গর্ভপাত ও জন্মগত ত্রুটি রোধে ভিটামিন বি৩

গর্ভপাত ও জন্মগত ত্রুটি রোধে ভিটামিন বি৩

২৪ নিউজভিশন.কম>
ভিটামিন বি৩ সম্ভবত গর্ভপাত ও জন্মগত ত্রুটি রোধ করতে পারে। এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর চালানো হয়। খবর বিবিসি অনলাইনের।

সিডনির ভিক্টর চ্যাং ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা এটিকে ‘দ্বৈত সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা এই একটি গবেষণাতে একই সঙ্গে গর্ভপাত ও জন্মগত ত্রুটির কারণ এবং এর প্রতিকার আবিষ্কার করেছেন।

প্রতিবছর বিশ্বে ৭৯ লাখ শিশু ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। গবেষক দলটি আশা করছে, এই গবেষণার ফল ব্যাপক কল্যাণ বয়ে আনবে।

হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্ম নিয়েছে বা কয়েকবার গর্ভপাত হয়েছে—এমন চারটি পরিবারের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। তাঁরা দেখেছেন, জিনগত দুটি পরিবর্তনের কারণে শিশুর শরীরে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিকোটিনামাইড এডিনিন ডিনুক্লিওটাইডের (এনএড) ঘাটতি তৈরি হয়। ওই উপাদানটি কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন করে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটায়।

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন গবেষক প্রফেসর সালি ডনউডি। ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে তিনি প্রমাণ পেয়েছেন যে গর্ভাবস্থায় কোনো মা যদি নায়াসিন (ভিটামিন বি৩) সেবন করেন, তবে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

গবেষক সালি ডনউডি বলেন, ‘আপনি এনএডির মাত্রা বাড়িয়ে গর্ভপাত ও জন্মগত ত্রুটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারেন। এটা জিনগত সমস্যা দূর করে।’ তিনি বলেন, ‘একই গবেষণায় কোনো সমস্যার কারণ ও সমাধান বের করার ঘটনা দুর্লভ এবং এই সমস্যা প্রতিরোধ করা খুবই সহজ, শুধু একটি ভিটামিনই এই সমস্যা দূর করতে পারে।’

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জিন গোল্ডিং বলেন এই গবেষণাকে তথ্যবহুল বলে অভিহিত করেছেন। তবে এটি সব ক্ষেত্রেই কাজে দেবে এটা ভেবে—এর ব্যাপক প্রয়োগের বিষয়ে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। কারণ, গবেষণাটি হয়েছে চারটিমাত্র পরিবার ও ইঁদুর নিয়ে।

গবেষক প্রফেসর সালি ডনউডি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের বর্তমানে গর্ভাবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট মাল্টিভিটামিন সেবনের সুপারিশ করে থাকেন, যেখানে নিয়াসিন বা ভিটামিন বি৩–এর পরিমাণ থাকে ১৮ মিলিগ্রাম। তিনি বলেন, ‘তবে আমরা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সবাই একই রকমভাবে হজম করতে পারি না।’ তিনি বলেন, একজন নারীর শরীরে কী পরিমাণ এনএডি তৈরি হবে, তা প্রভাবিত করে ওজন এবং ডায়াবেটিস।

সালি ডনউডি বলেন, ‘আমরা জানি না ওই নারীদের শরীরে (গবেষণায় অংশ নেওয়া) কেন পর্যাপ্ত পরিমাণে এনএডি তৈরি হয়নি। এটা পরবর্তী গবেষণার বিষয়।’