হোসেন ও ভাগ্নে শাকিল।
পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় মীরু বরাবরই আদালত থেকে অনুকম্পা পেয়ে থাকে। কোনো বড় ধরনের ঘটনার পর মীরু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা হলেই সর্বপ্রথম আদালতে আত্মসমর্পণ করে মীরু। হুইল চেয়ারে বসে আত্মসমর্পণের কারণে আদালত বিশ্বাসই করতে চান না যে, মীরু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, মীরুই ওই এলাকার সন্ত্রাসের একক অধিপতি।
কুতুবপুর এলাকাবাসীর অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মীরু ও তার বাহিনী ফতুল্লার বিশাল এলাকায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। মীরু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে খুনের মামলাসহ দুই ডজন মামলা থাকার পরও এলাকায় তাদের দাপট কমেনি। সর্বশেষ মীরু বাহিনীর সঙ্গে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাঁদ সেলিম নামে তারই বাহিনীর এক সদস্যের বিরোধ বাধে। মীরু বাহিনীর কয়েকজন চাঁদের গ্রুপে যোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে মীরুর ব্যবহূত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> দুর্নীতির ব্যাপকতা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি খাতেই কমিশন কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আজই সবাইকে ধরতে পারব না। তবে প্রতিকারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সবার কাছে একটি বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছি যে, আজ হোক কাল হোক, সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। দুদকে অনেককেই আসতে হচ্ছে, অনেককেই আসতে হবে।’
রোববার (২৪ নভেম্বর) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) সুশাসনসংক্রান্ত দলনেতা এইজলিন বাকেরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে সমন্বিত অঙ্গীকারের প্রয়োজন। কর্মপ্রক্রিয়ায় ব্যক্তি পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু কর্মপ্রক্রিয়ার পরিবর্তন সুশাসনের জন্য সত্যিই অন্তরায়।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন শুধু প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে, যাতে দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়। কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে লাখ লাখ অভিযোগ আসছে। অধিকাংশ অভিযোগ কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত না হলেও মানুষ তাদের অভিযোগ জানানোর একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে। তারা তাদের কথা জানাতে পারছে। কমিশন থেকেও যতটা সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মানুষের ক্ষোভ জানানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ১০৬ ব্যবহৃত হচ্ছে।
ডিএফআইডির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগসহ অন্যান্য দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালে পুলিশ বিভাগের যে নিয়োগ হয়েছে, তা যথেষ্ট স্বচ্ছ হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশের সঙ্গে কমিশনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশের যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। এসব তদন্তে পুলিশের তরফ থেকে সহযোগিতার কোনো ঘাটতি নেই। শুধু পুলিশ নয়; প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী যাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে , সেগুলো খতিয়ে দেখা হয়। বলতে গেলে সব সেক্টরেই কাউকে না কাউকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রতিনিধিদলটির আরেকটি প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নিয়োগ-পদোন্নতি-পদায়নে স্বচ্ছতার অভাব আছে। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। শিক্ষকদের অনেক সময় সরকারি অন্যান্য কাজে সম্পৃক্ত করে তাঁদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করা হচ্ছে। শিক্ষকদের অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের ডিজিটাল উপস্থিতির ব্যবস্থা করার কথা সরকারকে বলেছি। মানসম্মত শিক্ষা না হলে সক্ষম মানবসম্পদ সৃষ্টি করা যাবে না।’
নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা যেন শুধু জিপিএ-৫-এর দিকে না ছোটে, নৈতিক মূল্যবোধের দিকেও ছোটে। মূল্যবোধহীন উন্নয়ন কোনো কাজে লাগে না। তাই আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ প্রোথিত করা যায়। সরকারি পরিষেবা দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করা না গেলে জনগণের হতাশা দূর করা কঠিন।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, তাই কমিশন শিক্ষাসহ ২৮টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াগত সংস্কারের জন্য সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ-জাতীয় ১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএফআইডির সুশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা তানভীর মাহমুদ, মোহাম্মদ ইউসুফ, দুদকের প্রশিক্ষণ ও আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল প্রমুখ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ আওয়ামী যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে যুবলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তাদের নির্বাচিত করা হয়।
কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান চয়ন ইসলাম পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে পরশের নাম প্রস্তাব করেন। এ সময় সংগঠনের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ তাতে সমর্থন দেন।
সাধারণ সম্পদক পদে সাতজনের নাম প্রস্তাব করা হলে সমাঝোতার জন্য ২০মিনিট সময় নেওয়া হয়। সমঝোতা না হওয়ায় এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করার পর নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার কালরাতে শেখ ফজলে শামস পরশের বাবা-মাও শহীদ হয়েছিলেন। তার ছোট ভাই ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসনের এমপি।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি ছিলেন নিখিল। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ যুবনেতা বৃহত্তর লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে জড়ান। পরে মিরপুরে ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন।
এর আগে সকাল ১১টায় যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এই কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন।

অনলাইন ডেস্ক> যেন এক সিনেমার ভয়ঙ্কর কোনও দৃশ্য! উড়াল সেতুর ওপর থেকে উড়ে সড়কে এসে লেপ্টে গেল এক প্রাইভেটকার। তারপর যা হবার তাই! চাপা পড়ে নিভে গেল এক প্রাণ। এরপর জট বেধে গেল ওই এলাকায়।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখলে যেটিকে মনে হবে সিনেমা; তা আসলে কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়। এমন ভয়াবহ কাণ্ড ঘটেছে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে হায়দারাবাদের এক সড়কে।
এনডিটিভি বলছে, শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে সদ্য উদ্বোধন করা ওই উড়াল সেতুর পাশে মেয়েসহ অটোরিকশার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন এক নারী। এ সময় উচ্চগতির একটি প্রাইভেটকার উড়াল সেতু থেকে নিচে পড়ে যায়। ওই কারের নিচে চাপা পড়ে যান দাঁড়িয়ে থাকা নারী।
এই দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে থাকা দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারের ভেতরে তিন আরোহী ছিলেন; চালকের অবস্থা গুরুতর। উড়াল সেতুটির ওপরে গতিসীমা ৪০ কিলোমিটার থাকলেও গাড়িটির গতি ছিল ১০৪ কিলোমিটার।

অনলাইন ডেস্ক> বেশ কিছুদিন ধরেই এক ‘রহস্যময়’ রকেট আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। সেই চেষ্টা চলাকালীন গত আগস্টে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে প্রাণ হারান সাতজন। ভয়ংকর এই দুর্ঘটনার পরও রাশিয়া এই প্রকল্প অব্যাহত রাখবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিশ্চিত করেছেন, যেকোনো কিছুর মূল্যে এই রকেট রাশিয়া আনবেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই রহস্যময় রকেট বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর পদক তুলে দেন পুতিন। সেখানেই এই রকেট প্রকল্প অব্যাহত রাখার কথা বলেন তিনি।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের উদ্দেশে পুতিন বলেন, ‘যা-ই হোক না কেন, আমরা অবশ্যই একে নিখুঁতভাবে তৈরি করব। পৃথিবীতে শান্তি নিশ্চিত করার জন্য এ রকম অনন্য প্রযুক্তির অস্ত্রের অবশ্যই প্রয়োজন আছে।’ রকেটটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানালেও পুতিন জানিয়েছেন, এই রকেটে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।
গত ৮ আগস্ট রুশ নৌবাহিনীর একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে রকেটটির ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হয়ে পাঁচজন প্রকৌশলীসহ মোট সাতজন নিহত হন। এ ছাড়া গুরুতর আহত হন আরও ছয়জন। রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটম জানায়, বিস্ফোরণ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তার কারণে প্রকৌশলীরা সমুদ্রে ছিটকে পড়েছিলেন। বিস্ফোরণের পরপর নিকটবর্তী বড় শহর সেভেরদভিনস্কে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬ গুণ বেড়ে যায়। পরে ওই এলাকায় কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।
যে রকেট নিয়ে এত আলোচনা, সেটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি রাশিয়া। যে কারণে রকেটটি নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছেই। রাশিয়া কেবল এতটুকু নিশ্চিত করেছে যে, রকেটটির ইঞ্জিন পরিচালিত হবে পারমাণবিক শক্তির সাহায্যে। গুঞ্জন ছিল, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল কিংবা পানির নিচ থেকে আক্রমণে সক্ষম ড্রোন তৈরির জন্য পরীক্ষা চালাচ্ছে রাশিয়া। তবে রাশিয়া ও পাশ্চাত্য দেশগুলোর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘নাইনএম৩৭০ বুরেভেস্টনিক’ নামের একটি মিসাইল তৈরির জন্যই এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে রাশিয়া। ন্যাটো এ ধরনের রকেটকে বলে থাকে ‘স্কাইফল’।
প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, এই মিসাইলে (মতান্তরে রকেট) কোনো বাঁধাধরা সীমা থাকবে না। অর্থাৎ যেকোনো দূরত্বের লক্ষ্য ধ্বংস করতে পারবে এই ক্ষেপণাস্ত্র।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়ার এই নতুন অস্ত্র প্রতিশোধমূলক অভিযানে কাজে দেবে। মূলত পারমাণবিক হামলার পর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে এই নতুন প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলীকে দল থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, শুক্রবার বিকেলে মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া গ্রামে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের বাসভবনে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ পরীক্ষায় সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলীর হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন অন্য একজন। সম্প্রতি জালিয়াতির এ ঘটনা ধরা পড়ার পর তার সব পরীক্ষাসহ ছাত্রত্ব বাতিল করে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
একজন দলীয় সংসদ সদস্য হয়ে এমন অপরাধে অংশ নেওয়ায় দেশ, দল এবং সংসদের মান ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম এমপি। তিনি জানান, এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত আকারে পাঠানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলী বলেন, ‘শুক্রবার জেলা আওয়ামী লীগের কোনো মিটিং হয়েছে কি-না সেটা আমার জানা নেই। কমিটির পদে থাকা সত্ত্বেও আমাকে মিটিংয়ের কোনো চিঠি বা ফোনও দেওয়া হয়নি। মিটিংয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটাও জানি না। যতদূর জানি, কাউকে বহিষ্কার করার আগে নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। আর মিটিংও নাকি জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে না হয়ে একটি উপজেলায় বসে করা হয়েছে বলে শুনেছি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করছি।’
সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলী নরসিংদীর প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী ও বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামানের ভাবি।

অনলাইন ডেস্ক> ১৯৯৩ সালের কথা। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এলোমেলো হয়ে যায় নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবন। কারণ, ওই বছরের ২২ অক্টোবর তাঁর একটি ছবির শুটিং দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। শোকার্ত ইলিয়াস কাঞ্চন এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর সিনেমাও করবেন না। একসময় শুরু করলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। সাড়া জাগানো অনেক ছবির অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এখনো। এভাবে কেটে গেছে ২৫ বছর বেশি সময়। তাঁর সংগঠনের নাম এখন জাতীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে।
আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে এখন প্রতিবছর পালিত হয় নিরাপদ সড়ক দিবস। সংগঠনর কর্মকাণ্ড জাতিসংঘেও প্রশংসিত হয়েছে। স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক পেয়েছেন। তবে এ আন্দোলন নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। এ আন্দোলন করে বারবার বিভিন্ন মহলের হুমকির শিকার হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সর্বশেষ নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে গত সপ্তাহে বেশ কয়েক দিন বাংলাদেশের বাস-ট্রাকের শ্রমিকেরা যে ‘কর্মবিরতি’ পালন করেছেন, সেখানে চলচ্চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবিকে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবিসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে কিংবা কুশপুত্তলিকা তৈরি করে সেখানে জুতার মালা দেওয়া হয়েছে।
এসব আচরণে কষ্ট পেলেও থেমে যাওয়ার পাত্র নন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বলেছেন, নিজের ক্যারিয়ার জলাঞ্জলি দিয়ে, নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে সড়ক নিরাপদের যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম, সেটা আমি চালিয়েই যাব। কাঞ্চন বলেন, ‘যাদের জন্য আমি সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি; কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়। দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার ক্যারিয়ারে সময় না দিয়ে নিরাপদ সড়কে সময় দিয়েছি। যখন দেখি, এ বিষয়টি নিয়ে বাজে মন্তব্য হচ্ছে, তখন খারাপ লাগে, কষ্ট লাগে। এ ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে অগণিত ভক্তসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারা। বিস্ময় নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে এ কেমন আচরণ! তিনি তো সবার ভালোর জন্যই আন্দোলনটা শুরু করেছেন, বছরের পর বছর চালিয়ে নিয়ে গেছেন।
চিত্রনায়ক রুবেল বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেব। তাঁর দাবি সবারই দাবি। তাঁর এই কাজ দেশব্যাপী প্রশংসা পেয়েছে। তাঁর সঙ্গে দেশের মানুষ রয়েছে। তাঁকে নিয়ে যেসব মানুষ এ ধরনের পোস্টার তৈরি করেছে, তারা নোংরা মনের পরিচয় দিয়েছে। আমি এ ঘটনার প্রতিবাদের পাশাপাশি তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘আমরা কাঞ্চন ভাইয়ের পাশে আছি। তিনি যেভাবে চাইবেন, আমরা তাঁর সঙ্গে আছি। যারা নোংরামি করছে, তারা দেশের ও সমাজের শত্রু। শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই। কাঞ্চন ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে সচেতন করে আসছেন, এটা আমাদের গর্বের বিষয়। তাঁর এই সুন্দর কাজের সঙ্গে শিল্পীরা থাকবেন এবং শিল্পী সমিতি আছে।’
অভিনেতা ইমন বলেন, ‘কাঞ্চন ভাইকে নিয়ে যারা কটূক্তি করছে, আমি আমার জায়গা থেকে তাদের ধিক্কার জানাই। কারণ, কাঞ্চন ভাই আমাদের পথপ্রদর্শক, সিনিয়র অভিনেতা। নিরাপদ সড়ক প্রত্যেক মানুষের অধিকার। কাঞ্চন ভাইয়ের স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এরপর থেকে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ভূমিকা রেখে আসছেন। আমাদের দেশে বড় গাড়িগুলো রাস্তায় নামলে প্রাইভেট কার, রিকশা—এগুলোকে কিছুই মনে করে না। আমি ফেসবুকে দেখেছি, কাঞ্চন ভাইকে নিয়ে বাজে ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। আমি মনে করি, কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে আমাদেরও একাত্মতা প্রকাশ করা উচিত।’
Select Language