রবিবার, জুন ৭, ২০২০ | ০৩:০৯
২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ | ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১
আলোচিত

২৪ নিউজভিশন.কম>
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে যে ভ্যানে করে গ্রাম ঘুরেছেন, সেই ভ্যানের চালক মো. ইমাম শেখকে বিমানবাহিনীতে চাকরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

রোববার (২৯ জানুয়ারি) সকালে ইমামকে নিয়ে গোপালগঞ্জে আসেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। দুপুর ১২টার দিকে যশোর বিমানবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির স্কোয়াড্রন লিডার হারুন-উর-রশিদ এবং সহকারী স্কোয়াড্রন লিডার দেলোয়ার হোসাইন গোপালগঞ্জ শহরের কলেজ মসজিদ রোড এলাকায় যান। সেখানে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদীয় প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে ইমামকে বুঝে নেন। এ সময় সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান এবং গাজী গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ১২টার দিকে বিমানবাহিনীর সদস্যরা ইমামকে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ার সরদারপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়িতে যান। সেখানে তাঁরা ইমামের বাবা আবদুল লতিফ ও মা শাহানা বেগমের হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেন। এরপর তাঁরা ইমাম ও সেই রিকশাভ্যানটি নিয়ে যশোরের উদ্দেশে চলে আসেন।

ইমাম তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ। এর মধ্যে দুই বোনের বিয়ে হয়েছে আর ছোট বোনটি স্কুলে পড়ে। দুই ভাই-ই ভ্যান চালায়। বাবা আগে বর্গা জমিতে কাজ করতেন। তিন বছর আগে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই ইমাম পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে সংসারের হাল ধরতে রিকশাভ্যান চালানো শুরু করে। এই ভ্যানটিও বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিস্তিতে কিনেছেন।

টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র আহম্মেদ হোসেন মির্জা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যাওয়ার সময় ইমামকে একটি শার্ট, লুঙ্গি ও গেঞ্জি এবং ২০০০ টাকা হাত খরচের জন্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শেখ মো. আবদুল্লাহ জানান, ইমামের যোগ্যতা অনুযায়ী তাঁকে চাকরি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রিকশাভ্যানটি বিমানবাহিনী জাদুঘর বা জাতীয় জাদুঘরে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সহকারী স্কোয়াড্রন লিডার দেলোয়ার হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, বেলা সাড়ে তিনটায় ইমামকে নিয়ে তাঁরা যশোরে পৌঁছেছেন। এখানে ইমাম কয়েক দিন থাকবেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এমনটা করা হয়েছে।

যাওয়ার পথে ইমাম বলেন, ‘বিমানবাহিনীর লোকজন আমাকে যশোর নিয়ে যাচ্ছেন। শুনেছি, আমাকে চাকরি দেওয়া হবে।’

গত শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গ্রামে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রিকশাভ্যানে চড়ে বেড়ান প্রধানমন্ত্রী। ঘুরে দেখেন নিজের গ্রামের প্রকৃতি। কথা বললেন গ্রামের মানুষের সঙ্গে, খোঁজখবর নিলেন তাঁদের।

রিকশাভ্যানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, তাঁর স্ত্রী পেপি সিদ্দিক, তাঁদের মেয়ে লিলা তুলি সিদ্দিক ও ছেলে কায়াস মুজিব সিদ্দিক।

কায়াস মুজিবকে কোলে নিয়ে ভ্যানে বসেন শেখ হাসিনা। গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভ্যান থামিয়ে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। মানুষকে আরও অবাক করে দিয়ে ফেরার পথে এই এক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

Select Language