জানুয়ারি থেকে এক অঙ্কের সুদহার

জানুয়ারি থেকে এক অঙ্কের সুদহার

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক> খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ হলো ঋণের উচ্চ সুদহার—এ মত ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ঋণের সুদহার কমলে খেলাপি ঋণ এমনিতেই কমে আসবে। রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই অনুসারে সুদহার কমানো হবে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে সব ব্যাংকে এক অঙ্কের সুদহার কার্যকর করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। ১০ বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট পরিষ্কার হয়ে যাবে বলেও তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন।
ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে রবিবার সন্ধ্যায়ই বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি শাহ এ সারওয়ার ও এনআরবি ব্যাংকের এমডি মেহমুদ হোসেন। এ ছাড়া তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করাসহ সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ।
ঋণখেলাপি হওয়ার লাগাম টেনে ধরার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অকপট স্বীকারোক্তি মিলেছে মন্ত্রীর কথায়। তিনি বলেন, “আমরা একটি জায়গায় শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারিনি, সেটা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণ বাড়ার একটিই কারণ, সেটি হলো আমাদের সুদহার অনেক বেশি। আমাদের মতো এত ‘হাই ইন্টারেস্ট রেট’ পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই। উচ্চ সুদহার কমালে খেলাপি ঋণ এমনিতেই কমে আসবে। তাই আমরা সবাই বসেছিলাম কিভাবে সুদহার কমানো যায়।”
ব্যাংকঋণের সুদহার কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এর সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন গভর্নর। যতজন মেম্বার তিনি (গভর্নর) মনে করেন দরকার, কমিটিতে ততজন থাকবেন। কমিটিতে ব্যাংক, প্রাইভেট এবং পাবলিক খাতের রিপ্রেজেন্টররা থাকবেন। কমিটি ঋণের সুদহার কমানোর সব বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেবে, কারণ খুঁজে বের করবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে জমা দেবে। প্রতিবেদনে কিভাবে আমরা সুদহার কমাব, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাদের সুদহার কমবে, পাশাপাশি খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়বে না।’ এ সময় মন্ত্রী জানান, সিংগেল ডিজিটের সুদহার আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হবে।
কমিটিতে কারা থাকবেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে। কমিটির সদস্য সংখ্যা হতে পারে মোট সাতজন।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সুদহার সিংগেল ডিজিট করলে অনেক উপকার হবে। কোর্টের যে অর্ডার ছিল, সেটি কিন্তু এখন আর নেই। রায়টি আমরা যেভাবে প্রত্যাশা করেছিলাম, সেভাবেই পেয়েছি। কোর্টের অর্ডার বাস্তবায়িত হলেই ঋণখেলাপি কমে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ৩১ ডিসেম্বরে আপনারা এর প্রতিফলন দেখতে পাবেন। ঋণখেলাপি বাড়বে না বরং কমের দিকে আসবে। এর আগে টাকা দেওয়া বন্ধের কারণেই ঋণখেলাপি বেড়েছিল। আগামী ১০ বছরের মধ্যে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট পরিষ্কার হয়ে একটা পর্যায়ে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী প্রমুখ।