সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে: রাষ্ট্রপতি

সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে: রাষ্ট্রপতি

২৪ নিউজভিশন ডেস্ক> রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জনগণের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে জনস্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে রাষ্ট্রের সব ব্যয় নির্বাহ এবং উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হয়। তাই সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) যশোর সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের ষষ্ঠ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সেনানিবাসে সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে কোর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।
পুনর্মিলনী প্যারেডে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সিগন্যাল কোর সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশীদার। দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সিগন্যাল কোর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসা অর্জন করেছে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একইভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে সশস্ত্র বাহিনীকে অবদান রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদদের পাশাপাশি সিগন্যাল কোরের সদস্যদের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন।
সেনাবাহিনীর সার্বিক ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্প্রতি সারাদেশের দুটি সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, বরিশাল, সিলেট ও রামুতে তিনটি স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানি ও চারটি ব্রিগেট সিগন্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আওতায় সেনাবাহিনীতে সাইবার ওয়ারফেয়ার গ্রুপ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট, স্যাকটম ইউনিট ও স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সমিশন ইউনিট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনীর সমরশক্তি ও যোগাযোগ সক্ষমতা সুসংহত করবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আশা করি দায়িত্ব পালনকালে আপনারা শুদ্ধাচার কৌশল যথাযথভাবে প্রতিপালন করবেন। নিজের দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবেন। সেনাসদস্যরা বিশেষত সিগন্যাল কোর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ অর্পিত দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণদানকারী শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ ‘অমর প্রাণ’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন প্রমুখ।