পুলিশ কর্মকর্তার কাউন্সিলিংয়ে রক্ষা পেল জুয়েল-পাখির সংসার, হাসলো তাঁদের সন্তান

পুলিশ কর্মকর্তার কাউন্সিলিংয়ে রক্ষা পেল জুয়েল-পাখির সংসার, হাসলো তাঁদের সন্তান

২৪ নিউজভিশন.কম> একে অপরের প্রতি সন্দেহ থেকে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন জুয়েল-পাখি দম্পতি। একপর্যায়ে পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি। এ দম্পতির রয়েছে পাঁচ বছরের একটি ফুটফুটে সন্তান। শিশুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসারটির ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ নেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম। কথা বলেন দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই আলাদা কাউন্সেলিং শুরু করেন এ কর্মকর্তা। এরপর ভবিষ্যতে পারিবারিক সব ধরনের সমস্যায় তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাদের। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই তাদের ভুল বুঝতে পেরে সরে আসেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে। রক্ষা পায় একটি পরিবার। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা পায় নিষ্পাপ শিশুটিও।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সন্তানকে কোলে নিয়ে নগরের সদরঘাট থানার মাদারবাড়ির বাসায় ফেরেন মা ও বাবা। হাসলো তাঁদের সন্তান ফুটফুটে সন্তানটি।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জুয়েল ও পাখির। দু’জনের সংসার ছিল খুবই সুখের। বছর পেরোতেই এই দম্পতির কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে সন্তান। জুয়েলের নিজস্ব পিকআপভ্যান রয়েছে। সেটি নিজেই চালান তিনি। সংসারে তেমন অভাব-অনটন নেই। নগরের মাদারবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা তারা। কিন্তু কিছুদিন আগে থেকে দু’জনের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। গত ২ নভেম্বর জুয়েলের সঙ্গে আর সংসার করতে চান না জানিয়ে কমিউনিটি পুলিশের কাছে আবেদন করেন পাখি বেগম। আবেদনটি চলে আসে নগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপকমিশনারের কাছে। তিনি বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেন সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলমকে। দুই পরিবারকে মঙ্গলবার বিকালে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন তিনি। তার ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হন স্বামী-স্ত্রীসহ দুই পরিবারের সদস্যরা।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আবেদনটি পাওয়ার পর দুই পরিবারকে আসতে অনুরোধ করি। এই দম্পতির একটি শিশুসন্তান রয়েছে। শিশুটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সংসারটির ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ নিই। স্বামী ও স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে আলাদা আলাদা কথা বলি। তাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সন্দেহ করে। এ ছাড়া তাদের আর কোনো সমস্যা নেই। দীর্ঘক্ষণ দু’জনকে আলাদা আলাদা কাউন্সেলিং করেছি। তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, তারা আলাদা হয়ে গেলে তাদের নিষ্পাপ শিশুটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সন্তানকে ছেড়ে তারা নিজেরাও সুখী হবেন না। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে পুনরায় একত্রে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের পারিবারিক যে কোনো সমস্যায় পুলিশি সহায়তারও আশ্বাসও দেন তিনি।