হঠাৎই শতাধিক মাতৃগাছ কেটে ফেললো তারা!

হঠাৎই শতাধিক মাতৃগাছ কেটে ফেললো তারা!

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> হঠাৎই কার্যালয়ের আঙিনার বড় গাছগুলো নাই হয়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া শতাধিক গাছ কাটায় কক্সবাজারের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তাদের দাবি, নতুন যোগদান করা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোটি টাকা মূল্যের এসব গাছ কেটে ফেলেছেন। অথচ কদিন আগেও বড় বড় গাছের সুশীতল ছায়ায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়টির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত মনোরম। সুন্দর এ সরকারি কার্যালয়টির সুনামও ছিল চারদিকে।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দেখা গেছে, কার্যালয়ের আঙিনায় শতাধিক গাছ কেটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর বেশিরভাগই মেহগনি জাতের মাতৃগাছ। আরও গাছ কাটার জন্য শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই গাছ কাটার জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা স্থানীয় বন বিভাগকেও জানানো হয়নি।
গাছ কাটার বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘অফিস ভবনের সংস্কার কাজ চলছে। অফিস আঙিনায় এত বেশি গাছ হয়েছে যে, ভবনের ওপর সূর্যের আলো পড়ে না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে।’
গাছগুলো কাটা ও বিক্রির জন্য কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হয়েছে। তবে বন বিভাগ ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে তিনি স্ব্বীকার করেন।
কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বন বিভাগের কর্মীরা সরেজমিন গাছের পরিমাপ করে মূল্য নির্ধারণ করেন। সরকারি একটি ফি নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের আঙিনায় গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়নি।
এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় প্রাঙ্গণের শতাধিক গাছ কাটার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ওই স্থানে নতুন কোনো ভবন না হলেও শতাধিক মাতৃগাছ এভাবে কেটে ফেলার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বড় বড় গাছের ছায়ায় অফিসটি দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণ ছিল। এখানে অনেক পাখির আবাসস্থ্থলও ছিল। একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনায় শতাধিক মাতৃগাছের প্রাণ গেল। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।