শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০ | ১৫:১৬
২০ চৈত্র, ১৪২৬ | ৯ শাবান, ১৪৪১
আইন আদালত

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আমরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে। এজলাসে বসে আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।’
খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল ও জামিনবিষয়ক শুনানির দিন ধার্যের আদেশ দেওয়ার পরও আদালতকক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অবস্থান-হইচইয়ের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানিয়ে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগে দাখিল হয়নি। এটিসহ দুটি প্রতিবেদন কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে সকালে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসবে।
এই শুনানি চলাকালেই রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে হইচই হয়। হইচইয়ের মধ্যেই আদালত আদেশ দেন।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষে অবস্থান নেন। তাঁরা হইচই করতে থাকেন।
সকাল ১০টার দিকে দিকে বিচারপতিরা আদালতকক্ষ ত্যাগ করেন।
বিচারপতিরা চলে যাওয়ার পরও বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা আদালতকক্ষে বসে থাকেন।
বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারপতিরা এজলাসে আসেন। অন্য মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। তখনো বিএনপি-সমর্থক আইনজীবীরা আদালতকক্ষে বসে ছিলেন। তাঁরা হইচই করেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ডায়াসে দাঁড়ান। এ সময় আদালত বলেন, তাঁরা আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখেননি।
খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমি শেষবারের মতো কথা বলতে চাই।’
আদালত বলেন, ‘আমরা আদেশ দিয়েছি। আর কোনো কথা শুনব না।’
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আরজি জানান।
আদালত বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃহস্পতিবার শুনব।’
এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তুমুল হইচই করেন।
হইচইয়ের মধ্যে আদালতের ক্রম অনুসারে মামলা ডাকা হয়। ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শুনানির জন্য দাঁড়ান আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা টেবিল চাপড়ান। শুনানি করার চেষ্টা করেন আজমালুল হোসেন কিউসি।
এ সময় বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ছাড়া আর কোনো শুনানি হবে না।
একপর্যায়ে সরকার-সমর্থক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী স্লোগান দেন, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। তাঁরা ‘খালেদা জিয়া’, ‘খালেদা জিয়া’ বলেন স্লোগান দেন।
আজমালুল হোসেন কিউসি যে মামলা শুনানির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন, সেটির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন আদালত।
পরে বিচারপতিরা আদালতের এজলাস ত্যাগ করেন।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বর্তমানে নির্ধারিত নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞার বাইরে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত কোনো ব্যক্তি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার (আবেগী দাতা) হিসেবে কাউকে কিডনি দিতে পারবেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশোধিত মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের এ সংক্রান্ত ধারা ও বিধান ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করতে পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) এই রায় দেন।
একবার কিডনি প্রতিস্থাপনের পর দ্বিতীয় দফায় সন্তানের কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে আইনি জটিলতা সূত্রে ঢাকার বাসিন্দা ফাতেমা জোহরা ১৯৯৯ সালের আইনের তিনটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০১৭ সালে ওই রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৪ আগস্ট আদালত রুল দেন। ১৯৯৯ সালের আইন ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে রিট আবেদনকারীর করা সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূরক রুল হয়। এই রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাশনা ইমাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। রিটে ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে পক্ষভুক্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহীনুজ্জামান শাহীন।
রায়ের বিষয়ে আইনজীবী রাশনা ইমাম বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত এবং সম্পর্ক আছে-এমন ব্যক্তি চাইলে প্রত্যয়ন বোর্ডের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার হিসেবে কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন বলে রায়ে এসেছে। ছয় মাসের মধ্যে আইন ও বিধিমালা সংশোধন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নিকট আত্মীয়ের বাইরে কিডনি দানের সুযোগ তৈরি হলো। তবে অপরিচিত বা সম্পর্ক নেই এমন ব্যক্তি কিডনি দিতে পারবে না।
আইন অনুসারে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনা-বেচা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে রাশনা ইমাম বলেন, কিডনি দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রত্যয়ন বোর্ডের জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ইমোশনাল ডোনেশন হচ্ছে কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে একটি প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। প্রত্যয়ন বোর্ড দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক, পরিচয় যাচাই করবে। কোন পরিস্থিতিতে কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা থাকতে হবে। দাতা স্বেচ্ছায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করছেন কি না, অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, দাতা মানসিকভাবে সুস্থ বা মাদকাসক্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দাতা-গ্রহীতার দেওয়া তথ্যে বৈপরীত্য আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে বলে নীতিমালায় এসেছে।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, নিকট আত্মীয় পাওয়া না গেলে ইমোশনাল ডোনারের সঙ্গে গ্রহীতার পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সম্পর্ক প্রত্যয়ন বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করতে হবে বলে রায়ে এসেছে। দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের সপক্ষে দালিলিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করে তা নথিভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, অর্থ লেনদেনের কোনো প্রতিশ্রুতি আছে কি না এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী আছে কি না এবং দাতা-গ্রহীতার তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদনও প্রত্যয়ন বোর্ডকে বিচার বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক> গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি রাকিবুল হাসান (রিগ্যান) আদালতের কাছে দাবি করেছেন, রায় ঘোষণার দিন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁকে আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপিটি দিয়েছিলেন। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আজ মঙ্গলবার এ দাবি করেন রাকিবুল হাসান।
ওই ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান বলেন, ২০১৬ সালে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার রাকিবুলসহ অন্য আসামিদের আজ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় আদালত রাকিবুলের কাছে জানতে চান, রায় ঘোষণার দিন পরা টুপি তিনি (রাকিবুল) কোথায় পেয়েছিলেন? জবাবে রাকিবুল আদালতে বলেন, ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাত এক লোক তাঁকে টুপিটি দিয়েছিল। যে লোক টুপি দিয়েছে, তাকে তিনি চেনেন না।
হোলি আর্টিজান হামলা মামলায় গত বুধবার রাকিবুল, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান। তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে অভিজাত রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজান বেকারিতে আইএস মতাদর্শ অনুসরণকারী পাঁচ জঙ্গি হামলা চালান। তাঁরা বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জনকে হত্যা করেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানের, তিনজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া দুজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন জঙ্গিদের নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড ও গুলিতে।
বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণার পরই রাকিবুল আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপি পরে এজলাস থেকে বের হন। এরপর প্রিজন ভ্যানে আরেক জঙ্গি জাহাঙ্গীর হোসেনের মাথায়ও একই ধরনের টুপি দেখা যায়। যদিও হোলি আর্টিজানে হামলার পর থেকেই পুলিশ দাবি করে আসছে, জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
আবার কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, হোলি আর্টিজান বেকারি হামলা মামলায় রায়ের পর দুই আসামি আইএসের যে টুপি পরেছিলেন, তা কারাগার থেকে আনা হয়নি।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রিজন) কর্নেল আবরার হোসেন বলেন, তাঁরা কারাগারের সংশ্লিষ্ট স্থানের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন। কারাগারে কর্তব্যরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই দিন জঙ্গিরা কারাগার থেকে কোনো টুপি নিয়ে বের হননি। সেদিন আদালতে আনার সময় প্রিজন ভ্যানে তোলার আগে তল্লাশি করা হয়েছিল। তখনো কোনো টুপি পাওয়া যায়নি। এমনকি আদালত থেকে এই আসামিদের কারাগারে ফেরত আনার পরও তল্লাশি করা হয়। সে সময়ও এমন কোনো টুপি তাঁদের কাছে পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ বলে পরিচিত বাড়িতে জঙ্গিদের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্ট্রম-২৬’ নামের ওই অভিযানে নয়জন নিহত হন। আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান নামের একজনকে।
এই মামলা তদন্ত করে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট রাকিবুল হাসানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। গত ৯ মে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
সরকারি কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান বলেন, এই মামলার পলাতক এক আসামির সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরবর্তী শুনানির জন্য ১৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার আসামিরা হলেন আসলাম হোসেন র‌্যাশ, শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ, মামুনুর রশিদ রিপন, আজাদুল কবিরাজ ওরফে হার্টবিট, আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর, সালাহ উদ্দিন কামরান, আবদুর রউফ প্রধান, আবদুস সবুর খান, হাদিসুর রহমান সাগর ও রাকিবুল হাসান রিগ্যান।
পলাতক আছেন আসামি আজাদুল। জামিনে আছেন কাশেম ও রউফ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও অনিয়ম ঠেকানো যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সোমবার আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানি চলাকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় একটি মামলা ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকার কথা; কিন্তু অদৃশ্যভাবে সেটি ৯০ নম্বর ক্রমিকে যায়। বিষয়টি তখন আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তখন এফিডেভিট শাখার কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, কী আর করব বলুন? এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসিয়েও অনিয়ম রুখতে পারছি না। এ সময় আপিল বেঞ্চে আরও চার বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সিসি কামেরা বসালাম। এখন সবাই বাইরে এসে এফিডেভিট করে। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেকেই মামলার তালিকা ওপর-নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছেন।
এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অনেক আইনজীবীও আদালতে আসেন না। বেতন বেশি হওয়ায় এমন হচ্ছে। বেতন কম হলে তারা ঠিকই কষ্ট করে আদালতে আসতেন। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক এক আদেশে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকে আপিল বিভাগে তলব করেন। তিনি আপিল বিভাগে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিলেও তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। পরে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে ভবিষ্যতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ও ফাইনাল পরীক্ষার আগে ডোপ টেস্ট চালুর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। রোববার (১ ডিসেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আফছারুল আমীন, হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, পীর ফজলুর রহমান এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর অংশ নেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে এবং শিক্ষিত ও সুস্থ জাতি উপহার দিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি এবং ফাইনাল পরীক্ষার আগে কমিটি ডোপ টেস্ট সিস্টেম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে। কমিটির আমন্ত্রণে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে কোনোভাবেই অপরাধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে না পারেন, সে বিষয়গুলো মনিটর করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তৎপর থাকতে সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে যারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, বৈঠকে তাদের কার্যক্রমও মনিটরের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবির অভিযান কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে শূন্য লাইন থেকে এক কিলোমিটারের বাইরে বিদ্যমান ১২৬টি বিওপি সীমান্তের কাছাকাছি স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এতে জানানো হয়, ওই বিওপিগুলো স্থানান্তরের ফলে ঠাকুরগাঁও, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনী জেলার সীমান্ত এলাকায় চারটি পরিত্যক্ত বিওপিকে স্থায়ী কমিটির সুপারিশের আলোকে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা নিকেতনে রূপান্তরে’র কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের বেকারত্ব দূর, চোরাচালান রোধসহ বিজিবির উদ্যোগে ‘আলোকিত সীমান্ত’ প্রকল্প চালু করে ৫০ নাগরিককে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন।
বৈঠকে পুলিশ বিভাগের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করতে প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক সাইবার যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে এ ইউনিটকে আরও কার্যকর করার জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কারা অধিদপ্তর, পুলিশ হাসপাতাল, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ এবং তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন এবং কারাগারে মেডিকেল ইউনিট খোলার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে ফায়ার সার্ভিসকে আরও কার্যকর করতে একটি অত্যাধুনিক ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং একাডেমি নির্মাণের সুপারিশ করা হয়।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে সাগরে মাছ ধরার সময় দুটি ট্রলারসহ মিয়ানমারের ১৬ জেলেকে আটক করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের আটক করা হয়।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড বাহিনীর পূর্ব জোনের স্টাফ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম সাইফুল ইসলাম।
আটক জেলেরা হলেন মোহাম্মদ কাশেম (৩৫), নুর হাসমি (১৯), মোহাম্মদ জলিল (২২), আবু শহীদ (২০), নবী হোসেন (২০), হাবিবুর রহমান (৪১), মোহাম্মদ হোসেন (২০), মোহাম্মদ রবি (২০), মোহাম্মদ রফিক (২৫), মোহাম্মদ ধলা (১৭), মোহাম্মদ শাকের (২৭), মোহাম্মদ তাহের (১৮), ইসা আলম (২০), আবু হাবেদ (২৩), মোহাম্মদ কওসির (২০) ও মোহাম্মদ রফিক (৩০)। তাঁরা সবাই মিয়ানমারের আরাকানের চান্দামা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ বিসিজিএস মনসুর আলীর সদস্যরা প্রতিদিনের মতো সাগরে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের জলসীমার ১৬ নটিক্যাল মাইল ভেতরে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের জেলেদের আটক করা হয়। পরে ট্রলার দুটিসহ আটক জেলেদের সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ট্রলার দুটি থেকে ১ হাজার মিটার জাল, ৩০০ কেজি মাছ, ২০ কেজি শুঁটকিসহ আরও অনেক কিছু উদ্ধার করা হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সাদ মোহাম্মদ তাইম বলেন, আটক জেলেদের টেকনাফ থানার পুলিশে সোপর্দ করে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম এস দোহা বলেন, জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। শনিবার তাঁদের কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলার রায়ে আট আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এক আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার আট আসামি হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রিজনভ্যানে কারাগার থেকে আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।
বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে আদালত পাড়াসহ রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পুরো সড়কে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। সাদা পোশাকেও তৎপর রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় নিহত হন দেশি-বিদেশি ২০ জন। হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা এএসপি রবিউল করিম এবং ওসি সালাউদ্দিন খান নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেস্তোরাঁর কর্মী সাইফুল।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবর রহমানের আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচার। বিচার শুরুর এক বছরের মাথায় রায় ঘোষণা করা হলো বুধবার।

অনলাইন ডেস্ক> ‘শুদ্ধি’ অভিযানে গ্রেপ্তার ছয় প্রভাবশালীর অবৈধ সম্পদের ব্যাপারে তদন্ত প্রায় শেষ। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে চার্জশিট দাখিল করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে সরকার। প্রথম ধাপে যে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে তারা হলেন- জি কে বিল্ডার্সের কর্ণধার জি কে শামীম, যুবলীগ দক্ষিণের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান, অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান, ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা দুই ভাই আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ওরফে এনু ভূঁইয়া ও রুপন ভূঁইয়া। সিআইডির একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ রোববার (১৭ নভেম্বর) বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে মানি লন্ডারিং আইনে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে। এ ছাড়া আরও যে কয়েকজনের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে, তথ্য-উপাত্ত পেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন কাশেম বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে অভিযান বন্ধ হয়নি। এ অভিযান চলবে। এরই মধ্যে তিনটি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে বাকি মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত ৭ সেপ্টেম্বর দলের যৌথ সভায় দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেন। এরপর ওই সভায় যুবলীগের দুই নেতার সমালোচনা করা হয়। এর পাঁচ দিনের মাথায় ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়। অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩০টি ক্লাব ও বারে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কিছুদিন ধরে অভিযানে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি কারণে অভিযানের গতি কিছুটা কমেছে। এর অন্যতম হচ্ছে, অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে চায় তদন্ত সংস্থা। তবে কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে অচিরেই জোরালো অভিযান চালানো হবে।
দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, যেসব প্রেক্ষাপট সামনে রেখে অভিযান শুরু হয়েছে, তা চলমান থাকবে। শুধু ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী নন, অভিযানের গতিপ্রকৃতি মাঝেমধ্যে পাল্টাতে পারে। রাজধানীতে ক্যাসিনো ঘিরে অভিযান শুরু হলেও পরে তা নানা দিকে বিস্তৃত হয়। এরই মধ্য গ্রেপ্তার হয়েছেন বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর। তদন্ত চলছে আরও কয়েকজন রাঘববোয়ালের বিষয়ে।
র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো-সংক্রান্ত অভিযানের পর ৩২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাবের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে ৯টি। র‌্যাব আরও দুটি মামলা তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। ক্যাসিনো-সংক্রান্ত তিনটি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে র‌্যাব। প্রভাবশালীদের মধ্যে সাবেক যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার চার্জশিট হয়েছে। তদন্তাধীন রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলা। জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার চার্জশিট হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্তাধীন রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলা। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফিরোজের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলার তদন্ত চলমান। অনলাইন ক্যাসিনো কারবারি সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলারও তদন্ত চলছে।
সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ওরফে পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলার তদন্ত চলমান। এ ছাড়া কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত র‌্যাবের কাছে ন্যস্ত করতে আবেদন করা হয়েছে। আরেক কাউন্সিলর ময়নুল হক মনজুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। এ ছাড়া জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। জানা গেছে, শুদ্ধি অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারকাজও শুরু হবে।
শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে ২৩৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ আট কোটি ৪৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৬৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার এফডিআর, ১৩২টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক। আরও জব্দ করা হয় আট কেজি স্বর্ণ। এখন পর্যন্ত বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ২৫টি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ইয়াবা, বিদেশি মদ ও অন্যান্য মাদক আটক করা হয়।
সূত্র জানায়, আগামী মাসের শেষ দিকে অভিযান আরও জোরালো হবে। দুর্নীতিবাজ যারা গা-ঢাকা দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করা হবে। এ ছাড়া নতুন নতুন দুর্নীতিবাজদের ব্যাপারে তদন্ত চলবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হবে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ নেতাদের বাইরেও বিভিন্ন সরকারি পদে থেকে যারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ২৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। আসামিপক্ষের টানা চার দিনের যুক্তিতর্ক শেষে রোববার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে আদালত এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম সারওয়ার খান আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে চার আসামির আইনজীবী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, তাঁরা ন্যায়বিচার চান।
এর আগে নৃশংস এই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আট জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড চেয়ে ৭ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চায়।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ওই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হন। পরে পুলিশ ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন রেস্তোরাঁ কর্মী। হামলার আড়াই বছরের মাথায় গত বছরের ২৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ওই বছরের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ।
এই মামলায় গ্রেপ্তার আট জঙ্গি আসামি হলেন রাশেদ ওরফে র‍্যাশ, রাকিবুল ইসলাম ওরফে রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ।

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে মনসুর আলী (৩৩) নামে এক সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের সাব-এডিটর ছিলেন।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে বাসার দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের কোটালপাড়ায়।
খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, দক্ষিণ বনশ্রীর ওই বাসায় মনুসর ছাড়াও আরো দু’জন ব্যাচেলর ভাড়া থাকতেন। অন্য দু’জন শনিবার রাতে বাসায় ফিরে দেখেন- মনুসর যে কক্ষে থাকেন তা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা ‘৯৯৯’ কল করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে।
ওসি মশিউর বলেন, মনসুরের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোক করে মারা গেছেন তিনি। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে
Select Language