‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ ছাত্রীদের হাতে–কলমে শেখাচ্ছেন, কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয়!

‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ ছাত্রীদের হাতে–কলমে শেখাচ্ছেন, কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয়!

২৪ নিউজভিশন.কম> দুটি স্কুটিতে চারজন নারী। ‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে তাঁরা বেরিয়েছেন দেশ ভ্রমণে। তবে শুধু তাতেই আটকে নেই তাঁরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে অন্তত একটি স্কুলের ছাত্রীদের হাতে–কলমে তাঁরা শেখাচ্ছেন যে কীভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করতে হয়!
চার নারীর এই সংগঠনটির নাম ‘ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ–ভ্রমণকন্যা’। নেতৃত্বে আছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক সাকিয়া হক। তাঁর সহযোগীরা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মানসী সাহা তুলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিলভী রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনতাহা রুম্মান অর্থী।
৫৫টি জেলা ভ্রমণ শেষে এই চারজন এসেছিলেন মৌলভীবাজার জেলায়। বুধবার (২৭ মার্চ) সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যান তাঁরা। স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক ঘণ্টার একটি সেশনে তাঁরা অংশ নেন। এ সময় ইভ টিজিং প্রতিরোধে ছাত্রীদের করণীয় বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়। এই সেশনে স্কুলের মাঠে উপস্থিত ছিল প্রায় পাঁচ শ ছাত্রী।

দুটি স্কুটিতে চারজন নারী বেরিয়েছেন দেশ ভ্রমণে। দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে অন্তত একটি স্কুলের ছাত্রীদের তাঁরা হাতে–কলমে শেখাচ্ছেন যে ভয় না পেয়ে কীভাবে সাহসের সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। ছবি- সংগৃহীত

সেশনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ, মুক্তিযুদ্ধ, পর্যটন সম্ভাবনা, খাদ্য পুষ্টি, বিভিন্নœরকম সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, বয়ঃসন্ধিকালীন নানা সমস্যা, নারী স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা, বিপদে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার জন্য করণীয় বিভিন্ন বিষয়। ভয় না পেয়ে কীভাবে সাহসের সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
সাকিয়া হক বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে স্বাস্থ্য–সচেতন, উদারমনা নারী সমাজের কোনো বিকল্প নেই। সঠিক শিক্ষা আর ভ্রমণই পারে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে তাকে মানবসম্পদে পরিণত করতে। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল আমরা এই কার্যক্রম হাতে নিই। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পুরো বাংলাদেশ ঘুরব। ভ্রমণের সময় প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের হাতে–কলমে শেখাব কীভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করতে হয়, ভয় না পেয়ে কীভাবে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মানসী সাহা তুলি বলেন, ‘প্রথম যখন আমরা দেশ ভ্রমণের উদ্যোগটি নিয়েছিলাম, তখন পরিবার থেকে অনেক বাধা এসেছিল। এখন আমাদের কাজ দেখে পরিবারের সদস্যরাও খুশি। প্রথম দিকে আমরা নিজের অর্থায়নে সব করলেও এখন আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে কর্ণফুলী গ্রুপ। স্কুটির তেলের খরচ দিচ্ছে তারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ভ্রমণ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করছি। তাদের বিভিন্ন সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছি।’
শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাশ বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল ও কঠিন সময়ে ভয় না পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন তাঁরা। তাঁদের এই সেশনে ছাত্রীরা খুবই উপকৃত হয়েছে।